কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

হোসাইনী দুলহা

780
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! বিগত দিনগুলোতে আমরা তো কারবালার মহান শহীদদের স্মৃতিচারণ করেছি। আসুন! আমি আপনাদেরকে কারবালার হোসাইনী দুল্‌হার হৃদয়-বিদারক করুন ঘটনা শোনাই। যেমন; সদরুল আফাযিল হযরত আল্লামা মাওলানা সায়্যিদ মুহাম্মদ নঈম উদ্দীন মুবাদাবাদী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘সাওয়ানিহে কারবালায়’ উল্লেখ করেছেন : হোসাইনী দুল্‌হা সায়্যিদুনা হযরত ওহাব ইবনে আবদুল্লাহ কালবী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বনী কল্‌ব গোত্রের একজন সদাচারী ও চরিত্রবান যুবক ছিলেন। তারুণ্য, উচ্ছ্বলতা ও যৌবনকাল ছিল তার। বিয়ে করেছেন মাত্র সতের দিন হল। তখনও যৌবনের তারুণ্যঘন যুগল-জীবনের পূর্ণ স্বাদে বিভোর ছিলেন। এমতাবস্থায় শ্রদ্ধেয় আম্মাজান এসে উপস্থিত হলেন। তিনি ছিলেন বিধবা। যার একমাত্র অবলম্বন ও ঘরের উজ্জল প্রদিপ ছিলেন এই একটি মাত্র পুত্র সন্তানই। স্নেহময়ী মা কান্না জুড়ে দিলেন। পুত্র আশ্চর্য হয়ে মাকে জিজ্ঞাসা করল: প্রাণপ্রিয় মা! আপনি কান্না করছেন কেন? আমার মনে পড়ছে না যে, জীবনে কখনো আপনার অবাধ্য হয়েছি, আগামীতেও আমি এমন হতে পারি না। আপনার আনুগত্য ও মান্যতা আমার জন্য ফরয। আমি সারা জীবন আপনার অনুগত হয়েই থাকব। মা! আপনার মনে কিসের দুঃখ? কোন দুঃখে আপনি কাঁদছেন? হে আমার প্রিয় মা! আমি আপনার আদেশে নিজের জীবনও উৎসর্গ করতে রাজি আছি। আপনি চিন্তিত হবেন না।

একমাত্র সন্তানের এমন ভাবপূর্ণ কথা শুনে মায়ের কান্না আরও বেড়ে গেল। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন: প্রাণপ্রিয় সন্তান আমার! তুমি আমার চোখের জ্যোতি, হৃদয়ের প্রশান্তি। হে আমার ঘরের উজ্জল প্রদীপ! হে আমার বাগানের সুবাসিত ফুল! আমার অক্লান্ত পরিশ্রমে তুমি আজ যুবক হয়েছ। তুমিই আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, মনের প্রবোধ। এক মূহুর্তকাল তোমাকে না দেখে আমি থাকতে পারি না।
চু দর খাব বাশম তুঈ দর খেয়ালম,
চু বেদার গরদম তুঈ দর জমীরম।
(অর্থাৎ, আমার শয়নে-স্বপণে কেবল তোমারই চিন্তা, তোমারই ভাবনা। জাগরণেও আমার হৃদয়ে একমাত্র তুমিই তুমি)। 
হে আমার জান! আমি তোমাকে আমার কলিজার রক্ত পান করিয়েছি। আজ, এখনি কারবালার প্রান্তরে আল্লাহ তা’আলার প্রিয়পাত্র রাসুলের দৌহিত্র, মুশকিলকুশার প্রাণপ্রিয় সন্তান, খাতুনে জান্নাতের নয়নের মণি, সুন্দর চরিত্রের বিরল আদর্শ, জুলম-অত্যাচারের শিকার হয়ে আছেন। হে আমার সন্তান! তুমি কি পার তোমার প্রাণ তাঁর পবিত্র কদমে উৎসর্গ করতে? এমন মানবতাহীন জীবনের উপর হাজারো ধিক্কার, আমরা বেঁচে থাকব, অথচ; সুলতানে মদীনা মুনাওয়ারা, শাহেনশাহে মক্কা মুকাররমা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দৌহিত্র শাহজাদাকে অত্যাচারের নিপীড়নে শহীদ করে দেওয়া হবে! আমার ভালবাসার কিছুও যদি তোমার মনে থাকে, আর তোমাকে লালন-পালনে যে কষ্ট আমি সহ্য করেছি তা যদি তুমি ভুলে না যাও, তবে হে আমার বাগানের সুবাসিত ফুল! তুমি প্রিয় হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর জন্য উৎসর্গ হয়ে যাও।
হোসাইনী দুল্‌হা হযরত সায়্যিদুনা ওয়াহাব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ আরজ করেন:  হে আমার প্রাণপ্রিয় মা! সৌভাগ্যের বিষয় হবে যদি আমার এ প্রাণ শাহজাদা হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর জন্য উৎসর্গ হয়, তাই আমিও মনে প্রাণে প্রস্তুত। আমি আপনার কাছে একটি মুহুর্তের জন্য অনুমতি চাই, আমার সেই স্ত্রীর সাথে একটু কথা বলার জন্য, যে তার সারাটা জীবনের সমস্ত আশা-ভরসা ও আরাম-আয়েশের দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিয়েছে। যার ইচ্ছা এই যে, আমি ব্যতীত সে অন্য কারো দিকে চোখ তুলে তাকাবে না। সে যদি চায়, তাহলে আমি তাকে অনুমতি দিয়ে দেব যে, সে তার জীবনকে যেভাবে চায় সেভাবে অতিবাহিত করতে পারবে। মা বললেন: হে আমার বৎস! মেয়ে লোকেরা বুদ্ধি-বিবেচনায় অসম্পূর্ণ হয়ে থাকে। আল্লাহ্ না করুন, তুমি যদি তার ধোকায় পড়ে যাও, তাহলে তো এত বড় সৌভাগ্য তোমার হাতছাড়া হয়ে যাবে।
হোসাইনী দুল্‌হা সায়্যিদুনা হযরত ওয়াহাব ইবনে আবদুল্লাহ رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ আরজ করলেন: প্রিয় মা আমার! আমার হৃদয়ে ইমাম হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর ভালবাসার গিট এতই শক্তভাবে লেগে আছে যে, সেটি কেউ খুলতে পারবে না। আর তাঁর জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা আমার মনের মাঝে এভাবে খুদিত হয়ে আছে, যা দুনিয়ার কোন পানি দিয়েও মুছে ফেলতে পারবে না। এ কথা বলে তিনি স্ত্রীর নিকট গেলেন। আর তাকে সংবাদ দিল যে, রাসুলের বংশ, ফাতেমার নয়ন মণি, মওলা আলীর পুষ্পকাননের সুবাসিত এক ফুল কারবালার ময়দানে খুবই শোচনীয়, বড়ই চিন্তাগ্রস্ত এবং অত্যন্ত করুণ অবস্থার শিকার। গাদ্দারেরা তাঁর উপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আমার ইচ্ছা যে, তাঁর জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করে দিই। স্বামীর এ কথা শুনে নববধু অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ একটি অন্তর কাপাঁনো ব্যথাভরা নিশ্বাস ফেলল। আর বলল: হে আমার মাথার মুকুট! আফসোস যে, আমি নিজেও আপনার সাথে যুদ্ধে অংশ নিতে পারছি না। ইসলামী শরীয়ত মহিলাদেরকে জিহাদের ময়দানে যাবার অনুমতি দেয়নি। আহ্! এমন একটি সৌভাগ্য আমি অর্জন করতে পারছি না যে, আপনার সাথে আমিও জিহাদের ময়দানে গিয়ে দুশমনদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইমামে আলী মাকাম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করি।
سُبْحٰنَ اللهِ عَزَّوَجَل! আপনি তো জান্নাতের পুস্পিত বাগানের ইচ্ছা পোষণ করে নিয়েছেন। সেখানে হুরেরা আপনার সেবা করার জন্য অপেক্ষায় থাকবে। ব্যাস; শুধু আমাকে এ দয়াটুকু করুন, যখন আহলে বায়তের সর্দারগণের সাথে জান্নাতে আপনার জন্য জান্নাতী নেয়ামতগুলো পরিবেশন করা হবে, আর জান্নাতের হুরেরা আপনার সেবায় নিয়োজিত থাকবে, সে সময় আপনি আমাকেও সাথে রাখবেন। হোসাইনী দুল্‌হা এই নেক নববধুসহ নিজের পরম শ্রদ্ধেয় আম্মাজানকে নিয়ে রাসুলের দৌহিত্রের নিকট গিয়ে পৌঁছান। নববধু নিবেদন করল: হে রাসুলের বংশধর! শহীদরা ঘোড়া হতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সাথে সাথেই হুরদের কোলে পৌছে যায়। আর জান্নাতের হুর ও গিলমানরা আনুগত্য সহকারে তাঁদের সেবায় নিয়োজিত হয়ে যায়। ‘এ অধম’ হুজুরের দরবারে আমার জীবন উৎসর্গ করে দিতে চাই। আমি খুবই নিঃস্ব। আমার এমন কোন আত্মীয়-স্বজনও নেই, যে আমার দায়ভার গ্রহণ করে। আমার আবেদন যে, হাশরের দিন আমার স্বামী যেন আমার থেকে পৃথক না হয়, আর পৃথিবীতেও যেন আমি নিঃস্বকে আপনার আহলে বাইতগণ নিজেদের দাসী হিসাবে গ্রহণ করে নেয়, আর আমার সারা জীবনটা যেন আপনার পবিত্র বিবিগণের رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُنَّ খেদমত করে কাটিয়ে দিতে পারি।
হযরত ইমাম আলী মকাম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْه এর সামনে এ সব অঙ্গীকার হয়ে যায়। এদিকে সায়্যিদুনা ওয়াহাবও رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ আবেদন করলেন: হে ইমামে আলী মকাম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْه! যদি হুজুর তাজেদারে রিসালত صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সুপারিশ পেয়ে আমি জান্নাত পেয়ে যাই, তখন আমি আরজ করব: হে আল্লাহর রাসুল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم! আমার স্ত্রীও আমার সাথে থাকবে। হোসাইনী দুল্‌হা সায়্যিদুনা ওয়াহাব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ইমাম আলী মকামের رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْه কাছে অনুমতি নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। এ অবস্থা দেখে শত্রুপক্ষের সৈন্যদের কাঁপুনি শুরু হয়ে যায় যে, এক চন্দ্রমুখী রাজবাহাদুর নির্ভীক অপরিণামদর্শীর মত সৈন্যদের দিকে অগ্রসর হতে চলেছে। হাতে বল্লম, বুকে বর্ম, কোলে ঢাল। অন্তর কাঁপানো আওয়াজের সাথে এই শেরগুলো পড়তে লাগলেন :  اَمِيْرٌ حُسَيْنٌ وَنِعْمَ الْاَمِيْر لَهٗ لَمْعَةٌ كَالسِّراجِ المُنِيْر  (হযরত হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْه হচ্ছেন আমীর, অত্যন্ত উত্তম আমীর। তাঁর এমন চমক রয়েছে যা আলোকোজ্জ্বল প্রদীপের মত)।
‘বরকে খাতেফ’ অর্থাৎ চোখ ধাঁধানো বিজলীর মত তিনি ময়দানে এসে উপস্থিত হন। বীরপ্রতীক এই সেনাবাহাদুর ঘোড়ার উপর চড়ে সামরিক মহড়া দেখালেন। শত্রুপক্ষের লোকদের আহ্বান জানালেন। যে-ই সামনে এল তলোয়ার দিয়ে মাথা উড়িয়ে দিলেন। ডানে-বামে-সামনে-পিছনে শত্রুদের কাটা মাথায় পরিপূর্ণ হয়ে গেল। অপদার্থদের রক্তাক্ত শরীরগুলো মাটিতে ধড়পড় করতে দেখা যাচ্ছিল। একটিবারের মত ঘোড়ার লাগাম টানলেন আর মায়ের কাছে এসে আবেদন করলেন: হে আমার মা! এখন কি তুমি আমার উপর রাজি হয়েছো! অতঃপর বধুর কাছে গেলেন। সে অঝোর নয়নে কাঁদছিলেন, তাঁকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিলেন। এমন সময় শত্রুপক্ষ হতে আওয়াজ ভেসে এল: هَلْ مِنْ مُّبَارِز؟ অর্থাৎ “মোকাবেলা করার কেউ আছো?” সায়্যিদুনা ওয়াহাব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে ময়দানের দিকে ছুটে চললেন। নববধু অপলক দৃষ্টিতে স্বামীর ছুটে চলা দেখতে রইলেন আর দু চোখে পানির বন্যা বইতে লাগল।
হোসাইনী দুল্‌হা ক্ষুব্ধ বাঘের মত উদ্যত তরবারি ও প্রাণহরা বল্লম হাতে রণক্ষেত্রে দ্রুত গতিতে এসে পৌঁছান । তখন ময়দানে শত্রুপক্ষ হতে একজন নামকরা বাহাদুর হাকম বিন তোফাইল, যে সৌর্যবীর্য প্রদর্শনে দাম্ভিক ভাবে রণক্ষেত্রে টহল দিচ্ছিল, হযরত সায়্যিদুনা ওয়াহাব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ প্রথম আক্রমণেই তাকে বল্লমবিদ্ধ করে এমনভাবে মাটিতে আছাড় দিলেন যে, তার সব হাড়গোড় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। এতে উভয় পক্ষে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। শত্রুপক্ষে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার মত আর কেউ রইল না। সায়্যিদুনা ওয়াহাব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ঘোড়া দৌঁড়িয়ে দুশমনদের ভেতর ঢুকে পড়েন। যেই মুকাবালা করার জন্য সামনে আসতো, তাকে বল্লমের আগায় বিদ্ধ করে মাটিতে লুটিয়ে দিতেন। এক পর্যায়ে বল্লম টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এরপর খাপ থেকে তরবারি বের করে শত্রুদের গর্দন উড়িয়ে দিতে থাকেন। শত্রুরা যখন যুদ্ধে একের পর এক সৈন্য হারাতে লাগল, তখন আমর বিন সা’আদ সৈন্যদের নির্দেশ দিল, ঐ যুবক যোদ্ধাকে চারপাশ থেকে ঘিরে আক্রমণ করার ও একই সাথে আঘাত করার। সুতরাং তারা তাই করল। হোসাইনী দুল্‌হা যখন চতুর্দিক হতে আক্রমণের শিকার হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন কপট-হৃদয়ের জালিমরা তাঁর মস্তক মোবারক কর্তন করে হুসাইনী সৈন্যদের দিকে নিক্ষেপ করল। মা আপন কলিজার টুকরার পবিত্র মস্তকটিকে চুমুয় চুমুয় ভরে দিল আর বলতে লাগলেন: হে আমার পুত্র! হে আমার বাহাদুর বৎস! এবার তোমার মা তোমার উপর সন্তুষ্ট। তারপর পবিত্র মস্তকটি তিনি পুত্রবধুর কোলে সমর্পন করলেন। নববধু একটি ঝাঁকুনি দিয়ে উঠেন। এমন সময় পতঙ্গের ন্যায় এই সুন্দর ফানুসের উপর পড়ে হোসাইনী দুল্‌হার সাথে তাঁর প্রাণ একাত্ম হয়ে যায় ।
সুরখুরোঈ উসে কেহ্তে হেঁ কেহ্ রাহে হক মেঁ
সর কে দেনে মেঁ যরা তো নে তাআম্মুল না কিয়া।
(অর্থাৎ, আল্লাহ্ তা’আলা আপনাদেরকে জান্নাতুল ফিরদৌসে স্থান দান করুন। আর রহমত ও সন্তুষ্টির সমুদ্রে অবগাহন করুন)।  (সাওয়ানিহে কারবালা হতে সংকলিত, ১৪১ হতে ১৪৬, মাকতাবাতুল মাদীনা বাবুল মাদীনা করাচী)
হোসাইনী দুলহা

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! দেখলেন তো! পবিত্র আহলে বাইতের ভালবাসা আর শহীদ হওয়ার আগ্রহও যে কত মহান নেয়ামত। মাত্র সতের দিনের দুল্‌হা রণক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের সাথে একা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে প্রাণ দিয়ে আসেন। আর শাহাদাতের অমৃত সুধা পান করে জান্নাতের হকদার হয়ে যান। হোসাইনী দুল্‌হার পরম শ্রদ্ধেয় আম্মাজান এবং সদ্য বিয়ে করা নববধুর উপরও হাজারো কোটি সালাম। কী ধরনের উচ্চাকাঙ্খার সাথে নিজের সন্তানকে এবং বধু তার স্বামীকে ইমামে আলী মকাম, ইমামে আরশে মকাম, ইমামে হুমাম, সায়্যিদুশ শুহাদা ইমাম হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْه এর পবিত্র কদম-যুগলে কুরবান হয়ে যেতে দেখলেন। এমন মহান মর্যাদাসম্পন্ন দুই খাতুনের ইসলামী জযবার বিন্দু পরিমাণও যদি আমাদের মায়েদের এবং বোনদেরও নসীব হত। তারাও যদি নিজের সন্তানদেরকে দ্বীন ইসলামের খাতিরে উৎসর্গ করার জন্য পেশ করত এবং তাদেরকে সুন্নতের অনুসরণের অনুপ্রেরণা দিয়ে আশিকানে রাসূলদের সাথে মাদানী কাফিলায় সফরের জন্য প্রেরণ করত।

লুটনে রহমতেঁ কাফেলে মেঁ চলো, সীখনে সুন্নতেঁ কাফেলে মেঁ চলো
হোঙ্গী হল মুশকিলেঁ কাফেলে মেঁ চলো, খতম হোঁ শামতেঁ কাফেলে মেঁ চলো।
صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد 

হায়! আমি যদি বোবা হতাম

আমীরুল মুমিনীন হযরত সায়্যিদুনা সিদ্দিকে আকবর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ নিশ্চিত জান্নাতী হওয়া সত্ত্বেও জিহ্বার আপদকে অত্যাধিক ভয় করতেন। যেমন তিনি বলতেন: হায়! আমি যদি বোবা হতাম, শুধু আল্লাহ্ তা’আলার যিকির করা পর্যন্ত কথা বলার শক্তি অর্জিত হত। (মিরকাতুল মাফাতীহ্, খন্ড-১, পৃষ্ঠা-৮৭)
———–
*কুরআন ও সুন্নাত প্রচারের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর উদ্যেগে (১৪৩০ হিজরী) করাচীতে অনুষ্ঠিত সিন্ধ প্রদেশের তিন দিন ব্যাপী সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত আল্লামা মাওলানা আবু বিলাল মুহাম্মদ ইল্ইয়াস আত্তার কাদেরী রযবী دَامَتْ بَرَكَاتُهُمُ العَالِيَه এই বয়ানটি প্রদান করেন। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সহকারে লিখিত আকারে আপনাদের খিদমতে পেশ করা হল। মজলিসে মাকতাবাতুল মদীনা।

এই রিসালার বাকী লিখা টুকু পড়তে পরবর্তী পোষ্টে ? ক্লিক করুন
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ১৮ পৃষ্ঠা সম্বলিত “হোসাইনী দুলহা“ নামক রিসালার ৩-১০ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই রিসালাটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন।

যারা মোবাইলে (পিডিএফ) রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন 
ইমাম হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর কারামত বিষয়ক লিখা পড়ুন-১ম পর্ব২য় পর্ব, ৩য় পর্ব
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন