কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

মুহাররম ও আশুরার দিনের ফযীলত ও রোযা

1,680

আশুরার দিনের ২৫টি বৈশিষ্ট্য

(১) ১০ই মুহাররামুল হারাম আশুরার দিন হযরত সায়্যিদুনা আদম ছফিউল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর তাওবা কবুল হয়েছিল, 
(২) সে দিনই আদম عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, 
(৩) সে দিনই আদম عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল, 
(৪) সেদিনই আরশ, 
(৫) কুরসী, 
(৬) আসমান, 
(৭) জমিন, 
(৮) সূর্য, 
(৯) চন্দ্র, 
(১০) নক্ষত্র ও 
(১১) জান্নাত সৃষ্টি করা হয়েছিল, 
(১২) সেদিনই সায়্যিদুনা ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ্  عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام জন্ম নিয়েছিলেন,
(১৩) সেদিনই তিনি নমরুদের অগ্নিকুন্ড থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, 
(১৪) সেদিনই হযরত সায়্যিদুনা মুসা কলিমুল্লাহ্ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এবং তাঁর উম্মতরা ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন আর ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের লোকদের সলিল সমাধি হয়েছিল, 
(১৫) সে দিনই হযরত সায়্যিদুনা ঈসা রূহুল্লাহ্ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, 
(১৬) সে দিনই তাঁকে আসমানে উত্তোলন করা হয়েছিল, 
(১৭) সেদিনই হযরত সায়্যিদুনা নুহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام  এর কিস্তি জুদী পাহাড়ে গিয়ে থেমেছিল,
(১৮) সেদিনই হযরত সায়্যিদুনা সুলাইমান عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে বিশাল সাম্রাজ্য দান করা হয়েছিল, 
(১৯) সেদিনই হযরত সায়্যিদুনা ইউনুস عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল, 
(২০) সেদিনই হযরত সায়্যিদুনা ইয়াকুব  عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন, 
(২১) সেদিনই হযরত সায়্যিদুনা ইউসূফ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে গভীর কূপ থেকে বের করা হয়েছিল,
(২২) সেদিনই হযরত সায়্যিদুনা আইয়ুব عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে আরোগ্য দান করা হয়েছিল, 
(২৩) সেদিনই আসমান থেকে জমিনে সর্বপ্রম বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল,
(২৪) সে দিনের রোযাই পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল, এমনকি ইহাও বলা হয়ে থাকে, রমজানুল মোবারকের রোযার পূর্বে আশুরার রোযাই ফরয ছিল, অতঃপর রহিত করে দেয়া হয়। (মুকাশাফাতুল কুলুব, ৩১১ পৃষ্ঠা), 
(২৫) ইমামুল হুমাম, ইমামে তৃষ্ণায়ে কাম সায়্যিদুনা ইমাম হোসাইন কে তাঁর শাহজাদা ও সঙ্গীগণসহ তিনদিন ক্ষুধার্ত রাখার পর সেই আশুরার দিনেই অত্যন্ত নির্মম ও নৃশংসভাবে শহীদ করা হয়েছিল।
মুহাররম ও আশুরার দিনের ফযীলত ও রোযা

মুহাররামুল হারাম ও আশুরার দিনের রোযার ৫টি ফযীলত

 (১) হযরত সায়্যিদুনা আবু হোরায়রা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  থেকে বর্ণিত; হুযুরে আকরাম, নূরে মুজাস্সাম, শাহে বনী আদম, রাসূলে মুহতাশাম, শাফিয়ে উমাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: “রমযানের রোযার পর মুহাররামের রোযাই সর্বোত্তম। আর ফরয নামাযের পর রাত্রিবেলার নফল নামাযই উত্তম।” (সহীহ মুসলিম, ৮৯১ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ১১৬৩) 
(২) আল্লাহর হাবীব, হাবীবে লাবীব صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: “মুহাররামের প্রতিদিনের রোযা এক মাসের রোযারই সমতুল্য।” (তাবরানী ফিস সাগীর, ২য় খন্ড, ৮৭ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ১৫৮০)

আশুরার দিনের রোযা

(৩) হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাস رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বর্ণনা করেন: আমি সুলতানে দো-জাহান শাহিনশাহে কওনো মকান, রহমতে আলামিয়ান صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কে আশুরার দিনের রোযা ও রমযান মাসের রোযা ব্যতীত অন্য কোন দিন বা মাসের রোযাকে গুরুত্ব দিয়ে খোঁজখবর নিতে দেখিনি। (সহীহ বুখারী, ১ম খন্ড, ৬৫৭ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ২০০৬)

ইহুদীদের বিরোধীতা কর

(৪) নবীয়ে রহমত, শফীয়ে উম্মত, শাহিনশাহে নুবুওয়ত, তাজেদারে রিসালাত صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “তোমরা আশুরার দিনের রোযা রাখো এবং এতে ইহুদীদের বিরোধীতা করো। আশুরার দিনের আগের দিন বা পরের দিনও রোযা রাখো।” (মুসনাদে ইমাম আহমদ, ১ম খন্ড, ৫১৮ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ২১৫৪)
আশুরার দিনের রোযার সাথে ৯ই মুহররম বা ১১ই মুহররমের রোযা রাখাও উত্তম। 
(৫) হযরত সায়্যিদুনা আবু কাতাদাহ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “আমার বিশ্বাস, আশুরার দিনের রোযা দ্বারা আল্লাহ্ তাআলা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।” (সহীহ মুসলিম, ৫৯০ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ১১৬২)

সারা বছর চোখে ব্যাথা ও রোগ হবে না

খ্যাতনামা মুফাসসির, হাকীমুল উম্মত, হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বর্ণনা করেন: মুহাররমের নয় ও দশ তারিখে রোযা রাখলে অনেক সাওয়াব পাওয়া যাবে। ১০ই মুহাররাম নিজ পরিবার পরিজনদের ভাল খাবার পরিবেশন করলে সারা বছর রুজি রোজগারে প্রচুর বরকত হবে এবং পরিবারে কোন অভাব অনটন থাকবে না। সর্বোত্তম হল; খিুচরি রান্না করে তা হযরত শহীদে কারবালা সায়্যিদুনা ইমাম হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর নামে ফাতেহা দেয়া, তা খুবই উপকারী।
১০ই মুহররাম গোসল করলে সারা বছর রোগ ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকবে। কেননা সেদিন জমজমের পানি সারা দুনিয়ার পানির সাথে মিশ্রিত হয়ে থাকে। (তাফসীরে রুহুল বয়ান, ৪র্থ খন্ড, ১৪২ পৃষ্ঠা, কোয়েটা। ইসলামী জিন্দেগী, ৯৩ পৃষ্ঠা)
ছরকারে কায়েনাত, শাহে মওজুদাত, হুযুর  ইরশাদ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم করেছেন: “যে ব্যক্তি আশুরার দিন ইসমদ নামক সুরমা নিজ চোখে লাগাবে, তার চোখে কখনও রোগ হবে না।” (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খন্ড, ৩৬৭ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৩৭৯৭)

লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ৫০পৃষ্ঠা সম্বলিত “ইমাম হোসাইনের কারামত“ নামক রিসালার ৪৬-৪৮ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই রিসালাটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন 
ইমাম হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর কারামত বিষয়ক লিখা পড়ুন-১ম পর্ব২য় পর্ব৩য় পর্ব
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন