কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

হজ্বের মাসাইল: পর্ব ২২- মক্কা ও মদীনার জিয়ারতের স্থান সমূহ

613

সারওয়ারে আলম ﷺ এর জন্মস্থান

হযরত আল্লামা কুতুব উদ্দীন رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেন: হুজুর আকরাম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর জন্মস্থানে দোআ কবুল হয়। (বলদুল আমীন, ২০১ পৃষ্ঠা) এখানে পৌঁছার সহজ পদ্ধতি এই যে, আপনি মারওয়া পাহাড়ের যে কোন কাছের একটি দরজা দিয়ে বাইরে বের হয়ে যান সামনে নামাযীদের জন্য অনেক বড় ঘেরাও তৈরী করা হয়েছে। এই ঘেরাও এর ঐ প্রান্তে এই মহান আলীশান ঘর মোবারক নূরানী জালওয়া বিকিরণ করছে। اِنۡ شَآءَ اللہ عَزَّوَجَلّ অনেক দূর থেকে তা দৃষ্টিতে পড়বে। খলিফা হারুনুর রশিদ رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ এর আম্মাজান رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیۡہَا কর্তৃক এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে ঐ পবিত্র স্থানকে লাইব্রেরী হিসেবে রূপান্তর করে নেয়া হয়েছে, আর এর উপর একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। যাতে লিখিত আছে ‘মক্কায়ে মুকার্‌রমা লাইব্রেরী’।

জবলে আবু কুবাইছ

এই মুকাদ্দাস পাহাড়টি দুনিয়ার সর্বপ্রথম পাহাড়, যা বাইতুল্লাহ শরীফের বাইরে ছাফা ও মারওয়া পাহাড়ের খুবই নিকটে অবস্থিত। এই পাহাড়ে দোআ কবুল হয়। মক্কাবাসীরা দুর্ভিক্ষের সময় এখানে এসে দোআ করত। হাদীসে পাকে রয়েছে: হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে এই স্থানেই অবতীর্ণ হয়েছিল। (আত্‌তারগীব ওয়াত তারহীব, ২য় খন্ড, ১২৫ পৃষ্ঠা, হাদীস: ২০) এই পাহাড়কে আল আমীনও বলা হয়েছে। কারণ নূহ عَلٰی نَبِیِّنَا وَعَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام তুফানের সময় হাজরে আসওয়াদ এই পাহাড়ে পূর্ণ হিফাযতের সাথে তাশরীফ নিয়েছিলেন। কা’বা শরীফের নির্মাণকালে এই পাহাড় হযরত সায়্যিদুনা ইবরাহীম খলিলুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَا وَعَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام কে আহবান করে আরজ করেছিলেন: ‘হাজরে আসওয়াদ’ এখানে। (বলদুল আমীন, ২০৪ পৃষ্ঠা, সংক্ষেপিত) বর্ণিত আছে যে, আমাদেরই প্রিয় আক্বা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এই পাহাড়ে তাশরীফ নিয়ে গিয়ে চন্দ্রকে দ্বিখন্ডিত করেছিলেন। যেহেতু মক্কা শরীফ পাহাড় সমূহের মধ্যবর্তীতে অবস্থিত। তাই এ পাহাড় থেকে চন্দ্র দেখা যেত, আর (মাসের) প্রথম রাতের চাঁদকে ‘হেলাল’বলা হয়ে থাকে। তাই উক্ত ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে রাখার জন্যে এখানে “মসজিদে হেলাল”নির্মিত হয়েছে। কতিপয় লোক ইহাকে ‘মসজিদে বিলাল رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ’ও বলে থাকে। وَاللہُ وَرَسُوۡلُہُ اَعۡلَم عَزَّوَجَلَّ وَ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم বর্তমানে এ পাহাড়ের উপর শাহী মহল নির্মাণ করা হয়েছে এখন আর ঐ মসজিদের জিয়ারত করা সম্ভব নয়। ১৪০৯ হিজরী হজ্ব মৌসুমে ঐ মহলের নিকটবর্তীতে বোম ফুটেছিল এবং কয়েকজন সম্মানিত হাজী সাহেব শাহাদাত বরণ করেছিলেন। সেই কারণে বর্তমানে ঐ মহলের চতুর্পার্শ্বে কঠোর পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহলের হেফাজতের উদ্দেশ্যে পাহাড়ের সুড়ঙ্গে তৈরীকৃত ওযুখানাও ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এক বর্ণনানুযায়ী হযরত সায়্যিদুনা আদম ছফিয়্যুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَا وَعَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام এই ‘জবলে আবু কুবাইছে’ গারে কান্‌যে (কান্‌য গুহায়) সমাহিত হয়েছেন, আর অন্য এক মুশতানাদ বর্ণনা মতে, মসজিদে খাইফে তিনি সমাহিত হয়েছেন, যা মীনায় অবস্থিত। وَاللہُ وَرَسُوۡلُہُ اَعۡلَم عَزَّوَجَلَّ وَ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم
মক্কা ও মদীনার জিয়ারতের স্থান সমূহ 

খাদিজাতুল কুবরার رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہَا রহমতপূর্ণ ঘর
মক্কা ও মদীনার সুলতান صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم যতদিন পর্যন্ত মক্কা শরীফে ছিলেন, তিনি صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এই মহান মহিমান্বিত ঘরে অবস্থান করেছিলেন। সায়্যিদুনা ইবরাহীম رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ ছাড়া সকল আউলাদে পাক, এমনকি শাহজাদীয়ে কাউনাইন বিবি ফাতিমা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہَا এর জন্মও এখানেই হয়েছে। সায়্যিদুনা জিব্রাঈল আমীন عَلَیۡہِ السَّلَام এই আলীশান ঘরে অসংখ্য বার বারগাহে রিসালাতে হাজেরী দিয়েছেন। হুজুরে আকরাম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর অধিক ওহী এখানেই নাযিল হয়েছে। মসজিদে হারামের পরে মক্কায়ে মুকাররমায় তাঁর চেয়ে অধিক উত্তম অন্য কোন স্থান নেই। তবে শতকোটি নয় বরং হাজার লক্ষকোটি আফসোস! বর্তমানে তার নিশানাও অবশিষ্ট নেই। সবকিছু ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। মানুষ চলাচলের জন্য তাতে সমতল জায়গা বানিয়ে দেয়া হয়েছে। মারওয়ার পাহাড়ের কাছে অবস্থিত ‘বাবুল মারওয়া’ দিয়ে বের হয়ে ঠিক বাম দিকে খুবই মর্মাহত দৃষ্টিতে এই পবিত্র স্থান মোবারকের শুধুমাত্র খালিস্থানের জিয়ারতটুকু করে নিবেন।
সওর পর্বতের গুহা
এই পবিত্র গুহা মোবারকটি মক্কায়ে মুকাররমার ঠিক ডান দিকে ‘মাসফালা’ নামক মহল্লার দিকে কমবেশী ৪ কিলোমিটার দূরে ‘জবলে সওর’এ অবস্থিত। এটা সেই পবিত্র গুহা, যার বর্ণনা পবিত্র কোরআনুল করীমে রয়েছে। মক্কা ও মদীনার তাজেদার صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم তাঁর গুহার বন্ধু, মাযারের বন্ধু হযরত সায়্যিদুনা সিদ্দিকে আকবর رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ এর সাথে হিজরতকালে তিনরাত পর্যন্ত সময়কাল অবস্থান করেছিলেন। যখন শত্রু তাঁদের খোঁজ করতে সওর গুহায় একেবারে মুখে এসে পৌঁছে, তখন হযরত সায়্যিদুনা সিদ্দিকে আকবর رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ খুবই পেরেশান হয়ে যান এবং আরজ করলেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم! দুশমন এতই নিকটে এসেছে যে যদি তারা আপন পায়ের দিকে দৃষ্টি দেয়, তবে আমাদের দেখে ফেলবে।
তখন ছরকারে নামদার صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم সান্তনা দিয়ে ইরশাদ করলেন: لَا تَحۡزَنۡ اِنَّ اللّٰہَ مَعَنَا কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: দুঃখিত হয়োনা, নিঃসন্দেহে আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। (পারা: ১০, সূরা: তাওবা, আয়াত, ৪০) এই জবলে সওরে কাবিল সায়্যিদুনা হাবিল رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ কে শহীদ করে।
হেরা গুহা
নবী করীম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم নবুওয়াত প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে এই স্থানেই তিনি যিকর ও ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। ইহা কিবলামূখীই অবস্থিত। নবী করীম, রউফুর রহীম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর সর্বপ্রথম ওহী হেরা গুহায় অবতরণ হয়েছিল। আর তা হল:
اِقۡرَاء بِاسۡمِ رَبِّکَ الَّذِي خَلَقَ থেকে مَالَمۡ يَعۡلَمۡ পর্যন্ত সর্বমোট পাঁচটি আয়াত শরীফ, আর এই মোবারক গুহাটি মসজিদুল হারাম থেকে পূর্ব দিকে প্রায় তিন মাইলের কাছাকাছি হেরা পর্বতের অবস্থিত। এই মোবারক পাহাড়কে ‘জবলে নূর’ও বলা হয়। ‘হেরা গুহা’ ‘সওর গুহা’ থেকে উত্তম। কারণ সওর গুহায় তিন দিন পর্যন্ত হুযুর صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর কদম মোবারক চুমেছিল, আর হেরা গুহা সুলতানে আম্বিয়া, মাহবুবে কিবরিয়া, নবী করীম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর বরকতপূর্ণ সংস্পর্শ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত লাভ করে ধন্য হয়েছে।
কিসমতে সওর ও হেরা কি হিরস হে
চাহতে হে দিল মে গেহরা গার হাম।(হাদায়িকে বখশিশ)
দারে আরকম
দারে আরকাম সাফা পর্বতের নিকটে অবস্থিত ছিল। যখন অত্যাচারী কাফিরদের পক্ষ থেকে ক্ষতির সম্ভাবনা বেড়ে গেল তখন ছরওয়ারে কায়েনাত, শাহে মাওযুদাত, হুযুর পুরনূর صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এই মহিমান্বিত ঘরে গোপনভাবে অবস্থান করেন, আর এই ঘরেই কয়েক সাহাবী ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হয়েছেন।
সায়্যিদুশ শুহাদা হযরত সায়্যিদুনা হামযা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ ও হযরত সায়্যিদুনা উমর ফারুক رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ এই ঘরেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, আর এই ঘরেই এই আয়াতে মোবারকটি;
یٰٓاَیُّھَا النَّبِیُّ حَسْبُکَ اللّٰہُ ط وَمَنِ اتَّبَعَکَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ নাযিল হয়। খলিফা হারুনুর রশিদ رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ এর সম্মানিতা আম্মাজান رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیۡہَا এই স্থানে মসজিদ নির্মাণ করান। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন খলিফা আপন আপন যুগে এর সংষ্কার করে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। বর্তমানে এটাকে (সাফা-মারওয়ার পরিধি বাড়ানোর কারণে) বর্ধিত অংশে অন্তর্ভূক্ত করে নেয়া হয়। তাই এর আর কোন চিহ্ন পর্যন্ত বর্তমানে খুজেঁ পাওয়া যায় না।
মহল্লা মাস্‌ফালা
এই মহল্লা ইতিহাসখ্যাত। হযরত সায়্যিদুনা ইবরাহীম খলিলুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَا وَعَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام এখানেই অবস্থান করতেন। হযরত সায়্যিদুনা সিদ্দীকে আকবর ও ফারুক এবং সায়্যিদুনা হামযা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُمۡ ও এই মহল্লায় অবস্থান করতেন, আর ইহা খানায়ে কাবার দেয়ালাংশের ‘মুসতাজাব’ এর পার্শ্বেই অবস্থিত।
জান্নাতুল মুয়াল্লা
জান্নাতুল বাক্বীর পরেই জান্নাতুল মুয়াল্লা-ই দুনিয়ায় সবার চেয়ে উত্তম কবরস্থান। এখানেই উম্মুল মুমিনীন খাদিজাতুল কুবরা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہَا, হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে ওমর সহ অসংখ্য সাহাবা عَلَیۡہِمُ الرِّضۡوَان ও তাবেঈন رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُمۡ আউলিয়া ও সালেহীন رَحِمَہُمُ اللہُ تَعَالٰی গণের পবিত্র মাযার সমূহ রয়েছে। আহ! বর্তমানে তাদের (মাযারের) গম্বুজ সমূহ শহীদ করে দেয়া হয়েছে। মাযার সমূহকে ধ্বংস করে তাতে সড়ক তৈরী করা হয়েছে। তাই বাইর থেকে দূরে দাঁড়িয়ে এভাবে সালাম আরজ করুন:
اَلسَّلَامُ عَلَیْکُمْ یَا اَھْلَ الدِّیَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَالْمُسْلِمِیْنَ وَاِنَّآ اِنْ شَآءَ اللہُ بِکُمْ لَاحِقُوْنَ نَسْئَلُ اللہَ لَنَا وَلَکُمُ الْعَافِیَۃَ ط
অনুবাদ: ওহে কবরবাসী মু’মিন ও মুসলমানরা আপনাদের উপর সালাম বর্ষিত হোক। اِنۡ شَآءَ اللہ عَزَّوَجَلّ আমরাও আপনাদের সাথে মিলিত হব। আল্লাহর কাছে আমাদের ও আপনাদের জন্য নিরাপত্তা কামনা করছি। নিজের জন্য, নিজ পিতা মাতার জন্য এবং সকল উম্মতের জন্য বিশেষত জান্নাতুল মুয়াল্লার অধিবাসীদের জন্য ইছালে সাওয়াব করুন। এই কবরস্থানে দোআ কবুল হয়।
মসজিদে জ্বীন
এই মসজিদটি জান্নাতুল মুয়াল্লার নিকটেই অবস্থিত। ছরকারে মদীনা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم থেকে ফযরের নামাযে (তিলাওয়াত কালে) কোরআনে পাকের তিলাওয়াত শ্রবণ করে এখানে জ্বীন জাতিরা মুসলমান হয়েছিল।
মসজিদুর রায়া
ইহা মসজিদে জ্বীনের কাছাকাছিতে ডান হাতের দিকেই অবস্থিত। “রায়া” শব্দটি আরবী শব্দ। ইহার অর্থ পতাকা। ইহা ঐ ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে মক্কা বিজয়ের সময়ে আমাদেরই প্রিয় আক্বা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم নিজ পবিত্র পতাকা স্থাপন করেছিলেন।
মসজিদে খাইফ
ইহা মীনাতে অবস্থিত বিদায় হজ্বের সময় আমাদের প্রিয় প্রিয় আক্বা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এখানে নামায আদায় করেছেন। রহমতে আলম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন:
صَلّٰی فِيْ مَسْجِدِ الْخَيْفِ سَبْعُوْنَ نَبِيًّا “অর্থাৎ মসজিদে খাইফে ৭০ (সত্তর) জন নবী عَليهمُ السَّلام নামায আদায় করেছেন।”
(মু’জামে আওসাত, ৪র্থ খন্ড, ১১৭ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৫৪০৭)
আরো ইরশাদ করেন: فِيْ مَسْجِدِ الْخَيْفِ قَبْرُ سَبْعِيْنَ نَبِيًّا “অর্থাৎ মসজিদে খাইফে ৭০ জন নবী عَليهمُ السَّلام কবর রয়েছে।” 
(মু’জামে কবীর, ১২তম খন্ড, ৩১৬ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৩৫২৫) বর্তমানে এই মসজিদের যথেষ্ট সম্প্রসারণ করা হয়েছে। জিয়ারত কারীদের উচিত যেন তারা বিশ্বাস ও সম্মানের সাথে এই মসজিদের জিয়ারত করে নবীগণ عَليهمُ السَّلام এর খিদমতে এইভাবে সালাম আরজ করবেন: اَلسَّلَامُ عَلَیْکُمْ یَااَنْبِیَاءَ اللہِ وَرَحْمَۃُ اللہِ وَبَرَکَاتُہٗ অতঃপর ইছালে সাওয়াব করে দোআ করুন।
জিয়রানাহ মসজিদ
মক্কায়ে মুকাররমা থেকে তায়েফ নগরীর দিকে প্রায় ২৬ (ছাব্বিশ) কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আপনিও এই স্থান থেকেও ওমরার ইহরাম বাঁধতে পারেন। কেননা মক্কা বিজয়ের পর তায়েফ শরীফ বিজয় করে ফেরার পথে আমাদের প্রিয় আক্বা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এখান থেকেই ওমরার জন্য ইহরাম পরিধান করেছিলেন। ইউসুফ বিন মাহাক رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেছেন: জিয়রানাহ নামক স্থান থেকে ৩০০ জন নবী عَليهمُ السَّلام ওমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছেন। প্রিয় নবী صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم জিয়রানায় আপন লাঠি মোবারক গেঁড়ে দেন, যার দ্বারা পানির ঝরনা ধারা প্রবাহিত হয়। যা খুবই ঠান্ডা ও সুমিষ্ট ছিল। (বলদুল আমীন, ২২১ পৃষ্ঠা। আখবারে মক্কা, ৫ম খন্ড, ৬২-৬৯ পৃষ্ঠা)। প্রসিদ্ধি রয়েছে; ঐ স্থানে কুয়া আছে। সায়্যিদুনা ইবনে আব্বাস رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُمَا বলেছেন: হুযুর صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم তায়েফ হতে ফেরার পথে এখানে অবস্থান করেন এবং এখানে গনীমতের মালও বন্টন করেন। তিনি صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ২৮ শাওয়াল এখান থেকে ওমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন। (বলদুল আমীন, ২২০-২২১ পৃষ্ঠা)। এই স্থানের সম্পর্ক এক কোরাইশী নারীর সাথে। যার উপাধি ছিল ‘জিয়রানা”। (প্রাগুক্ত, ১৩৭ পৃষ্ঠা) সাধারণ লোকেরা এই স্থানটিকে “বড় ওমরা” বলে থাকে। এটা খুবই স্পর্শকাতর একটি স্থান।
হযরত সায়্যিদুনা শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ “আখবারুল আখরার” নামক কিতাবে উদ্ধৃত করেন যে, আমার পীর ও মুরশিদ হযরত সায়্যিদুনা আবদুল ওয়াহাব মুত্তাকী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ আমাকে খুব বেশী জোড় দিয়েছেন যে, সুযোগ পেলে জিয়রানাহ থেকে অবশ্যই ওমরার ইহরাম বাঁধবে। কেননা এটা এমন এক বরকতময় স্থান, যেখানে আমি এক রাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ১০০ বারের চেয়েও অধিক বার স্বপ্নে মদীনার তাজেদার صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দীদার লাভে ধন্য হয়েছি। اَلْحَمْدُ لِلّٰہ عَزَّوَجَلَّ হযরত সায়্যিদুনা আবদুল ওয়াহাব মুত্তাকী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ এর অভ্যাস ছিল যে, ওমরার ইহরাম বাঁধার জন্য রোজা রেখে পায়ে হেঁটে জিয়রানায় গমণ করতেন। (আখবারুল আখরার, ২৭৮ পৃষ্ঠা)
মায়মুনা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہَا এর মাযার শরীফ
মদীনা রোডেই “নাওয়ারিয়া” নামক স্থানের কাছাকাছিতে ইহা অবস্থিত। এই বর্ণনা দেয়ার সময় কালে এখানে হাজেরী দেয়ার সহজ পদ্ধতি এই যে, আপনি বাস নং 2A অথবা 13 এর মধ্যে উঠবেন, আর এই বাসটি মদীনা রোডে তানয়ীম অর্থাৎ মসজিদে আয়িশা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہَا এর পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করে সামনে অগ্রসর হয়। মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ১৭ কি:মি: দূরে এর শেষে স্টপিজের নাম ‘নাওয়ারিয়া’। এখানে নেমে পড়ুন, আর পিছন ফিরে রোডের ঐ পার্শ্বেই (অর্থাৎ যে পাশে আপনি আছেন) মক্কা শরীফের দিকে পথ চলা শুরু করুন। দশ কিংবা পনের মিনিট পথ অতিক্রম করার পর একটি পুলিশ চেক পোষ্ট রয়েছে। এর পরেই রয়েছে হাজীদের জন্য থাকার স্থান। এর থেকে কিছুটা সামনে রোডের ঐদিকে একটি চার দেয়ালের বেষ্টনী দেখতে পাবেন, আর এটাই উম্মুল মুমিনীন হযরত সায়্যিদাতুনা মায়মুনা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہَا এর নূরানী মাযার শরীফ। এই মাযার মোবারকটি ঠিক সড়কের মাঝখানে মানুষের বক্তব্য হচ্ছে; রাস্তার নির্মাণ কাজের জন্য এই মাযার শরীফকে শহীদ করে দেয়ার অনেক চেষ্টা করা হয়। তখন বারবার ট্রেক্টার (TRACTOR) উল্টে যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত না পেরে এখানে চার দেয়াল দ্বারা বেষ্টনী তৈরী করে দেয়া হয়। আমাদের প্রিয় প্রিয় আম্মাজান সায়্যিদাতুনা মায়মূনা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہَا এর কারামাতকে মারহাবা!
আহলে ইসলাম কি মাদারানে শফিক
বানুওয়ানে তাহারাত পে লাখো সালাম।
মসজিদুল হারামের ঐ ১১টি স্থান যেখানে
রহমতে আলম ﷺ নামায আদায় করেছিলেন
﴾১﴿ বাইতুল্লাহ শরীফের ভিতরে, 
﴾২﴿ মকামে ইবরাহীমের পিছনে, 
﴾৩﴿ মাতাফের কিনারায় হাজরে আসওয়াদের সোজাসোজি স্থানে, 
﴾৪﴿ হাতীম এবং বাবুল কা’বার মধ্যবর্তী রুকনে ইরাকীর নিকটবর্তী স্থান, 
﴾৫﴿ মকামে হুফরায় যা বাবুল কা’বা ও হাতীমের মধ্যবর্তী কা’বা শরীফের দেয়ালের গোড়ায় অবস্থিত স্থান, আর এই স্থানকে ‘মকামে ইমামতে জিব্রাঈল’ও বলা হয়। শাহানশাহে দোআলম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এই স্থানে সায়্যিদুনা জিব্রাঈল عَلَیۡہِ السَّلَام কে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ইমামতী করার সৌভাগ্য দান করেন, আর ঐ মোবারক স্থানেই সায়্যিদুনা ইবরাহীম খলীলুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَا وَعَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام কা’বা শরীফ নির্মাণের সময় মাটির কাঁদা বানিয়ে ছিলেন। 
﴾৬﴿ বাবুল কা’বার দিকে মুখ করে (কা’বার দরজার সোজাসোজি স্থানে নামায আদায় করা সকল দিকের চেয়ে উত্তম২৩) নামায আদায় করেন, 
﴾৭﴿ মিজাবে রহমতের দিকে মুখ করে (বলা হয়ে থাকে যে, নূরানী মাযার শরীফে ছরকারে আলী ওয়াকার, মাহবুবে গাফ্‌ফার, হুযুর নবী করীম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর চেহারা মোবারক ওই দিকেই মুখ করা), নামায পড়েন। 
﴾৮﴿ হাতীমের সকল স্থানে, বিশেষত মিজাবে রহমতের নিচে, 
﴾৯﴿ রুকনে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মধ্যবর্তী স্থানে, 
﴾১০﴿ রুকনে শামীর নিকটে। এভাবে যে, বাবে ওমরাটি হুযুর صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর পিঠ মোবারকের পিছনে অবস্থিত থাকত। চাই তিনি হাতিমের বাইরে নামায আদায় করেন কিংবা ভিতরে, 
﴾১১﴿ হযরত সায়্যিদুনা আদম ছফিউল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَا وَعَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام এর নামাযের স্থান যা রুকনে ইয়ামানীর ডানে কিংবা বামে অবস্থিত রয়েছে। অধিক প্রকাশ্য (নির্ভরযোগ্য) কথা এই যে, আদম عَلٰی نَبِیِّنَا وَعَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام এর নামায পড়ার স্থান হল “মুসতাজার”। (কিতাবুল হজ্ব, ২৭৪ পৃষ্ঠা)
——————-
২৩বলা হয়ে থাকে; বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান বাবুল কা’বার দিকেই অবস্থিত।
اَلْحَمْدُ لِلّٰه عَلٰى اِحْسَنِه وَاللهُ وَرَسُوْلُهُ اَعْلَمُ عَزَّوَجَل وَ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم
——————-
মদীনায়ে মুনাওয়ারার জিয়ারতের স্থান সমূহ
রওজাতুল জান্নাহ
তাজেদারে মদীনা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর হুযুরা মোবারকা (যেখানে ছরকার صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর নূরানী মাযার রয়েছে) এবং নূরভরা মিম্বরের (যেখানে তিনি صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم খুৎবা ইরশাদ করতেন) এর মধ্যবর্তী স্থান, যার দৈর্ঘ্য ২২ মিটার ও প্রস্থ ১৫ মিটার। ‘রওজাতুন জান্নাহ’অর্থাৎ জান্নাতের বাগান। যেমন; আমাদের প্রিয় আক্বা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন:مَابَيْنَ بَيْتِيْ وَ مِنْبَرِيْ رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ ــــــ অর্থাৎ আমার ঘর এবং মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগান গুলোর মধ্য হতে একটি বাগান। (বুখারী, ১ম খন্ড, ৪০২ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১১৯৫) সাধারণভাবে লোকজন কথাবার্তার মধ্যে এটাকে “রিয়াজুল জান্নাহ” বলে থাকে। কিন্তু মূলত শব্দটি হচ্ছে ‘রওজুল জান্নাহ’।
ইয়ে পিয়ারী পিয়ারী কিয়ারী তেরে খানা বাগ কি’
সরদ ইছ কি আ-ব ও তা-ব ছে আ-তিশ সাকার কিহে।(হাদায়িকে বখশিশ শরীফ)
صَلُّوْا عَلَی الۡحَبِیۡب! صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد
মসজিদে কুবা
মদীনায়ে তাইয়্যেবা থেকে কমপক্ষে তিন কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের দিকে “কুবা” নামে একটি পুরাতন নগরী রয়েছে। যেখানে এই বরকতময় মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। কোরআন মজীদ ও অসংখ্য বিশুদ্ধ হাদীসে মোবারকার মধ্যে এর ফযীলত খুবই গুরুত্বসহ বর্ণিত হয়েছে। আশিকানে রাসুলগণ মসজিদে নববী শরীফ হতে মধ্যম গতিতে পায়ে হেঁটে প্রায় ৪০ মিনিট পথ চললে ‘মসজিদে কুবা’ পৌঁছে যেতে পারেন। বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে: প্রত্যেক শনিবারে হুযুর صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কখনো পায়ে চলে আর কখনো আরোহী হয়ে এখানে তাশরীফ নিয়ে যেতেন। (বুখারী, ১ম খন্ড, ৪০২ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১১৯৩)
ওমরার সাওয়াব
নবী করীম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দুইটি বাণী: 
﴾১﴿ “মসজিদে কুবাতে নামায পড়াটা ওমরার সমতুল্য।” (তিরমিযি, ১ম খন্ড, ৩৪৮ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৩২৪) 
﴾২﴿ “যে ব্যক্তি নিজ ঘরে অযু করে, অতঃপর মসজিদে কুবায় গিয়ে নামায পড়ে, তবে তার ওমরার সাওয়াব মিলবে। (ইবনে মাযাহ, ২য় খন্ড, ১৭৫ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ১৪১২)
সায়্যিদুনা হামযা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ এর মাযার শরীফ
তিনি رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ উহুদ যুদ্ধে ৩য় হিজরী সনে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর মাযার শরীফ উহুদ শরীফের নিকটেই অবস্থিত। তাঁর সঙ্গে হযরত সায়্যিদুনা মুছয়াব বিন উমাইর رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ ও হযরত সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ বিন জাহাশ رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ এর মাযারদ্বয়ও রয়েছে। এমনকি উহুদ যুদ্ধে যে ৭০ জন সাহাবায়ে কিরাম عَلَیۡہِمُ الرِّضۡوَان শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেছেন, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ শোহাদায়ে উহুদ ঐ স্থানে একসাথে তৈরী করা চার দেয়ালের বেষ্টনীর মধ্যে আরাম করছেন।
শোহাদায়ে উহুদকে সালাম করার ফযীলত
সায়্যিদুনা শাইখ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি এই শোহাদায়ে উহুদগণের মাযার শরীফ অতিক্রম করে এবং তাঁদেরকে সালাম করে, তার উপর কিয়ামত পর্যন্ত ঐ শোহাদায়ে উহুদগণ সালাম প্রেরণ করতে থাকেন। শোহাদায়ে উহুদগণ عَلَیۡہِمُ الرِّضۡوَان বিশেষত সায়্যিদুশ শোহাদা সায়্যিদুনা হামযা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ এর মাযার থেকে অনেকবার সালামের জবাব দেয়ার আওয়াজ শোনা গেছে। (জযবুল কুলুব, ১৭৭ পৃষ্ঠা)
সায়্যিদুনা হামযা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ এর খিদমতে সালাম
اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَا سَیِّدَنَا حَمْزَۃُ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَاعَمَّ رَسُوْلِ اللہِ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَاعَمَّ نَبِیِّ اللہِ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَاعَمَّ حَبِیْبِ اللہِ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَا عَمَّ الْمُصْطَفٰی ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَا سَیِّدَ الشُّہْدَآءِ وَ یَا اَسَدَ اللہِ وَاَسَدَ رَسُوْلِہٖ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَا سَیِّدَنَا عَبْدَاللہِ بۡنَ جَحْـشٍ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَا مُصْعَبَ بْنَ عُـمَیْرٍط اَلسَّلَامُ عَلَیْکُمْ یَا شُھَدَآءَ اُحُدٍکَآفَّۃً عَامَّۃً وَّرَحْمَۃُ اللہِ وَبَرَکَاتُہٗ ط
অনুবাদ: হে সায়্যিদুনা হামযা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ! আপনার উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে রাসুলুল্লাহর চাচা! আপনার উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে নাবিয়াল্লাহর চাচা! আপনার উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে হাবিবাল্লার চাচা! আপনার উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে মুস্তফার চাচা! আপনার উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে শহীদদের সরদার! আপনার উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে আল্লাহর সিংহ ও রাসুলাল্লাহর সিংহ! আপনার উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন জাহাশ رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ! আপনার উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে মুছআব বিন উমাইর رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ! আপনার উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে সকল শোহাদায়ে উহুদগণ عَلَیۡہِمُ الرِّضۡوَان! আপনাদের সকলের উপর ব্যাপক হারে সালাম বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
শোহাদায়ে উহুদকে একত্রে সালাম প্রদান
اَلسَّلَامُ عَلَیْکُمْ یَا شُھَدَآءُ یَا سُعَدَآءُ یَا نُجَبَآءُ یَا نُقَبَآءُ یَآ اَھْلَ الصِّدْقِ وَالْوَفَآءِط اَلسَّلَامُ عَلَیْکُمْ یَا مُجَاھِدِیْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللہِ حَقَّ جِھَادِہٖ ط ﴿سَلَامٌ عَلَیْکُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَی الدَّارِط﴾ اَلسَّلَامُ عَلَیْکُمْ یَا شُھَدَآءَ اُحُدٍکَآفَّۃً عَآمَّۃً وَّ رَحْمَۃُ اللہِ وَبَرَکَاتُہٗ ۔
অনুবাদ: আপনাদের উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে শহীদগণ, হে সৎকর্মকারীগণ, হে ভদ্রগণ, হে সরদারগণ, হে সততা ও অঙ্গিকার পূর্ণকারীগণ! আপনাদের উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে জিহাদকারীগণ! আল্লাহর পথে জিহাদের হক আদায়কারীগণ! ﴾কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: আপনাদের উপর সালাম বর্ষিত হোক, আপনাদের ধৈর্য্যের ফলশ্রুতিতে, আর কতইনা উত্তম আপনাদের পরকাল।﴿ আপনাদের উপর ব্যাপক হারে সালাম বর্ষিত হোক, হে সকল উহুদ শহীদগণ এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
জিয়ারতগাহ সমূহে পৌঁছার দু’টি পদ্ধতি
প্রিয় মক্কা মদীনার জিয়ারতকারীগণ! জিয়ারত করা এবং জিয়ারতের স্থান সমূহের দীর্ঘ বিস্তারিত বিবরণ ও পরিচিতি “রফিকুল হারামাঈনে” তুলে ধরা হয়নি। উৎসুক আশিকানে রাসুলগণ জিয়ারত এবং ঈমান উজ্জীবিত কারী ঘটনা সমূহের বিস্তারিত জানার জন্য তবলীগে কোরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠণ দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা থেকে প্রকাশিত উর্দূ কিতাব “আশিকানে রাসুল কি হিকায়াতে মাআ মক্কে মদীনে কি জিয়ারত” বেশী করে অধ্যয়ণ করুন এবং আপনার ঈমানকে তাজা করুন। অবশ্য কিতাব পাঠ করে প্রত্যেক ব্যক্তি জিয়ারতের ঐ সকল জায়গায় পৌঁছাতে পারবে এটা খুবই কঠিন ব্যাপার। জিয়ারত দু’ধরণের হয়ে থাকে; একটা এই যে: মসজিদে নববী عَلٰی صَاحِبِہَا الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام এর বাইরে সকাল বেলায় গাড়ী চালকগণ জিয়ারাহ! জিয়ারাহ! বলে বলে ডাকতে থাকে। আপনি তাদের গাড়ীতে উঠে যাবেন, আর এটা আপনাকে মসজিদে খামছা, মসজিদে কুবা ও মাযারে সায়্যিদুনা হামযা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ এ নিয়ে যাবে। দ্বিতীয়টা এই যে: মক্কা মদীনার আরো মোবারক স্থান জিয়ারত করতে চাইলে আপনাকে এমন এক জন লোকের সন্ধান করতে হবে যিনি পারিশ্রমিক নিয়ে জিয়ারত করিয়ে থাকেন।
صَلُّوْا عَلَی الۡحَبِیۡب! صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد