কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর: বর-কনে একে অন্যকে দেখা

1,457

যাকে বিয়ে করবে তাকে দেখা

প্রশ্ন:- শুনেছি যেই মেয়েকে বিয়ে করবে তাকে নাকি পুরুষ দেখতে পারবে?
উত্তর:- আপনি ঠিকই শুনেছেন। উভয়েই একে অপরকে দেখতে পারবে। সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “(পুরুষ ও মহিলা একে অপরকে দেখার অনুমতি সমৃদ্ধ) আরও একটি ধরণ রয়েছে, আর তা হলো যদি ছেলে সেই মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে এই নিয়্যতে সে ঐ মেয়েকে দেখতে পারবে। কেননা, হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে: “যার সাথে বিয়ে করবে, তাকে দেখে নাও। কেননা, এটা ভালবাসা দৃঢ়তার মাধ্যম।” (সুনানে তিরমিযী, ২য় খন্ড, ৩৪৬ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১০৮৯)
তেমনিভাবে মহিলাও সেই পুরুষকে দেখতে পারবে, যে তার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। যদিওবা যৌন উত্তেজনার আশংকা থাকে, কিন্তু দেখার মধ্যে উভয়ের এই নিয়্যতই থাকা উচিত যে, হাদীস শরীফের উপর আমল করছি।”  (বাহারে শরীয়াত, ১৬তম অংশ, ৯০ পৃষ্ঠা)


যদি দেখা সম্ভব না হয় তবে কি করা উচিৎ

প্রশ্ন:- যদি ছেলে মেয়ে একে অপরকে দেখা সম্ভব না হয়, তবে অন্য কোন পদ্ধতি রয়েছে কি?:
উত্তর:- এর পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “যেই মেয়েকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক, যদি তাকে দেখা সম্ভব না হয়, যেমনিভাবে বর্তমান যুগে প্রচলিত রয়েছে যে, যদি কেউ বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তবে কোনভাবেই ছেলেকে মেয়ের চেহারা দেখতে দেয় না (অর্থাৎ এমতাবস্থায় ছেলের সাথে এতোটা মজবুত পর্দা করা হয়, যা পর-পুরুষের সাথেও করা হয় না) এই অবস্থায় সেই ব্যক্তির উচিত যে, যেন অন্য কোন মহিলাকে পাঠিয়ে কনেকে দেখিয়ে নেয়া এবং সে এসে মেয়ের সম্পূর্ণ অবয়ব ও দৈহিক কাঠামো ইত্যাদি বর্ণনা করবে, যেন বরের কাছে তার দৈহিক অবস্থা ও আকৃতির ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা হয়ে যায়।” (বাহারে শরীয়াত, ১৬তম অংশ, ৯০ পৃষ্ঠা)

পুরুষের নিকট মহিলার চিকিৎসা করানো

প্রশ্ন:- পুরুষ ডাক্তার, মহিলা রোগীকে দেখতে ও স্পর্শ করতে পারবে কি না?
উত্তর:- যদি মহিলা ডাক্তার পাওয়া না যায় তবে অপারগ অবস্থায় অনুমতি রয়েছে। এ ব্যাপারে সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “পর নারীর দিকে দেখার প্রয়োজনীয় একটি অবস্থার মধ্যে এটাও যে, যদি মহিলা অসুস্থ হয়, তখন তার চিকিৎসার জন্য কতিপয় অঙ্গ সমূহের দিকে দেখার প্রয়োজন হয় বরং তাকে স্পর্শও করতে হয়। যেমন; নাড়ী পরীক্ষা করার জন্য হাত স্পর্শ করতে হয়, অথবা পেট ফুলে গেলে তখন চাপ দিয়ে দেখতে হয়, কিংবা কোন স্থানে ফোঁড়া হলে তা দেখতে হয়, বরং অনেক সময় চাপও দিতে হয়। এমতাবস্থায় রোগাক্রান্ত স্থানের দিকে দৃষ্টিপাত করা অথবা বর্ণিত প্রয়োজনানুসারে সেই স্থানকে স্পর্শ করাও জায়েয। এটা তখনই হবে যখন মহিলা ডাক্তার পাওয়া না যায়। তবে এরূপ করা উচিত যে, মহিলাদের চিকিৎসা শিখানো, যেন এমন অবস্থায় তারা কাজ করতে পারে। কেননা, তার দেখার দ্বারা এতোটা ক্ষতি হবে না, যা পুরুষের দেখা দ্বারা হবে। অধিকাংশ জায়গায় ধাত্রী থাকে যারা পেটের ফুলা দেখতে পারে, যেখানে ধাত্রী পাওয়া যায় সেখানে পুরুষের প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসার প্রয়োজনে দেখার সময়ও এ সাবধানতা অবলম্বন করা অবশ্যক যে, শরীরের শুধুমাত্র ততটুকু অংশই খুলবে যতটুকু দেখার প্রয়োজন রয়েছে। অবশিষ্ট শরীরের অঙ্গ সমূহ ভালভাবে ঢেকে নিবে, যেন সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি না পড়ে।” (বাহারে শরীয়াত, ১৬তম অংশ, ৯০-৯১ পৃষ্ঠা) যদি দেখার দ্বারা কাজ সমাধান হয়ে যায় তবে স্পর্শ করার শরয়ী অনুমতি নেই। স্মরণ রাখবেন! স্পর্শ করা দেখার চেয়েও কঠিনতর বিষয়।
 বর-কনে একে অন্যকে দেখা

কোমরের ব্যথা ও মাদানী কাফেলা

ইসলামী বোনেরা! দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাফেলা সমূহে যেমনিভাবে আখিরাতের সাওয়াব অর্জিত হয়, অনূরূপভাবে কখনও কখনও শারীরিক অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মাদানী কাফেলার এমনই একজন মুসাফির ইসলামী বোনের মাদানী বাহার শুনুন: বাবুল মদীনা করাচীর একজন ইসলামী বোনের (বয়স প্রায় ৪৫ বছর) বর্ণনার সারাংশ: অধিকাংশ সময় আমি কোমরের ব্যথায় ভুগতাম, এমনকি আমি মাটিতে বসতে পারতাম না। যখন আমি ইসলামী বোনদের মাদানী কাফেলায় সফর করলাম, তখন আমার ব্যথা হওয়া তো দূরের কথা, সেটার অনুভবও হলো না। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ আমি তিন দিনের মাদানী কাফেলার রুটিন অনুযায়ী কাটালাম। ফরয নামায ব্যতিত তাহাজ্জুদ, ইশরাক ও চাশতের নফল সমূহ আদায় করারও সৌভাগ্য অর্জিত হলো। মাদানী কাফেলার বরকত দেখে আমি নিয়্যত করে নিলাম যে, اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ আমার বড় মেয়েকেও মাদানী কাফেলায় সফর করাব।
আপ কো দরদে সর হো ইয়া হো দরদে কমর,   চলিয়ে হিম্মত করে কাফেলে মে চলো।
ফাইদাহ আখিরাত কে বানানে মে হে,   সারি বেহনে কহেঁ কাফেলে মে চলো।
صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد 
ইসলামী বোনেরা! মাদানী কাফেলার বরকতের কথা কি বলব! কোমরের ব্যথা এবং দুনিয়াবী কষ্ট তো অতি সামান্য বিষয়, আল্লাহ্ তাআলা চাইলে মাদানী কাফেলার বরকতে কবর ও আখিরাতের মুসীবতও দূর হয়ে যাবে। মাদানী কাফেলায় ইলমে দ্বীন অর্জিত হয়, ইবাদত করা হয় এবং প্রচুর পরিমাণে নেকী অর্জন করার সুযোগ হয়। اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ নেক কাজের প্রতিদানে চিরস্থায়ী ও চিরসুখী জান্নাত এবং অগণিত নেয়ামত অর্জিত হবে। আল্লাহ্ তাআলা আমাদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌসে প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর প্রতিবেশীত্ব নসীব করুন। আমীন! জান্নাতের নেয়ামত ও মর্যাদা সম্পর্কিত একটি বর্ণনা শুনুন: তাজেদারে রিসালাত, নবীয়ে রহমত, শফীয়ে উম্মত, হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: “জান্নাতের এক চাবুক পরিমাণ জায়গা, দুনিয়া ও তার সকল বস্তু অপেক্ষা উত্তম।” (বুখারী, ২য় খন্ড, ৩৯২ পৃষ্ঠা, হাদীস ৩২৫০) প্রখ্যাত মুফাস্‌সীর, হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “চাবুক দ্বারা উদ্দেশ্য জান্নাতের সামান্যতম জায়গা। বাস্তবেই জান্নাতের নেয়ামত চিরস্থায়ী। এই দুনিয়া ধ্বংসশীল এবং এর নেয়ামতও দুঃখ কষ্টে পরিপূর্ণ, আর জান্নাতের নেয়ামত খাঁটি, দুনিয়ার নেয়ামত তুচ্ছ, জান্নাতের নেয়ামত মর্যাদপূর্ণ, এজন্য সেখানকার (জান্নাতের সামান্যতম) স্থানের সাথে দুনিয়ার কোন তুলনাই চলে না।” (মিরআতুল মানাযিহ, ৭ম খন্ড, ৪৪৭ পৃষ্ঠা)


মহিলাদের কাপড়ের দিকে পুরুষের দৃষ্টি দেয়া

প্রশ্ন:- যদি কোন মহিলা মোটা কাপড়ের বোরকা দ্বারা তার সমস্ত শরীর ঢেকে নেয় তবে কি তার দিকে দৃষ্টিপাত করতে পারবে?
উত্তর:- তার দিকে দৃষ্টিপাত করাতে সমস্যা নেই। আর যদি সেই কাপড়ের উপর দৃষ্টিপাত করাতে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তবে দৃষ্টিপাত করতে পারবে না। কেননা, যখন যৌন উত্তেজনা সহকারে দৃষ্টিপাত করবে তখন অবশ্যই গুনাহগার হবে। এই মাসয়ালার বিস্তারিত “বাহারে শরীয়াতে”র মধ্যে কিছুটা এভাবে রয়েছে: “যদি কোন মহিলা এতো মোটা কাপড় পরিধান করে যে, শরীরের রং ইত্যাদি প্রকাশ পায় না, তবে এমতাবস্থায় তার দিকে দৃষ্টিপাত করা জায়েয। কেননা, এই দেখা মহিলাকে দেখার অন্তর্ভূক্ত নয়, বরং তার কাপড়কেই দেখা হলো। এটা তখনই হবে যখন তার কাপড় আটোসাঁটো (ছিপছিপে) না হয়। আর যদি আটোসাঁটো কাপড় পরিধান করে যাতে দেহের আকৃতি প্রকাশ পায় যেমন; আটোসাঁটো পায়জামা পরিধান করার দ্বারা যদি পায়ের গোড়ালি ও রানের (থাইয়ের) পুরোপুরি আকৃতি দেখা যায়, তবে তার দিকে দৃষ্টিপাত করা নাজায়েয। এমনিভাবে কিছু মহিলা অনেক পাতলা কাপড় পরিধান করে, যেমন; মসলিন জাতীয় অথবা জালি কিংবা মখমলের পাতলা ওড়না, যা দ্বারা চুল বা চুলের কালো রং বা ঘাঁড় অথবা কান দেখা যায়। আর অনেক মহিলারা এক প্রকার পাতলা কাপড় বা জালির কাপড় পরিধান করে যাদ্বারা পেট ও পিঠ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এমতাবস্থায়ও তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করা হারাম, আর সেই মহিলার জন্য এরকম কাপড় পরিধান করাও নাজায়েয।” (বাহারে শরীয়াত, ১৬তম অংশ, ৯১ পৃষ্ঠা) (সতরের মাসয়ালার বিস্তারিত জানার জন্য মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত “বাহারে শরীয়াত” ১ম খন্ডের, ৩য় অংশের, ৪৭৮-৪৮৬ পৃষ্ঠা এবং ১৬তম অংশের ৮৫ -৯১ পৃষ্ঠা অধ্যয়ন করুন)

আঁচলের সুঁতা

প্রশ্ন:- উৎসাহের জন্য কোন ওলীয়া এর শরয়ী পর্দার ব্যাপারে ঘটনা শুনিয়ে দিন।
উত্তর:- শরয়ী পর্দাকারীনীদের কত অপরূপ শান! যেমনিভাবে; ‘আখবারুল আখইয়ার’ নামক কিতাবে বর্ণিত রয়েছে: “একদা মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দিলো। লোকেরা অনেক দোয়া করা সত্বেও বৃষ্টি হচ্ছিলো না। হযরত সায়্যিদুনা বাবা নিজাম উদ্দিন আউলিয়া رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ তার আম্মাজানের কাপড়ের একটি সুঁতা হাতে নিয়ে আবেদন করলেন: ‘হে আল্লাহ্! এটা সেই মহিলার আঁচলের সুঁতা! যেই মহিলার উপর কখনও কোন পুরুষের দৃষ্টি পড়েনি। হে আমার মাওলা! এই সুঁতার ওসীলায় রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করো।’ তখনও দোয়া শেষ হয়নি ওদিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেলো এবং রিমঝিম রিমঝিম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো।” (আখবারুল আখইয়ার, ২৯৪ পৃষ্ঠা)
আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদের সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক। 
 اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 
ইয়েহি মায়েঁ হে জিনকি গোদ মে ইসলাম পালতা থা,
হায়া সে উন কি ইনসান নূর কে সাঁচে মে ঢলতা থা।
سُبْحٰنَ اللهِ عَزَّوَجَل! বুযুর্গদের শরীরের সাথে সম্পর্কিত পোশাকের সুঁতার যখন এতো মর্যাদা যে, হাতে রাখার কারণে সেটার বরকত ও ওসীলায় দোয়া কবুল হয়ে যায়। তবে স্বয়ং তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ দেহের বরকতের কি অবস্থা হবে!

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

ঘরের বাইরে বের হওয়ার সাবধানতা

প্রশ্ন:- ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ইসলামী বোনদের কোন কোন বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত?
উত্তর:- শরীয়াতের অনুমতিতে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ইসলামী বোনেরা অনাকর্ষণীয় কাপড়ের ঢিলেঢালা মাদানী বোরকা পরিধান করে, হাতে ও পায়ে মৌজা পরিধান করবে। কিন্তু হাত ও পায়ের মৌজার কাপড় যেন এতো পাতলা না হয়, যার দ্বারা চামড়ার রং প্রকাশ পায়। আর যেসমস্ত জায়গায় পর-পুরুষের দৃষ্টি পড়ার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে ঘোমটা (নেকাব) উঠাবে না, যেমন; নিজের অথবা অপরের ঘরের সিঁড়ি এবং গলি মহল্লা ইত্যাদি। নিচের দিক থেকেও এভাবে বোরকা উঠাবেন না যাতে রঙিন পোশাকের উপর পর-পুরুষের দৃষ্টি পড়ে। মনে রাখবেন! মহিলাদের মাথা থেকে পায়ের গোড়ালির নিচ পর্যন্ত শরীরের কোন অংশ যেমন; মাথার চুল অথবা বাহু, কব্জি, গলা কিংবা পেট বা পায়ের গোড়ালি ইত্যাদি পর-পুরুষের (অর্থাৎ যার সাথে বিবাহ সবসময়ের জন্য হারাম নয়) সামনে শরীয়াতের বিনা অনুমতিতে যেন প্রকাশ না হয় বরং যদি পোশাক পাতলা হয়, যার দ্বারা দেহের রং প্রকাশ পায় অথবা এরূপ আটোসাঁটো হয় যার দ্বারা অঙ্গের আকৃতি প্রকাশ পায় কিংবা ওড়না এতো পাতলা হয়, যার দ্বারা চুলের কালো রং প্রকাশ পায়, তবে এটাও বেপর্দা হওয়া।
আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, ওলীয়ে নেয়ামত, আযীমুল বারাকাত, আযীমুল মারতাবাত, পরওয়ানায়ে শময়ে রিসালাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, হামিয়ে সুন্নাত, মাহিয়ে বিদআত, আলীমে শরীয়াত, পীরে তরিকত, বাইছে খাইর ও বারাকাত, হযরত আল্লামা মাওলানা আলহাজ্ব আল হাফিয আল ক্বারী শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “যে পোশাকের বানানোর পদ্ধতি ও পরিধানের পদ্ধতি বর্তমানে মহিলাদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে, এমন পাতলা কাপড় যার দ্বারা শরীরের রং প্রকাশ পায় অথবা মাথার চুল বা গলা বা বাহু অথবা পেট কিংবা পায়ের গোড়ালীর কোন অংশ অনাবৃত থাকে, তবে তা মাহরাম ব্যতিত (যাদের সাথে বিয়ে সব সময়ের জন্য হারাম) অন্য যে কারো সামনে অকাট্য হারাম।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া অসংকলিত, ১০ম খন্ড, ১৯৬ পৃষ্ঠা। ফতোওয়ায়ে রযবীয়া সংকলিত, ২২তম খন্ড, ২১৭ পৃষ্ঠা)
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ৩৪৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত “পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর“ নামক কিতাবের ২৮-৩৬ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই কিতাবটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন 
পর্দা বিষয়ক আরো পোষ্ট পর্ব-১পর্ব-২পর্ব-৩পর্ব-৪পর্ব-৫, পর্ব-৬, পর্ব-৭, পর্ব-৮, পর্ব-৯, পর্ব-১০, পর্ব-১১, পর্ব-১২, পর্ব-১৩, পর্ব-১৪, পর্ব-১৫, পর্ব-১৬, পর্ব-১৭, পর্ব-১৮, পর্ব-১৯,
বাকী পর্ব গুলোর টাইপের কাজ চলছে। যখনি টাইপ শেষ হবে সাথে সাথেই আপডেট দেয়া হবে
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন