কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

বসন্তের প্রভাত: মিলাদুন্নবী (0২)

340

দা’ওয়াতে ইসলামী ও জশ্নে বিলাদতে মুস্তফা

কুরআন ও সুন্নাত প্রচারের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন “দা’ওয়াতে ইসলামী”র জশনে বিলাদতে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উদযাপনে নিজেদের একটি নিজস্ব পন্থা রয়েছে। পৃথিবীর অগণিত দেশে দা’ওয়াতে ইসলামীর ব্যবস্থাপনায় ঈদে মিলাদুন্নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم রাতে আজিমুশ্শান ইজতিমায়ে মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বিশাল ইজতিমায়ে মিলাদ এর মাহফিল বাবুল মদীনা করাচীতে অনুষ্ঠিত হয়। তার বরকতের কথা কি বলব! এখানে অংশগ্রহণকারীরা জানি না কত সৌভাগ্যবানদের জীবনে মাদানী ইনকিলাব (পরিবর্তন) হয়েছে। এতদ্প্রসঙ্গে চারটি মাদানী বাহার আপনাদের সামনে পেশ করছি।

(১) পাপের চিকিৎসা মিলে গেল

একজন নবী প্রেমিকের কিছুটা এরূপ বর্ণনা যে: “ঈদে মিলাদুন্নবী” صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর রাতে বাবুল মদীনা করাচী ‘কাকরী গ্রাউন্ডে’ অনুষ্ঠিত ইজতিমায়ে মিলাদ (১৪২৬ হিঃ) এ আমার পরিচিত একজন প্রসিদ্ধ বেনামাযী মডার্ণ যুবক অংশগ্রহণ করে। বসন্তের সকালের (১২ই রবিউল আউয়াল) আগমণের সময় দুরূদ সালামের আওয়াজ এবং মারহাবা ইয়া মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সুললিত চিৎকারে তার অন্তরের জগতে পরিবর্তন এসে গেল। সৎকাজের প্রতি মুহাব্বত এবং অসৎ কাজে ঘৃণা চলে আসল। তিনি সাথে সাথেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পাবন্দী ও দাঁড়ি রাখার নিয়্যত করলেন, আর বাস্তবিকই শেষ পর্যন্ত তিনি নামাযী ও দাঁড়িওয়ালা হয়ে গেলেন। এছাড়াও তার ভিতর এমন এক মন্দ স্বভাব ছিল, যা এখানে আলোচনা করা আমি ভাল মনে করছি না। ইজতিমায়ে মিলাদের বরকতে اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ তার ঐ মন্দ অভ্যাসও দূর হয়ে গেল। অন্যভাবে যদি বলতে চান তাহলে এভাবে বলতে হয়, ইজতিমায়ে মিলাদে অংশগ্রহণের বদৌলতে পাপীদের গুণাহের চিকিৎসা মিলে যায়।
মাংলো মাংলো উনকা গম মাংলো, চশমে রহমত নিগাহে করম মাংলো।
মাসিয়ত কি দাওয়া লা জারাম মাংলো, মাংনে কা মজা আজ কি রাত হে।
বসন্তের প্রভাত: ঈদে মিলাদুন্নবী

(২) অন্তরের ময়লা ধূয়ে দিল

উত্তর করাচীর এক ইসলামী ভাইয়ের লিখিত বয়ানকে নিজস্ব ভঙ্গিতে আপনাদের নিকট পেশ করছি; তার প্রদত্ত বয়ান নিম্নরূপ: “মাহে রবিউন্ নূর শরীফের প্রথম দিকে কিছু আশিকানে রাসূল আমি পাপী বেআমলকে ইনফিরাদী কৌশিশ করে ‘কাকরী গ্রাউন্ড’ বাবুল মদীনা করাচীতে অনুষ্ঠিতব্য দা’ওয়াতে ইসলামীর ইজতিমায়ে মিলাদে অংশগ্রহণ করার জন্য দাওয়াত দেন। আমার সৌভাগ্য যে, আমি তাতে অংশগ্রহণ করার ওয়াদা করলাম। যখন ১২ই রবিউল আউয়ালের রাত আসল তখন আমি ওয়াদা মোতাবেক ইজতিমায়ে মিলাদে যাওয়ার জন্য মাদানী কাফেলার সাথে বাসে আরোহণ করলাম। এক আশিকে রাসূল ঐ বাসের মধ্যে চম্ চম্ নামী মিষ্ঠান্ন থেকে প্রায় ৩০ জন ইসলামী ভাইদের মধ্যে ছিড়ে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ভাগ করে দিলেন। বন্টনকারীর মুহাব্বত ভরা ধরণ দেখে আমার অন্তরে রেখাপাত করল। শেষ পর্যন্ত আমি ইজতিমায়ে মিলাদে পৌঁছে গেলাম। আমি জীবনে এই প্রথমবার এমন একটি আন্তরিক চমৎকার দৃশ্য দেখলাম। না’ত, সালাম ও মারহাবা ইয়া মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর মুহুর্মুহু আওয়াজ আমার অন্তরের সমস্ত ময়লা ধুয়ে পরিস্কার করে দিতে লাগল।  اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ আমি সাথে সাথে দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশে সম্পৃক্ত হয়ে গেলাম।  اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ এখন মুখে দাড়ির জ্যোতি ছড়াচ্ছে এবং মাথায় সবুজ আমামার (পাগড়ী) বাহার শোভা পাচ্ছে। তাছাড়া “আলাকায়ে মুশাওয়ারাতের” নিগরান হয়ে এখন সুন্নাতের সাড়া জাগানোর সৌভাগ্য অর্জন করছি। 
আতায়ে হাবিবে খোদা মাদানী মাহল,
হে ফয়যানে গাউস ও রযা মাদানী মাহল।
ইহা সুন্নাতে সিখনে কো মিলেগি,
দিলায়ে গা খওফে খোদা মাদানী মাহল।
ইয়াকিনান মুকাদ্দার কা ওহ হে সিকান্দর,
জিছে খাইর ছে মিল গেয়া মাদানী মাহল।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, পৃষ্ঠা-৬০৪)
صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

(৩) নূরের বর্ষণ

১৪১৭ হিজরীর ঈদে মিলাদুন্নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দিন দুপুরের সময় প্রতি বছরের মত যোহর নামাযের পর দা’ওয়াতে ইসলামীর “হালকা” নাজেমাবাদ, বাবুল মদীনা করাচীর মাদানী জুলুস “ছরকার কী আমদ মারহাবা” এর ধ্বনি তুলে তুলে এবং “মারহাবা ইয়া মুস্তফা” এর শ্লোগান দিতে দিতে রাস্তা অতিক্রম করছিল। স্থানে স্থানে জুলুস থামিয়ে উপস্থিত শুরাকাদের বসিয়ে বসিয়ে নেকীর দাওয়াত দেয়া হচ্ছিল। ইত্যবসরে একটি জায়গায় ১০ বছরের একজন মাদানী মুন্না (বাচ্চা) উঠে নেকীর দাওয়াত পেশ করতে লাগলেন। তখন জুলুছের মধ্যে নিরবতা বিরাজ করছিল। বয়ান শেষে এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালেন এবং কিছু জিজ্ঞাসা করতে করতে হালকা নিগরানের নিকট পৌঁছলেন। তার মধ্যে যথেষ্ট ভাবাবেগ বিরাজ করছিল। সে বলতে লাগল: “আমি আমার খোলা চোখে দেখলাম, বয়ানের সময় আপনাদের এই ছোট বাচ্চা ও মুবাল্লিগসহ জুলুছের সকল অংশগ্রহণকারীদের উপর নূরের বৃষ্টি বর্ষণ হচ্ছিল। ক্ষমা করবেন, আমি একজন অমুসলিম। আমাকে তাড়াতাড়ি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করুন।” এ ঘটনায় “মারহাবা” ধ্বনিতে সমগ্র ময়দান আন্দোলিত ও মুখরিত হয়ে উঠল।
ঈদে মিলাদুন্নবীর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم মাদানী জুলুছের মহত্ব এবং দা’ওয়াতে ইসলামীর এ বরকতময় বাহার দেখে শয়তান তার কালো মুখ নিয়ে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করল। ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর ঐ ব্যক্তি এই বলতে বলতে চলে গেল যে,  اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ “আমি আমার বংশে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত পেশ করব।” 
এমনকি তিনি বাস্তবেও সে কাজে মনোনিবেশ করলেন এবং তাঁর দ্বারা ইসলামের দাওয়াতে তাঁর স্ত্রী এবং তিন সন্তান ও তাঁর বাবা সহ সকলে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করলেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী হে দিল বড়া মাসরুর হে,
ঈদে দিওয়ানো কি তো বারাহ রবিউন নূর হে।
হার মালাক হে শাদে মা খোশ আজ এক হুর হে,
হা মগর শয়তান মাআ রুপাকা বড়া রনজুর হে।

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

(৪) আজও জলওয়া ব্যাপক

এক আশিকে রাসূল এর বয়ান কিছুটা এরকম, “কাকরী গ্রাউন্ড” বাবুল মদীনা করাচিতে দা’ওয়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঈদে মিলাদুন্নবীর মহান রাতে অনুষ্ঠিত প্রায় পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ইজতিমায়ী মিলাদে আমরা কিছু ইসলামী ভাই উপস্থিত হলাম। আলোচনা চলাকালে এক ইসলামী ভাই বলতে লাগল যে, দা’ওয়াতে ইসলামীর ইজতিমায়ী মিলাদের আগে অনেক ভাবাবেগ সৃষ্টি হতো, এখন আগের
মত আর কিছুই নেই। এটা শুনে অপরজন বলল: “বন্ধু আমার মনে হয় আপনার এখানে কিছু ভুল হচ্ছে। ইজতিমায়ী মিলাদের ধরন তো একই আছে কিন্তু আমার মনে হয়, আমাদের অন্তরের অবস্থা আগের মত নেই। আল্লাহর রাসূলের যিকির কিভাবে পরিবর্তন হবে? আসলে আমাদের মন মানসিকতারই পরিবর্তন হয়েছে। আজো যদি আমরা সমালোচনাতে ঘুরাফেরা না করে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে তাজদারে রিসালাত صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর মনোরম ধ্যানে ডুবে গিয়ে না’ত শরীফ শ্রবণ করি, তবে اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ আসা করি দয়ার উপরই দয়া হবে।”
প্রথম ইসলামী ভাইয়ের দৃঢ় শয়তানী প্রতারণা একনিষ্ঠ যিম্মাদার নয় এমন লোকের মত। তার ভাবনাটি যদিও মনে সন্দেহের উদ্রেক ঘটিয়ে ইজতিমায়ী মিলাদ থেকে বঞ্চিত করে পুনরায় ঘরে ফিরিয়ে নেয়ার মত ছিল, কিন্তু অপর ইসলামী ভাইয়ের অসাধারণ যুক্তিপূর্ণ উত্তরকে শতকোটি মারহাবা! কেননা সেটি প্রথম ইসলামী ভাইয়ের নফসে লাওয়ামাকে জাগ্রতকারী শয়তানকে তাড়িয়ে দেয়ার মত ছিল। সুতরাং তাঁর এ সঠিক ও হৃদয়গ্রাহী উত্তরটি প্রভাবের তীর হয়ে আমার হৃদয়ে গেঁথে গেল। আমি সাহস করে পা বাড়ালাম এবং মিলাদুন্নবীর ইজতিমার মধ্যস্থলে পৌঁছে গেলাম এবং আশিকানে রাসূলদের সাথে চুপচাপ বসে গেলাম। আর না’তের ছন্দময় মাধুর্যে বিভোর হয়ে পড়লাম। এমনি অবস্থায় ‘সুবহে সাদিক’ এর সময় নিকটবর্তী হল। সব ইসলামী ভাইয়েরা! “বসন্তের সকালের” সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে গেলেন। ইজতিমার মধ্যে প্রেমের এক বহিঃপ্রকাশ উদ্ভাসিত ছিল। চারিদিকে ‘মারহাবা’ এর সাড়া পড়ে গেল। শাহ্ খাইরুল আনাম, প্রিয় নবী  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দরবারে দুরূদ সালামের তোহফা পেশ করা হচ্ছিল, আশিকানে রাসূলদের চোখ থেকে অবিরাম অশ্রু বইতে লাগল। সবদিক থেকে কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। আমার মাঝেও আশ্চর্য ধরনের ভাবাবেগ লক্ষ্য করলাম। আমার গুনাহে পরিপূর্ণ দুই চোখে দেখলাম চারিদিক থেকে রহমতের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৃষ্টি বর্ষণ হচ্ছে। মনে হল যেন পুরো ইজতিমাটাই রহমতের বৃষ্টি বর্ষণে ধৌত হচ্ছিল। আমি আমার দেহের চামড়ার চক্ষু বন্ধ করে প্রিয় প্রিয় আক্বা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সৌন্দর্যময় ধ্যানে নিমজ্জিত হয়ে দুরূদ ও সালাম পড়তে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। এই অবস্থায় হঠাৎ আমার অন্তরের চোখ খুলে গেল এবং সত্যই বলছি, যার জশনে বিলাদত উদযাপন করা হচ্ছিল, ঐ মহান প্রিয় আক্বা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم আমি গুনাহগারের উপর অশেষ দয়া করলেন এবং তাঁর দূর্লভ দীদার দানে ধন্য করলেন। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ  দীদারে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দ্বারা আমার কলিজা একেবারে ঠান্ডা হয়ে গেল। বাস্তবেই ঐ ইসলামী ভাই সত্যই বলেছিলেন যে, দা’ওয়াতে ইসলামীর মিলাদুন্নবীর ইজতিমায়ে মিলাদ আগের মতই ভাবাবেগে ভরপুরই আছে। কিন্তু আমাদের অবস্থারই পরিবর্তন হয়ে গেছে। যদি আমরা একনিষ্টভাবে মনোনিবেশ করি তাহলে আজো যে তাঁর জলওয়া সর্বব্যাপী তা অনুভব করতে পারব।
আখ ওয়ালা তেরে যৌবন কা তামাশা দেখে,
দিদায়ে কোর কো কিয়া আয়ে নজর কিয়া দেখে।
কুয়ি আয়া পাকে চলা গেয়া, কুয়ী ওমর ভর ভি না পা সকা,
ইয়ে বড়ে করম কে হে ফয়সেলে ইয়ে বড়ী নসীব কি বাত হে।

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

জশনে বিলাদতের ১২টি মাদানী ফুল

﴾১﴿ জশ্নে বিলাদতের খুশিতে মসজিদ, ঘর, দোকান এবং বাহন সমূহ্ সহ নিজ এলাকার সব জায়গায় সবুজ পতাকা উড়াবেন, খুব বেশী আলো প্রজ্জলিত করবেন, নিজ ঘরে কমপক্ষে ১২টি বাল্ব অবশ্যই জ্বালাবেন। ১২ তারিখ রাতে ধূমধামের সাথে ইজতিমায়ে জিকির ও না’ত মাহফিলে অংশগ্রহণ করুন। সুবহে সাদিকের সময় সবুজ পতাকা উত্তোলন করুন। দুরূদ সালাম পড়তে পড়তে অশ্রুসিক্ত নয়নে “বসন্তের সকাল”কে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করুন।  ১২ই রবিউন্ নূর শরীফের দিন রোযা রাখুন। যেহেতু আমাদের প্রিয় আক্বা, মক্কী মাদানী মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم প্রত্যেক সোমবার রোযা রাখার মাধ্যমে নিজ বিলাদত দিবস পালন করতেন। যেমন- হযরত সায়্যিদুনা আবু কাতাদাহ্  رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ
বলেছেন: “রাসুলুল্লাহ্ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর নিকট সোমবার দিন রোযা রাখার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হল। (কেননা তিনি صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم প্রতি সোমবার রোযা রাখতেন) উত্তরে রাসূল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم   ইরশাদ করলেন: “এই দিন (সোমবার) আমার জন্ম হয়েছে এবং এই দিন আমার উপর ওহী নাযিল হয়েছে।” (ছহীহ্ মুসলিম, ৫৯১ পৃষ্ঠা, হাদীস নং-১৯৮,(১১৬২)) বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকারী ইমাম কাসতুলানী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বর্ণনা করেছেন: “হুজুরের বিলাদতের দিন সমূহে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করার বৈশিষ্ঠ্যাবলীর মধ্যে এটি একটি পরীক্ষিত বিষয় যে মিলাদ উদযাপনকারীগণ ঐ বৎসর নিরাপদ থাকে এবং প্রতিটি আশা পূরণের তাড়াতাড়ি সুসংবাদ আসে। আল্লাহ্ তাআলা ঐ ব্যক্তিকে দয়া করুন, যিনি মিলাদুন্নবীর রাত সমূহকে ঈদ বানিয়ে নিয়েছেন। (মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া, ১ম খন্ড, ১৪৮ পৃষ্ঠা)

﴾২﴿ বায়তুল্লাহ্ শরীফের নকশা (MODEL) ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও (কাপড়ের) পুতুল কর্তৃক তাওয়াফ দেখানো হয়ে থাকে। ইহা গুনাহ্। জাহেলী যুগে কা’বাতুল্লাহ্ শরীফে ৩৬০টি মূর্তি রাখা হয়েছিল। আমাদের প্রিয় নবী, রাসুলে আরবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم মক্কা বিজয়ের পর কা’বা শরীফকে মূর্তি থেকে পবিত্র করেছিলেন। এজন্য কা’বা শরীফের নকশাতে ও মূর্তি (পুতুল) না হওয়া চাই।  তার স্থলে প্লাষ্ঠিকের ফুল রাখা যেতে পারে। (কা’বা শরীফের তাওয়াফের দৃশ্যের মধ্যে যেগুলোতে চেহারা স্পষ্ট দেখা যায় না, ঐগুলোকে মসজিদ কিংবা ঘরে রাখা জায়েয। তবে হ্যাঁ, যে জীবের ছবি যমীনে রেখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভালভাবে দেখলে তার মুখাকৃতি সুস্পষ্ট দেখা যায়, তা ঝুলিয়ে রাখা জায়েয নয় বরং গুনাহ্)

﴾৩﴿ এমন দরজা বা গেইট (GATE)) দেয়া যাবে না, যাতে ময়ূর তথা অন্য কোন প্রাণীর ছবি নির্মিত থাকে। প্রাণীদের ছবি রাখার তিরস্কার সংক্রান্ত দুটি হাদীসে মোবারকা পড়ুন, আর আল্লাহ্ তাআলার ভয়ে প্রকম্পিত হোন।
(ক) “(রহমতের) ফিরিস্তা ঐ ঘরে প্রবেশ করে না, যে ঘরে কুকুর কিংবা প্রাণীর ছবি থাকে।” (ছহীহ্ বুখারী শরীফ, ২য় খন্ড, ৪০৯ পৃষ্ঠা, হাদীস নং-৩৩২২)
(খ) “যে ব্যক্তি (প্রাণীদের) ছবি তৈরী করবে, আল্লাহ্ তাআলা তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি প্রদান করতে থাকবেন, যতক্ষণ না সে এটার ভিতর (প্রাণ) ফুঁকে দেবে। আর (ইহা সত্য যে) সে উহাতে কখনও প্রাণ দিতে পারবে না।” (ছহীহ্ বুখারী শরীফ, ২য় খন্ড, ৫১ পৃষ্ঠা, হাদীস-২২২৫, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ্, বৈরুত)

﴾৪﴿ জশনে  বিলাদতের আনন্দে কিছু কিছু লোক গান বাজনার আয়োজন করে থাকে, এটা করা শরীয়াত মতে গুনাহ্। এ ব্যাপারে দুটি হাদীসের পেশ করা হল:
(ক) ছরকারে মদীনা ইরশাদ করেছেন: “আমাকে ঢোল ও বাঁশী ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” (ফিরদাউসুল আখবার, ১ম খন্ড, ৪৮৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং-১৬১২)
(খ) হযরত দাহ্যাক رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ থেকে বর্ণিত: “গান অন্তরকে নষ্ট করে দেয় এবং আল্লাহ্ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে দেয়।” (তাফসীরাতে আহমদীয়্যাহ্, ৬০৩ পৃষ্ঠা)

﴾৫﴿ না’তে পাকের ক্যাসেট চালাতে পারবেন, তবে ছোট আওয়াজে এবং সেখানেও আযান ও নামাযের সময়ের প্রতি সজাগ থাকতে হবে এবং এর দ্বারা অসুস্থ ব্যক্তির ও অন্যান্যদের যাতে কষ্ট না হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। (মহিলাদের কণ্ঠের না’তের ক্যাসেট চালাবেন না)

﴾৬﴿ সর্বসাধারণের চলাফেরার রাস্তায় এভাবে সাজ সজ্জা করা বা পতাকা লাগানো, যাতে রাস্তায় চলাফেরা করা কিংবা গাড়ী চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে, এরূপ করা না-জায়িয।

﴾৭﴿ আলো, সাজ-সজ্জা দেখার জন্য মহিলাদের পর্দাহীনভাবে বের হওয়া হারাম ও লজ্জাজনক কাজ। তাছাড়া পর্দা সহকারেও মহিলাদের প্রচলিত নিয়মে সাধারণভাবে পুরুষদের সাথে মেলামেশা, এটাও খুব দুঃখজনক। সাজ-সজ্জা করতে গিয়ে বিদ্যুৎ চুরি করাও জায়েয নেই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বৈধ পন্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আলোকসজ্জা করতে হবে।

﴾৮﴿ মিলাদুন্নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর জুলুছে যতদূর সম্ভব অযু রাখুন। নামায জামাআত সহকারে পড়ার প্রতি দৃষ্টি রাখবেন। আশিকানে রাসূলগণ কখনও জামাআত ত্যাগকারী হয় না।

﴾৯﴿ মিলাদুন্নবীর জুলুসকে ঘোড়ারগাড়ী ও উটের গাড়ী থেকে মুক্ত রাখা উচিত। কেননা উহার পায়খানা-প্রস্রাব জুলুসে অংশগ্রহণকারী আশিক্বানে রাসূলদের কাপড়-চোপড় নষ্ট করে দিতে পারে।

﴾১০﴿ জুলুছের মধ্যে মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন রিসালা ও মাদানী ফুলের বিভিন্ন লিফলেট খুব বেশি করে বণ্টন করুন। সাথে সাথে ফল-ফ্রুটও মানুষের হাতে হাতে বন্টন করতে থাকুন। তা মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে পায়ের নিচে পিষ্ট হলে ঐগুলোর অসম্মানী হবে।

﴾১১﴿ আলোকসজ্জা ও না’রা ধ্বনি মিলাদুন্নবীর জুলুছের প্রচার ও প্রসারতা বাড়িয়ে দেয়। (জুলুছের সার্বিক কর্মকান্ড) শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার মধ্যে শুধু নিজেদেরই নয় বরং সকলেরই কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

﴾১২﴿ খোদা না করুন! বিরুদ্ধবাদী কর্তৃক যদি হালকা-পাতলা ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে যায় তবুও উত্তেজনায় বশীভূত হয়ে প্রতিউত্তরের চেষ্টা করবেন না। এটা করলে আপনাদের জুলুস ছত্রভঙ্গ হয়ে যাবে এবং দুশমনের উদ্দেশ্য সাধিত হবে। 
গুনছে চাটকে ফুল মেহকে হার তরফ আয়ি বাহার,
হো গেয়ী সুবহে বাহারা ঈদে মিলাদুন্নবী।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, ৪৬৫ পৃষ্ঠা)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

জশনে বিলাদত সম্পর্কে আত্তারের চিঠি

(মাদানী আবেদন, প্রতি জায়গায় প্রতি বছর সফরুল মোজাফ্ফর মাসের শেষ সাপ্তাহিক ইজতিমায় মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য মাকতুবে আত্তার (আত্তারের চিঠি) পড়ে শুনিয়ে দিন। ইসলামী ভাই ও বোনেরা! সাধ্যমতে সংশোধন করুন।) 
 بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمَِ  সগে মদীনা মুহাম্মদ ইল্ইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীর (عُفِىَ عَنْهُ) পক্ষ থেকে সকল আশিকানে রাসূল ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোনদের খেদমতে জশনে বিলাদতের আনন্দে উদ্বেলিত সবুজ সবুজ পতাকা ও উজ্জ্বল বাতি ও মনোরম লন্ঠনগুলোতে চুম্বনরত আন্দোলিত, মধুর চেয়েও মিষ্ঠ মক্কী ও মাদানী সালাম।

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُه  اَلحَمدُ لِلّٰهِ رَبِّ العلَمِين  عَلٰى كُلِّ حَال

তুম বি করকে উনকা চর্চা আপনে দিল চমকাউ,
উচে মে উচা নবী কা ঝান্ডা ঘর ঘর মে লেহরাও।

﴾১﴿ চাঁদ রাতে এই শব্দগুলো মসজিদে তিনবার ঘোষণা করুন “সকল ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোনদের মোবারকবাদ যে, রবিউন্ নূর শরীফের চাঁদ দেখা গিয়েছে।”

রবিউন নুর উম্মিদো কি দুনিয়া সাথ লে আয়া,
দোআও কি কবুলিয়ত কো হাতোহাত লে আয়া।

﴾২﴿ পুরুষরা দাড়ি মুন্ডিয়ে ফেলা কিংবা এক মুষ্টি থেকে কম রাখা উভয়টি হারাম। ইসলামী বোনেরা বেপর্দায় চলাফেরা করা হারাম। দয়া করে ইসলামী ভাইয়েরা জশ্নে বিলাদতের সম্মানে চাঁদরাত থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত দাড়ি মুন্ডানো এবং ইসলামী বোনেরা বেপর্দা হওয়া যেন ছেড়ে দেন এবং এর বরকতে ইসলামী বোনেরা সর্বদা সম্পূর্ণ শরীয়াত মোতাবেক পর্দা করার এবং সাধ্যমত মাদানী বোরকা পরিধানের নিয়্যত করে নিন। (পুরুষদের দাড়ি মুন্ডানো বা এক মুষ্ঠি থেকে ছোট রাখা এবং মহিলাদের বেপর্দা হওয়া হারাম, যদি কেউ এ কাজগুলি করে থাকে, তাহলে তার তাড়াতাড়ি তাওবা করে এ সমস্ত গুনাহ্ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব।)

ঝুক গেয়া কা’বা সবি ভুত মুহ কে বাল আউন্দে গিরে, 
দবদবা আমদ কা থা, আহলান ওয়া সাহলান মারহাবা।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, পৃষ্ঠা-২৫৭)
﴾৩﴿ সুন্নাত ও নেকী সমূহের উপর স্থায়িত্ব অর্জন করার মাদানী ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এই, সকল আশিকানে রাসূল ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোনেরা প্রতিদিন ‘ফিক্রে মদীনা’ করার মাধ্যমে “মাদানী ইনআমাতের রিসালা” পূরণ করে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে জমা করানোর নিয়্যত করে নিন। হাত উঠিয়ে বলুন  اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ
বদলীয়া রহমত কি চায়ে বুন্দিয়া রহমত কি আয়ে,
আব মুরাদি দিল কি পায়ে আমদে শাহে আরব হে।
(ক্বিবলায়ে বখশিশ, ১৮৪ পৃষ্ঠা)
﴾৪﴿ সকল আশিকানে রাসূল নিগরান ও যিম্মাদারগণসহ বিশেষভাবে রবিউন্ নূর শরীফে কমপক্ষে ৩ দিনের মাদানী কাফিলায় সফর করার সৌভাগ্য অর্জন করুন। আর ইসলামী বোনেরা ৩০ দিন পর্যন্ত নিজ ঘরে (শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যের নিকট) প্রতিদিন “ফয়যানে সুন্নাতের” দরস চালু করুন এবং আগামীতেও নিয়মিত চালু রাখার নিয়্যত করে নিন।

লুটনে রহমাতে কাফেলে মে চলো,
শিখনে সুন্নাতে কাফেলে মে চলো।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, ৬১১ পৃষ্ঠা)

﴾৫﴿ নিজ মসজিদ, ঘর, দোকান, কারখানা ইত্যাদিতে ১২টি বা কমপক্ষে ১টি করে সবুজ পতাকা রবিউন্ নূর শরীফের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ মাস উড়াতে থাকুন। বাস, জীপ, ট্রেন, লঞ্চ, স্ট্রীমার, জাহাজ, মালগাড়ী, ট্রাক, ট্রলী, টেক্সি, রিক্সা, ঘোড়ার গাড়ী ইত্যাদিতে নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পতাকা কিনে বেঁধে দিন।  নিজ সাইকেল, স্কুটার এবং কারের সাথেও লাগিয়ে দিন।  اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ চারিদিকে সবুজ পতাকার সুদৃশ্য বাহার সকলের দৃষ্টিগোচর হবে। সাধারণতঃ ট্রাকের পিছনে বিভিন্ন প্রাণীর বড় বড় ছবি এবং অযথা কবিতা লেখা থাকে। আমার আবেদন হচ্ছে ট্রাক, বাস মালগাড়ী, রিক্সা, টেক্সি, সুজুকী ও কার ইত্যাদির পেছনে তৎপরিবর্তে নিম্নলিখিত শব্দ সমূহ্ স্পষ্ট অক্ষরে লিপিবদ্ধ করা যায় যে, “আমি দা’ওয়াতে ইসলামীকে ভালবাসি।” বাস ও ট্রান্সপোর্টের মালিকেরা মিলে এ বিষয়গুলোর “মাদানী তরকিব” করুন এবং সগে মদীনা عُفِىَ عَنْهُ এর আন্তরিক দোআ অর্জন করুন।
বিশেষ সতর্কতা:- যদি পতাকার মধ্যে না’লাইন শরীফের নক্শা কিংবা অন্য কোন লিখা থাকে, তাহলে এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যে, উহা যেন টুকরা টুকরা হয়ে মাটিতে পড়ে না যায়। যখন রবিউন্ নূর শরীফ চলে যাবে, সাথে সাথে পতাকাগুলি খুলে নিন। যদি সতর্কতা অবলম্বন করতে না পারেন, আর অসম্মানী হয়ে যায়, তবে নক্শা মোবারক ও লিখা ছাড়া খালি সবুজ পতাকা উড়ান। (সগে মদীনা عُفِىَ عَنْهُ ও যথাসম্ভব নিজ ঘরের মধ্যেও খালি সবুজ পতাকা উড়ান।)

নবী কা ঝান্ডা লেকর নিকলো দুনিয়া পর ছা জাও,
নবী কা ঝান্ডা আমন কা ঝান্ডা ঘর ঘর মে লেহরাও।
﴾৬﴿ নিজ ঘরে ১২টি লরী বাতি বা কমপক্ষে ১২টি বাল্ব দ্বারা আলোকিত করুন, এমনকি মসজিদ ও মহল্লায় ১২ দিন পর্যন্ত আলোকসজ্জা জারী রাখুন। (কিন্তু এ কাজগুলোর জন্য বিদ্যুৎ চুরি করা হারাম। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সঞ্চয়কারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে বৈধ পন্থায় বিদ্যুৎ লাভের ব্যবস্থা করুন।)  সম্পূর্ণ এলাকাকে সবুজ সবুজ পতাকা ও বিভিন্ন রঙের বাতি দ্বারা সজ্জিত করে দুলহানের ন্যায় বানিয়ে ফেলুন। মসজিদ এবং ঘরের ছাদে, চৌরাস্তা ইত্যাদিতে, পথচারী এবং আরোহীদের কষ্ট না হয় মত সর্বসাধারণের অধিকার খর্ব না করে রাস্তার খালি অংশে ১২ মিটার সাইজ বা প্রয়োজন অনুসারে সাইজ করে বড় বড় পতাকা ঝুলিয়ে দিন। রাস্তার মধ্যখানে পতাকা লাগাবেন না। কেননা এতে ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ হবে। এমনকি গলির ভিতর কোথাও এ ধরণের সাজ-সজ্জা করবেন না, যা দ্বারা মুসলমানদের চলাচলের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যায়, আর তাতে তাদের অধিকার খর্ব হয় ও তারা মনক্ষুন্ন হয়।

বাইতে আকছা বামে কা’বা বর মকানে আমেনা,
নসব পরচম হো গেয়া আহলান ওয়া সাহলান মারহাবা।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, ৪৫৫ পৃষ্ঠা)
﴾৭﴿ প্রত্যেক ইসলামী ভাই সাধ্যমত বেশি বেশি করে কিংবা কমপক্ষে ১২ টাকা দিয়ে “মাকতাবাতুল মদীনা” থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন রিসালা ও বিভিন্ন লিফলেট বন্টন করুন। ইসলামী বোনেরাও নিজ ইসলামী বোনদের মাঝে বিতরণ করুন। এভাবে সারা বছর ইজতিমায় রিসালার স্টলের ব্যবস্থা করে নেকীর দা’ওয়াতের সাড়া জাগিয়ে দিন। আনন্দ কিংবা শোকের অনুষ্ঠানে এবং মৃত ব্যক্তিদের ইছালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে রিসালার ষ্টল খুলে দিন এবং অপরাপর মুসলমানদেরও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করুন।
বাট কর মাদানী রসায়েল দ্বীন কো পেলায়ে,
করকে রাজি হক কো হকদার জিনা বন জায়ে।
﴾৮﴿ সগে মদীনার عُفِىَ عَنْهُ লিফলেট “জশনে বিলাদতের ১২ মাদানী ফুল” সম্ভব হলে ১১২ অন্যথায় কমপক্ষে ১২টি আর পারলে “বসন্তের প্রভাত” রিসালাটির ১২ কপি “মাকতাবাতুল মদীনা” থেকে হাদিয়া দিয়ে সংগ্রহ করে বন্টন করে দিন। বিশেষ করে “তানযিমের” ঐ সকল ভাই পর্যন্ত পৌঁছে দিন যারা জশনে বিলাদতের সাড়া জাগাচ্ছে। রবিউন্ নূর শরীফে ১২০০ টাকা, যদি সম্ভব না হয় ১১২ টাকা যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে শুধু ১২ টাকা (প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে বা মেয়েরা) কোন সুন্নী আলেমের নিকট পেশ করবেন। যদি নিজ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদিমের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয় তাও ঠিক হবে। বরং এই খিদমত প্রতিমাসে চালু রাখার নিয়্যত করুন। তাহলে মদীনা মদীনা হয়ে যাবে। জুমার দিন দিলে খুব ভাল। কেননা জুমার দিন প্রতি নেকীর ৭০ গুণ বেশি সাওয়াব পাওয়া যায়।  اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ  সুন্নাতে ভরা বয়ানের ক্যাসেট শুনে লোকের সংশোধনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আপনাদের মধ্যেও কোন না কোন এমন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি হবেন যিনি বয়ানের ক্যাসেট শুনে মাদানী মাহলের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। তাই এ ধরণের ক্যাসেট লোকদের কাছে পৌঁছানো দ্বীনের বড় খিদমত এবং অপরিসীম সাওয়াবের মাধ্যম হয়ে যাবে। যার পক্ষে সম্ভব হয় তিনি সপ্তাহে, আর না হয় মাসে কমপক্ষে ১২টি বয়ানের ক্যাসেট কিনে নিন। দাতা ইসলামী ভাইয়েরা যদি ফ্রি বন্টন করেন, তবে মদীনা মদীনা হয়ে যাবে। জশ্নে বিলাদতের খুশি উদযাপনে বয়ানের ক্যাসেট বেশী করে বন্টন করুন এবং দ্বীনের প্রচার কার্যে অংশ নিন।  বিয়ের সময় কার্ডের সাথে রিসালা, আর সম্ভব হলে বয়ানের ক্যাসেটও একত্রে দিয়ে দিন। ঈদ কার্ডের রেওয়াজ বন্ধ করে তার স্থানে রিসালা, ক্যাসেট বন্টনের প্রথা চালু করুন, যাতে করে যে  টাকা খরচ হবে তা দ্বীনের কাজে আসে। আমাকে লোকেরা  অনেক দামী দামী কার্ড পাঠিয়ে থাকেন। এতে আমার দিল খুশি হওয়ার পরিবর্তে জ্বলতে থাকে। আফসোস! উক্ত কার্ড ক্রয়ে খরচকৃত টাকা যদি দ্বীনের কাজে ব্যয় হত, তাহলে কতই না ভাল হত। এমনকি এর উপর লাগানো চমৎকার কারুকার্য দ্বারা অযথা খরচের বাহার দেখে খুবই কষ্ট হয়।

উনকে দরপে পলনে ওয়ালা আপনা আপ জওয়াব,
কুয়ি গরীব নাওয়াজ তো কুয়ী দাতা লাগতা হে।

﴾৯﴿ বড় শহরের মধ্যে প্রত্যেক এলাকায়ী মুশাওয়ারাত এর নিগরান (উপ শহরের জিম্মাদারগণ উপশহরে) ১২ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন মসজিদে আজিমুশশান সুন্নাতে ভরা ইজতিমার আয়োজন করবেন। (যিম্মাদার ইসলামী বোনেরা ঘরের মধ্যে ইজতিমার আয়োজন করবেন।) রবিউন্ নূর শরীফের মধ্যে সংগঠিত সকল ইজতিমায় যার নিকট থাকে সে যেন সবুজ পতাকা নিয়ে আসে।

লব পর না’তে রসুলে আকরাম হাতো মে পরচম,
দিওয়ানা ছরকার কা কিতনা পেয়ারা লাগতা হে।

﴾১০﴿ ১১ তারিখ সন্ধ্যায় বা ১২ তারিখ রাতে গোসল করে নিন। যদি সম্ভব হয় ঈদসমূহের ঈদের সম্মানার্থে সাদা পোশাক, পাগড়ী, মাথাবন্ধ, টুপি, মাদানী চাদর, মিসওয়াক, পকেট রুমাল, জুতা, তাসবীহ, আতরের শিশি, হাতের ঘড়ি, কলম, কাফেলার প্যাড, ইত্যাদি নিজের ব্যবহারের প্রত্যেক জিনিস নতুন কিনে নিন। (ইসলামী বোনেরাও নিজ ব্যবহার সামগ্রী সম্ভব হলে নতুন কিনুন।)

আয়ি নয়ি হুকুমত সিক্কা নয়া চলে গা,
আলম মে রংগ বদলা সুবহে শবে বিলাদত।
(যওকে না’ত, ৬৭ পৃষ্ঠা)

﴾১১﴿ ১২ তারিখ রাত সম্মিলিতভাবে মিলাদের মাধ্যমে অতিবাহিত করে সুবহে সাদিকের সময় নিজ নিজ হাতে সবুজ পতাকা তুলে নিয়ে দরূদ সালামের শ্লোগান তুলে অশ্রুসিক্ত নয়নে বসন্তের সকালের অভ্যর্থনা জানান। ফযরের নামাযের পর সালাম ও ঈদ মোবারক বলে একে অপরের সাথে খুশি মনে সাক্ষাত করুন, আর সারাদিন ঈদের মোবারকবাদ পেশ করে ঈদ উদযাপন করুন।

ঈদে মিলাদুন্নবী তো ঈদ কি বি ঈদ হে,
বিল ইয়াকিন হে ঈদে ঈদা ঈদে মিলাদুন্নবী।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, ৪৬৫ পৃষ্ঠা)
﴾১২﴿ আমার প্রিয় আক্বা, উভয় জহানের দাতা, মক্কী মাদানী মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم প্রতি সোমবার রোযা রেখে নিজ জন্ম দিন পালন করতেন, আপনিও প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর স্মরণে ১২ই রবিউন্ নূর শরীফে রোযা রেখে সবুজ পতাকা হাতে নিয়ে মিলাদুন্নবীর জুলুসে যোগ দিন। যতটুকু সম্ভব হয়, অযু অবস্থায় থাকুন। মুখে দরূদ সালাম ও না’তে মুস্তফার আওয়াজ তুলুন, না’ত ও দুরূদ সালামের ফুল বর্ষণ করুন। দৃষ্টিকে নত রেখে পূর্ণ গাম্ভীর্য বজায় রেখে পথ চলুন। লম্প ঝম্প ও অহংকার করে চলে কাউকে সমালোচনা করার সুযোগ দিবেন না।

রবিউল আওয়াল তুজ পর আহলে সুন্নাত কিউ ন হো কুরবা,
কে তেরী বারভি তারিখ ওহ জানে কমর আয়া।
(ক্বিবালায়ে বখশিশ, ৩৭ পৃষ্ঠা) 

জশনে বিলাদত উদযাপনের নিয়্যতসমূহ্

বুখারী শরীফের সর্বপ্রথম হাদীস শরীফ হলো: إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ অর্থাৎ- “প্রতিটি কাজের ফলাফল নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল।” (সহীহ্ বুখারী, ১ম খন্ড, ৫ পৃষ্ঠা) প্রত্যেক ভালকাজে আখিরাতের সাওয়াবের নিয়্যত করাটা আবশ্যক। জশনে বিলাদত উদযাপনের ক্ষেত্রেও সাওয়াব অর্জনের নিয়্যত করাটা জরুরী। সাওয়াবের নিয়্যতের জন্য আমলটি শরীয়াত অনুযায়ী এবং ইখলাছ দ্বারা সজ্জিত হওয়া খুবই জরুরী। যদি কেউ লোক দেখানো বা বাহবা পাওয়ার জন্য, এর জন্য বিদ্যুৎ চুরি করে, জোর করে চাঁদা সংগ্রহ করে, শরীয়াতের গন্ডির বাইরে মুসলমানদেরকে কষ্ট দেয় এবং সর্বসাধারণের হক নষ্ট করে এবং এমন সময় উচ্চস্বরে মাইক বাজায় যখন অসুস্থ, ঘুমন্ত ব্যক্তি এবং দুধপানকারী বাচ্চার কষ্ট হয়, তবে সেক্ষেত্রে সাওয়াবের নিয়্যত করা অনর্থক, বরং গুনাহগার হবে। ভাল নিয়্যত যত বেশী হবে সে ক্ষেত্রে সাওয়াব ও তত অধিক পাওয়া যাবে। এজন্য অনেক ভাল ভাল নিয়্যতের মধ্য থেকে এখানে মাত্র ১৮টি নিয়্যত পেশ করা হচ্ছে। যার নিকট নিয়্যতের ইলম রয়েছে, তিনি সাওয়াব বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এর চেয়েও বেশী নিয়্যতের সমৃদ্ধি ঘটাতে পারেন। যথাসম্ভব নিম্নে প্রদত্ত নিয়্যত গুলো করে নিন। জশনে বিলাদত উদযাপনের ১৮টি নিয়্যত:
﴾১﴿ কোরআন শরীফের হুকুম 
وَاَمَّا بِنِعْمَتِكَ رَبِّكَ فَحَدِّث 
(কান্যুল ঈমান থেকে অনুবাদ: অর্থাৎ এবং আপনার প্রতিপালকের নেয়ামতের খুব চর্চা করুন।) (পারা-৩০, সুরা দোহা, আয়াত নং-১১) 
এই আয়াতের উপর আমল করে আল্লাহ্ তাআলার সবচেয়ে বড় নিয়ামতের চর্চা করব।
﴾২﴿ মহান আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য, জশনে বিলাদতের খুশি উদযাপনে আলোক সজ্জা
করব।
﴾৩﴿ জিব্রাইল আমীন عَلَيْهِ السَّلَام বিলাদতের রাতে ৩টি পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। এর অনুসরণে আমরাও ঝান্ডা উড়াব।
﴾৪﴿ মদীনার সবুজ গুম্বজের সাথে সাদৃশ্য রেখে সবুজ পতাকা লাগাব।
﴾৫﴿ অতি ধুমধামের সাথে মিলাদুন্নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم উদযাপন করে কাফেরদের উপর প্রিয় নবীصَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  এর প্রভাব বৃদ্ধি ঘটাব। (ঘরে ঘরে আলোকসজ্জা এবং সবুজ ঝান্ডা দেখে
বাস্তবিকই কাফেররা আশ্চর্য হয়ে যাবে যে, মুসলমানদের হৃদয়ে তাদের নবীর বিলাদতের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রয়েছে।
﴾৬﴿ জশনে বিলাদতের চারিদিকে সাড়া জাগিয়ে শয়তানকে পেরেশান করে দিব।
﴾৭﴿ বাহ্যিক সাজ-সজ্জার সাথে সাথে তাওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজের অভ্যন্তরিন জগতকেও সাজিয়ে নিব।
﴾৮﴿ ১২ তারিখ রাতে সম্মিলিতভাবে আয়োজিত ইজতিমায়ী মিলাদ এবং
﴾৯﴿ ঈদে মিলাদুন্নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ٰ  এর দিন সকালে বের হওয়া জুলুসে অংশগ্রহণ করে আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর রাসূল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  এর যিকিরের সৌভাগ্য অর্জন করব।
﴾১০﴿ আলিমগণ ও
﴾১১﴿ আউলিয়ায়ে কেরামের জেয়ারত,
﴾১২﴿ আশিকানে রাসূলদের নৈকট্যের বরকত অর্জন করব।
﴾১৩﴿ মিলাদুন্নবীর জুলুসে মাথায় পাগড়ির তাজ সাজাব এবং
﴾১৪﴿ সম্ভব হলে সারাদিন ওযু অবস্থায় থাকব।
﴾১৫﴿ জুলুস চলাকালীন সময়েও মসজিদে জামাআত সহকারে নামায পড়া ত্যাগ করব না।
﴾১৬﴿ সামর্থ্য অনুযায়ী রিসালার ষ্টলের ব্যবস্থা করব। (মাকতাবাতুল মদীনা থেকে প্রকাশিত রিসালা ও লিফলেট সমূহ্ এমনকি সুন্নাতে পরিপূর্ণ বয়ানের ক্যাসেট, সম্মিলিত মাহফিলে এবং ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুসে বণ্টন করব।)
﴾১৭﴿ ইনফিরাদী কৌশিশ করে কমপক্ষে ১২ জন ইসলামী ভাইকে মাদানী কাফেলায় সফর করার দাওয়াত দিবো।
﴾১৮﴿মিলাদুন্নবীর জুলুসে যতটুকু সম্ভব লাগিয়ে না’ত শুনব এবং সম্পূর্ণ রাস্তা মুখে ও চোখে ‘কুফলে মদীনা’ লাগিয়ে না’ত দরূদ ও সালাম অধিক হারে পড়ব।
ইয়া রব্বে মুস্তফা  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم আমাদের আনন্দে চিত্তে এবং ভাল ভাল নিয়্যতের সাথে জশনে বিলাদত উদযাপন করার তৌফিক দান কর এবং জশনে বিলাদতের সদকায় আমাদেরকে জান্নাতুল ফেরদৌসে বিনা হিসেবে প্রবেশের সৌভাগ্য দান কর।
বখশ দে হাম কো ইলাহী বেহরে মিলাদুন্নবী,
য়ে আমাল ইছয়া ছে মেরা ভরপুর হে।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, ৪৭৭ পৃষ্ঠা)
  اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد


জশনে বিলাদতে লাগানো দা’ওয়াতে ইসলামীর মকবুল নারা

ছরকার কি আমদ মারহাবা,  সালার কি আমদ মারহাবা,
মান্টার কি আমদ মারহাবা,  গমখার কি আমদ মারহাবা,
শানদার কি আমদ মারহাবা,  শাহে আবরার কি আমদ মারহাবা,
পুর নূর কি আমদ মারহাবা,  উছ নূর কি আমদ  মারহাবা,
আচ্ছে কি আমদ মারহাবা,  সুহনে কি আমদ মারহাবা,
বশির কি আমদ মারহাবা, মুনির কি আমদ মারহাবা,
শাহির কি আমদ মারহাবা, জাহির কি আমদ মারহাবা,
রহিম কি আমদ মারহাবা,  নঈম কি আমদ মারহাবা,
মুদ্দাচ্চির কি আমদ মারহাবা, সরদার কি আমদ মারহাবা,
মুখতার কি আমদ মারহাবা, দিলদার কি আমদ মারহাবা,
তাজেদার কি আমদ মারহাবা,  শহরইয়ার কি আমদ মারহাবা,
হুযুর কি আমদ মারহাবা, গয়ুর কি আমদ মারহাবা,
রাসুল কি আমদ মারহাবা, সাচ্ছে কি আমদ মারহাবা,
মুহনে কি আমদ মারহাবা, নজির কি আমদ মারহাবা,
বছির কি আমদ মারহাবা, খবির কি আমদ মারহাবা,
রউফ কি আমদ মারহাবা, করিম কি আমদ মারহাবা,
মুয্যাম্মিল কি আমদ মারহাবা, পিয়ারে কি আমদ মারহাবা,
আলিম কি আমদ মারহাবা, হাকিম কি আমদ মারহাবা,
আক্বা কি আমদ মারহাবা,  মাওলা কি আমদ মারহাবা,
আলা কি আমদ মারহাবা, মানবায়ে আনওয়ার কি আমদ মারহাবা,
আমেনা কে ফুল কি আমদ মারহাবা, তোহা কি আমদ মারহাবা,         
বালা কি আমদ মারহাবা, দিলবর কি আমদ মারহাবা,         
আফসর কি আমদ মারহাবা, সিয়্যাহে লা মাকান কি আমদ মারহাবা,
সরওয়ারে দুজাহা কি আমদ মারহাবা, মাহবুবে রব কি আমদ মারহাবা,
রাসূলে আকরাম কি আমদ মারহাবা, তাজেওয়ার কি আমদ মারহাবা,
মুনাওয়ার কি আমদ মারহাবা, শাহে বাহরো বর কি আমদ মারহাবা,
গায়ব দা কি আমদ মারহাবা, হালিম কি আমদ মারহাবা,
আজিম কি আমদ মারহাবা, দাতা কি আমদ মারহাবা,
আওলা কি আমদ মারহাবা, সরওয়ার কি আমদ মারহাবা,
মকবুল কি আমদ মারহাবা,  ইয়াছিন কি আমদ মারহাবা,
ওয়ালা কি আমদ মারহাবা, পেশওয়া কি আমদ মারহাবা,
রাহবার কি আমদ মারহাবা, জানে জানা কি আমদ মারহাবা,
মাহবুবে রহমান কি আমদ মারহাবা, শাহে কওন ও মকা কি আমদ মারহাবা,
সুলতানে আরব কি আমদ মারহাবা, নুরে মুজাস্সাম কি আমদ মারহাবা,
পেয়ম্বর কি আমদ মারহাবা, মুআত্তর কি আমদ মারহাবা,
যিশান কি আমদ মারহাবা, শাহে বনী আদম কি আমদ মারহাবা,
শাহে আরব ও আজম কি আমদ মারহাবা, রাসূলে আনওয়ার কি আমদ মারহাবা,
সাকিয়ে কাওসার কি আমদ মারহাবা, আরবী কি আমদ মারহাবা,
হাশেমী কি আমদ মারহাবা,সুলতান কি আমদ মারহাবা,
হাবিবে দাওয়ার কি আমদ মারহাবা, নবী মুহতাশাম কি আমদ মারহাবা,
মক্কী কি আমদ মারহাবা, সায়্যিদ কি আমদ মারহাবা,
জায়্যিদ কি আমদ মারহাবা,  তাহির কি আমদ মারহাবা,
নজির কি আমদ মারহাবা,  জাহির কি আমদ মারহাবা,
মাহবুব কি আমদ মারহাবা,  মাহে কৌন ও মকা কি আমদ মারহাবা,
মাদানী কি আমদ মারহাবা,  হাবিবে দাওয়ার কি আমদ মারহাবা,
মক্কী কি আমদ মারহাবা,  কোরাশী কি আমদ মারহাবা,
মুত্তালবী কি আমদ মারহাবা, রাসূলে আনওয়ার কি আমদ মারহাবা,
সাকিয়ে কাওসার কি আমদ মারহাবা, মাদানী কি আমদ মারহাবা,
শাফেয়ে উমাম কি আমদ মারহাবা,  দাফেয়ে রন্জ ও আলম কি আমদ মারহাবা,
তায়্যিব কি আমদ মারহাবা, হাজির কি আমদ মারহাবা,
নাছির কি আমদ মারহাবা, বাতিন কি আমদ মারহাবা,
সুলতানে আরব কি আমদ মারহাবা,  আক্বায়ে আত্তার কি আমদ মারহাবা। 

লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ২৬ পৃষ্ঠা সম্বলিত “বসন্তের প্রভাত“ নামক রিসালার ১৬-৩৯ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই রিসালাটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
মিলাদুন্নবী বিষয়ক আরো পড়ুন-প্রথম পর্ব

দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন 
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন