কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

হজ্বের মাসাইল: পর্ব ২৫- হজ্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তর

685
ইজতিবা ও রমল প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: যদি সাঈ এর পূর্বে কৃত তাওয়াফের প্রথম চক্করে রমল করা ভুলে যায় তখন কি করতে হবে?
উত্তর: রমল শুধু প্রথম তিন চক্করেই সুন্নাত। সাত চক্করেই (রমল) করা মাকরূহ। তাই যদি প্রথমটিতে করা না হয়, তাহলে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়তে করে নিবেন, আর যদি প্রথম দুই চক্করে করা না হয়, তখন শুধু তৃতীয়টিতে করে নিবেন এবং যদি প্রথম তিনটিতে না করা হয়, তখন অবশিষ্ট চার চক্করেও করতে পারবেন না। (দুরের মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, ৩য় খন্ড, ৫৮৩ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: যে তাওয়াফে ইজতিবা ও রমল করার কথা ছিল তাতে করল না, তখন তার কাফ্‌ফারা কি হবে?
উত্তর: কোন কাফ্‌ফারা নেই। অবশ্য একটি মহা সুন্নাত (আদায়) থেকে আপনি বঞ্চিত হলেন।
প্রশ্ন: যদি কেউ সাত চক্করেই রমল করে নেয় তবে?
উত্তর: মাকরূহে তানযিহী। (রদ্দুল মুহতার, ৩য় খন্ড, ৫৮৪ পৃষ্ঠা) কিন্তু কোন জরিমানা ইত্যাদি নেই।
হজ্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তর
সাঈ প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: হাজী সাহেব একেবারে সাঈ-ই করল না এবং নিজ দেশে চলে গেল, তখন কি করবে?
উত্তর: হজ্বের সাঈ ওয়াজিব। যে মোটেও সাঈ করল না কিংবা চার অথবা তার অধিক চক্কর ছেড়ে দিল, তার উপর দম ওয়াজিব হবে, আর যদি তার কমসংখ্যক চক্কর ছেড়ে দেয় তখন সে প্রতিটি চক্করের পরিবর্তে সদকা দিয়ে দিবে। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৭৭ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: যার হজ্বের সাঈ অনাদায়ী রয়ে যায়, আর এ অবস্থায় দেশে চলে যায় এবং দমও না দিয়ে থাকে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে সুযোগ করে দিল এবং ২ বছর পর আবার হজ্ব করার সৌভাগ্য নসীব হয়। এখন অবশিষ্ট সাঈ করতে পারবে কি পারবে না?
উত্তর: করতে পারবে এবং দমও রহিত হয়ে যাবে। কিন্তু এটা ভেবে সাঈ না করে দেশে চলে যাবেন না যে, পরবর্তীতে আবার এসে করে নিব। কেননা জীবনের কোন ভরসা নেই, আর জীবিত থাকলেও পুনরায় হাজির হওয়াটা অনিশ্চিত।
প্রশ্ন: কেউ হজ্বের সাঈর চারটি চক্কর করল এবং ইহরাম খুলে দিল, অর্থাৎ হলক ইত্যাদি করিয়ে নিল, এখন সে কি করবে?
উত্তর: সে তিনটি সদকা আদায় করবে। হ্যাঁ যদি হলক ইত্যাদির পরেও অবশিষ্ট সাঈ আদায় করে নেয়, তাহলে কাফ্‌ফারা রহিত হয়ে যাবে। স্মরণ রাখবেন! সাঈর জন্যে হজ্বের সময়কাল কিংবা ইহরাম শর্ত নয়। সে যদি আদায় না করে থাকে তাহলে জীবনে যে কোন সময় আদায় করে নিলেও ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। (আদায় করার পর কাফ্‌ফারার প্রয়োজন নেই)
প্রশ্ন: যদি তাওয়াফের পূর্বেই সাঈ করে নেয়, তখন কি করা চাই?
উত্তর: সদরুশ শরীয়াহ رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেছেন: সাঈর জন্য শর্ত হচ্ছে যে, সারা তাওয়াফ অথবা তাওয়াফের অধিকাংশের পরেই হওয়া, তাই যদি তাওয়াফের পূর্বে অথবা তাওয়াফের তিন চক্করের পরে সাঈ করে নেয়, তাহলে (আদায়) হবে না এবং সাঈর পূর্বে ইহরাম (পরিহিত অবস্থায়) হওয়াও শর্ত।
চাই তা হজ্বের ইহরাম হোক কিংবা ওমরার, ইহরামের পূর্বে সাঈ হতেই পারে না, আর হজ্বের সাঈ যদি আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের পূর্বে করে নেয়, তাহলে সাঈর সময়েও ইহরাম হওয়া শর্ত। আর উকুফে আরাফার পরে করলে, তবে সুন্নাত হল যে, ইহরাম খুলে ফেলা অবস্থায় হওয়া এবং ওমরার সাঈতে ইহরাম ওয়াজিব অর্থাৎ যদি তাওয়াফের পর মাথা মুন্ডিয়ে নেয় অতঃপর সাঈ করে নেয় তাহলে সাঈ হয়ে গেল। যেহেতু ওয়াজিব ছুটে গেছে সেহেতু দম ওয়াজিব হবে। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১০৯ পৃষ্ঠা)
স্ত্রীকে চুমু খাওয়া কিংবা স্পর্শ করা প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় নিজ স্ত্রীকে স্পর্শ করা কেমন?
উত্তর: স্ত্রীকে কামবাসনা ছাড়া স্পর্শ করা বৈধ। তবে উত্তেজনা বশতঃ হাতে হাত রাখা কিংবা শরীর স্পর্শ করা হারাম। যদি কামবাসনা সহ চুমু ও স্পর্শ করল কিংবা শরীরকে স্পর্শ করল, তাহলে দম ওয়াজিব হয়ে যাবে। এই কাজগুলো চাই স্ত্রীর সাথে হোক অথবা কোন আমরদ (সুদর্শণ বালক) এর সাথে হোক, উভয়টির হুকুম একই। (দুররে মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, ৩য় খন্ড, ৬৬৭ পৃষ্ঠা) যদি মুহরিমা মহিলারও পুরুষের এই ধরনের কাজে স্বাদ, মজা, তৃপ্তি অনুভব হয়, তাহলে তাকেও দম দিতে হবে। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৭৩ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: যদি কল্পনা দৃঢ় হয়ে যায় কিংবা লজ্জাস্থানের দিকে নজর পড়ে যায় এবং বীর্যপাত ঘটে যায়, তাহলে তার কাফ্‌ফারা কি হবে?
উত্তর: এই অবস্থায় এর কোন কাফ্‌ফারা নেই। (আলগিরী, ১ম খন্ড, ২৪৪ পৃষ্ঠা)। তবে বাক্বী রইল ঐ কথা যে, হারামকৃত মহিলা অথবা আমরদ (সুদর্শন বালক) এর প্রতি কুদৃষ্টি দেয়া অথবা ইচ্ছাকৃত ভাবে তাদের নোংড়া কল্পনা করা। এসব কাজ ইহরাম ছাড়াও হারাম ও জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার মত কাজ। এমনকি এই ধরনের নোংড়া কুমন্ত্রনা যদি এসেও পড়ে তাহলে مَعَاذَ اللہ عَزَّوَجَلَّ এর দ্বারা তৃপ্তি অনুভব না করে খুব দ্রুত নিজের দৃষ্টি কিংবা মনোভাবকে ফিরিয়ে নিন। অনুরূপভাবে মহিলাদের ক্ষেত্রেও একই হুকুম।
প্রশ্ন: যদি স্বপ্নদোষ হয়ে যায় তখন কি করবে?
উত্তর: কোন কাফ্‌ফারা নেই। (আলগিরী, ১ম খন্ড, ২৪৪ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: যদি (আল্লাহ না করুক) কোন মুহরিম হস্তমৈথুনে লিপ্ত হয়, তখন তার কাফ্‌ফারা কি?
উত্তর: যদি এমতাবস্থায় বীর্যপাত ঘটে যায়, তবে দম ওয়াজিব হবে। অন্যথায় মাকরূহ হবে। (প্রাগুক্ত) ইহরাম অবস্থায় হোক বা না হোক এই ধরনের কাজ সর্বাবস্থায় অবৈধ ও হারাম হবে এবং জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার মত কাজ। আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রযা খান رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেছেন: যে ব্যক্তি হস্তমৈথুন করে, যদি সে তাওবা করা ছাড়া মারা যায় তাহলে কিয়ামতের দিন সে এই অবস্থায় উঠবে যে, তার উভয় হাতের তালুদ্বয় গর্ভবতী (মহিলার পেটের ন্যায়) হবে। যার কারণে অসংখ্য লোকের জন সমুদ্রে তার খুব মানহানি হবে (লজ্জা হবে)। (ফাতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২৪৪ পৃষ্ঠা)
ইহরাম অবস্থায় আমরদের সাথে মুসাফাহা করল এবং ……?
প্রশ্ন: যদি কেউ কোন আমরদ তথা সুন্দর আকর্ষনীয় বালকের সাথে মুসাফাহা করল, আর তা দ্বারা কামবাসনা জাগ্রত হল, তখন তার শাস্তি কি?
উত্তর: তার উপর দম ওয়াজিব হবে, আর এক্ষেত্রে আমরদ২৪ ও আমরদ নয় এরূপ কোন শর্ত নেই। যদি উভয়ে কামবাসনার হয়, আর অপর ব্যক্তিও মুহরিম হয়, তখন তার উপরও দম ওয়াজিব হবে।
——————-
২৪ঐ বালক কিংবা পুরুষ যাকে দেখলে কিংবা স্পর্শ করলে কামবাসনা জাগ্রত হয়, ইহরামে হোক বা না হোক এমতাবস্থায় তার থেকে দূরে সরে থাকা আবশ্যক। যদি মুসাফাহা করার কারণে কিংবা স্পর্শ করার কারণে কিংবা তার সাথে আলোচনা করার দ্বারা কামবাসনা উত্তেজিত হয় তখন তার সাথে উপরোক্ত কাজগুলো করা জায়েজ নেই। এর ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকাতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ৪৫ পৃষ্ঠা সম্বলিত উর্দূ রিসালা “কওমে লূত কি তাবাহকারিয়া” অধ্যয়ণ করুন।
——————-
স্বামী-স্ত্রী হাতে হাত রেখে চলা
প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী একে অপরের হাত ধরে তাওয়াফ অথবা সাঈ করার সময় যদি উত্তেজনা চলে আসে তবে?
উত্তর: যার উত্তেজনা চলে আসে তার উপর দম ওয়াজিব। যদি উভয়ের আসে তবে উভয়ের উপর ওয়াজিব। যদি ইহরাম পরিহিত পুরুষেরা একে অপরের হাত ধরে চলার ক্ষেত্রেও একই হুকুম।
স্ত্রী সঙ্গম প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: স্ত্রী সহবাসের কারণে কি হজ্ব ভঙ্গও হয়ে যেতে পারে?
উত্তর: উকুফে আরাফাতের পূর্বে স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করলে তখন হজ্ব ভঙ্গ হয়ে যাবে, আর সে ঐ হজ্বকে হজ্বের ন্যায় পূর্ণ করে দম দিবে এবং পরবর্তী বছর কাযা করে দিবে। (আলমগিরী, ১ম খন্ড, ২৪৪ পৃষ্ঠা) আর যদি মহিলাও হজ্বের ইহরামে হয় তাহলে তার উপরও ঐ কাফ্‌ফারা আবশ্যক হবে। যদি এই বিপদে পুনরায় পড়ার ভয় হয়, তাহলে এটাই উপযুক্ত হবে যে, কাযা করার সময় ইহরামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উভয়ে এমনিভাবে পৃথক থাকবে যেন একে অপরকে না দেখে। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৭৩ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: যদি কেউ মাসআলা জানা না থাকার কারণে অথবা ভুলে স্ত্রী সঙ্গম করে নিল তখন কি করবে?
উত্তর: ভুল করে হোক কিংবা না জেনে স্ত্রী সহবাস করে ফেলল অথবা জেনে বুঝে নিজ ইচ্ছায় (তা) করে নিল, কিংবা বাধ্য হয়ে স্ত্রী সঙ্গম করল, সর্বাবস্থায় একই হুকুম। বরং অন্য মজলিশেও যদি দ্বিতীয়বার স্ত্রী সঙ্গম করে থাকে, তখন দ্বিতীয় বার দম আবশ্যক হবে। হ্যাঁ! হজ্ব পরিত্যাগ করার ইচ্ছা করে নেয়ার পর স্ত্রী সঙ্গম করার দ্বারা দম আবশ্যক হবে না।
প্রশ্ন: স্ত্রী সঙ্গম করার কারণে কি হাজীর ইহরাম শেষ হয়ে যায়?
উত্তর: জ্বি না। ইহরাম নিয়মানুযায়ী অবশিষ্ট থাকবে। যে কাজ মুহরিমের জন্য না-জায়িয। তা এখনও (তার জন্য) না-জায়িয, আর অনুরূপ সকল আহকামই। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৭৫ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: যদি হজ্ব ভঙ্গ হয়ে যায়, আর ঐ সময়ই সে ঐ বছরের হজ্ব পালনের জন্য নতুন ইহরাম বেঁধে নেয় তবে?
উত্তর: এই নিয়ম পালনে না সে কাফ্‌ফারা থেকে মুক্তি পাবে, না এ বছরের তার হজ্ব আদায় হবে। কেননা তা তো নষ্ট হয়ে গেছে। সর্বোপরি কথা হল, সে আগামী বছর হজ্ব কাযা আদায় করা থেকে মুক্তি পাবে না। (প্রাগুক্ত)
প্রশ্ন: তামাত্তুকারী ওমরা করে ইহরাম খুলে নিল, আর এদিকে হজ্বের আহকাম পালণের দিনগুলো শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাক্বী আছে, তাহলে কি সে তার স্ত্রীর সঙ্গে নির্জনে বাস করতে পারবে? নাকি পারবে না?
উত্তর: যতক্ষণ পর্যন্ত উভয়ে হজ্বের ইহরাম পরিধান করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত পারবে।
প্রশ্ন: যদি ওমরার ইহরাম বাঁধার পর তাওয়াফ ইত্যাদির পূর্বে স্ত্রী সঙ্গম করে নিল তখন তার কাফ্‌ফারা কি হবে?
উত্তর: ওমরার মধ্যে তাওয়াফের চার চক্কর পূর্ণ করে নেয়ার পূর্বে যদি স্ত্রী সঙ্গম করে নেয় তখনই তার ওমরা ভঙ্গ হয়ে যাবে। সে ওমরা পুনরায় করবে এবং তার দমও দিতে হবে, আর যদি চার চক্কর কিংবা পূর্ণ তাওয়াফের পরে স্ত্রী সঙ্গম করে, তখন শুধু দম ওয়াজিব হবে, ওমরা বিশুদ্ধ ভাবে আদায় হয়ে যাবে। (দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ৬৭৬ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: যদি ওমরাকারী তাওয়াফ ও সাঈর পরে শুধুমাত্র মাথা মুন্ডানোর পূর্বে স্ত্রী সঙ্গম করে থাকে, তাহলে তো কোন শাস্তি নেই?
উত্তর: কেন শাস্তি থাকবে না। এখনও দম ওয়াজিব হবে। হলক কিংবা ক্বসর করে নেয়ার পরই স্ত্রী তার জন্য হালাল হবে।
নখ কাটা প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: মাসআলা জানা ছিল না, আর উভয় হাতের কিংবা উভয় পায়ের নখ কেটে নিল, এখন কি হবে? যদি কাফ্‌ফারা থাকে, তবে তাও বলে দিন?
উত্তর: জানা বা না জানা এখানে কোন ওজর (বাধ্যগত কারণ) হিসেবে গণ্য হবে না। চাই আপনি ভুল করে অপরাধ করুন কিংবা জেনে শুনে নিজ ইচ্ছায় করেন কিংবা কেউ বাধ্য করে করিয়ে থাকে প্রত্যেক অবস্থাতেই কাফ্‌ফারা দিতে হবে। সদরুশ শরীয়াহ رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেছেন: এক হাত এক পায়ের পাঁচটি নখ কাটলে অথবা বিশটি নখ সব এক সাথে কাটলে একটি দম দিতে হবে, আর কেউ যদি হাত অথবা পায়ের সম্পূর্ণ পাঁচটি কাটেনি তাহলে প্রতিটি নখের বিনিময়ে একটি করে সদ্‌কা দিবে। এমনকি যদি হাত-পা চারটির চারটি করে করে নখ কাটে তাহলে ষোলটি সদ্‌কা দিবে। কিন্তু যদি সদ্‌কার মূল্য একটি দমের বরাবর হয়ে যায়, তাহলে কিছুটা কমিয়ে নিবে অথবা দম দিবে, আর যদি এক হাত অথবা এক পায়ের পাঁচটি নখ একই বৈঠকে এবং অন্য পাঁচটি অপর একটি বৈঠকে কাটে তাহলে দুইটি দম আবশ্যক হবে, আর হাত-পা চারটির নখ চারটি বৈঠকে কাটে তাহলে চারটি দম (দিতে হবে)। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৭২ পৃষ্ঠা। আলমগিরী, ১ম খন্ড, ৩৪৪ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: নখ যদি দাঁত দিয়ে কেটে থাকে, তাহলে এর শাস্তি কি?
উত্তর: আপনি চাই নখ ব্লেইড দিয়ে কাটুন কিংবা ছুরি দিয়ে কিংবা নেইল কাটার দিয়ে কিংবা দাঁত দিয়ে, সবকটির একই হুকুম।(বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৭২ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: মুহরিম ব্যক্তি অন্যের নখ কেটে দিতে পারবে, কি পারবে না?
উত্তর: কাটতে পারবে না। এর ক্ষেত্রে ঐ হুকুমই প্রযোজ্য হবে, যা অন্যের (মাথার) চুল মুন্ডিয়ে বা কেটে দেয়ার কারণে হয়ে থাকে। (আল মাসলাকুল মুতাকাস্যিত লিলক্বারী, ৩৩২ পৃষ্ঠা)
চুল কাটা প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: যদি مَعَاذَ اللہ عَزَّوَجَلَّ কোন মুহরিম ব্যক্তি নিজের দাঁড়িকে কর্তন করে নিলেন তখন তার শাস্তি কি?
উত্তর: দাঁড়ি মুন্ডানো কিংবা ছেটে ছোট করে ফেলা এমনিতেই হারাম ও জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার মত কাজ, আর ইহরামকালীন তা অত্যাধিক হারাম। তবে ইহরামকালীন মাথার চুলও কাটতে পারে না। সর্বোপরি ইহরামের হুকুমের ব্যাপারে সদরুশ শরীয়াহ رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেছেন: যদি মাথার এক চতুর্থাংশের চুল কিংবা দাঁড়ির এক চতুর্থাংশ চুল কিংবা তার চেয়ে বেশী যে কোন পন্থায় কেটে নেয় তখন তার উপর দম ওয়াজিব হবে, আর এক চতুর্থাংশের কমে হলে সদকা দিতে হবে এবং যদি টাক থাকে অথবা দাঁড়িতে লোম কম থাকে, আর তা যদি এক চতুর্থাংশের সমপরিমাণ হয় তাহলে ঐ পরিপূর্ণ অংশের জন্য দম অন্যথায় সদ্‌কা দিতে হবে। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে অল্প অল্প চুল নিলে, তবে তার সমষ্টি যদি এক চতুর্থাংশের সমপরিমাণ হয় তবে দম দিতে হবে অন্যথায় সদ্‌কা। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৭০ পৃষ্ঠা। রদ্দুল মুহতার, ৩য় খন্ড, ৬৫৯ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: মহিলারা নিজের চুল তুলে নিতে পারবে কিনা?
উত্তর: না। মহিলারা যদি পূর্ণ মাথা কিংবা এক চতুর্থাংশ মাথার চুল এক দাগ পরিমাণ তুলে নেয়, তাহলে দম দিতে হবে, আর তার চেয়ে কম হলে সদ্‌কা দিবে।
প্রশ্ন: কোন মুহরিম ব্যক্তি নিজ গর্দান বা বগল অথবা নাভীর নিচের চুল তুলে নিলে এর কি হুকুম হবে?
উত্তর: সম্পূর্ণ গর্দান অথবা পরিপূর্ণ এক বগলে দম দিতে হবে, আর এর কম হলে সদ্‌কা (ওয়াজিব হবে)। যদিও তা অর্ধেক অথবা তার চেয়ে বেশী হয়, আর একই হুকুম নাভীর নিচের লোমের ক্ষেত্রেও। উভয় বগল সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে নিলেও একটি মাত্র দম (দিতে হবে)।
(বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৭০ পৃষ্ঠা। দুররে মুহতার ও রদ্দুল মুহতার, ৩য় খন্ড, ৬৫৯ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: মাথা, দাঁড়ি, বগল ইত্যাদি এক সঙ্গে একই মজলিশে মুন্ডিয়ে নিল, তখন কতটি কাফ্‌ফারা আবশ্যক হবে?
উত্তর: মাথা হতে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীরের চুল একই মজলিশে মুন্ডিয়ে নিলে তবে একটি মাত্র দম ওয়াজিব হবে, আর যদি প্রত্যেক অঙ্গকে ভিন্ন ভিন্ন মজলিশে মুন্ডানো হয় তখন যত মজলিশ তত সমপরিমাণ কাফ্‌ফারা আবশ্যক হবে। (দুররে মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, ৩য় খন্ড, ৬৫৯-৬৬১ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: যদি ওযু করতে চুল (বা দাঁড়ি) ঝড়ে পড়ে, তার জন্যও কি কাফ্‌ফারা দিতে হবে?
উত্তর: কেন দিতে হবে না! অবশ্যই দিতে হবে। ওযু করার সময়, চুলকালে কিংবা আঁচড়াতে গিয়ে যদি দুই কিংবা তিনটি চুল পড়ে যায় তখন প্রত্যেক চুলের পরিবর্তে একটি মিষ্টি আনারস কিংবা একেকটি রুটির টুকরা কিংবা একটি খেজুর গাছ খাইরাত করবে, আর তিনের অধিক হলে সদকা দেয়া আবশ্যক হবে।
প্রশ্ন: যদি খাদ্য রান্না করার সময় চুলার গরমে কিছু চুল জ্বলে গেল। তখন কি করবে?
উত্তর: সদকা প্রদান করতে হবে। (প্রাগুক্ত)
প্রশ্ন: গোঁফ পরিষ্কার করলে তার কাফ্‌ফারা কি?
উত্তর: গোঁফ যদি সম্পূর্ণ কর্তন করে নেয় কিংবা মুন্ডিয়ে নেয়। তাহলে সদকা প্রদান করতে হবে।
প্রশ্ন: যদি সিনার চুল মুন্ডিয়ে নেয় তখন কি করবে?
উত্তর: মাথা, দাঁড়ি, গর্দান, বগল এবং নাভীর নিচের চুল ব্যতীত বাক্বী অঙ্গের চুল মুন্ডিয়ে ফেললে শুধু সদকা আবশ্যক হবে।
প্রশ্ন: চুল পড়ে যাওয়ার রোগ হল কিংবা চুল নিজে নিজে পড়ে যায়। তখন তার প্রসঙ্গে কোন ছাড় আছে কিনা?
উত্তর: যদি হাত লাগানো ব্যতীত নিজে নিজে চুল পড়ে যায়। এরকম যদি নিজে নিজে সব চুলও পড়ে যায়। তখন কোন কাফ্‌ফারা দিতে হবে না।
প্রশ্ন: মুহরিম ব্যক্তি অপর মুহরিমের মাথা মুন্ডিয়ে দিল তখন তার শাস্তি কি?
উত্তর: যদি ইহরাম খুলে নেয়ার সময় হয়, তখন তারা একে অন্যের চুল মুন্ডিয়ে দিতে পারবে, আর যদি ইহরাম খুলে নেয়ার সময় এখনও হয়নি তখন তার জন্য কাফ্‌ফারার ধরন ভিন্ন রয়েছে। যদি এক মুহরিম অপর মুহরিমের মাথা মুন্ডিয়ে দিল। তখন যার মাথা মুন্ডাল তার উপর কাফ্‌ফারা আবশ্যক হবে, আর মুন্ডনকারীর উপর সদকা আবশ্যক হবে এবং যদি কোন মুহরিম ব্যক্তি অপর গাইরে মুহরিম ব্যক্তির মাথা মুন্ডিয়ে দিল। কিংবা গোফ কেটে দিল। কিংবা নখ কেটে দিল তখন কোন মিসকীনকে খাইরাত দিবে। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৪২, ১১৭১ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: গাইরে মুহরিম ব্যক্তি মুহরিমের মাথা মুন্ডাতে পারে কিনা?
উত্তর: সময় হওয়ার পূর্বে পারবে না। তবুও মুন্ডিয়ে নিলে মুহরিমকে কাফ্‌ফারা আর গাইরে মুহরিমকে অবশ্যই সদকা প্রদান করতে হবে।
প্রশ্ন: যদি হেয়ার ক্লিনার বা ক্রিম দিয়ে চুল উঠায় এর কি হুকুম?
উত্তর: বাহারে শরীয়াতে উল্লেখ রয়েছে: চুল মুন্ডানো, কাটা অথবা কিছু দিয়ে চুল উঠানো সব কিছুর একই হুকুম। (প্রাগুক্ত)
সুগন্ধি প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: ইহরামকালীন আতরের শিশি হাতে নিলে, হাতে সুগন্ধি লেগে গেল তখন তার কাফ্‌ফারা কি?
উত্তর: যদি মানুষেরা দেখে বলেন যে, আপনার অনেক আতর লেগে গেছে যদি অঙ্গের কোন ছোট অংশেও লেগে থাকে দম আবশ্যক হবে। আর সামান্য আতর লেগে গেলে সদ্‌কা আবশ্যক হবে। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৬৩ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: মাথায় যদি সুগন্ধিময় তৈল দিয়ে দেয় তখন কি করবে?
উত্তর: যদি কোন বড় অঙ্গে যেমন: রান, মুখ, হাত কিংবা অন্য অঙ্গে আর সে সুগন্ধিতে ভরপুর হয়ে যায়। সুগন্ধিময় তৈল দ্বারা হোক কিংবা আতর দ্বারা তার উপর দম ওয়াজিব হবে। (প্রাগুক্ত)
প্রশ্ন: বিছানা কিংবা ইহরামের কাপড়ে সুগন্ধি লেগে গেল। কিংবা অন্য কেউ লাগিয়ে দিল। তখন কি করবেন?
উত্তর: সুগন্ধি কত পরিমাণ হয় দেখা হবে। অধিক হলে দম ওয়াজিব হবে, আর কম হলে সদকা আবশ্যক হবে।
প্রশ্ন: যে রুম থাকার জন্য পাওয়া গেল তাতে কার্পেট, বিছানা, বালিশ, চাদর ইত্যাদি সুগন্ধিময় হলে কি করবে?
উত্তর: মুহরিম ঐ জিনিসের ব্যবহার থেকে বেঁচে থাকবে। যদি (মুহরিম) সর্তক না থাকে আর এই সুগন্ধি থেকে সুগন্ধ ছুটে শরীর এবং ইহরামের উপর লেগে গেল তবে অধিক হওয়া অবস্থায় দম দিতে হবে। আর কম হলে সদকা ওয়াজিব হবে। আর যদি না লাগে তবে কোন কাফ্‌ফারা নেই। কিন্তু এরূপ অবস্থায় বেঁচে থাকা উত্তম। মুহরিমের উচিত যে, ঘরের মালিককে রুম পরিবর্তনের জন্য বলে। এটাও হতে পারে যে, মেঝে ও বিছানার উপর কোন সুগন্ধিবিহীন চাদর বিছিয়ে নেয়, বালিশের ভিজা কভার পরিবর্তন করে নেয় অথবা এটাকে কোন সুগন্ধিবিহীন চাদর দিয়ে জড়ায়ে নিবে।
প্রশ্ন: যে সুগন্ধি ইহরামের নিয়্যত করার পূর্বে শরীর কিংবা ইহরামের চাদরে লাগানো হয়েছিল। ইহরামের নিয়্যত করার পর সেই সুগন্ধিকে দূর করে নেয়া আবশ্যক হবে কিনা?
উত্তর: দূর করতে হবে না। সদরুশ শরীয়াহ رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেছেন: ইহরামের র্পূবে শরীরে খুশবু লাগিয়েছিল, ইহরামের পর তা ছড়িয়ে অন্য অংঙ্গে লেগে গেলেও কাফ্‌ফারা নেই। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৬৩ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: ইহরামের নিয়্যতের পূর্বে গলাতে যে ব্যাগ ছিল এর মধ্যে অথবা বেল্টের পকেটে আতরের বোতল ছিল। নিয়্যতের পর মনে পড়লে তা বের করা আবশ্যক নাকি রাখা যাবে? যদি এই বোতলের সুগন্ধ হাতে লেগে গেল, তবুও কাফ্‌ফারা দিতে হবে?
উত্তর: ইহরামের নিয়্যতের পর ঐ আতরের শিশি ব্যাগ অথবা বেল্ট থেকে বের করা আবশ্যক নয়। আর পরবর্তীতে ঐ বোতলের সুগন্ধ, হাত ইত্যাদিতে লেগে গেলে তবে কাফ্‌ফারা আবশ্যক; কেননা এটা এমন সুগন্ধি নয় যা ইহরামের নিয়্যতের পূর্বে কাপড় বা শরীরে লাগানো হয়েছে।
প্রশ্ন: নিয়্যতের পূর্বে জানলাম, যে ব্যাগ পরিহিত ছিল তা সুগন্ধীময় ছিল আবার এর ভিতর সুগন্ধি রুমাল বা সুগন্ধি তাসবীহ্‌ ইত্যাদি ছিল। এগুলো মুহরিম ব্যবহার করতে পারবে কিনা?
উত্তর: এ বস্তুসমূহের সুগন্ধ ইচ্ছাকৃতভাবে ঘ্রাণ নেয়া মাকরূহ। আর এমন সর্তকতার সাথে ব্যবহারের অনুমতি আছে যে, যদি এর সিক্ততা অবশিষ্ট থাকে, তবে তা যেন ইহরাম এবং শরীরে না লাগে। তবে তাসবিহ্‌ এর ক্ষেত্রে এরূপ সর্তকতা অবলম্বন করা নিতান্তই কঠিন বরং রুমালের ক্ষেত্রেও বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে থাকে। সুতরাং এসব ব্যবহার থেকে বেঁচে থাকার মধ্যেই কল্যাণ।
প্রশ্ন: যদি দুই তিনটা অতিরিক্ত সুগন্ধি চাদর নিয়্যতের পূর্বে কোলে রেখে নেয় বা পরিধান করে নেয় পরে ইহরামের নিয়্যত করে। নিয়্যতের পর অতিরিক্ত চাদর সরিয়ে দেয়, আবার একই ইহরাম অবস্থায় ঐ চাদর এর ব্যবহার এর হুকুম কি?
উত্তর: যদি সিক্ততা অবশিষ্ট থাকে তবে তা ব্যবহারের অনুমতি নেই, আর যদি সিক্ততা শেষ হয়ে যায় শুধু সুগন্ধি থেকে যায় তবে ব্যবহার করা যাবে কিন্তু মাকরূহে তানযিহী হবে। সদরুশ শরীয়াহ رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেছেন: যদি ইহরামের পূর্বে সুগন্ধিযুক্ত করেছিল, আর তা ইহরামে পরিধান করলে তা মাকরূহ। কিন্তু কাফ্‌ফারা নেয়।
প্রশ্ন: স্বপ্নদোষ হয়ে গেল কিংবা যে কোন কারণে ইহরামের একটি চাদর কিংবা উভয়টি নাপাক হয়ে গেল। তবে অন্য দুটি চাদর বিদ্যমান রয়েছে কিন্তু তাতে পূর্বেকার সুগন্ধি লেগে আছে। তখন এই চাদরদ্বয় পরিধান করতে পারবে কিনা?
উত্তর: যদি আদ্রতা ও জড়তা এখনো অবশিষ্ট আছে। চাদরগুলো পরিধানে কাফ্‌ফারা অবশ্যই দিতে হবে, আর যদি জড়তা শেষ হয়ে যায় শুধু সুগন্ধি রয়ে যায় তবে মুহরিম ঐ চাদর ব্যবহার করতে পারবে। অবশ্য বিনা কারণে এরূপ চাদর ব্যবহার করা মাকরূহে তানযিহী। ফুকাহায়ে কিরাম رَحِمَہُمُ اللہُ تَعَالٰی বর্ণনা করেন: যে কাপড়ে জড়তা থেকে যায়, তা ইহরামে পরিধান করা নাজায়েয। (আলমগিরী, ১ম খন্ড, ২২২ পৃষ্ঠা) বাহারে শরীয়াতে রয়েছে: যদি ইহরামের পূর্বে সুগন্ধিযুক্ত ছিল, আর ইহরাম পরিধান করল তবে মাকরূহ কিন্তু কাফ্‌ফারা দিতে হবে না। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৬৫ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন দিতে গিয়ে বা রুকনে ইয়ামানি থেকে আসতে বা মুলতাযিমে শু’তে গিয়ে যদি সুগন্ধি লেগে যায়। তখন কি করবে?
উত্তর: যদি অত্যাধিক লেগে যায় তখন দম দিতে হবে। আর যদি অল্প লেগে যায় তখন সদকা দিতে হবে। (প্রাগুক্ত, ১১৬৪ পৃষ্ঠা) (যেখানে সুগন্ধি লেগে যাওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে সুগন্ধি কম নাকি বেশী তা অন্যের মাধ্যমে ফয়সালা করাতে হবে। যেহেতু বেশী খুশবু লাগার কারণে দম দিতে হবে, সেহেতু হতে পারে আপন নফস বেশী খুশবুকেও কম মনে করবে।
প্রশ্ন: কোন মুহরিম সুগন্ধিময় ফুলের ঘ্রাণ নিতে পারে কিনা?
উত্তর: না, মুহরিম জেনে শুনে সুগন্ধি অথবা সুগন্ধিময় বস্তুর ঘ্রাণ নেয়া মাকরূহে তানযিহি তবে কাফ্‌ফারা দিতে হবে না। (প্রাগুক্ত, ১১৬৩ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: রান্না করা হয়নি এমন এলাচি অথবা রূপার মত পাতা বিশিষ্ট এলাচিদানা খাওয়া কেমন?
উত্তর: হারাম। যদি নিরেট সুগন্ধি যেমন: মুশ্‌ক, জাফরান, লং, এলাচি, দারুচিনি এত পরিমাণ খেল যে মুখের অধিকাংশে লেগে গেল। তবে দম ওয়াজিব হলো, আর কম হলে সদকা।
প্রশ্ন: সুগন্ধিময় জর্দা, বিরয়ানী, কোর্মা, সুগন্ধিময় সুপ, সুপারি, ক্রিমযুক্ত বিস্কিট, টপি ইত্যাদি খেতে পারবে কিনা?
উত্তর: যে খুশবু খাবারের মধ্যে পাকানো হয়েছে। চাই তা থেকে এখনো খুশবু আসুক তা আহার করায় কোন অসুবিধা নেয়। অনুরূপভাবে খাবার রান্নার সময় ঢালা হয়নি; পরবর্তীতে উপরে ঢেলে দেয়া হয়েছিল কিন্তু এখন এর গন্ধ চলে গেল তা খাওয়াও জায়েয। যদি রান্না ছাড়া খুশবু খাবার অথবা মানজুন ইত্যাদি ঔষধে মিলিয়ে দেয়া হলে, তবে এখন তার (সুগন্ধির) অংশবিশেষ থেকে বেশী, তবে এটা নিখুঁত খুশবুর হুকুমে। আর এতে কাফ্‌ফারা আদায় করতে হবে। সুতরাং খুশবু মুখের অধিকাংশ স্থানে লাগলে দম, আর কম লাগলে সদ্‌কা। আর যদি খাদ্য ইত্যাদির পরিমাণ অধিক অন্যদিকে খুশবু কম হলে, কোন কাফ্‌ফারা দিতে হবে না। হ্যাঁ! নিরেট খুশবুর ঘ্রাণ আসলে মাকরূহে তানযিহী হবে।
প্রশ্ন: সুগন্ধিময় শরবত, ফ্রুট, জুস, ঠান্ডা পানিয় ইত্যাদি পান করা কেমন?
উত্তর: যদি নিরেট খুশবু যেমন: চন্দন ইত্যাদি শরবত হয় তবে ঐ শরবত তো রান্না করেই তৈরী হয়, সুতরাং পান করার অনুমতি আছে। আর যদি এর ভিতরে সুগন্ধি সৃষ্টি করার জন্য কোন বস্তু (Essense) ঢালে তবে আমার জানা মতে এগুলো ঢালার পদ্ধতি এরূপ যে, রান্নাকৃত শরবতে তা ঠান্ডা হওয়ার পর ঢালা হয়ে থাকে। আর অবশ্য এটা খুবই অল্প পরিমাণ হয়ে থাকে। এ শরবতের হুকুম হলো। যদি তাতে তিন বার বা এর বেশী পান করলে দম দিতে হবে অন্যথায় সদ্‌কা। বাহারে শরীয়াতে রয়েছে: পান করার জিনিসে যদি সুগন্ধি মিলানো হয়, যদি সুঘ্রাণ প্রাধান্য পায়, তবে দম দিতে হবে। আর কম হলে তা তিন বা এর চেয়ে বেশী পান করলে দম অন্যথায় সদ্‌কা। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৬৬ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: মুহরিম ব্যক্তি নারিকেল তৈল ইত্যাদি মাথায় লাগাতে পারে কিনা?
উত্তর: কোন ক্ষতি নেই। তবে জয়তুন জাতীয় তৈল খুশবুর অন্তর্ভূক্ত। যদিও তাতে খুশবু না থাকে। ইহা শরীরে লাগাতে পারবে না। হ্যাঁ! ইহা খাদ্যে, নাকে দেওয়া, আঘাতে লাগানো আর কানে দেওয়াতে কাফ্‌ফারা দিতে হবে না। (প্রাগুক্ত, ১১৬৬ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় চোখে সুরমা লাগানো কেমন?
উত্তর: ইহা হারাম হবে। সদরুশ শরীয়া বদরুত তরিকা হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেছেন: খুশবুযুক্ত সুরমা এক বা দু’বার লাগালে সদ্‌কা দেবে এর বেশী হলে দম, আর যে সুরমাতে খুশবু নেই, তা ব্যবহারে ক্ষতি নেয়। তবে তা যেন প্রয়োজনীয় অবস্থায় হয়। বিনা কারণে মাকরূহ (খেলাফে আওলা)। (প্রাগুক্ত, ১১৬৪ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: খুশবু লাগালেন আর কাফ্‌ফারাও দিয়ে দিলেন তখন ঐ খুশবু লাগিয়ে রাখবেন কিনা?
উত্তর: খুশবু লাগানো যখন অপরাধ হল। ইহাকে শরীর কিংবা কাপড় থেকে দূর করে দেয়াও ওয়াজিব হবে। আর কাফ্‌ফারা আদায় করার পরে যদি তা দূর করে দেয়া না হয়, তখন পুনরায় দম ইত্যাদি ওয়াজিব হয়ে যাবে। (প্রাগুক্ত, ১১৬৬ পৃষ্ঠা)
ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি সাবানের ব্যবহার
প্রশ্ন: বড় বড় হোটেলে সুগন্ধিময় সাবান, শ্যাম্পু, পাউডার হাত ধৌত করার জন্য রাখা হয়, আর মুহরিম নির্ভয়ে তা ব্যবহার করে। বিমানে এবং এয়ারপোর্টেও মুহরিমদের এরূপ অবস্থায়ই দেখা যায়। কাপড় এবং হাতে পায়ে পাউডারও হুজ্জাযে মুকাদ্দাসে সুগন্ধিযুক্তই হয়ে থাকে। এ জিনিসগুলোর ব্যাপারে শরয়ী হুকুম কি?
উত্তর: মুহরিম এ জিনিসগুলো ব্যবহার করলে কোন কাফ্‌ফারা আবশ্যক হবে না। (অবশ্যই খুশবুর নিয়্যতে এ জিনিসগুলোর ব্যবহার মাকরূহ)
(গৃহিত: ইহরাম আওর খুশবুদার সাবুন২৫)
——————-
২৫দা’ওয়াতে ইসলামীর মজলিশ “তাহকীকাতে শরীয়াত” উম্মতের রেহনুমায়ীর জন্য সর্বসম্মত মতামতের উপর এ ফতোয়া সমূহ একত্রিত করে। সাথে সাথে তিনজন নির্ভরযোগ্য সুন্নি আলিম (১) মুফতিয়ে আযম পাকিস্তান আল্লামা আব্দুল কায়য়ুম হাজারবী, (২) শরফে মিল্লাত আল্লামা আব্দুল হাকীম শরফ কাদেরী ও (৩) ফয়যে মিল্লাত হযরত আল্লামা ফয়য আহমদ ওয়াইসী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَنۡہُمَ এর সত্তায়ন গ্রহণ করেন এবং মাকতাবাতুল মদীনা (ইহরাম আওর খুশবুদার সাবুন) নামে এ রিসালা প্রকাশ করেছে। যারা এ ব্যাপারে আরো ভালভাবে জানতে আগ্রহী তারা এটা সংগ্রহ করুন অথবা দা’ওয়াতে ইসলামীর ওয়েব সাইট www.dawateislami.net এ দেখুন।
——————-
মুহরিম এবং গোলাপ ফুলের মালা
প্রশ্ন: ইহরাম এর নিয়্যত করার পর ইয়ারপোর্ট ইত্যাদিতে গোলাপ ফুলের মালা পরিধান করা যাবে কিনা?
উত্তর: ইহরামের নিয়্যতের পরে গোলাপের মালা পরবেন না। কেননা গোলাপ ফুল নিজে খুবই সুগন্ধিময় আর এর ঘ্রাণ শরীর এবং কাপড়েও মিশে যায় আর যদি তার ঘ্রাণ কাপড়ে মিশে গেল এবং বেশী হয় ও চার প্রহর তথা ১২ ঘন্টা পর্যন্ত ঐ কাপড় পরিহিত থাকে তবে দম দিতে হবে, অন্যথায় সদকা। আর যদি খুশবু কম হয় আর কাপড়ে এক বিগত বা এর কম অংশে লাগল আর চার প্রহর পর্যন্ত তা পরিহিত থাকে, তবে সদকা দিতে হবে। আর এর কম পরিধান করলে এক মুষ্টি গম দেওয়া ওয়াজিব। আর যদি সুগন্ধি অল্প কিন্তু এক বিগতের চেয়ে বেশী অংশে ছড়িয়ে যায় তবে বেশীর হুকুমেই পরিগণিত হবে। অর্থাৎ চার প্রহরে দম আর কম হলে সদ্‌কা। আর এ মালা পরিধান সত্বেও ঘ্রাণ কাপড়ে মিশে গেল না তবে কোন কাফ্‌ফারা নেই। (ইহরাম আওর খুশবুদার সাবুন, ৩৫-৩৬ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: কারো সাথে মুসাফাহা করলো আর তার হাত থেকে মুহরিমের হাত খুশবু লেগে গেলে তবে?
উত্তর: যদি প্রকৃত খুশবু লাগে তবে কাফ্‌ফারা দিতে হবে। আর যদি প্রকৃত খুশবু লাগল না বরং হাতে শুধুমাত্র ঘ্রাণ এসেছে তবে কোন কাফ্‌ফারা নেই। কেননা ঐ মুহরিম শুধু খুশবু থেকে উপকার গ্রহণ করেনি। অবশ্যই উচিত হলো যে, হাত ধুয়ে ঐ সুগন্ধি দূর করে দেয়া। (প্রাগুক্ত, ৩৫ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: সুগন্ধিময় শ্যাম্পু দিয়ে মাথা বা দাঁড়ি ধৌত করতে পারবে কিনা?
উত্তর: রিসালা “ইহরাম আওর খুশবুদার সাবুন” এর ২৫-২৮ পৃষ্ঠা থেকে সংকলিত কিছু মাদানী ফুল লক্ষ্য করুন শ্যাম্পু যদি মাথা বা দাঁড়িতে ব্যবহার করা হয় তবে সুগন্ধি নিষেধ ও তার কারণের উপর এর নিষেধাজ্ঞা। নিষিদ্ধ হওয়ার হুকুমেই বুঝে এসে যায় বরং কাফ্‌ফারাও হওয়া উচিত। যেমন খিতমী (সুগন্ধিযুক্ত ঔষধ) দ্বারা মাথা এবং দাঁড়ি ধৌত করার হুকুম রয়েছে যে, এটা চুলকে নরম করে দেয় এবং উকুনকে মেরে ফেলে আর মুহরিমের জন্য এটা জায়েয নয়। “দুররে মুখতার” কিতাবে রয়েছে: মাথা এবং দাঁড়িকে খিতমী (এক প্রকার সুগন্ধিযুক্ত ঔষধ) দ্বারা ধৌত করা হারাম। কেননা এটা খুশবু, আর উকুনকে মেরে ফেলে।(দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ৫৭০ পৃষ্ঠা) সাহেবাইন (অর্থাৎ ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَنۡہُمَا এর নিকট যেহেতু এটা সুগন্ধি নয়, তাই ইহা “জিনায়েতে ক্বাসিরাহ” (অসম্পূর্ণ অপরাধ) এর প্রমাণিত হবে আর সেটার উদ্দেশ্য ‘সদ্‌কা’ হবে। শ্যাম্পু দ্বারা মাথা ধৌত করা অবস্থাতেও প্রকাশ্য ভাবে ‘জিনায়াতে ক্বাসিরাহ’ (অর্থাৎ অসম্পুর্ণ অপরাধ) এর অস্তিত্বই বুঝা যায় যেন তার মধ্যেও আগুনের তৈরীকৃত কার্যাদী হয়ে থাকে। তাই সুগন্ধির হুকুম তো রহিত হয়ে গেল কিন্তু চুল গুলোকে নরম করা এবং উকুন মারার ত্রুটি (অর্থাৎ কারণ) বিদ্যমান রয়েছে। এ জন্য সদ্‌কা ওয়াজিব হওয়া উচিত। এই বিষয়টাও মনোযোগের প্রয়োজন যে, যদি কারো মাথার চুল এবং মুখে দাঁড়ি না থাকে তাহলে কি এখনোও পূর্বের হুকুমই প্রযোজ্য হবে? প্রকাশ্য ভাবে এই অবস্থাতে কাফ্‌ফারার হুকুম না হওয়া উচিত কেননা নিষিদ্ধ হুকুমের কারণ চুলগুলোর নরম হওয়া এবং উকুনের ধ্বংস হওয়ার ছিল, আর উল্লেখিত অবস্থায় এটা ইল্লতে মাফকুদ (অর্থাৎ অনুপস্থিতির কারণ) রয়েছে এবং ইনতিফা ইল্লত অর্থাৎ কারণ না হওয়াটাই নিষেধাজ্ঞার কারণগুলোকে মুসতালযিম (আবশ্যক কারী) কিন্তু তার দ্বারা যদি শরীরের ময়লা পরিষ্কার হয়, তা হলে এটা মাকরূহ যেমন মুহরিমের জন্য ময়লা পরিষ্কার করা মাকরূহ। আর হাত ধৌত করার মধ্যে তার অবস্থা সাবানের মত। কেননা এটা তরল (liquid) অবস্থায় সাবান ধরে নেওয়া হবে এবং এর মধ্যেও আগুনের কার্যাদী করা হয়ে থাকে।
প্রশ্ন: সম্মানীত মসজিদদ্বয়ের কার্পেটকে ধৌত করাতে যে সুগন্ধিযুক্ত স্প্রে (SOLUTION) ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেটাতে লক্ষ মুহরিমের পাদ্বয়ের মলিনতো হয়ে থাকে সেটার হুকুম কি?
উত্তর: কোন কাফ্‌ফারা দিতে হবে না। কেননা এটার সুগন্ধি নেই। আর যদিও এই বিশুদ্ধ সুগন্ধিও হয়ে থাকে তারপরেও কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হবে না। কেননা এটা প্রকাশ্য যে, এই স্প্রে প্রথমে পানিতে মিশানো হয়ে থাকে আর পানি সেই স্প্রে থেকে বেশী হয় এবং এই স্প্রে প্রভাব কম হয়ে থাকে আর যদি তরল সুগন্ধিকে কোন তরল পদার্থের মধ্যে মিশানো হয় আর তরল পদার্থ প্রাধান্য পায় তবে কোন প্রতিফল নেই। ফিকহের কিতাবের মধ্যে পান করার যে হুকুম সাধারণত লিখা হয়েছে সেটার দ্বারা উদ্দেশ্য পূর্ণ সুগন্ধির তরল পদার্থে মিশে যাওয়া। আল্লামা হোসাইন বিন মুহাম্মদ আবদুল গনী মক্কী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ “ইরশাদুস সারী”৩১৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেন: তাই এটা থেকে জানা গেল যে, গলিত চিনি (অর্থাৎ মিষ্টি শরবত) এবং তার মত গোলাপের পানির সাথে মিশানো হয়, তবে যদি গোলাপের রস প্রাধান্য পায় যেমন: স্বভাবগতভাবে এমনিই সাধারণত হয়ে থাকে তাহলে এতে কোন কাফ্‌ফারা দিতে হবে না।
আর হযরত আল্লামা ক্বারী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ এটার উদাহরণ “ত্বরা বুলুসী”থেকে নকল করেন আর এটাকে স্থায়ী রাখলেন এবং সেটাকে সমর্থন করেন আর সেটার মূল বেষ্টনকারী তে রয়েছে। (ইহরাম আওর খুশবুদার সাবুন, ২৮-২৯ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: মুহরিম যদি টুথ পেষ্ট ব্যবহার করে নেয় তবে কি কাফ্‌ফারা দিতে হবে?
উত্তর: টুথ পেষ্টের স্থলে যদি আগুনের কয়লার ছাই ব্যবহার করে যেমন ধরুন ইহাই প্রকাশ্য, তখন তো কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হবেনা। যেরকম পূর্বের বর্ণনাতে অতিবাহিত হয়ে গেছে। (প্রাগুক্ত, ৩৩ পৃষ্ঠা) অবশ্য যদি মুখ থেকে দূর্গন্ধ দূর করার জন্য এবং সুগন্ধি অর্জনের নিয়্যতে হয়, তখন মাকরূহ হবে। আমার আক্বা আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত মাওলানা শাহ্‌ আহমদ রযা খাঁন رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেন: তামাকের উপাদানে সুগন্ধি ঢেলে রান্না করা হয়েছে, তখন সেটা খাওয়া সাধারণত জায়েয যদিওবা সুগন্ধি বের হয়। হ্যাঁ! শুধু সুগন্ধির উদ্দেশ্য সেটাকে গ্রহণ করা অপছন্দ থেকে খালি নয়। (ফাতোওয়ায়ে রযবীয়াহ, ১০ম খন্ড, ৭১৬ পৃষ্ঠা)
সেলাইযুক্ত কাপড় ইত্যাদি প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: মুহরিম ব্যক্তি যদি ভুলে সেলাই করা, কাপড় পরিধান করে নেয়। আর দশ মিনিট পর স্মরণ আসতেই খুলে ফেলে। তখন কোন কাফ্‌ফারা দিতে হবে কিনা?
উত্তর: হ্যাঁ! দিতে হবে। যদিও এক মূহুর্তের জন্য পরিধান করে। জেনে বুঝে কিংবা ভুলে পরিধান করুক তবে সদ্‌কা ওয়াজিব হবে, আর যদি চার প্রহর২৬ তথা একদিন একরাত তার চেয়ে বেশী চাই লাগাতার কয়েকদিন পরিধান করল তখন অবশ্যই দম ওয়াজিব হবে। (ফাতোওয়ায়ে রযবীয়াহ, ১০ম খন্ড, ৭৫৭ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: যদি টুপি অথবা পাগড়ি পড়ল অথবা ইহরামেরই চাদর মুহরিম মাথা অথবা মুখে তুলে নিল অথবা ইহরামের নিয়্যত করার সময় পুরুষ সেলাইযুক্ত কাপড় অথবা টুপি খুলতে ভুলে গেল অথবা ভিড়ের মধ্যে অন্যের চাদর দ্বারা মুহরিমের মাথা অথবা মুখ ঢেকে গেল তাহলে কি শাস্তি হবে?
উত্তর: জেনে বুঝে হোক বা ভুল করে অথবা অন্যের অলসতার ভিত্তিতে হোক না কেন, কাফ্‌ফারা দিতে হবে। হ্যাঁ! জেনে বুঝে ভুল করলে গুনাহ হবে এবং তাওবা করাও ওয়াজিব হবে। এখন কাফ্‌ফারা বুঝে নিন: পুরুষ পূর্ণ মাথা অথবা মাথার চর্তুথাংশ অথবা পুরুষ বা মহিলা বহিরাংশ পূর্ণ অর্থাৎ সম্পূর্ণ চেহারা অথবা চুর্তুথাংশ চার প্রহর তথা একদিন এক রাত কিংবা তার বেশী সময় ধারাবাহিক ঢেকে রাখে তখনও “দম” ওয়াজিব হবে, আর এক চতুর্থাংশ থেকে কম চার প্রহর তথা একদিন একরাত পর্যন্ত বা চার প্রহরের কম সময় যদিও সমস্ত মুখ অথবা মাথা ঢেকে রাখে, তখন সদ্‌কা দিতে হবে। এক চতুর্থাংশের কম অঙ্গকে চার প্রহরের কম সময়ে ডেকে রাখল তখন কাফ্‌ফারা নেই তবে গুনাহ হবে।(প্রাগুক্ত, ৭৫৮ পৃষ্ঠা)
প্রশ্ন: সর্দিতে কাপড় দ্বারা নাক পরিষ্কার করতে পারবে কিনা?
উত্তর: কাপড় দ্বারা পরিষ্কার করতে পারবে না। কাপড় বা তোয়েলে দূরে রেখে তাতে নাকের ময়লা পরিষ্কার অর্থাৎ ঝেড়ে নিন। সদরুশ শরীয়াহ, বদরুত তরিকাহ হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতি আমজাদ আলী আযমী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেন: কান এবং কাধ ঢেকে রাখাতে অসুবিধা নেই। অনুরূপ নাকের উপর খালি হাত রাখতে এবং যদি হাতে কাপড় থাকে আর কাপড় সহ নাকের উপর হাত রাখল, কাফ্‌ফারা (ওয়াজিব) হবেনা কিন্তু মাকরূহ এবং গুনাহ হবে।(বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৬৯ পৃষ্ঠা)
——————-
২৬চার প্রহর অর্থাৎ একদিন এক রাতের সময়ের পরিমাণকে বলে। যেমন সূর্য অস্ত থেকে সূর্য উদয় পর্যন্ত কিংবা সূর্য উদয় থেকে সূর্য অস্ত পর্যন্ত। কিংবা দুপুর থেকে অর্ধরাত পর্যন্ত কিংবা অর্ধরাত থেকে পরবর্তী দিনের দুপুর পর্যন্ত সময় চার প্রহর নামে খ্যাত। (হাশিয়া আনোয়ারুল বিশারত সংগ্রহিত ফাতোওয়ায়ে রযবীয়াহ, ১০ম খন্ড, ৭৬৭ পৃষ্ঠা)
——————-