কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

সামুদ্রিক গম্বুজ : পিতা-মাতার হক্ব

201
আল্লাহ তাআলা হযরত সায়্যিদুনা সুলায়মান عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে ওহী প্রেরণ করলেন সমূদ্রের তীরে গিয়ে আমার কুদরতের নিদর্শন দেখুন। তিনি عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام আপন সাথীদেরকে নিয়ে সমূদ্র তীরে তাশরীফ আনলেন কিন্তু তেমন কোন নিদর্শন দেখলেন না, তিনি একটি জ্বিনকে আদেশ করলেন সমূদ্রে ডুব দিয়ে তলদেশের সংবাদ নিয়ে আস। সে ডুব দিয়ে ফিরে আসার পর আরয করলেন, আমি তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারিনি এবং কোন কিছু দেখিনি। তিনি عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام তার চেয়েও শক্তিশালী জ্বিনকে আদেশ দিলেন, সে প্রথম জ্বীনের তুলনায় দ্বিগুন গভীরে ডুব দিল কিন্তু সেও কোন সংবাদ আনতে পারল না। তিনি عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام আপন ওযীর হযরত আসীফ বিন বারখিয়া رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ কে হুকুম দিলেন, তিনি কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি চার দেয়াল বিশিষ্ট কাফুরের আলীশান সামুদ্রিক গম্বুজ সায়্যিদুনা সুলায়মান عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর মহিমান্বিত দরবারে উপস্থিত করলেন। এর একটা দরজা মুক্তার, দ্বিতীয়টি ইয়াকুতের, তৃতীয়টি হীরার এবং চতুর্থটি যামাররুদ (এক প্রকার সবুজ পাথর) এর ছিল। চারটি দরজা খোলা থাকা সত্ত্বেও সমূদ্রের পানির একটা ফোটাও ভিতরে প্রবেশ করেনি। এ সামুদ্রিক গম্বুজের ভিতর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিহিত একজন সুদর্শন যুবক নামাযে মশগুল ছিল। যখন সে নামায শেষ করল, তিনি عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام তাকে সালাম করে এ সামুদ্রিক গম্বুজ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। সে আরয করল, হে আল্লাহর নবী عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام আমার পিতা পঙ্গু এবং আমার মা অন্ধ ছিলেন। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ আমি সত্তর বছর তাদের খিদমত করেছি, আমার মা ইন্তেকালের পূর্বে দুআ করলেন, হে আল্লাহ আমার ছেলেকে মঙ্গলজনক দীর্ঘায়ু দান করুন। আমার পিতা মহোদয় ইন্তেকালের সময় দুআ করলেন, আমার ছেলেকে এমন স্থানে ইবাদতের ব্যবস্থা করে দিন যেখানে শয়তান প্রবেশ করতে পারবে না। আমার মরহুম পিতার দাফনের পর আমি সমূদ্রে এসে এ সামুদ্রিক গম্বুজটা দেখতে পেলাম এবং আমি সেটার ভিতর প্রবেশ করলাম। এমন সময় এক ফিরিশতা আসল এবং সে এ গম্বুজকে সমূদ্রের তলায় নামিয়ে দিল।

সায়্যিদুনা সুলায়মান عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام জিজ্ঞাসা করাতে আরয করল যে আমি হযরত সায়্যিদুনা ইবরাহীম খলীলুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর মুবারকময় যুগে এখানে এসেছি। হযরত সায়্যিদুনা সুলায়মান عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام বুঝে গেলেন যে লোকটার দুই হাজার বছর এ সামুদ্রিক গম্বুজে অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে কিন্তু এখনো যুবক। তার একটা চুলও সাদা ছিল না। খাবার সম্পর্কে সে বলল, প্রতিদিন একটি সবুজ পাখি ঠোঁটে করে হলুদ বর্ণের কিছু আনে, আমি সেটা খেয়ে নেই, সেটাতে দুনিয়ার সকল স্বাদ থাকত, সেটার দ্বারা আমার ক্ষুধা ও পিপাসা মিঠে যেত। তাছাড়া اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ গরম, শীত, নিদ্রা, অলসতা, তন্দ্রাভাব, একাকীত্ব এবং ভীত সন্ত্রস্ততা এসব কিছু আমার থেকে দূরে থাকত। এরপর ঐ যুবকের ইচ্ছানুযায়ী সায়্যিদুনা সুলায়মান اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ এর হুকুম পেয়ে হযরত সায়্যিদুনা আসিফ বিন বারখিয়া رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ সামুদ্রিক গম্বুজকে উঠিয়ে সমুদ্রের তলায় পৌঁছিয়ে দিল। এরপর হযরত সায়্যিদুনা সুলায়মান عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام বলেন, হে লোকেরা! আল্লাহ আপনাদের সকলের উপর দয়া করুন, আপনারা দেখলেন তো পিতা মাতার দুআ কিভাবে কবুল হয়। পিতামাতার অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকুন। (রাওযুর রায়্যাহীন, পৃ-২৩৩, কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)
আল্লাহর রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদের সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد
প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! জানা গেল পিতামাতার খিদমত করা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। যদি তাদের অন্তর খুশি হয়ে যায় এবং তারা দুআ করে দেয় তবে তরী পার হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে একটি ঈমান উদ্দীপক ঘটনা শুনুন এবং আন্দোলিত হোন।

পিতা-মাতার অধিকার

আহত আঙ্গুল

হযরত সায়্যিদুনা বায়েজিদ বোস্তামী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন যে, তীব্র শীতের এক রাতে আমার মা আমার কাছে পানি চাইলেন, আমি গ্লাস ভর্তি পানি নিয়ে আসলাম কিন্তু তখন মায়ের ঘুম এসে গিয়েছিল, আমি জাগানো ঠিক মনে করলাম না, পানির গ্লাস হাতে নিয়ে এ অপেক্ষায় মায়ের শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকলাম যে তিনি জাগ্রত হলেই পানি প্রদান করব। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ হয়ে গেল এবং গ্লাস থেকে গড়িয়ে কিছু পানি আমার আঙ্গুলে জমে গিয়ে বরফ হয়ে গিয়েছি। যাহোক যখন আম্মাজান জাগ্রত হলেন আমি পানির গ্লাস পেশ করলাম, বরফের কারণে লেগে থাকা আঙ্গুল হতে গ্লাস যখনই পৃথক হল চামড়া উঠে গেল এবং “রক্ত” প্রবাহিত হতে লাগল, আম্মাজান দেখে বললেন, “এটা কি?” আমি পুরো ঘটনা আরয করলাম তখন তিনি হাত উঠিয়ে দুআ করলেন, হে আল্লাহ আমি তার উপর সন্তুষ্ট তুমিও তার উপর সন্তুষ্ট থাক। (নুযহাতুল মাজালিস, খন্ড-১, পৃ-২৬১, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত) 
আল্লাহ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর  সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।
صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد


প্রতিদিন জান্নাতের চৌকাটে চুম্বন করুন

যেসব সৌভাগ্যবানদের পিতামাতা জীবিত রয়েছে তাদের উচিত প্রতিদিন কমপক্ষে একবার তাদের হাত পা অবশ্যই চুম্বন করা, পিতামাতার উঁচু মর্যাদা রয়েছে। মাদীনার তাজেদার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন, اَلْجَنَّةُ تَحْتَ اَقْدَامِ الْاُمُّهَاتِ অর্থাৎ মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত। (মুসনাদে শিহাব, খন্ড-১ম, হাদীস নং-১১৯) অর্থাৎ তাদের সাথে সদাচারণ জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম। দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা বিভাগ মাকতাবাতুল মাদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ৩১২ পৃষ্ঠা সম্বলিত “বাহারে শরীয়ত” কিতাব এর ১৬ তম অংশের ৮৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে, মায়ের পায়ে চুম্বন করা যায়। হাদীসে পাকে রয়েছে, “যে ব্যক্তি আপন মায়ের পায়ে চুমু দিল সে যেন জান্নাতের চৌকাঠে চুমু দিল।” (দুররুল মুখতার, খন্ড-৯, পৃ-৬০৬, দারুল মারিফা, বৈরুত)

মায়ের সামনে আওয়াজ উঁচু হওয়াতে গোলাম আযাদ করে দিল

মা কিংবা বাবাকে দূর থেকে আসতে দেখে সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে যান, তাদের চোখের সাথে চোখ রেখে কথা বলবেন না, ডাকলে তৎক্ষণাৎ লাব্বাইক (অর্থাৎ হাজির) বলুন, ভদ্রতার সাথে “আপনি, জনাব” করে কথাবার্তা বলুন, আপন আওয়াজ তাদের আওয়াজের চাইতে কখনো উঁচু করবেন না। হযরত সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ বিন আওন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ কে তাঁর মা ডাকলেন উত্তর প্রদানকালে নিজের আওয়াজ কিছুটা উঁচু হয়ে গেল। এ কারণে তিনি দুইটি গোলামকে আযাদ করে দিলেন। (হিলয়াতুল আউলিয়া, খন্ড-৪৫, নং-৩১০৩, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)


বারংবার হজ্জে মাবরুরের সাওয়াব অর্জন করি

سُبْحٰنَ اللهِ عَزَّوَجَل! আমাদের বুযুর্গানে দ্বীন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِمْ পিতামাতার প্রতি কেমন শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং তাদের কিরূপ মাদানী চিন্তা ছিল। আমরা দুইটি গোলাম কোত্থেকে দিব। আফসোস! এসব ব্যাপারে দুইটি মুরগী বরং দুইটি ডিমও আল্লাহর রাস্তায় দেওয়ার প্রেরণা আমাদের মাঝে নেই। আল্লাহ আমাদেরকে পিতামাতার গুরুত্ব বোঝার তাওফিক দান করুন। আমীন! আসুন। বিনা খরচে একেবারে বিনামূল্যে সাওয়াবের ভান্ডার অর্জন করি। খুব আন্তরিকতা ও মুহাব্বত সহকারে পিতামাতার দর্শন করি, পিতামাতার প্রতি দয়ার দৃষ্টিতে দেখার কথাই বা কি বলব!
সারকারে মাদীনা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর রহমতপূর্ণ ইরশাদ হচ্ছে, যখন সন্তানগণ আপন পিতামাতার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকায় তখন আল্লাহ তাআলা তার জন্য প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে হজ্জে মাবরুর (অর্থাৎ কবূলকৃত হজ্জ) এর সাওয়াব লিখে দেন। সাহাবায়ে কিরাম رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ আরয করলেন, যদিও দিনে একশবার দেখে। ফরমালেন, نَعَمْ اللهُ اَكْبَرُ وَاَطُيَبُ (“হ্যাঁ, আল্লাহ সবচেয়ে মহান ও সবচেয়ে পুতঃপবিত্র।” (শুআবুল ঈমান, খন্ড-৬, পৃ-১৮, হাদীস নং-৭৮৫৬) নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা প্রতিটি বিষয়ের উপর ক্ষমতাশীল, যতটুকু ইচ্ছা দান করতে পারেন, কখনো দূর্বল ও অসহায় নন সুতরাং কেউ যদি আপন পিতামাতার প্রতি প্রতিদিন একশবারও রহমতের দৃষ্টিতে তাকায় তবে তিনি তাকে একশ কবুলকৃত হজ্জের সাওয়াব দান করেন।
صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

জান্নাতের সঙ্গী

হযরত সায়্যিদুনা মুসা কালিমুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام একবার আপন পরওয়ারদিগার এর দরবারে আরয করলেন, হে ক্ষমাশীল প্রভু! আমাকে আমার জান্নাতের সঙ্গীর সাথে সাক্ষাত করিয়ে দিন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করলেন, অমুক শহরে যাও। সেখানকার অমুক কসাই তোমার জান্নাতের সঙ্গী। সুতরাং সায়্যিদুনা মুসা কালিমুল্লাহ ঐ কসাইয়ের নিকট তাশরীফ নিয়ে গেলেন। (অজানা সত্ত্বেও মুসাফির ও মেহমান হওয়ার উদ্দেশ্যে) ঐ কসাই তাঁকে عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام দা’ওয়াত করলেন। যখন খাবার খাওয়ার জন্য ঐ কসাই বসলেন সে একটি বড় টুকরি নিজের পাশে রাখলেন, ভিতরে দুই লোকমা রাখতেন এবং এক লোকমা নিজে খেতেন। এর মধ্যে দরজায় কেউ করাঘাত করল, কসাই উঠে বাইরে গেল। সায়্যিদুনা মুসা কালিমুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام ঐ টুকরিখানা দেখলেন সেটার ভিতর অতিশয় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা ছিল। সায়্যিদুনা মুসা কালিমুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর প্রতি দৃষ্টি পড়তেই তাদের ঠোঁটে মুচকি হাসি এসে গেল, তারা মুসা عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর রিসালাতের সাক্ষ্য দিল এবং ঐ মুহুর্তেই মৃত্যু হয়ে গেল। কসাই ফিরে এসে টুকরিতে আপন পিতামাতাকে মৃত্যু অবস্থায় দেখে ঘটনা বুঝে গেলেন এবং হযরত মুসা عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর হাত চুম্বন করে আরয করলেন, আপনাকে আল্লাহর নবী হযরত মূসা কালিমুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام মনে হচ্ছে। ফরমালেন, তোমার কিভাবে ধারণা হল আরয করল, আমার পিতামাতা প্রতিদিন কেঁদে কেঁদে দুআ করতে থাকতেন হে আল্লাহ! আমাদেরকে হযরত মুসা কালিমুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর জলওয়াতে মৃত্যু দান করুন। এ দুই জনের এভাবে হঠাৎ ইন্তেকাল হওয়াতে আমার ধারণা হল যে আপনিই হযরত সায়্যিদুনা মুসা কালিমুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام হবেন। কসাই আরয করল, আমার মা যখন খাবার খেয়ে নিতেন, তখন খুশি হয়ে আমার জন্য দুআ করতেন, হে আল্লাহ আমার ছেলেকে জান্নাতে হযরত মুসা কালিমুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর সঙ্গী বানিয়ে দিয়েন। সায়্যিদুনা মুসা কালিমুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام ফরমালেন, তোমাকে মুবারকবাদ আল্লাহ তোমাকে জান্নাতে আমার সঙ্গী করেছেন। (নুযহাতুল মাজালিস, খন্ড-১ম, পৃ-২৬৬, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)
আল্লাহর রহমাত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদের সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد


পিতামাতার অবাধ্যতার শাস্তি পার্থিব জীবনেই চলে আসে

প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা শুনলেনতো? পিতামাতার দুআ সন্তানের জন্য কিভাবে কবুল হয়। যদি পিতামাতা অসন্তুষ্ট হয়ে বদদুআ করে তখনো কবুল হয়ে যায়। তাই পিতামাতাকে সর্বদা সন্তুষ্ট রাখা উচিত। মাদীনার তাজেদার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপদেশ মূলক ফরমান হচ্ছে, পিতামাতা তোমার জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম। (ইবনে মাজাজ, খন্ড-৪, পৃ-১৮৬, হাদীস নং-৩৬৬২)

মায়ের আহবানের উত্তর না দেওয়ার কারণে বোবা হয়ে গেল

বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তিকে তার মা ডাক দিল কিন্তু সে উত্তর দিল না এতে মা তাকে বদ দুআ দিল ফলে সে বোবা হয়ে গেল। (বিররুল ওয়ালিদাইন লিত তাবরানী, পৃ-৭৯, মুআস সাসাতুস সাক্কাফিয়্যাহ, বৈরুত)


বদদুআ দেওয়া থেকে মাতা পিতার বিরত থাকাই উত্তম

প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা শুনলেন তো! পিতামাতার আহবানের উত্তর না দেওয়াতে পার্থিব জীবনেই বোবা হয়ে গেল। এর মধ্যে পিতামাতার অবাধ্যদের জন্য যেমন শিক্ষামূলক মাদানী ফুল রয়েছে, তেমনি পিতামাতার জন্য ভাবার বিষয়, বিশেষত ঐসব মায়েরা যারা কথায় কথায় আপন সন্তানকে এভাবে বলে যে তোমার সর্বনাশ হোক, তোমার ধ্বংস হোক, তোমার কুষ্ঠ রোগ হোক ইত্যাদি শুনা যায়। তাদেরকে আপন মুখকে কাবু রাখা উচিত, কখনো যেন এমন না হয় যে কবুলিয়াতের সময় হয় ও কবুল হয়ে যায় এবং সন্তানের সত্যি সত্যি “কিছু” হয়ে যায় এবং এভাবে মা নিজেও চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সুতরাং সন্তানের জন্য কেবল মঙ্গলজনক দুআ করতে থাকাই যথোপযুক্ত।


পিতামাতা বিদেশ থেকে ডাকলেও আসতে হবে

দা’ওয়াতে ইসলামীর সুন্নাত প্রশিক্ষণের জন্য মাদানী কাফিলাতে আশিকানে রাসূলদের সাথে সুন্নাতে সফর করা অবশ্যই সৌভাগ্যের বিষয়। দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাফিলা সমূহ ও অন্যান্য মাদানী কাজ ধুমধামের সাথে প্রচার প্রসারের জন্য বিদেশ সফর করা তথায় ১২ মাস কিংবা ২৫ মাস অবস্থান করাও বড় মর্যাদার বিষয় তবে যদি পিতামাতার মনে কষ্ট আসে, তাদের পেরেশানীর সম্মুখীন হতে হয় এমতাবস্থায় কখনো সফর করবেন না। দাওয়াতে ইসলামীকে সমগ্র পৃথিবীতে প্রসার করার উদ্দেশ্য নিজের বাহবা পাওয়া নয়, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং পিতামাতার আনুগত্য করার মাধ্যমেই সফর ইখতিয়ার করুন এবং এ মাসআলা অন্তরে ভালভাবে ধারণ করে নিন যেমন দাওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা বিভাগ মাকতাবাতুল মাদীনা থেকে প্রকাশিত ৩১২ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব, বাহারে শরীয়ত ১৬ তম অংশের ২০২ পৃষ্ঠায় রয়েছে যদি সন্তান বিদেশ থাকে, পিতামাতা তাকে আহ্বান করলে তবে আসতেই হবে, চিঠি লেখা যথেষ্ট নয়। অনুরূপ পিতামাতার খিদমতের প্রয়োজন হলে এসে তাদের খিদমত করতে হবে।”


দুগ্ধ পোষ্য শিশু বলে উঠল

পিতামাতা যখনই ডাকেন বিনা কারণে উত্তর প্রদানে কখনই দেরী করবেন না, অনেকেই এ বিষয়ে উদাসীন এবং উত্তর প্রদানে দেরী করাকে আল্লাহর পানাহ খারাপ মনে করে না অথচ যদি নফল নামাযপড়ছে আর পিতামাতা না জেনে স্বাভাবিকভাবে ডাকলেও নামায ভঙ্গ করে উত্তর দিতে হবে। (বাহারে শরীয়ত, খন্ড-১, পৃ-৬৩৮ হতে সংগৃহীত) (পরে এ নফল নামাযকে পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব) যেসব লোক পিতামাতার আহবানে ইচ্ছা অনিচ্ছায় খামখেয়ালী করে তাদের মনে কষ্ট দেয় তারা শক্ত গুনাহগার এবং জাহান্নামের আগুনের উপযুক্ত হয়। মা তো মা অনেক সময় ভুল বুঝে তার মুখ থেকে বদদুআ বের হয়ে যায় আর সময়টা যদি কবুলিয়তে হয় তবে সন্তান বিপদের সম্মুখিন হয়। এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফে একজন বনী ইসরাঈলের বুযুর্গের অত্যন্ত উপদেশমূলক ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যেমন মাদীনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপদেশমূলক ইরশাদ হচ্ছে, বনী ইসরাইলে জুরাইজ নামক এক ব্যক্তি ছিল, সে নামায পড়ছিল, তার মা আসল এবং তাকে ডাকল কিন্তু সে উত্তর দিল না। সে ভাবল, নামায পড়ব না উত্তর দিব, পুনরায় তার মা আসল (আর উত্তর না পেয়ে বদদুআ দিল) হে আল্লাহ! তাকে ঐ সময় পর্যন্ত মৃত্যু দিওনা যতক্ষণ কোন বেশ্যা মহিলার মুখ না দেখে। জুরাইজ একদিন ইবাদতখানায় যাচ্ছিল, এক মহিলা বলল, আমি তাকে গোমরা করে দিব সুতরাং সে এসে জুরাইজের সাথে কথা বলতে থাকল কিন্তু সে (অর্থাৎ জুরাইজ) কথা বলতে অস্বীকার করল, অবশেষে সে এক রাখালের কাছে গেল এবং নিজেকে তার কাছে সোপর্দ করে দিল অতএব সে একটি বাচ্চা জন্ম দিল এবং ঐ মহিলা বলে বেড়াল এটা জুরাইজের সন্তান, লোকেরা জুরাইজের কাছে আসল, তার ইবাদতখানা ভেঙ্গে তাকে বের করে দিল এবং তাকে খারাপ বলল। জুরাইজ ওযু করে নামায আদায় করে ঐ বাচ্চার কাছে এসে বলল, তোমার পিতা কে? সে উত্তর দিল, অমুক রাখাল। তখন লোকেরা জুরাইজকে বলল, আপনার ইবাদতখানাকে স্বর্ণ দ্বারা তৈরী করে দিব। তিনি বললেন, না পূর্বের মত মাটি দ্বারা তৈরী করে দাও। (বুখারী শরীফ, খন্ড-১৩৯, হাদীস নং- ২৪৮২, মুসলিম শরীফ, পৃ-১৩৮০, হাদীস নং-২৫৫)
আল্লাহর রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।

উত্তপ্ত পাথরের উপর দিয়ে মাকে কাঁধে নিয়ে ছয় মাইল

পিতামাতার অনেক হক রয়েছে সেগুলো থেকে দায়মুক্ত হওয়া অসম্ভব। যেমন এক সাহাবী رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ প্রিয় প্রিয় মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দরবারে আরয করলেন, এক রাস্তায় এমন গরম পাথর ছিল যদি গোশতের টুকরা তার উপর রাখা হয় তবে কাবাব হয়ে যাবে। আমি আমার মাকে কাঁধে নিয়ে ছয় মাইল পর্যন্ত পথ অতিক্রম করলাম, আমার কি মায়ের হক আদায় হয়েছে? সারকারে মাদীনা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ ফরমালেন, তোমার জন্মকালে তাঁর ব্যথার যে ঝটকা অনুভুব হয়েছিল হয়ত সেগুলো থেকে এক ঝটকার বিনিময় হতে পারে। (আল মুজামুস সাগীর লিত তাবরানী, খন্ড-১০, পৃ-৯২, হাদীস নং-২৫৬)
আল্লাহর রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।


যদি মেয়েদের পরিবর্তে ছেলেদের সন্তান জন্ম দিতে হত তবে…….

প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! বাস্তবিকই মা আপন সন্তানের জন্য কষ্ট করে থাকেন, প্রসবকালীন ব্যথার কথা মায়েরাই জানেন, পুরুষদের জন্য কতইনা সহজতা যে তাদেরকে প্রসব করতে হয় না। আমার আকা, আলা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত ইমাম আহমদ রযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ ২৭ খন্ড ১০১ পৃষ্ঠার মধ্যে বলেন, পুরুষের সম্পর্ক কেবল স্বাদ গ্রহণের মধ্যেই আর মহিলাদেরকে শত মুসিবতের সম্মুখীন হতে হয়, নয় মাস গর্ভে ধারণ করতে হয় যাতে চলাফেরা, উঠা বসা কষ্টকর হয়, অতঃপর প্রসবকালীন প্রতিটি ঝটকাতে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়, এরপর বিভিন্ন ধরনের ব্যথামূলক নিফাস (অর্থাৎ প্রসবের পর রক্তক্ষরণের কষ্ট) এর কারণে ঘুম চলে যায়। এজন্য আল্লাহ তাআলা ইরশাদ ফরমান,
حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا ۖ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: তার মা তাকে কষ্ট সহ্য করে গর্ভে রেখেছে এবং কষ্ট সহ্য করে তাকে প্রসব করেছে আর বহন করে চলাফেরা করা ও তার দুধ ছাড়ানো ত্রিশ মাসের মধ্যে। (পারা-২৬, সূরা আহকাফ, আয়াত-১৫)
তাই প্রতিটি সন্তানের জন্মে মহিলাদেরকে কমপক্ষে তিন বছর কষ্ট সহ্য করতে হয়। পুরুষের পেট থেকে একবারও যদি “ইঁদুরের বাচ্চা” জন্ম হত তবে সারা জীবনের জন্য কান ধরত। (ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ, খন্ড- ২৭, পৃ-১০১, রযা ফাউন্ডেশন, লাহোর)

স্ত্রী সহানুভূতি পাওয়ার অধিকারী হয়

প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আলা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর বরকতময় ফাতাওয়ার মধ্যে যেখানে মায়ের অবস্থানের কথা জানা গেল সেখানে স্ত্রীর গুরুত্বও প্রকাশ পেয়েছে। স্বামীর উচিত যে গর্ভকালীন সময়ে আপন স্ত্রীর প্রতি বিশেষভাবে সদয় হওয়া, কাজকর্মে খুব সহযোগীতা করা, ভারি কোন কাজ না দেওয়া, বকা ঝকা কিংবা কোনও ধরনের দুঃশ্চিন্তার কারণ না হওয়া। মোটকথা যতটুকু সম্ভব তাকে আরাম দেওয়া। যখনই আপন মাদানী মুন্না/মুন্নীকে স্নেহ করেন সাথে তার মায়ের প্রতিও দয়ার দৃষ্টিতে দেখুন কেননা এ দৌড়ঝাপকারী মনজুড়ানো খেলনা এর সেবা যত্নের ব্যাপারে এ বেচারী কতইনা কষ্ট সহ্য করেছে।

দুধ পান করানোর মাসআলার ব্যাখ্যা

আলা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর বরকতময় ফাতাওয়ার মধ্যে আয়াতে কারীমাতে যা ইরশাদ হয়েছে যেমন “তার দুধ ছাড়ানো ত্রিশ মাসের মধ্যে” এটা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে দুধ সম্পর্কিত আত্মীয় ও বিবাহ হারাম হওয়ার ব্যাপারে। দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মাদীনার প্রকাশিত ১১৮২ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব, “বাহারে শরীয়ত” খন্ড-২, পৃষ্ঠা ৩৬ এর মধ্যে রয়েছে, বাচ্চাকে (হিজরী সন অনুযায়ী) দুই বছর পর্যন্ত দুধ পান করানো যাবে, এর অতিরিক্ত নয়, দুধপানকারী ছেলে হোক কিংবা মেয়ে। আর সাধারণ লোকদের মাঝে এ কথাটি প্রসিদ্ধ রয়েছে যে, মেয়েদের দুই বছর এবং ছেলেদেরকে আড়াই বছর পর্যন্ত দুধ পান করানো যাবে তা সঠিক নয়। এ হুকুমটি দুধ পান করানোর ব্যাপারে, এছাড়া বিবাহ হারাম হওয়ার জন্য আড়াই বছরকালীন সময় (অর্থাৎ দুই বছরের পর যদিও দুধ পান করানো হারাম তথাপি (হিজরী সন অনুযায়ী) আড়াই বছরের ভিতর যদি দুধ পান করিয়ে দেয় তবে বিবাহ হারাম হওয়া সাব্যস্ত হয়ে যাবে এরপর (অর্থাৎ আড়াই বছরের পর) যদি পান করে তবে বিবাহ হারাম হবে না। যদিও পান করানো জায়িয নেই।


অত্যাচারী মা-বাবারও আনুগত্য আবশ্যক

হযরত সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا থেকে বর্নিত, সুলতানে দুজাহান صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপদেশ মূলক ইরশাদ হচ্ছে, যে ব্যক্তির সকাল আপন মা বাবার আনুগত্য করা অবস্থায় হয়, তার জন্য সকালেই জান্নাতের দুইটি দরজা খুলে যায়, আর মা বাবা থেকে একজন থাকে তবে একটি দরজা খুলে যায়। আর যে ব্যক্তির রাত মা বাবার ব্যাপারে আল্লাহর নাফরমানী করে তার জন্য সকালেই জাহান্নামের দুইটি দরজা খুলে যায় এবং (মা-বাবা হতে) একজন থাকে তবে একটি দরজা খুলে। এক ব্যক্তি আরয করল, যদিও মা বাবা তার উপর অত্যাচার করে? ফরমালেন, যদিও মা বাবা অত্যাচার করে, মা বাবা অত্যাচার করে, যদিও মা বাবা অত্যাচার করে। (শুয়াবুল ঈমান, খন্ড-৬, পৃ-২০৬, হাদীস নং-৭৯১৬, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)
প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! বাস্তবিকই ঐ ব্যক্তি বড় সৌভাগ্যবান যে মা বাবাকে সন্তুষ্ট রাখে, যে দূর্ভাগা মা বাবাকে অসন্তুষ্ট করে তার জন্য ধ্বংস। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ১৫ পারা সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত নং ২৩ হতে ২৫ এর মধ্যে ইরশাদ ফরমান,
وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا (23) وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا (24) رَّبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا فِي نُفُوسِكُمْ ۚ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: এবং যেন মাতা পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার করো। যদি তোমার সামনে তাদের মধ্যে একজন কিংবা উভয়ে বার্ধক্যে উপনিত হয়ে যায় তবে তাদেরকে ‘উহ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিওনা আর তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলবে। এবং তাদের জন্য নম্রতার বাহু বিছাও কোমল হৃদয়ে আর আরয করো, ‘হে আমার রব! তুমি তাঁদের উভয়ের উপর দয়া করো যেভাবে তাঁরা উভয়ে আমাকে শৈশবে প্রতিপালন করেছেন। তোমাদের রব ভালভাবে জানেন যা তোমাদের অন্তরসমূহে রয়েছে।


ছোট সময় মাতো সন্তানের নাপাকী সহ্য করেছিল 

প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! উপরোল্লিখিত আয়াতে কারীমাতে আল্লাহ তায়ালা মাতা পিতার সাথে সদাচারণ করার হুকুম দিয়েছেন এবং বিশেষ করে তাঁদের বৃদ্ধ অবস্থায় বেশী খিদমত করার ব্যাপারে তাকিদ করা হয়েছে। বাস্তবিকই মাতা পিতার বার্ধক্যতা মানুষকে পরীক্ষায় ফেলে দেয়, অতি বৃদ্ধাবস্থায় অনেক সময় বিছানার মধ্যেই প্রস্রাব পায়খানা করে থাকে যার কারণে সাধারণত: সন্তানগণ বিরক্তবোধ করে, কিন্তু স্মরণ রাখবেন! এমতাবস্থায়ও মাতা পিতার খিদমত করা আবশ্যক। শৈশবকালে মাও তো সন্তানের নাপাকী সহ্য করেছিলেন। বার্ধক্যতা ও রোগের কারণে মাতা পিতার মধ্যে যতই খিটখিটে স্বভাব আসুক, হুঁশ চলে যাক, খুব বিড়বিড় (অর্থাৎ বার্ধক্য জনিত কারণে বক্ বক্ করা) করুক, বিনা কারণে ঝগড়া করুক, যতই বাড়াবাড়ি করুক, চাই পেরেশান করে রাখুক না কেন এরপরও ধৈর্য, ধৈর্য ও ধৈর্যই ধরতে হবে এবং সম্মান করতেই হবে। তাদের সাথে সদাচারণ করা, তাদেরকে বকা ঝকা ইত্যাদি থেকে বেঁচে থেকে তাদের সামনে “উফ” পর্যন্ত করবেন না। অন্যথায় সফলতা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে এবং উভয় জাহানের ধ্বংস নিজের ভাগ্যে পরিণত হতে পারে কেননা মাতা পিতার মনে কষ্ট প্রদানকারী দুনিয়াতেও অপদস্ত হয় এবং আখিরাতে শাস্তির উপযুক্ত হয়।

গাধার মত লাশ

হযরত সায়্যিদুনা আওয়াম বীন হাওশাব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ (যিনি একজন তাবেঈ বুযুর্গ ছিলেন এবং তিনি ১৪৭ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন) বলেন, একবার আমি কোন এক মহল্লা দিয়ে যাচ্ছিলাম, যার একপাশে কবরস্থান ছিল, আসরের নামাযের পর একটি কবর ফেটে গেল এবং সেটা থেকে এক ব্যক্তি বের হল, যার মাথা গাধার মত ছিল আর বাকী শরীর মানুষের ছিল, সে তিনবার গাধার মত আওয়াজ করল অতঃপর কবরে চলে গেল এবং কবর বন্ধ হয়ে গেল। এক বৃদ্ধ মহিলা দূরে বসে সুতা কাটছিল, অন্য এক মহিলা আমাকে বলল, বৃদ্ধা মহিলাকে দেখতেছ? আমি বললাম, তার ঘটনা কি? বলল ইনি ঐ কবরের লোকটির মা, লোকটি মদ্যপায়ী ছিল যখন সন্ধ্যায় ঘরে আসত মা তাকে উপদেশ দিয়ে বলত যে হে আমার সন্তান! আল্লাহকে ভয় কর, আর কতদিন এ অপবিত্র বস্তু পান করবে। সে উত্তর দিত, তুমি গাধার মত চিৎকার কর। এ লোকটি আসরের পর মৃত্যু হল, মৃত্যুর পর থেকে প্রতিদিন আসরের পর তার কবর ফেটে যায় এবং এভাবে তিনবার গাধার মত চিৎকার করে কবরে চলে যায় আর কবর বন্ধ হয়ে যায়। (আত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল মানযারী, খন্ড-২য়, পৃ-২৬৬, হাদীস নং-১৭, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)

মাতা-পিতার অবাধ্য ব্যক্তির কোন ইবাদত কবুল হয় না

প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! তাওবা কবুলকারী আল্লাহর নিকট তওবা করছি ও তাঁর নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। আহ! মাতা পিতার মনে কষ্ট প্রদান করা কতইনা অপদস্ত ও যন্ত্রণাদায়ক আযাবের উপকরণ। হাদীসে পাকে রয়েছে عَذَبُ القَبْرِ حَقٌّ অর্থাৎ কবরের আযাব সত্য। (নাসাঈ, পৃ-২২৫, হাদীস নং-১৩০) কখনো কখনো দুনিয়াতেও তার কিছুটা দৃশ্য দেখানো হয় যাতে লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে। আপন পিতার নাফরমানী সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে আমার আকা আলা হযরত, শাহ ইমাম আহমদ রেযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন, পিতার নাফরমানী মূলত আল্লাহ জাব্বার ও কাহহারের নাফরমানী এবং পিতার অসন্তুষ্টি আল্লাহ জাব্বার ও কাহহারের অসন্তুষ্টি, মানুষ মাতা পিতাকে সন্তুষ্ট করলে তারাই তার জন্য জান্নাত পক্ষান্তরে তাদেরকে অসন্তুষ্ট করলে তারাই তার জন্য জাহান্নাম। যতক্ষণ পর্যন্ত পিতাকে সন্তুষ্ট করবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তার কোন ফরয, কোন নফল, কোন নেক আমল মোটেই কবুল হয় না। আখিরাতের শাস্তি ছাড়াও দুনিয়াতেই আপন জীবদ্দশায় কঠিন বিপদ তার উপর আসবে, মৃত্যুর সময় (আল্লাহর পানাহ) কালিমা নসীব না হওয়ার আশংকা রয়েছে। (ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ, খন্ড-২৪, পৃ-৩৮৪-৩৮৫) মাতা পিতা আল্লাহর পানাহ কাফির হলেও শরীয়তের সীমারেখার মধ্যে থেকে তাদের সাথে সদাচরণ করা আবশ্যক।
দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মাদীনার প্রকাশিত ১১৮২ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব, “বাহারে শরীয়ত” ২য় খন্ড ৪৫২ পৃষ্টার মধ্যে সাদরূশ শরীয়া, বদরুত তরিকা হযরত আল্লামা মাওলানা মুহাম্মদ আমজাদ আলী আজমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ আলমগীরীর বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন, যদি কোন মুসলমানের পিতা কিংবা মাতা কাফির হয় এবং বলে আমাকে তুমি মন্দিরে পৌঁছিয়ে দাও তবে পৌঁছিয়ে দিবে না আর যদি সেখান থেকে আসতে চায় তবে নিয়ে আসবে।” (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, খন্ড-২, পৃ-৩৫, দারুল ফিকর, বৈরুত)


মাতা পিতাকে গালি গালাজকারী

যেসব লোকদের অপরের মাকে গালি গালাজ করার অভ্যাস আছে সে খুবই খারাপ লোক, দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মাদীনার প্রকাশিত ৩১২ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব, “বাহারে শরীয়ত” ১৬তম অংশের ১৯৫ পৃষ্ঠার মধ্যে সাদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা, হযরত আল্লামা মাওলানা মুহাম্মদ আমজাদ আলী আজমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ইরশাদ করেন, এ কথাটি কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভূক্ত যে, মানুষ আপন মাতা পিতাকে গালি গালাজ করে। লোকেরা আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কেউ কি আপন মাতা পিতাকে গালি গালাজ করে? ইরশাদ ফরমান, “হ্যাঁ সেটা এভাবে করা হয় যে, সে অন্য জনের পিতাকে গালি দেয়, প্রতি উত্তরে ঐ ব্যক্তি তার পিতাকে গালি দেয় এবং সে অন্য জনের মাকে গালি দেয় প্রতি উত্তরে ঐ লোকটি তার মাকে গালি দেয়।” (মুসলিম, পৃ-৬০, হাদীস নং-১৪৬) অত্র হাদীসে পাক বর্ণনা করার পর হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী আমজাদ আলী আজমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন, সাহাবায়ে কিরাম عَلَيْهِمُ الرِّضْوَان যাঁরা আরবের অন্ধকার যুগ দেখেছিলেন, তাঁদের ধারণাতে আসছিল না যে কেউ আপন মাতা পিতাকে কেন গালি গালাজ করবে (অর্থাৎ কেউ কি আপন মাতা পিতাকেও গালি গালাজ করতে পারে) এ বিষয়টি তাঁদের ধারণার বাইরে ছিল। হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন, এটা দ্বারা উদ্দেশ্য অন্য জনের দ্বারা গালি গালাজ করায় আর এখন তো এমন যুগ চলে এসেছে যে অনেকে নিজেই আপন মাতা পিতাকে গালি গালাজ করে ও কোন পাত্তাই দেয় না। (বাহারে শরীয়ত) 

আগুনের ডালে ঝুলন্ত ব্যক্তি

হযরত সায়্যিদুনা ইমাম আহমদ ইবনে হাজর মক্কী শাফেঈ رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বর্ণনা করেন, রাসূলে মাকবুল, মা আমেনার সুবাসিত বাগানের ফুল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপদেশ মূলক ফরমান হচ্ছে, মিরাজ রাতে আমি কিছু লোককে দেখলাম যারা আগুনের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে জিবরাইল! এসব লোক কারা? আরয করলেন, اَلَّذِيْنَ يَشْتُمُوْنَ اٰبَائَهُمْ وَاُمَّهَاتِهِمْ فِى الدُّنْيَا অর্থাৎ এসব লোক যারা দুনিয়াতে আপন মাতা পিতাকে গালি গালাজ করেছিল। (আয যাওয়াজির আন ইকতিরাফিল কাবাইর, খন্ড-, পৃ-১৩৯, দারুল মারিফাহ, বৈরুত)

বৃষ্টির ফোটার মত অগ্নি স্ফুলিঙ্গ

বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি আপন মাতা পিতাকে গালি দেয় তার কবরে আগুনের এত বেশী স্ফুলিঙ্গ বর্ষণ হবে যেভাবে (বৃষ্টির) ফোটা আকাশ থেকে জমিনে পতিত হয়। (আয যাওয়াজির আন ইকতিরাফিল কাবাইর, খন্ড-, পৃ-১৪০, দারুল মারিফাহ, বৈরুত)

কবরে পাজর ভেঙ্গে দিবে

বর্ণিত আছে, যখন মাতা পিতার অবাধ্য সন্তানকে দাফন করা হয়, তখন কবর তাকে এমনভাবে চাপ দেয় যে তার পাজরদ্বয় (ভেঙ্গে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে) একটি অপরটিতে ঢোকে যায়। (আয যাওয়াজির আন ইকতিরাফিল কাবাইর, খন্ড-, পৃ-১৪০, দারুল মারিফাহ, বৈরুত)


জান্নাতে প্রবেশ করবে না

হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে ওমর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا থেকে বর্ণিত, মাদীনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপদেশ মূলক ইরশাদ হচ্ছে, তিন ধরনের লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (১) মাতা পিতাকে কষ্ট প্রদানকারী, (২) দায়্যুস, (৩) পুরুষের বেশ ভূষাধারিনী মহিলা। (আল মুসতাদরাক, খন্ড-১, পৃ-২৫২, হাদীস নং-২৫২)


মাতা পিতা পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া হলে সন্তান কি করবে?

আমার আকা, আলা হযরত, ইমাম আহমদ রেযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন, যদি মাতা পিতা পরস্পরের মধ্যে মনোমালিন্য হয় তখন সন্তান মায়ের পক্ষও অবলম্বন করবে না, পিতার পক্ষও অবলম্বন করবে না, কখনো যেন এমন না হয় মায়ের ভালবাসায় পিতার উপর কঠোরতা করবে। পিতার মনে দুঃখ দেওয়া বা তাঁর কথার প্রতি উত্তরে দেওয়া কিংবা বেয়াদবীর সাথে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলা এসব কিছু হারাম এবং আল্লাহর নাফরমানী সন্তানদেরকে মাতা পিতার মধ্যে কারো সাথে এভাবে পক্ষ অবলম্বন করা কখনো জায়িয নেই। তাঁরা উভয়েই তার জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম, যাকে কষ্ট দিবে তাহলে জাহান্নামের উপযুক্ত হয়ে যাবে। (আল্লাহর পানাহ) আল্লাহর নাফরমানীর ব্যাপারে কারো আনুগত্যতা বৈধ নয়। যেমন মায়ের ইচ্ছা যে সন্তান যে কোনভাবে পিতাকে কষ্ট প্রদান করুক আর যদি সন্তান না শুনে অর্থাৎ পিতার উপর কঠোরতা প্রদর্শন করতে রাজি না হয় তবে মা অসন্তুষ্ট হয়ে যায়, এমতাবস্থায় মাকে অসন্তুষ্ট হতে দাও এবং এ বিষয়ে মায়ের কথা শুনবে না। অনুরূপভাবে মায়ের ব্যাপারেও পিতার কথা শুনবে না। ওলামায়ে কিরাম এভাবে বিভক্ত করেছেন, খিদমতের ব্যাপারে মাকে প্রাধান্য এবং সম্মানের ব্যাপারে পিতাকে বেশী প্রাধান্য দেয়া চাই কেননা তিনি মায়েরও হাকিম ও মালিক। (ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ, খন্ড-২৪, পৃ-৩৯ হতে সংগৃহীত)

মাতা-পিতা দাঁড়ি মুন্ডন করতে আদেশ দিলে তা কি শুনবে?

বুঝা গেল মাতা-পিতা যদি কোন না জায়িয বিষয়ের আদেশ দেয়, তাহলে তা পালন করবে না। যদি নাজায়িয বিষয়ে তাঁদের কথার অনুসরণ কর তবে গুনাহগার সাব্যস্ত হবেন। উদাহরণস্বরূপ মাতাপিতা মিথ্যা বলতে আদেশ দিলে কিংবা দাঁড়ি মুন্ডন করা বা এক মুষ্টি থেকে ছোট করতে বলে তবে তাঁদের এসব কথা কখনো পালন করবে না। চাই তাঁরা যতই অসন্তুষ্ট হোক, আপনি নাফরমান সাব্যস্ত হবেন না, অবশ্য যদি মেনে নেন তবে আল্লাহর নাফরমান অবশ্যই সাব্যস্ত হবেন। অনুরূপভাবে যদি মাতা পিতার মধ্যে তালাক হয়ে যায় তবে এখন মা লাখো কান্নাকাটি করে বলে যে দুধের হক ক্ষমা করবোনা এবং আদেশ দেয় তোমার পিতার সাথে সাক্ষাত করবে না। এসব আদেশ পালন করবে না। পিতার সাথে সাক্ষাত করতে হবে এবং তাঁর খিদমত করতে হবে কেননা তাদের পরস্পরের মধ্যে যদিও পৃথকতা হয়ে গেছে তবুও সন্তানের সম্পর্ক পূর্বের মত অবশিষ্ট থাকবে, সন্তানের উপর উভয়ের হক সমূহ বহাল থাকবে। যার উপর মাতাপিতা অসন্তুষ্ট অবস্থায় মৃত্যু বরন করে তবে অধিকহারে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন কেননা মৃতদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হচ্ছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাদের পক্ষ থেকে বেশী পরিমাণে ঈসালে সাওয়াব করা। সন্তানের পক্ষ থেকে নিয়মিত নেকীর উপহার পৌঁছালে আশা করা যায় যে মরহুম মাতা পিতা সন্তুষ্ট হয়ে যাবে। 
দাওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মাদীনার প্রকাশিত ৩১২ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব, “বাহারে শরীয়ত” ১৬তম অংশের ১৯৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ ফরমান, “কারো মাতা পিতা কিংবা একজনের ইন্তেকাল হয়ে গেল এবং সে তাদের অবাধ্য ছিল, এখন সে তাঁদের জন্য সবসময় ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে, এমন কি আল্লাহ তাকে নেককারদের অন্তর্ভূক্ত করে নেন।” (শুআবুল ঈমান, খন্ড-২, পৃ-২০২, হাদীস নং-৭৯০২)
সম্ভব হলে মাকতাবাতুল মাদীনার প্রকাশিত রিসালা ইত্যাদি সামর্থানুযায়ী ক্রয় করে ঈসালে সাওয়াবের নিয়তে বন্টন করুন, যদি ঈসালে সাওয়াবের জন্য মাতা পিতা অন্য কারো নাম ও আপন ঠিকানা কিতাবে ছাপাতে চান তবে মাকতাবাতুল মাদীনার সাথে যোগাযোগ করুন।


মাতা পিতার ঋন পরিশোধ করে দিন

মাদীনার তাজেদার উভয় জগতের সরদার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সুগন্ধিমূলক ফরমান হচ্ছে, যে ব্যক্তি আপন মাতা পিতার (ইন্তেকালের) পর তাঁদের কসম পূর্ণ করে ও তাঁদের ঋন আদায় করে এবং কারো মাতা পিতাকে খারাপ না বলে, নিজের পিতামাতাকে খারাপ না বলায়, তাদেরকে মাতা পিতার সাথে সদাচরনকারী হিসেবে গণ্য করা হবে যদিও (তাদের জীবদ্দশায়) অবাধ্য ছিল আর যে তাঁদের কসম পূর্ণ করে না ও তাদের ঋন আদায় করে না এবং কারো মাতা পিতাকে মন্দ বলে তাঁদেরকে মন্দ বলায় তাহলে তাকে অবাধ্য হিসেবে গণ্য করা হবে যদিও তাঁদের জীবদ্দশায় ‘সদাচরণকারী’ ছিল। (আল মুজামুল আওসাত লিত্ তাবরানী, খন্ড-৪, পৃ-২৩২, হাদীস নং-৫৮১৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)

জুমার দিন মাতা পিতার কবরে উপস্থিত হওয়ার সাওয়াব

মাদীনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দয়ামূলক ইরশাদ হচ্ছে, যে ব্যক্তি আপন মাতা পিতা কিংবা একজনের কবরে প্রতি জুমার দিন যিয়ারত করার জন্য উপস্থিত হয়, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং মাতা পিতার সাথে সদাচরণকারী হিসেবে গণ্য করবেন। (নাওয়াদিরুল উসূল লিল হাকিম আত তিরমিযী, পৃ- ৯৭, হাদীস নং-১৩০, দামেশক)

মাদানী চ্যানেল ঘরে ঘরে সুন্নাতের বাহার নিয়ে আসবে

প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! মাতা পিতার অবাধ্যতা হতে নিজেকে বাঁচাতে এবং তাদের আনুগত্যের প্রেরণা পেতে এছাড়া অন্তরে রাসূল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর প্রেমের আগুন জ্বালাতে ও হৃদয়কে মুহাব্বাতে রাসূলের জন্য দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সর্বদা সম্পৃক্ত থাকুন। এ মাদানী পরিবেশের বরকতে সুন্নাতের পথে চলতে নেকীর কাজ করতে, গুনাহ থেকে বাঁচতে এবং ঈমান হিফাযতের জন্য চিন্তা ভাবনা করার সৌভাগ্য নসীব হয়। সুন্নাত প্রশিক্ষণের জন্য প্রতি মাসে কমপক্ষে তিন দিনের মাদানী কাফিলাতে আশিকানে রাসূলদের সাথে সুন্নাতে ভরা সফর করাকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করে নিন, মাদানী মারকায প্রদত্ত নেককার হওয়ার ব্যবস্থাপত্র “মাদানী ইনআমাত” অনুযায়ী আপন জীবনের রাত দিন অতিবাহিত করুন এছাড়া প্রতি রাতে কমপক্ষে ১২ মিনিট ফিকরে মাদীনা করুন এবং এ মাদানী ইনআমাত রিসালা পূরণ করুন اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ উভয় জগতের বেড়া পার হয়ে যাবে। দাওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের বরকত অনুধাবন করার জন্য এক মাদানী বাহার পর্যবেক্ষণ করুন, মীরপুর ১১ (ঢাকা, বাংলাদেশ) এর দাওয়াতে ইসলামীর এক মুবাল্লিগের বর্ণনার সারমর্ম হচ্ছে যে, রাস্তায় চলতে গিয়ে এক ভদ্র লোকের সাথে সাক্ষাত হল, আমাকে দেখতেই তিনি বলতে লাগলেন, আপনি কি জানেন, আমি এখন স্ত্রী পুত্র নিয়ে কোথায় যাচ্ছি?
নিজেই এর উত্তর দিতে গিয়ে বলতে লাগলেন, আমার মাতা পিতা আমার উপর অসন্তুষ্ট এবং আমি মাতা পিতার সাথে অসন্তুষ্ট ছিলাম। দাওয়াতে ইসলামীর মাদানী চ্যানেলে প্রচারিত সুন্নাতে ভরা বয়ান“মাতা পিতার অধিকার” দেখার বরকতে আমার বুঝে আসল যে আমি মাতা পিতার নাফরমানী করে অনেক বড় গুনাহ করেছি, তাই ক্ষমা চাওয়ার জন্য এখনী স্ত্রী পুত্র সহ মাতা পিতার খিদমতে উপস্থিত হওয়ার জন্য যাচ্ছি, আল্লাহ তাআলা দাওয়াতে ইসলামী ও মাদানী চ্যানেলকে দিন দিন উন্নতি দান করুন। আমীন বিজাহিন্নাবিয়্যিল আমিন

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد
রাহে সুন্নাত পর চলাকর সব কো জান্নাত কি তরফ,
লে চলে বস ইক ইয়েহী হে মাদানী চ্যানেল কা হাদফ
ইয়া খোদা হে ইলতিজা আত্তার কি
সুন্নাতে আপনায়ে সব সরকার কি।

মাতা পিতার অভিশাপে পা কেটে গেল

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! এ মাদানী বাহারে “মাদানী চ্যানেল” এর উপকারীতা সম্পর্কে জানা গেল। এ মাদানী বাহারের মধ্যে মাতা পিতার অধিকারের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে, বাস্তবিকই মাতা পিতার অধিকার সমূহ থেকে দায়মুক্ত হওয়া অত্যন্ত কঠিন, এজন্য সারাজীবন সচেষ্ট থাকতে হবে এবং মাতা পিতার অসন্তুষ্টি থেকে সদা সর্বদা বেঁচে থাকতে হবে। যে সব লোক মাতা পিতাকে কষ্ট দেয় তাদেরকে পার্থিব জীবনেই ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখিন হতে হয়। যেমন হযরত আল্লামা কামাল উদ্দীন দামেরী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বর্ণনা করেন, “যামাখশরী” (যিনি মুতাযিলা ফিরকার একজন বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন) এর একটি পা কাটা ছিল, লোকেরা জিজ্ঞাসা করাতে তিনি এ রহস্য উদঘাটন করেন যে এটা আমার মায়ের বদ দুআর ফল, ঘটনা হচ্ছে বাল্যকালে আমি একটি চড়ুই পাখি ধরে সেটার পায়ে সুতা বেঁধে দিলাম, হঠাৎ সেটা আমার হাত থেকে ছুটে উড়তে উড়তে একটি দেয়ালের ফাটলে ঢুকে গেল, কিন্তু সুতা বাইরে ঝুলছিল, আমি সুতা ধরে জোরে টান দিলাম এতে চড়ুই পাখিটি পরপর করে বাইরে বেরিয়ে আসল, কিন্তু পা সুতায় কেটে গিয়েছিল, আমার মা এ বেদনাময় দৃশ্য দেখে হৃদয়ের আঘাতে কেঁপে উঠলেন এবং তাঁর মুখ থেকে আমার জন্য এ বদ দুআ বের হয়ে গেল, “যেভাবে তুমি এ অবলা পাখির পা কেটেছ, অনুরূপ আল্লাহ তাআলা তোমার পাও কাটুক। বদ দুআর ফল প্রকাশ পেয়ে গেল, কিছুদিন পর আমি ইলমে দ্বীন অর্জনের জন্য, “বুখারা” তে সফর অবলম্বন করলাম, পথিমধ্যে আপন বাহন থেকে পড়ে গেলাম, এতে পায়ে খুব আঘাত লাগল, “বুখারা” পৌঁছে অনেক চিকিৎসা করালাম কিন্তু কষ্ট দূর হল না অবশেষে পা কেটে ফেলতে হল। (এবং এভাবেই মায়ের বদ দুআর প্রভাব প্রকাশ পেল) (হায়াতুল হাইওয়ান, আল কুবরা, খন্ড-২য়, পৃ-১৬৩)

মাতা পিতার পা ধরে ক্ষমা চেয়ে নিন

প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! যদি আপনার মাতা পিতা কিংবা তাঁদের কেউ একজন অসন্তুষ্ট হয় তবে সাথে সাথে তাঁর সামনে হাতজোর করে, পায়ে ধরে কেঁদে কেঁদে ক্ষমা করানোর ব্যবস্থা করে নিন, তাঁদের বৈধ চাওয়া পূরণ করে দিন কেননা এতে উভয় জাহানের মঙ্গল রয়েছে। মাতা পিতার অধিকার সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানতে দাওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মাদীনা থেকে প্রকাশিত দুটি ভিসিডি (১) মাতা পিতার অধিকার, (২) রমযানের ইতিকাফ (১৪৩০ হি:) হওয়া মাদানী মুযাকারার ভিসিডি মাতা পিতার অবাধ্যদের পরিণাম দেখুন। 
দিল দুখানা ছোড়দে মা বাপ কা,
ওয়ারনা হে ইস মে খাসারা আপ কা।
কিনায়ে মুসলিম সে সিনা পাক কর,
ইত্তিবায়ে সাহিবে লাওলাক কর।
ইয়া খোদ হে ইলতিজা আত্তার কি,
সুন্নাতে আপনায়ে সব সরকার কি।

এই রিসালার বাকী লিখা টুকু পড়তে পরবর্তী পোষ্টে ? ক্লিক করুন
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ৩৪৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত “সামুদ্রিক গম্বুজ“ নামক রিসালার ৩২-৩৮ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই রিসালাটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন 
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন