কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

জানাযা নামাযের বিধান ও মাসআলা (পর্ব ১)

602

আল্লাহর ওলীর জানাযায় অংশগ্রহণ করার বরকত

এক ব্যক্তি হযরত সায়্যিদুনা সারী সাকতী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর জানাযার নামাযে অংশগ্রহণ করলেন। রাতে ঐ ব্যক্তির স্বপ্নে হযরত সায়্যিদুনা সারী সাকতী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ   এর যিয়ারত নসীব হলো। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: مَا فَعَلَ اللهُ بِكَ؟ অর্থাৎ-আল্লাহ্ তাআলা আপনার সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন?
উত্তর দিলেন: আল্লাহ্ তাআলা আমাকে এবং আমার জানাযার নামাযে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। ঐ ব্যক্তি আরয করলো: ইয়া সায়্যিদী! আমিওতো আপনার জানাযায় অংশগ্রহণ করে জানাযার নামায আদায় করেছিলাম। তখন তিনি رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ  একটি তালিকা বের করলেন কিন্তু এতে ঐ ব্যক্তির নাম অন্তর্ভূক্ত ছিলো না, যখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখলেন তখন দেখা গেলো, তার নাম তালিকার পার্শ্বটিকাতে ছিলো। (তারিখে দামেশক লিইবনে আসাকির, ২০তম খন্ড, ১৯৮ পৃষ্ঠা) আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক, আর তাঁর সদকায় আমাদের বিনা হিসেবে ক্ষমা হোক। 
  اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

 

ভালবাসা পোষণকারীদেরও ক্ষমাপ্রাপ্তী

জানাযা নামাযের বিধান ও মাসআলা

হযরত সায়্যিদুনা বিশর হাফী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর ইন্তেকালের পর কাসিম বিন মুনাব্বিহ رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ  স্বপ্নের মধ্যে তাঁকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন:مَا فَعَلَ اللهُ بِكَ؟ অর্থাৎ- আল্লাহ্ তাআলা আপনার সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন?

উত্তরে বললেন: আল্লাহ্ তাআলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং ইরশাদ করেছেন: “হে বিশর! শুধু তোমাকে নয় বরং তোমার জানাযাতে অংশগ্রহণকারীসবাইকেও আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।” তখন আমি আরয করলাম: হে মালিক! আমাকে যারা ভালবাসে তাদেরকেও ক্ষমা করে দাও। তখন আল্লাহ্ তাআলার দয়ার সাগরে জোয়ার আসল আর ইরশাদ করলেন: কিয়ামত পর্যন্ত যারা তোমাকে ভালবাসবে তাদের সবাইকে আমি ক্ষমা করে দিলাম। (তারিখে দামেশক লিইবনে আসাকির, ১০তম খন্ড, ২২৫ পৃষ্ঠা) আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক, আর তাঁর সদকায় আমাদের বিনা হিসেবে ক্ষমা হোক।
  اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 
 আ’মাল না দেখে ইয়ে দেখা, হে মেরে ওলীকে দরকা গদা,
খালিক নে মুঝে য়ূ বখশ দিয়া,   سُبْحٰنَ اللهِ   سُبْحٰنَ اللهِ
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আল্লাহর ওলীদের সাথে সম্পর্ক রাখা সৌভাগ্য লাভের মাধ্যম। তাদের প্রশংসা করা ও জীবনী আলোচনা করা রহমত অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যম, তাঁদের সংস্পর্শ উভয় জগতের জন্য বরকতময়, তাঁদের মাযারে পাকের যিয়ারত করাটা গুনাহের রোগের ঔষধ এবং তাঁদের প্রতি ভালবাসা পোষণ করা আখিরাতে মুক্তির সনদ। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ  আমরাও সমস্ত আওলিয়ায়ে কিরাম  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِمْ কে ভালবাসি এবং ওলীয়ে কামিল হযরত সায়্যিদুনা বিশর হাফী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর প্রতি আমাদের অফুরন্ত ভালবাসা রয়েছে। হে আল্লাহ্! তাঁর সদকায় আমাদেরকেও ক্ষমা করে দাও। 
  اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 
বিশরে হাফী ছে হামেতো পেয়ার হে,  اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ আপনা বেড়া পার হে।
صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

কাফন চোর

এক মহিলার জানাযার নামাযে একজন কাফন চোর অংশগ্রহণ করলো এবং কবরস্থানে সবার সাথে গিয়ে ঐ মহিলার কবরের নিশানাও জেনে নিল। যখন রাত গভীর হলো তখন সে কাফন চুরি করার উদ্দেশ্যে কবর খনন করলো। তৎক্ষণাৎ মরহুমা বলে উঠল:  سُبْحٰنَ اللهِ عَزَّوَجَل ! একজন ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আরেক ক্ষমাপ্রাপ্তা মহিলার কাফন চুরি করছে! শুনো: আল্লাহ্ তাআলা আমাকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমার জানাযার নামাযে অংশগ্রহণকারী সবাইকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন আর তুমিও তাতে অংশগ্রহণ করেছিলে। এটা শুনে সে তৎক্ষণাৎ  কবরে মাটি ঢেলে দিল এবং সত্য অন্তরে তাওবা করে নিল। (শুয়াবুল ঈমান, ৭ম খন্ড, ৮ পৃষ্ঠা, নং- ৯২৬১) আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক, আর তাঁর সদকায় আমাদের বিনা হিসেবে ক্ষমা হোক।

اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

জানাযায় অংশগ্রহণকারী সকলের ক্ষমা

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা দেখলেন তো! নেক বান্দাদের জানাযার নামাযে অংশগ্রহণ করা কত সৌভাগ্যের বিষয়! যখনই সুযোগ হয় বরং সময় বের করে মুসলমানদের জানাযাতে অংশগ্রহণ করা উচিত। হতে পারে কোন নেক বান্দার জানাযায় অংশগ্রহণ করা আমাদের জন্য ক্ষমার মাধ্যম হয়ে যাবে। পরম দয়ালু আল্লাহ্ তাআলার রহমতের উপর আমাদের জান কুরবান, যখন তিনি কোন মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেন তখন তার জানাযাতে অংশগ্রহণকারীদেরকেও ক্ষমা করে দেন। এ প্রসঙ্গে হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  থেকে বর্ণিত আছে; সুলতানে মদীনা, হুযুর পুরনূর  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “মু’মিন বান্দাকে মৃত্যুর পর সর্বপ্রথম পুরস্কার (প্রতিদান) এটাই দেয়া হবে যে, তার জানাযাতে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ক্ষমা করে দেয়া হবে।” (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ৪র্থ খন্ড, ১৭৮ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৩)

কবরে প্রথম উপহার

মদীনার      সরদার,      দো-আলমের     মালিক     ও  মুখতার, শাহানশাহে আবরার, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ    وَاٰلِہٖ  وَسَلَّم  এর  দরবারে    কেউ  আরয করলো: মু’মিন বান্দা যখন কবরে প্রবেশ করে, তখন তার প্রথম উপহার হিসাবে কি দেয়া হয়?তখন   ইরশাদ   করলেন:   “তার     জানাযার নামায আদায়কারীদেরকে    ক্ষমা     করে     দেয়া হয়।”      (শুয়াবুল   ঈমান,    ৭ম   খন্ড,    ৮   পৃষ্ঠা,  হাদীস- ৯২৫৭) 

জান্নাতী ব্যক্তির জানাযা

প্রিয় আকা, মাদানী মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ   تَعَالٰی   عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ    وَسَلَّم    ইরশাদ     করেছেন:      “যখন    কোন জান্নাতী    ব্যক্তি মৃত্যুবরণ   করে   তখন    আল্লাহ্  তাআলা   ঐ   সমস্ত     লোকদেরকে    শাস্তি     দিতে লজ্জাবোধ করেন যারা তার জানাযা নিয়ে চলে, যারা   জানাযার   পিছনে   চলে   এবং   যারা   তার  জানাযার      নামায     আদায় করেছে।”       (আল  ফিরদাউস বিমা সুরিল  খিতাব, ১ম  খন্ড,  ২৮২ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ১১০৮) 

জানাযার সঙ্গে চলার সাওয়াব

হযরত সায়্যিদুনা  দাঊদ عَلٰی  نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ   الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام আল্লাহ তাআলার মহান দরবারে আরয করলেন:    “হে  আল্লাহ্!  যে  ব্যক্তি  শুধু   তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য  জানাযার    সঙ্গে চলে   তার প্রতিদান কি?” আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: “যে     দিন     সে     মৃত্যু     বরণ     করবে     সে     দিন  ফিরিস্তাগণ   তার জানাযার    সঙ্গে   চলবে     এবং  আমি  তাকে  ক্ষমা  করে  দিব।”  (শরহুস    সুদূর, ৯৭ পৃষ্ঠা) 


ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ সাওয়াব

হযরত  সায়্যিদুনা   আবু  হুরাইরা   رَضِیَ  اللہُ  تَعَالٰی عَنۡہُ   থেকে   বর্ণিত;    তাজেদারে   মদীনা,    হুযুর পুরনূর  صَلَّی  اللّٰہُ   تَعَالٰی  عَلَیْہِ   وَاٰلِہٖ  وَسَلَّم  ইরশাদ করেছেন:  “যে ব্যক্তি (ঈমানের দাবীর ভিত্তিতে ও সাওয়াব অর্জনের নিয়্যতে) আপন ঘর থেকে বের হয়ে জানাযার সাথে চলে, জানাযার নামায আদায়    করে এবং   দাফন পর্যন্ত জানাযার সঙ্গে থাকে       তার        জন্য       দুই       ক্বীরাত        সাওয়াব রয়েছে।যার    প্রত্যেক    ক্বীরাত    ওহুদ পাহাড়  সমপরিমাণ। আর   যে ব্যক্তি  শুধু মাত্র জানাযার  নামায আদায় করে ফিরে আসে তাহলে সে এক ক্বীরাত সাওয়াব পাবে।” (মুসলিম,  ৪৭২ পৃষ্ঠা, হাদীস-৯৪৫) 

জানাযার নামায শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যম

হযরত   সায়্যিদুনা   আবু   যর   গিফারী   رَضِیَ   اللہُ  تَعَالٰی         عَنۡہُ         বলেন;           আমাকে         সুলতানে দো-আলম, শাহে বনী আদম, রাসূলে মুহতাশাম صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “কবর যিয়ারত করো  যাতে    আখিরাতের  কথা স্মরণ   হয়ে   যায়,      মৃত   ব্যক্তির     গোসল   দাও, কেননা   ধ্বংসশীল    দেহ   (অর্থাৎ-মৃতের  শরীর) স্পর্শ  করাটা   অনেক     বড়  নসীহত,   জানাযার নামায আদায় করো যাতে এটা তোমাকে চিন্তিত করে     দেয়,     কেননা    চিন্তাগ্রস্থ     ব্যক্তি     আল্লাহ্ তাআলার আশ্রয়ে হয়ে থাকে এবং    নেক  কাজ   করতে   প্রেরণা    যোগায়।”    (আল   মুসতাদরাক লিল হাকিম, ১ম  খন্ড,  ৭১১  পৃষ্ঠা, হাদীস  নং-  ১৪৩৫)

মৃত       ব্যক্তিকে        গোসল       দান       ও        অন্যান্য কার্যাবলীর ফযীলত

হযরত     মাওলায়ে   কায়েনাত   সায়্যিদুনা   আলী মুরতাজা,   শেরে   খোদা   کَرَّمَ   اللہُ   تَعَالٰی   وَجۡہَہُ  الۡکَرِیۡم      থেকে    বর্ণিত;সুলতানে    দো-জাহান,  শাহানশাহে           কাওনো            মাকান,       রহমতে আলামিয়ান, হুযুর صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ   করেছেন:     “যে     কোন   মৃত   ব্যক্তিকে গোসল    দেয়,    কাফন   পরায়,     সুগন্ধি লাগায়, জানাযা কাধে উঠায়,  নামায আদায় করে এবং  (মৃত ব্যক্তির) যে সব মন্দ বিষয়  দৃষ্টিগোচর হয় তা  গোপন  রাখে,  সে  গুনাহ  থেকে  এমনভাবে  পবিত্র হয়ে যায় যেভাবে ঐদিন সে তার মাতৃগর্ভ থেকে    ভূমিষ্ট   হয়েছিল।”  (ইবনে  মাজাহ,   ২য়  খন্ড, ২০১ পৃষ্ঠা, হাদীস নং-১৪৬২) 

জানাযার     লাশবাহী    খাট    দেখে    পাঠ      করার  ওযীফা

হযরত  সায়্যিদুনা   মালিক   বিন  আনাস رَضِیَ  اللہُ تَعَالٰی   عَنۡہُ   এর   ইন্তেকালের   পর   কেউ   তাকে  স্বপ্নে  দেখে  জিজ্ঞাসা   করলো:    مَافَعَلَ  اللهُ   بِكَ؟ অর্থাৎ-আল্লাহ  তাআলা   আপনার   সাথে   কিরূপ আচরণ  করেছেন?”   বললেন: “একটি বাক্যের কারণে      ক্ষমা        করে      দিয়েছেন,     যা     হযরত সায়্যিদুনা   ওসমান   গনী   رَضِیَ   اللہُ    تَعَالٰی   عَنۡہُ  জানাযাকে    দেখে    বলতেন:    (বাক্যটি    হলো:) سُبْحٰنَ   الْحَىِّ الَّذِىْ   لَايَمُوْتُ (অর্থাৎ-  ঐ পুতঃপবিত্র সত্ত্বা   যিনি    জীবিত,  যার  কখনো  মৃত্যু  আসবে   না।)     সুতরাং   আমিও    জানাযা   দেখে   এরূপ     বলতাম, আর  এ বাক্য বলার কারণে আল্লাহ তাআলা        আমাকে     ক্ষমা     করে     দিয়েছেন।”  (ইহইয়াউল  উলূম থেকে  সংগৃহীত,  ৫ম  খন্ড, ২৬৬ পৃষ্ঠা) 

রাসুলুল্লাহ   সর্বপ্রথম  কার   জানাযার  নামায আদায় করেছেন?

জানাযার নামাযের শুরু হযরত সায়্যিদুনা আদম ছফিউল্লাহ  عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ  الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام  এর যুগ    থেকে হয়েছে।      ফেরেশতারা     সায়্যিদুনা আদম       ছফিউল্লাহ       عَلٰی      نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ      الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام      এর        জানাযা  মোবারকে      চারবার তাকবীর বলেছিলো। ইসলামের জানাযা নামায ওয়াজীব হওয়ার হুকুম  মদীনা শরীফে  অবতীর্ণ হয়। হযরত সায়্যিদুনা আসআদ বিন যুরারা رَضِیَ اللہُ  تَعَالٰی  عَنۡہُ   এর  ইন্তিকাল হিজরতের   নবম মাসের শেষের দিকে  হয়েছিলো।  তিনিই  প্রথম মৃত সাহাবী     ছিলেন। রাসুলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی   عَلَیْہِ   وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم     তাঁর   জানাযার   নামায  আদায়          করেন।          (ফতোওয়ায়ে          রযবীয়া  (সংশোধিত), ৫ম খন্ড, ৩৭২-৩৭৫ পৃষ্ঠা) 

জানাযার নামায ফরযে কিফায়া

জানাযার  নামায ফরযে   কিফায়া।  অর্থাৎ কোন এক   ব্যক্তি   আদায়    করলে   সকলেই   দায়মুক্ত  হয়ে যাবে, নতুবা যাদের   নিকট  মৃত্যুর   সংবাদ পৌঁছেছে  কিন্তু  জানাযায়  উপস্থিত    হয়নি   তারা সবাই গুনাহগার হবে। জানাযার নামাযের  জন্য জামাআত শর্ত নয়। মাত্র    একজন ব্যক্তিও যদি আদায় করে নেয় তবে ফরয আদায় হয়ে যাবে। এ নামায ফরয হওয়াকে অস্বীকার করা কুফরী। (আলমগিরী,     ১ম খন্ড,    ১৬২     পৃষ্ঠা।      দুররে মুখতার,      ৩য়      খন্ড,      ১২০       পৃষ্ঠা।       বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৮২৫ পৃষ্ঠা) 

জানাযার নামাযে দুইটি রুকন ও তিনটি সুন্নাত

রুকন   দুইটি   হচ্ছে:    
(১)   চারবার     اَللهُ    اَكْبَرُ  (আল্লাহু আকবর) বলা, 
(২) ক্বিয়াম বা দাঁড়িয়ে নামায আদায়  করা। (দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ১২৪ পৃষ্ঠা) 

তিনটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হচ্ছে: 
(১) সানা পড়া, 
(২)  দরূদ   শরীফ  পাঠ   করা, 
(৩)  মৃত       ব্যক্তির      জন্য      দোয়া      করা।      (বাহারে  শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৮২৯ পৃষ্ঠা)
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত নামায বিষয়ের এনসাইক্লোপিডিয়া ও মাসাইল সম্পর্কিত “নামাযের আহকাম” নামক কিতাবের ২৪৬-২৫২ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন অথবা প্লে স্টোর থেকে এই কিতাবের অ্যাপ ফ্রি ইন্সটল করুন
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন 
জানাযা নামায বিষয়ক আরো পড়ুন- দ্বিতীয় পর্ব,
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন