কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

বসন্তের প্রভাত: ঈদে মিলাদুন্নবী

413
মাহে রবিউন্ নূর তথা রবিউল আউয়াল শরীফ আসতেই চতুর্দিকে বসন্তকাল আগমন করে। প্রিয় আক্বা, মক্কী মাদানী মুস্তফা এর আশিকদের অন্তরে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। বৃদ্ধ হোক কিংবা যুবক, প্রত্যেক প্রকৃত মুসলমান যেন অন্তরের মুখ দিয়ে অন্তরের ভাষায় বলে উঠে:-
নিছার তেরী চেহেল পেহেল পর হাজার ঈদে রবিউল আউয়াল,
সিওয়ায়ে ইবলিস কে জাহা মে সবহি তো খুশিয়া মানা রহে হে।
যখন সমগ্র বিশ্ব কুফরী, শিরক, পশুত্ব, বর্বরতার ঘোর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল ঠিক তখনি ১২ই রবিউন নুর এর রাতে মক্কায়ে মোকাররমায় হযরত সায়্যিদাতুনা মা আমিনা رضى الله عنها এর পবিত্র ঘর থেকে এমন এক নূরের জ্যোতি বিচ্ছুরিত হল, যা সমগ্র বিশ্ব জগতকে আলোকিত করে দিল। ভুলুণ্ঠিত মানবতা যার আগমনের প্রতীক্ষায় ব্যাকুল ছিল, তাজেদারে মদীনা, রহমতের খযিনা, আল্লাহর প্রিয় মাহবুব صلى الله عليه وسلم সমগ্র বিশ্ব জগতের জন্য রহমত হয়ে এই পৃথিবীতে শুভাগমণ করলেন।
মোবারক হো কেহ খাতামুল মুরসালিন তাশরিফ লে আয়ে,
জনাবে রাহমাতুল্লিল আলামিন তাশরিফ লে আয়ে।
বসন্তের প্রভাত
খাতামুল মুরছালীন, রহমাতুলিল্ল আলামীন, প্রিয় নবী, হুযুর পুরনূর ﷺ প্রতিটি অশান্ত ও দুঃখী হৃদয়ের শান্তির বার্তা হয়ে ১২ রবিউল আউয়াল শরীফের সুবহে ছাদিকের সময় জগতে শুভাগমণ করেন, আর এসেই নিরাশ্রয়, পেরেশান, দুঃখী, আঘাতে জর্জরিত দরজায় দরজায় হোচট খাওয়া বেচারা গরীবদের অন্ধকার রাতকে বসন্তের সকাল বানিয়ে দিয়েছেন।
মুসলমানো! সুবহে বাহারা মোবারক,
ওহ বরসাতে আনওয়ার ছরকার আয়ে।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, ৪৭৯ পৃষ্ঠা)
صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

মিলাদুন্নবী 

মুজিযা বা অলৌকিক ঘটনাবলী

১২ই রবিউন্ নূর শরীফে আল্লাহর নূর, রহমতে ভরপুর, হুযুর পুরনূর ﷺ দুনিয়াতে শুভাগমণ করার সাথে সাথে কুফরী ও শিরিকের মেঘ কেটে গেল। ইরান সম্রাট “কিসরার” প্রাসাদে ভূকম্পন হল তাতে ১৪টি গম্বুজ ধ্বংস হলো। ইরানের যে অগ্নিকুন্ড এক হাজার বছর ধরে জ্বলছিল হঠাৎ করে মুহূর্তে তা নিভে গেল। সাবা নদী শুকিয়ে গেল। কা‘বা শরীফ আন্দোলিত হতে লাগল, আর মাথা নিচু করে মূর্তিগুলো উল্টে পড়ে গেল।
তেরী আমদ থি কেহ বাইতুল্লাহ মুজরে কো ঝোকা,
তেরী হায়বত থি কেহ হার ভুত থর থরা কর গীর গেয়া।
(হাদায়িকে বখশিশ শরীফ)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

তাজেদারে রিসালত, মুস্তফা জানে রহমত, শময়ে বাজমে হিদায়ত পৃথিবীতে অনুগ্রহ ও রহমত হয়ে তাশরীফ আনলেন। আর অবশ্যই আল্লাহ্ তাআলার রহমত অবতীর্ণ হওয়ার দিনই তো আনন্দ ও উৎসবের দিন হয়। যেহেতু আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: আপনি বলুন- আল্লাহরই অনুগ্রহ তারই দয়া এবং সেটার উপর তাদের আনন্দ প্রকাশ করা উচিৎ। তা তাদের সমস্ত ধন- দৌলত অপেক্ষা উত্তম। (পারা-১১, সুরা- ইউনুছ, আয়াত-৫৮)
الله اكبر আল্লাহর রহমতের উপর আনন্দ উদযাপনের জন্য কোরআনুল করীমে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর আমাদের প্রিয় আক্বা, উভয় জাহানের দাতা, হুযুর ﷺ এর চেয়ে বড় আল্লাহর কোন রহমত আর কিছু কি আছে?
দেখুন, কোরআন মজিদে‘র অন্য এক জায়গায় এ ব্যাপারে পরিস্কার ঘোষণা দিচ্ছে:
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: আর আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্ব জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। (পারা-১৭, সুরা আম্বিয়া, আয়াত নং-১০৭)

শবে কদরের চেয়েও উত্তম রাত

হযরত সায়্যিদুনা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী رحمة الله عليه বর্ণনা করেছেন: “নিঃসন্দেহে ছরকারে দো‘আলম, নূরে মুজাস্সম, হুযুর  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর শুভাগমণের রাত লাইলাতুল কদরের চেয়েও উত্তম। কেননা বিলাদতের রাত ছরকারে মদীনা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর এই দুনিয়াতে শুভাগমণের রাত। যেহেতু ‘লায়লাতুল কদর’ ছরকারে মদীনা, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কে প্রদত্ত (নেয়ামতরাজীর) মধ্যে একটি মাত্র রাত (নেয়ামত)। আর যে রাত ছরকারে মদীনা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  এর ‘জাতে মুকাদ্দাছ’প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমে সম্মানিত, তা ঐ রাতের চেয়েও বেশী উত্তম, যে রাত ‍ফিরিশতা অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছে। অর্থাৎ শবে কদর। (মা-ছাবাতা বিসসুন্নাত, ১০০ পৃষ্ঠা)


সকল ঈদের সেরা ঈদ

الحمدلله عزوجل ১২ ই রবিউন নূর মুসলমানদের জন্য সকল ঈদের সেরা ঈদ। নিঃসন্দেহে আমাদের প্রিয় নবী, রাসূলে আরবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এই পৃথিবীতে জল-স্থলের মহান বাদশাহ্ হিসেবে যদি না আসতেন তবে কোন ঈদ ঈদই হত না, কোন রাত ‘শবে বরাত’ হত না। বরং আসমান জমিনের যাবতীয় সৌন্দর্য ও শান শওকত তিনি জানে জাহান, মাহবুবে রহমান, ছরওয়ারে দো’জাহান, রাসুলুল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর কদম শরীফের ধূলোর ছদকা।
“ওহ জু না থেহ তো কুছ ন থাহ ওহ জু না হো তো কুছ না হো।
জান হ্যা ওহ জাহান কি জান হে তো জাহান হে।”
(হাদায়িকে বখশিশ, ১২৬ পৃষ্ঠা)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد


আবু লাহাব ও মিলাদ

আবু লাহাব মারা যাওয়ার পর একদিন তার পরিবারের কিছু লোক তাকে স্বপ্নে খুবই খারাপ অবস্থায় দেখতে পেল। জিজ্ঞাসা করল: তুমি কি পেয়েছ? সে বলল: তোমাদের থেকে পৃথক হয়ে আসার পর আমার ভাগ্যে ভাল কিছু নসীব হয়নি। অতঃপর নিজের বৃদ্ধাগুলীর নিচে বিদ্যমান ছিদ্রের দিকে ইশারা করে বলতে লাগল: এটা ব্যতীত যে, এটা থেকে আমাকে পানি পান করানো হয়। কেননা, (এর দ্বারা ইশারা করে) আমি আমার দাসী সুয়াইবাকে আযাদ করে দিয়েছিলাম। (মুসান্নিফে আবদুর রাজ্জাক, ৯ম খন্ড, ৯ পৃষ্ঠা, হাদীস-১৬৬৬১, উমদাতুল কারী, খন্ড- ১৪, পৃষ্ঠা-৪৪, হাদীস-৫১০১) হযরত আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী رحمة الله عليه বলেন: এ ইশারার উদ্দেশ্য এটা যে, আমাকে সামান্য পানি দেওয়া হচ্ছে। (উমদাতুল কারী)

মুসলমান ও মিলাদুন্নবী

অত্র হাদীসের ব্যাখ্যায় সায়্যিদুনা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী رحمة الله عليه বলেন: এই ঘটনার মধ্যে মিলাদ শরীফ উদযাপনের পক্ষে মিলাদ শরীফ উদযাপনকারীদের জন্য বড় দলিল রয়েছে, যারা তাজদারে মদীনা, হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর শুভাগমণের রাতে খুশি উদযাপন করে এবং টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ খরচ করে। (অর্থাৎ আবু লাহাব, যে কাফির ছিল, সে যখন মদীনার তাজেদার, রাসুলদের সরদার, হুযুর ﷺ এর শুভাগমণের সংবাদে খুশি হওয়াতে এবং তার দাসী (সুয়াইবা) কে দুধ পান করানোর কারণে এর প্রতিদান হিসাবে মুক্তি দিয়েছিল।
তবে ঐ মুসলমানের কি মর্যাদা হবে, যার হৃদয় নবী প্রেমে ভরপুর এবং আনন্দচিত্তে মিলাদ শরীফে সম্পদ খরচ করছে। কিন্তু এটা আবশ্যক যে, মিলাদুন্নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর মাহফিল, গান বাজনা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের যাবতীয় প্রবণতা থেকে পবিত্র হতে হবে।) (মাদারিজুন্নবুওয়াত, ২য় খন্ড, ১৯ পৃষ্ঠা)

জশনে বিলাদত ধুম ধামের সাথে উদযাপন করুন

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! ধুম ধামের সাথে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উদযাপন করুন। যেহেতু আবু লাহাবের মত কাফিরেরও বিলাদতে মুস্তফার শুভাগমণের আনন্দ উদযাপন করার কারণে উপকার হয়েছে, তাহলে الحمدلله عزوجل আমরাতো মুসলমান। আবু লাহাবতো আল্লাহর রাসূল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর শুভাগমণের খুশি উদযাপনের নিয়্যতে নয় বরং নিজের ভ্রাতুষ্পুত্র জন্ম নেওয়ার কারণে আনন্দিত হয়েছিল। এরপরও সে তার প্রতিদান পেয়েছিল। তাহলে আমরা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আক্বা ও মাওলা, মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর আগমণের আনন্দ উদযাপন করি, তাহলে কিভাবে বঞ্চিত থাকতে পারি?
ঘর আমেনা কে সয়্যদে আবরার আগেয়া,
খুশিয়া মানাও গমজাদো গমখার আগেয়া।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, ৪৭৪ পৃষ্ঠা)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

মিলাদ উদযাপনকারীদের উপর প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم সন্তুষ্ট হন

কোন একজন সম্মানিত আলিম رحمة الله عليه বলেন: الحمدلله عزوجل আমি তাজদারে মদীনা, প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কে স্বপ্নযোগে দীদার লাভ করলাম। আমি আরয করলাম: “হে আল্লাহর রাসূল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم মুসলমানগণ যে প্রতি বছর আপনার শুভাগমণের আনন্দ উদযাপন করে এটা আপনার পছন্দ কিনা? দয়ালু নবী, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করলেন: “যে আমার প্রতি খুশি হয় আমিও তার প্রতি সন্তুষ্ট হই।”(তাজকিরাতুল ওয়ায়েজীন, ৬০০ পৃষ্ঠা)

বিলাদতের আনন্দে পতাকা উত্তোলন করা

সায়্যিদাতুনা মা আমিনা رضى الله عنها বলেন: “একদা আমি দেখলাম যে, তিনটি পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তার একটা পূর্বে একটা পশ্চিমে, আর একটা কা‘বা শরীফের ছাদের উপর, আর ইত্যবসরে হুযুরে আকরাম, ছরওয়ারে দোআলম, শাহে বনী আদম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর বিলাদত হয়ে গেল। (খাছায়িছে কোবরা, ১ম খন্ড, ৮২ পৃষ্ঠা)
রুহুল আমী নে গাড়া কাবে কি ছাদ পে ঝান্ডা
তা আরশ উড়া পেরা সুবহে শবে বিলাদত। (যওকে না‘ত, ৬৭ পৃষ্ঠা)

পতাকা সহকারে জুলুছ উদযাপন

রহমতে আলম, নূরে মুজাস্সম, রাসূলে মুহতাশাম, হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم যখন মদীনার দিকে হিযরত করছিলেন এবং মদীনা শরীফের কাছাকাছি “মাওজায়ে গামীম” নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন ‘বরিদায়ে আসলমী’ বনী ছহম গোত্রের সত্তর জন সাওয়ারী নিয়ে ছরকারে মদীনা প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কে গ্রেফতার করার জন্য আল্লাহর পানাহ! হুঙ্কার ছেড়ে দৌঁড়ে আসল কিন্তু ছরকারে মদীনা, হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর শুভদৃষ্টির ফয়েয ও বরকতের প্রভাবে তিনি নিজেই প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর মুহব্বতের জেলখানায়
বন্দী হয়ে সম্পূর্ণ কাফেলা সহ ইসলাম গ্রহণ করে নিলেন। তিনি আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ! মদীনায়ে মুনাওয়ারায় আপনার আগমণ পতাকা সহকারে হওয়া উচিৎ । এই বলে তিনি নিজের আমামা (পাগড়ী) খুলে নিয়ে বল্লমের মাথায় বাঁধলেন এবং ছরকারে মদীনা, প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর আগে আগে বীর বেশে চলতে লাগলেন। (ওফাউল ওফা, ১ম খন্ড, ২৪৩ পৃষ্ঠা)
মাহবুবে রব্বে আকবর তাশরিফ লা রহে হে,
আজ আম্বিয়া কে সরওয়ার তাশরিফ লা রহে হে।
কিউ হে ফাজা মুআত্তর! কিউ রওশনী হে ঘর ঘর,
আচ্ছা! হাবিবে দাওয়ার তাশরিফ লা রহে হে।
ঈদো কি ঈদ আয়ী রহমত খোদা কি লায়ী,
জুদ ও সখা কে পায়কর তাশরিফ লা রহে হে।
হুরে লাগি তরানে নাতো কে গুনগুনানে,
হুর ও মালক কি আফসর তাশরিফ লা রহে হে।
জু শাহে বাহরো বর নবীয়ো কে তাজওয়ার হে,
ওহ আমেনা তেরে ঘর তাশরিফ লা রহে হে।
আত্তার আব হুশী ছে ফুলে নেহী সামাতে,
দুনিয়া মে উনকে দিলবর তাশরিফ লা রহে হে।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, ৪৪৫ পৃষ্ঠা)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد


হুযুর 
صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর শুভাগমণে জশ্‌নে জুলুস উদযাপনকারী বংশ

মদীনায়ে মুনাওয়ারায় ইবরাহীম নামে একজন ব্যক্তি মাদানী আক্বা, হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর আশিক ছিলেন। তিনি সর্বদা হালাল রুজি আয় করতেন এবং ঐ হালাল আয়ের অর্ধেক টাকা মিলাদে মুস্তফার জশনে জুলুছ উদযাপনের জন্য পৃথক করে জমা করতেন*। রবিউন্ নূর শরীফ (রবিউল আউয়াল) এর আগমনের সাথে সাথে শরীয়াতের সীমার ভিতর থেকে জাক জমকের সাথে জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم উদযাপন করতেন। আল্লাহ্ তাআলার মাহবুব صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর ইছালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে গরীবদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতেন। ভাল কাজের মধ্যে নিজের টাকা পয়সা ব্যয় করতেন। তার সম্মানিতা বিবি সাহেবানও প্রিয় আক্বা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দিওয়ানী ছিলেন। স্বামীর সমস্ত কাজে সার্বিক সহযোগিতা করতেন। স্ত্রী ইন্তিকাল করার পরও তার কাজে কোন বিঘ্ন ঘটলনা। একদা ইবরাহীম তার যুবক সন্তানকে ডেকে উপদেশ দিলেন, “হে প্রিয় সন্তান! আজ রাতে আমার ইন্তিকাল হবে। আমার সারা জীবনের পুঁজি বলতে ৫০টি দিরহাম ও উনিশ গজ কাপড় রয়েছে। কাপড় গুলি কাফনের কাজে ব্যবহার করবে আর বাকী রইল দিরহাম। তা যদি সম্ভব হয় ভাল কাজে ব্যয় করিও। এরপর কালিমায়ে তৈয়্যবা পাঠ করেন এবং এ অবস্থায় তাঁর আত্মা দেহ থেকে বের হয়ে গেল। ছেলে অসিয়তমত বাবাকে সমাধিত করলেন। এখন ৫০ টি দিরহাম কোন্ ভালকাজে ব্যয় করবে, তা তাঁর বুঝে আসছে না। এই চিন্তা নিয়ে যখন রাত্রে ঘুমালেন তখন স্বপ্নে দেখলেন যে, কিয়ামত সংঘঠিত হয়ে গেছে এবং চারিদিকে সবাই নফসী নফসী শব্দে চিৎকার করছে। সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরা জান্নাতের দিকে রওয়ানা দিচ্ছে। যখন দেখলেন পাপীদের টেনে হিচড়ে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখন এই যুবক এ ভেবে দাঁড়িয়ে থর থর করে কাঁপছিল যে, তার ব্যাপারে কি ফয়সালা হচ্ছে? ইতোমধ্যে অদৃশ্য থেকে আওয়াজ আসলো।, “এই যুবককে জান্নাতে যেতে দাও।” অতঃপর তিনি খুশি মনে জান্নাতে প্রবেশ করলেন এবং আনন্দচিত্তে ভ্রমণ করতে লাগলেন। সাত জান্নাত ভ্রমণ করার পর যখন ৮ম জান্নাতে যেতে চাইলেন তখন জান্নাতের দারোগা হযরত রিদওয়ান বললেন: “এই জান্নাতে কেবল তারাই প্রবেশ করতে পারবে যারা মাহে রবিউন নূরে (রবিউল আউয়ালে) বিলাদতে মুস্তফা ﷺ এর দিনে আনন্দ উদযাপন করেছে।” এই কথা শুনে ঐ যুবক বুঝতে পারলেন আমার সম্মানিত মরহুম পিতা মাতা এই জান্নাতেই হবে। এমতাবস্থায় আওয়াজ আসলো, “এই যুবককে ভিতরে আসতে দাও। তাঁর পিতামাতা তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে চান।” তখন তিনি ভিতরে প্রবেশের অনুমতি লাভ করলেন। ভিতরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পেলেন, তাঁর মাতা মরহুমা হাওজে কাউছারের নিকট বসা আছেন। পাশে একটি সিংহাসন রয়েছে যার উপর একজন বুজুর্গ মহিলা বসা রয়েছেন। তাঁর চারিদিকে চেয়ার বিছানো রয়েছে যার উপর কিছু সম্মানিতা মহিলাগণ বসা রয়েছেন। ঐ যুবক এক ফিরিস্তাকে প্রশ্ন করলেন। এই মহিলারা কারা? তিনি (ফিরিস্তা) বললেন: “সিংহাসনের উপর রয়েছেন প্রিয় নবী, রাসুলে আরবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর শাহজাদী হযরত সায়্যিদাতুনা ফাতেমা যাহরা رضى الله عنها এবং চেয়ারগুলোতে রয়েছেন; হযরত খদিজাতুল কোবরা, আয়েশা ছিদ্দিকা, সায়্যিদাতুনা মরিয়ম, সায়্যিদাতুনা আছিয়া, হযরত সায়্যিদাতুনা সারা, সায়্যিদাতুনা হাজেরা, সায়্যিদাতুনা রাবেয়া, হযরত জুবায়দা رضى الله عنهم । তিনি এ দৃশ্য দেখে খুব আনন্দিত হলেন। আরো সামনে অগ্রসর হয়ে দেখলেন, এক বিশাল সিংহাসন বসানো হয়েছে এবং তার উপর আল্লাহর মাহবুব, দানায়ে গুয়ুব, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم চাঁদের চেয়েও উজ্জল নূরানী আপন চেহারা মোবারক নিয়ে বসা আছেন। চারপাশে চারটি চেয়ার বসানো আছে, যেগুলোর উপর খোলাফায়ে রাশেদীন رضى الله عنهم বসা আছেন। ডানদিকে স্বর্ণের চেয়ারে নবীগণ عليهم السلام বসা রয়েছেন। বাম দিকে শোহাদায়ে কেরাম বসা রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁর মরহুম পিতা ইবরাহীমকেও ছরকারে মদীনা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর নিকট বসা সমাবেশে দেখতে পেলেন। তাঁর পিতা তাঁকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি তাঁর আব্বাকে পেয়ে অনেক খুশি হলেন এবং প্রশ্ন করলেন: হে আব্বাজান! আপনার এই মহান মর্যাদা কিভাবে অর্জন হলো? উত্তর দিলেন: الحمدلله عزوجل এটা হলো জশনে মিলাদুন্নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم উদযাপনের প্রতিদান। এরপর ঐ যুবকের চোখ খুলে গেল। সকাল হওয়ার সাথে সাথে ঐ যুবক তাঁর ঘর বিক্রি করে দিলেন এবং মরহুম পিতার অবশিষ্ট ৫০ দিরহামের সাথে নিজের সমস্ত টাকা একত্রিত করে খাবারের আয়োজন করলেন এবং আলিম-ওলামা ও নেক্কার বান্দাদের দাওয়াত দিলেন। তাঁর অন্তর দুনিয়ার মোহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সারাক্ষণ মসজিদে ইবাদত ও মসজিদের খেদমত করতে লাগলেন এবং তাঁর জীবনের অবশিষ্ট ৩০ বছর ইবাদত বান্দেগীতে কাটিয়ে দিলেন। ইন্তিকালে পর কেউ তাঁকে স্বপ্নে জিজ্ঞাসা করলেন: “আপনার এখন কি অবস্থা?” উত্তরে বললেন: “জশনে বিলাদত”উদযাপনের বরকতে আমাকে জান্নাতে আমার মরহুম আব্বাজানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। (সংক্ষেপ-তাযকিরাতুল ওয়ায়েজীন, ৫৫৮ উর্দূ পৃষ্ঠা)
(*হায়! আমাদের উপার্জনের অর্ধেক না হলেও ১২ শতাংশ বরং এক ভাগও যদি জশনে বিলাদতের জন্য বের করে এটাকে ধর্মীয় কাজে খরচ করার উৎসাহ রাখতাম।)
আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক, আর তাঁদের সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে ক্ষমা হোক।

 اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 
বখশ দেয় মুজকো ইলাহী বেহরে মিলাদুন্নবী,
নামায়ে আমাল ইছয়া ছে মেরা ভরপুর হে।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, ৪৭৭ পৃষ্ঠা)

জশনে মিলাদুন্নবী উদযাপনের সাওয়াব

শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী رحمة الله عليه বর্ণনা করেছেন: “নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর শুভাগমণের রাতে আনন্দ উদযাপনকারীদের প্রতিদান এই যে, আল্লাহ্ তাআলা তাঁর দয়া আর মেহেরবানীতে তাদেরকে “জান্নাতুন নাঈম” দান করবেন। মুসলমানগণ সর্বদা মিলাদে মুস্তফা  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم উদযাপন করে আসছেন। বিলাদতে মুস্তফায় আনন্দিত হয়ে মানুষকে দাওয়াত দিচ্ছেন। খাবারের আয়োজন করছেন, বেশি পরিমাণে দান খয়রাত করে আসছেন, আনন্দ প্রকাশ করছেন। তাছাড়া হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর বিলাদতে বা-সাআদাতের আলোচনার ব্যবস্থা করেন এবং নিজেদের ঘর-বাড়ী সজ্জিত করে থাকেন, আর এই সমস্ত ভাল কাজের বরকতে তাদের উপর আল্লাহ্ তাআলার রহমত বর্ষিত হয়। (মা-ছাবাতা বিসসুন্নাহ্, ১০২ পৃষ্ঠা)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

ইহুদীদের ঈমান নছিব হল

হযরত সায়্যিদুনা আব্দুল ওয়াহিদ বিন ইসমাঈল رحمة الله عليه বলেন: “মিশরে এক আশিকে রাসূল বসবাস করতেন, যিনি রবিউন্ নূর শরীফে আল্লাহর প্রিয় মাহবুব صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর জশনে বিলাদত উদযাপন করতেন। একবার রবিউন্ নূর মাসে তার প্রতিবেশী ইহুদী মহিলা তার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলেন: “আমাদের মুসলিম প্রতিবেশী বিশেষ করে এই মাসে প্রতিবছর কিছু নির্দিষ্ট দাওয়াতের আয়োজন কেন করে থাকেন? ইহুদী উত্তরে বলেন: “এই মাসে তাদের নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم দুনিয়াতে তাশরীফ এনেছেন, এজন্য তাঁরা ‘জশনে বিলাদত’ উদযাপন করে থাকেন। আর মুসলমানগণ এই মাসকে খুবই সম্মান করেন। এই কথা শুনে ইহুদী মহিলা বলল: “বাহ্! মুসলমানদের এই রীতি কতই না প্রিয় ও সুন্দর। এই সকল লোকেরা তাদের রাসূলের প্রতি প্রেম ও ভালবাসায় উদ্বেলিত হয়ে প্রতি বছর ‘জশনে বিলাদত’ উদযাপন করে থাকেন।” ঐ মহিলা রাত্রে যখন ঘুমালেন, তখন তার ঘুমন্ত ভাগ্য জেগে উঠল। তিনি স্বপ্নে দেখতে পেলেন যে, খুবই সুন্দর একজন বুজুর্গ তাশরীফ এনেছেন। তাঁর ডানে ও বামে চারিদিকে মানুষের ভীড়। ঐ মহিলা সামনে অগ্রসর হয়ে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন: “এই বুজুর্গ ব্যক্তিটি কে?” তিনি বললেন: “ইনি হচ্ছেন শেষ নবী, মুহাম্মাদুর রাসুলুলাল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم । তিনি তোমাদের মুসলিম প্রতিবেশী কর্তৃক ‘জশনে বিলাদতে মুস্তফা’ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم উদযাপনের কারণে তাকে খায়র ও বরকত দান করতে, তার সাথে সাক্ষাত করতে এবং তার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করার জন্য তাশরীফ এনেছেন।” ইহুদী মহিলা পূনরায় বলল: “আপনাদের নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কি আমার কথার উত্তর দিবেন?” ঐ ব্যক্তি বললেন: “জ্বী হ্যাঁ!” এরপর ঐ মহিলা ছরকারে মদীনা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কে আহ্বান করলেন: নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم উত্তরে “লাব্বায়িক” বললেন। এতে ঐ মহিলা খুবই প্রভাবিত হলেন এবং বলতে লাগলেন: “আমিতো মুসলিম নই তবু আপনি আমার আহ্বানে কেন উত্তর দিলেন?” ছরকারে মদীনা, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করলেন: “আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, তুমি মুসলিম হতে যাচ্ছো। এতেই ঐ মহিলা অতর্কিতভাবে বলে উঠলেন: “নিঃসন্দেহে আপনি সম্মানিত নবী ও উত্তম আদর্শের অধিকারী। যে আপনার অবাধ্য হয়েছে সে ধ্বংস হয়েছে। যে আপনার সম্মান বুঝে না, সে অকৃতকার্য ও ক্ষতিগ্রস্থ।” এই বলে সে কলেমা পাঠ করে মুসলিম হয়ে গেল।
এরপর তাঁর চোখ খুলে গেল এবং তিনি আন্তরিকভাবে সত্যিকারের একজন মুসলমান হয়ে গেলেন। আর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন যে, “সকালে উঠে আমি আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহর প্রিয় মাহবুব صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর জশনে বিলাদতের আনন্দ উদযাপনে কুরবান করে দিব এবং খাবারের আয়োজন করব।” যখন সকালে উঠলেন, দেখতে পেলেন তাঁর স্বামী খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত। এতে তিনি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন: “আপনি ইহা কি জন্য করছেন?” তিনি (স্বামী) বললেন: “এই জন্য খাবারের আয়োজন করছি যে, তুমি মুসলিম হয়ে গেছ।” বিবি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন: “আপনি কিভাবে জানেন?” তিনি (স্বামী) বললেন: “আমিও রাত্রে হুজুরে আকরাম, নূরে মুজাস্সাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর হাত মোবারকে হাত রেখে ঈমান এনেছি।” (তাজকিরাতুল ওয়ায়েজীন, ৫৯৮ পৃষ্ঠা, কুয়েটা)

আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক, আর তাঁদের সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে ক্ষমা হোক।

 اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 
আমদে ছরকার ছে জুলমাত হুয়ী কাফুর হে,
কিয়া জমি কিয়া আসমা হার সাম্ত ছায়া নূর হে।
(ওয়াসায়িলে বখশিশ, ৪৭৬ পৃষ্ঠা)

লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ২৬ পৃষ্ঠা সম্বলিত “বসন্তের প্রভাত“ নামক রিসালার ২-১৬ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই রিসালাটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন।

যারা মোবাইলে (পিডিএফ) রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
মিলাদুন্নবী বিষয়ক আরো পড়ুন-দ্বিতীয় পর্ব
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন 
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন