কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

ইমাম হোসাইন এর কারামত (৩)

788

ইয়াজিদের মর্মান্তিক মৃত্যু

হযরত সায়্যিদুনা হাসান বসরী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ থেকে মুরসাল ভাবে বর্ণিত আছে: حُبُّ الدُّنْيَا رَأْسُ كُلِّ خَطِيْئَةٍ অর্থাৎ দুনিয়ার ভালবাসাই সকল পাপের মূল। (আল জামেউস সাগীর লিস সুয়ূতী, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৩৬৬২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ্, বৈরুত)
পাপাত্মা ইয়াজিদের মন সর্বদাই এ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ভালবাসায় মত্ত ছিল। তাই সে দুনিয়ার লোভ লালসায় উন্মাদ হয়ে রাজত্ব, আধিপত্য, যশ-খ্যাতীর ফাঁদে আটকা পড়েছিল। সে নিজের করুন পরিণতির কথা ভুলে গিয়ে ইমামে আলী মকাম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ ও তাঁর সঙ্গীদের নির্দয়ভাবে হত্যা করে তাঁদের রক্ত দ্বারা নিজের হাত রঞ্জিত করেছিল। যে নেতৃত্ব ও আধিপত্যের জন্য সে কারবালাতে জুলুম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের তান্ডবলীলা চালিয়েছিল, সে নেতৃত্ব আধিপত্যও বেশিদিন তার কাছে স্থায়ী হয়নি। বদ নসীব ইয়াজিদ মাত্র তিন বৎসর ছয়মাস ক্ষমতার আসনে বসে শাসনের নামে লাম্পট্য ও বদমায়েশি করে অবশেষে রবিউন নূর শরীফ, ৬৪ হিজরীতে শাম রাজ্যের হামস শহরে হুওয়ারিন অঞ্চলে ৩৯ বছর বয়সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। (আল কামেল ফিত্ তারিখ, ৩য় খন্ড, ৪৬৪ পৃষ্ঠা, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ্, বৈরুত)
পাপাত্মা ইয়াজিদের মৃত্যুর একটি কারণ এটাও বলা হয়ে থাকে, সে একজন রোমান বংশোদ্ভূত যুবতী মহিলার প্রেমের ফাঁদে আটকা পড়েছিল। কিন্তু সে মহিলা তাকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করত। একদিন আমোদ-প্রমোদের বাহানা করে সে মহিলা ইয়াজিদকে একাকী সুদূর এক মরুভূমিতে নিয়ে গেল। সে মরুভূমির ঠান্ডা ও শীতল আবহাওয়া ইয়াজিদকে ক্লান্ত ও অবসন্ন করে ফেলল। তাই সে মাতালের মত মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। আর মহিলাও এ সুযোগ হাতছাড়া করল না। “যে পাপীষ্ট নিমক হারাম তার নবীর প্রিয় দৌহিত্রের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করতে কুণ্ঠিত হয়নি, সে আমার প্রতি কতটুকু ওফাদার হতে পারে।” এ বলে সে যুবতী মহিলা তার ধারালো ছুরি দ্বারা ইয়াজিদের অপবিত্র শরীর টুকরো টুকরো করে তা মরুভূমিতে ফেলে চলে আসল। কয়েকদিন যাবৎ তার মৃতদেহ চিল কাকের খোরাকে পরিণত ছিলো। অবশেষে খবর পেয়ে তার অনুচরেরা সেখানে পৌঁছে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ একটি গর্তে মাটি চাপা দিয়ে চলে আসল। (আওরাকে গম, ৫৫০ পৃষ্ঠা)
ওহ তখত হে কিছ কবর মে ওহ তাজ কাঁহা হে
আয় খাক বাতা জুরে ইয়াজিদ আজ কাঁহা হে?

ইবনে যিয়াদের করুণ পরিণতি

হতভাগা ইয়াজিদের পদলেহী কুকুর চাটুকার ইবনে যিয়াদ, যে কারবালার প্রান্তরে গুলশানে রিসালাতের মাদানী পুষ্পদের ধূলামলিন ও রক্তরঞ্জিত করেছিল, তারও করুন পরিণতি হয়েছিল। পাপাত্মা ইয়াজিদের পরে সবচেয়ে বেশি অপরাধি ছিল, কুফার সে নিষ্ঠুর বর্বর, স্বেচ্ছাচারী শাসনকর্তা ওবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ। সে নরাধমেরই নির্দেশে ইমামে আলী মকাম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ ও তাঁর আহলে বাইতদেরকে জুলুম নির্যাতনের নির্মম শিকারে পরিণত করা হয়েছিল। কিন্তু কালের বিবর্তন সে নরাধমকেও রেহাই দিল না। যুগের বিবর্তনের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়ে সে নরাধমও ধ্বংসের অতল গভীরে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। মুখতার সাখফীর নির্দেশে তার সেনাপতি ইব্রাহীম বিন মালিক আসতারের বাহিনীর হাতে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার ঘটনার মাত্র ৬ বৎসর পর ১০ই মুহাররামুল হারাম ৬৭ হিজরীতে সে নরাধম ইবনে যিয়াদ নির্মমভাবে নিহত হল। সৈন্যরা তার মস্তক কেটে ইব্রাহীমের নিকট নিয়ে এল, আর ইব্রাহীম সে মস্তক কুফায় মুখতারের নিকট পাঠিয়ে দিল। (সাওয়ানেহে কারবালা, ১২৩ পৃষ্ঠা, সংক্ষেপিত)
জব সরে মাহশর ওহ পুছেনগে বুলা কে সামনে
কিয়া জাওয়াবে জুরুম দৌগে তুম খোদা কে সামনে
ইমাম হোসাইন এর কারামত

ইবনে যিয়াদের নাকে সাপ

কুফার শাহী প্রাসাদ সজ্জিত করা হল এবং যেখানে ৬ বৎসর পূর্বে ইমামে আলী মকাম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর মস্তক মোবারক রাখা হয়েছিল সেখানেই ইবনে যিয়াদের অপবিত্র মস্তক রাখা হল। সে হতভাগা পাষন্ডের জন্য কান্নাকাটি করার মত কেউ ছিল না। বরং তার মৃত্যুতে সবাই আনন্দ উৎসব করছিল। সহীহ হাদীসে ইমারাহ্ বিন উমাইর থেকে বর্ণিত: “যখন উবাইদুল্লাহ্ ইবনে যিয়াদের মস্তক তার সাথীদের মস্তকের সাথে রাখা হয়েছিল তখন আমি সে মস্তক গুলো দেখার জন্য গিয়েছিলাম। হঠাৎ শোরগোল ও হৈ চৈ পড়ে গেল, ‘এল এল’। আমি দেখলাম একটি ভয়ঙ্কর সাপ এসে মাথাগুলোর মাঝখানে অবস্থিত ইবনে যিয়াদের মস্তকের নাকের ছিদ্রে ঢুকে গেল এবং সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে বের হয়ে সাপটি অদৃশ্য হয়ে গেল। অতঃপর আবার শোরগোল পড়ে গেলো, “এল এল” দুই তিনবার এরূপ ঘটনা ঘটল।” (সুনানে তিরমিযী, ৫ম খন্ড, ৪৩১ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৩৮০৫, দারুল ফিক্র, বৈরুত)
ইবনে যিয়াদ, ইবনে সা’দ, সীমার, কায়েস বিন আসআছ, কন্দী, খাওলী বিন ইয়াজিদ, সিনান বিন আনাস নখয়ী, আবদুল্লাহ্ বিন কায়েস, ইয়াজিদ বিন মালেক প্রমুখ হতভাগারা যারা হযরত সায়্যিদুনা ইমামে আলী মকাম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর হত্যায় অংশ নিয়েছিল এবং যারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিল, তাদেরকে বিভিন্ন রকমের শাস্তির মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল এবং তাদের লাশগুলো ঘোড়ার পা দ্বারা পদদলিত করা হয়েছিল। (সাওয়ানেহে কারবালা, ১৫৮ পৃষ্ঠা)
কব তলক তুম হুকুমত পে ইতরাও গি,  কব তলক আখের গরীবোঁকো তড়পাও গে।
জালেমো বাদ মরনে কি পছতাও গে,    তুম জাহান্নাম কি হকদার হো জাও গে।

সত্য প্রমাণিত হল “মন্দের পরিণতি মন্দই”

মুখতার সাখফী তন্ন তন্ন করে ইয়াজিদীদের খুঁজে বের করে তাদের নিধন করে এ দুনিয়াকে ইয়াজিদীর কালো অধ্যায় থেকে মুক্ত করল। সে জালিমদের জানা ছিল না যে, শহীদদের রক্ত একদিন তাজা হয়ে উঠবে এবং ইয়াজিদীদের ক্ষমতার মসনদ নড়বড়ে করে তুলবে। জুলুম নির্যাতনের সে তখতে তাউস শহীদানের রক্তের প্রবল জোয়ারে ভেসে যাবে। যারা ইমাম হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর হত্যায় অংশ নিয়েছিল তাদের জানা ছিল না যে, তারাও একদিন নির্মম পরিণতির শিকার হয়ে ধ্বংসের অতল গভীরে নিক্ষিপ্ত হবে। একদিন যে সে ফোরাতেরই তীর তাদের বধ্যভূমি হবে এবং সে ফোরাতেরই তীরে সে আশুরারই দিনে মুখতারের দুর্ধর্ষ ঘোড়া তাদের দলিত করবে, সে জালিমদের তা জানা ছিল না। তাদের দলের সংখ্যাধিক্যতা যে তাদের কোন কাজে আসবে না, একদিন যে তাদের হাত-পা কর্তিত হবে, তাদের ঘরগুলো লুণ্ঠিত হবে, তাদেরকে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলানো হবে, তাদের লাশগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে, দুনিয়ার সকল মানুষ তাদের প্রতি থুথু নিক্ষেপ করে তাদের ধ্বংসে আনন্দ মিছিল বের করবে, তা তাদের মোটেই জানা ছিল না। যুদ্ধের ময়দানে যদিও তাদের সৈন্য সামন্ত হাজারে পৌঁছতে পারে কিন্তু তারা যে প্রাণভয়ে কাপুরুষের মত পালাতে থাকবে এবং পলাতক ইঁদুর এবং কুকুরের মত তাদের জান রক্ষা করা তাদের কঠিন হয়ে পড়বে, যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে সেখানেই তাদের হত্যা করা হবে, ইহকাল ও পরকালে তাদের উপর যে নিন্দা ও ধিক্কারের ঝড় বর্ষিত হবে (ক্ষমতা ও ঐশ্বর্যের নেশায় মত্ত সে জালিমদের তা মোটেই জানা ছিল না)। (সাওয়ানেহে কারবালা, ১২৫ পৃষ্ঠা)
দেখে হে ইয়ে দ্বিন আপনে হী হাতো কি বদৌলত
ছচ হে কে বুরে কাম কা আনজাম বুরা হোতা হে

মুখতার নবুওয়াতের দাবী করে বসল

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! নিজের ব্যাপারে আল্লাহর গোপন রহস্য কি তা কেউ জানেনা। ‘মুখতার সাখফী’ যে ইমাম হোসাইনের হত্যাকারীদের তন্ন তন্ন করে খুঁজে বের করে হত্যা করে হোসাইন প্রেমিকদের মনে তৃপ্তি ও প্রশান্তি দান করেছিল, সে বীর পুরুষের ঘাড়েও নবুওয়াতের দাবি করার সে শয়তানী কুপ্রবৃত্তির ভূত সাওয়ার হয়ে বসল। নিয়তির নির্মম পরিহাসে সে বীর পুরুষ নিজেকে একদিন নবী দাবী করে বসে এবং তার নিকট ওহী আসার ঘোষণা দিয়ে ইয়াজিদী নিধনের যাবতীয় কার্যকলাপ চিরতরে নিঃশেষ করে দিল। (আস সাওয়ায়েকুল মুহরাকা, ১৯৮ পৃষ্ঠা)

কুমন্ত্রণা

মানুষের মনে কুমন্ত্রণা আসতে পারে, এতবড় মজবুত আহলে বাইতের প্রেমিক কিভাবে গোমরাহ হয়ে মুরতাদ হয়ে যেতে পারে? একজন ভন্ড নবীর পক্ষেও কি এরূপ মহৎ কাজ সম্পাদন করা সম্ভব? 


কুমন্ত্রণার চিকিৎসা

আল্লাহ্ তাআলা কারো মুখাপেক্ষী নন। তাঁর গোপন রহস্য সম্পর্কে আমরা সকলের ভয় করা উচিৎ। আমরা জানিনা, আমাদের ভাগ্যে কি লিখা আছে? দেখুন শয়তানও একজন বড় আলিম, ফাজেল, জাহেদ ও আবিদ ছিল। সে হাজার বছর ইবাদত করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে ধন্য হয়েছিল এবং “মুয়াল্লিমুল মালায়িকার” উপাধিতে ভূষিত হয়েছিল কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসের ফলে আদম عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে সিজদা করার আল্লাহর আদেশ অমান্য করে সে চিরতরে কাফির ও অভিশপ্তে পরিণত হল। বলঅম বিন বাঊরাও একজন খ্যাতনামা আলিম, আবেদ, জাহেদ ও মুস্তাজাবুদ দাওয়াত ছিল। তার নিকট ইসমে আজমের জ্ঞান থাকায় আধ্যাত্মিক ক্ষমতায় সে আপন স্থানে বসে আরশে আজিম পর্যন্ত দেখতেও সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেও বেঈমান হয়ে মৃত্যু বরণ করল এবং কিয়ামতের দিন কুকুরের আকৃতিতে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অনুরূপ ইবনে সাকাও একজন মেধাবী আলিম ও তার্কিক ছিল। কিন্তু সেও তৎকালীন যুগের গাউসের সাথে বেয়াদবী করার কারণে এক খ্রীষ্টান শাহজাদীর প্রেমে আসক্ত হয়ে খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে ঈমান হারাল এবং বেঈমান হয়ে মৃত্যু বরণ করল। আল্লাহ্ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবীব صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন যে, আমি ইয়াহিয়া বিন যাকারিয়া عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর হত্যার প্রতিশোধে সত্তর হাজার লোককে হত্যা করেছিলাম। আর আপনার দৌহিত্রের হত্যার প্রতিশোধে আমি তার দ্বিগুণ লোককে হত্যা করব। (আল মুস্তাদরিক লিল হাকিম, ৩য় খন্ড, ৪৮৫ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৪২০৮)
ইতিহাস সাক্ষী, হযরত সায়্যিদুনা ইয়াহিয়া বিন যাকারিয়া عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে অন্যায়ভাবে হত্যার বদলা নেয়ার জন্য আল্লাহ্ তাআলা বুখতে নসরের মত খোদা দাবীকারী জালিম শাসককে মোতায়েন করেছিলেন। অনুরূপ হযরত ইমামে আলী মকাম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ কে অন্যায়ভাবে হত্যার বদলা নেয়ার জন্য আল্লাহ্ তাআলা মুখতার সাখফীর মত একজন মিথ্যুক ও ভন্ডকে নিয়োজিত করে ছিলেন। তাই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। (শামে কারবালা, ২৮৫ পৃষ্ঠা)
আল্লাহ্ তাআলার ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি নিজেই ভাল জানেন। তিনি তাঁর ইচ্ছায় জালিমদের দ্বারাই জালিমদের ধ্বংস ও পরাভূত করে থাকেন। তিনি ৮ম পারার সুরাতুল আনআমের ১২৯ নং আয়াতে ইরশাদ করেন:

وَكَذَٰلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظَّالِمِينَ بَعْضًا بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: “এবং এভবে আমি যালিমদের এক দলকে অন্য দলের উপর আধিপত্য দিয়ে থাকি তাদের কৃতকর্মের বদলা স্বরূপ।” (পারা- ০৮, সূরা- আল আনআম, আয়াত নং- ১২৯)
হুযুর পুরনূর ইরশাদ করেন: “নিশ্চয় আল্লাহ্ তাআলা ফাসিক দ্বারাও এ দ্বীনে ইসলামের সাহায্য করিয়ে থাকেন।” (সহীহ বুখারী, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩২৮, হাদীস নং- ৩০৬২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ্, বৈরুত)


আল্লাহর গোপন রহস্যকে ভয় করা উচিৎ

আমাদের সর্বদা আল্লাহর গোপন রহস্য সম্পর্কে ভয় করা উচিৎ। নিজের বিদ্যা-বুদ্ধি, শান-শওকত ও শারীরিক শৌর্যবীর্যের অহংকার, লাগামহীন কথাবার্তা, ফাজলামি, বাকবিতন্ডা, দাম্ভিকতা প্রদর্শন ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা আমাদের একান্ত প্রয়োজন। কেননা আমাদের জানা নেই, আল্লাহর ইলমে আমাদের স্থান কোথায়? তাই আমাদের চালচলন ও আচার আচরণ যেন কখনও এরূপ না হয়, যাতে আমাদের ঈমান বিনষ্ট হয়ে যায়। ঈমান হেফাজতের দৃঢ় মনোবল সৃষ্টি করার জন্য রাসূল عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام সাহাবায়ে কিরাম ও আহলে বাইতদের একান্ত ভালবাসা অর্জনের জন্য, ধর্মীয় জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য, নিজেকে গুনাহ থেকে বিরত রাখার জন্য, নেকী অর্জনের জন্য এবং অধিক সাওয়াব অর্জনের জন্য সকল ইসলামী ভাইদের উচিৎ, প্রতি মাসে কমপক্ষে তিনদিন দা’ওয়াতে ইসলামীর সুন্নাত প্রশিক্ষণের মাদানী কাফেলায় আশিকানে রাসূলদের সাথে সুন্নাতে ভরা সফরে অংশগ্রহণ করা এবং প্রত্যেক ইসলামী ভাই প্রতিদিন ফিকরে মদীনার মাধ্যমে ৭২টি এবং সকল ইসলামী বোন ৬৩টি মাদানী ইনআমাতের রিসালা পূরণ করে তা আপন যিম্মাদারের নিকট জমা দেয়া। হে মালিক! শাহে খায়রুল আনাম, সাহাবায়ে কিরাম, মজলুম শহীদ ইমামে আলী মকাম এবং কারবালার সমস্ত শহীদগণ ও বন্দীদের ওসিলায় আমাদের ঈমান হিফাযত রাখো। কবর ও হাশরে আমাদেরকে নিরাপত্তা দান করো এবং আমাদের বেহিসাব মাগফিরাত দান করো। হে আল্লাহ্! সবুজ গুম্বজের ছায়াতলে প্রিয় মাহবুব এর জলওয়াতে ঈমান ও ক্ষমার সাথে আমাদের শাহাদাত নসীব করো। জান্নাতুল বাক্বীতে দাফন হওয়ার এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে তোমার প্রিয় হাবীব এর প্রতিবেশিত্ব লাভের সৌভাগ্য নসীব করো। 

اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 
মুশকিলে হাল কর্ শাহে মুশকিল কুশাকে ওয়াসেতে,
কর্ বালায়ে রাদ শাহীদে কারবালাকে ওয়াসেতে।
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ৫০ পৃষ্ঠা সম্বলিত “ইমাম হোসাইনের কারামত“ নামক রিসালার ২৩-৩৭ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই রিসালাটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন।

যারা মোবাইলে (পিডিএফ) রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন 
ইমাম হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর কারামতের বাকি লিখা-১ম পর্ব২য় পর্ব,
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন