কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

হজ্বের মাসাইল: পর্ব ২১- নবী করীম ﷺ এর মহান দরবারে হাজির হওয়ার ১২ টি মাদানী ফুল

325
﴾১﴿ পবিত্র মিম্বরের পাশে দোআ করুন। 
﴾২﴿ জান্নাতের কেয়ারীতে (অর্থাৎ যে স্থান মিম্বর ও হুযুরা মোবারকের মধ্যবর্তী, এটাকে হাদীস শরীফে জান্নাতের কেয়ারী অর্থাৎ ‘জান্নাতের বাগান বলেছেন) এসে মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে দুই রাকাত নফল পড়ে দোআ করুন। 
﴾৩﴿ যতদিন পর্যন্ত মদীনা তৈয়্যবায় অবস্থান করার সুযোগ নসীব হয়। একটি নিঃশ্বাসও যেন অহেতুক ব্যয় না হয়। 
১২ টি মাদানী ফুল 
﴾৪﴿ বাইরে যাওয়ার বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অধিকাংশ সময় মসজিদে নববী শরীফে পবিত্রাবস্থায় উপস্থিত থাকুন। নামায ও তিলাওয়াত, যিকির ও দরূদ পাঠে সময় অতিবাহিত করুন। দুনিয়াবী কথাবার্তা যে কোন মসজিদে না বলা চাই এখানেতো আরো অধিক সতর্কতা। 
﴾৫﴿ মদীনায়ে তৈয়্যবায় যদি রোযা নসীব হয় বিশেষ করে গরম কালে। তাহলে খুবই সৌভাগ্য। কারণ এতে শাফাআতের ওয়াদা রয়েছে। 
﴾৬﴿ এখানে প্রতিটি নেকী একের বিনিময়ে পঞ্চাশ হাজার লিখা হয়ে থাকে। তাই ইবাদত করার ব্যাপারে খুব বেশী চেষ্টা করুন। খাবার-দাবার খুব কমই খাবেন। যতটুকু সম্ভব হয় সদকা দান-খয়রাত করবেন। বিশেষ করে এখানকার স্থানীয়দের উপর। 
﴾৭﴿ কমপক্ষে এক খতম কোরআনে পাক এখানে এবং এক খতম হাতীমে কা’বায় আদায় করুন। 
﴾৮﴿ রওজায়ে আনওয়ার এর উপর দৃষ্টি দেয়া (অর্থাৎ দেখা) ইবাদত। যেমনিভাবে কা’বায়ে মুআজ্জমা অথবা কোরআনে মজীদ দেখাও ইবাদত। তাই আদব সহকারে এই আমলটি বার বার অধিকহারে করবেন এবং দরূদ ও সালাম পেশ করবেন।
﴾৯﴿ পাঞ্জেগানা অথবা কমপক্ষে সকাল-বিকাল মুয়াজাহা শরীফে সালাম পেশ করার জন্য হাজির হবেন। 
﴾১০﴿ শহরের মধ্যে হোক কিংবা শহরের বাইরে যেখান থেকেই সবুজ গম্বুজ চোখে পড়বে সাথে সাথে খুব দ্রুত হাত বেঁধে সেদিকে মুখ করে সালাত ও সালাম আরজ করবেন। এরূপ করা ছাড়া কখনও পথ অতিক্রম করবেন না। কারণ এটা আদবের পরিপন্থি। 
﴾১১﴿ যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন ‘মসজিদে আউয়ালে’ অর্থাৎ হুযুর আকদাস صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সময়ে মসজিদ যতটুকু ছিল, তার মধ্যে নামায পড়ার, আর এর পরিমাণ হচ্ছে ১০০ হাত দৈর্ঘ্য এবং ১০০ হাত প্রস্থ। (অর্থাৎ প্রায় ৫০x৫০ গজ)। যদিও পরে কিছুটা অংশ বাড়ানো হয়। ঐ (বর্ধিত) অংশেও নামায পড়া মানে মসজিদে নববী শরীফেই নামায পড়া। 
﴾১২﴿ রওজায়ে আনওয়ারের তাওয়াফও করবেন না, সিজদাও করবেন না, না (সেদিকে) এতটুকু পরিমাণে ঝুঁকবেন যা রুকু করার বরাবর হয়ে যায়। রাসুলে পাক صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সম্মান তাঁর অনুসরণের মধ্যেই নিহিত। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১২২৭- ১২২৮ পৃষ্ঠা)
আলমে ওয়াজদ মে রাক্বসা মেরা পর পর হোতা,
কাশ্‌! মাই গুম্বদে খাজরা কা কবুতর হোতা।
জালি মোবারকের সামনাসামনি পড়ার অজিফা
হুজুরে আকরাম, নূরে মুজাস্‌সাম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সম্মানীত রওজার সামনা সামনি দাঁড়িয়ে এ আয়াত শরীফ একবার পড়ুন: 
اِنَّ اللہَ وَمَلٰٓئِکَتَہٗ یُصَلُّوۡنَ عَلَیۡ النَّبِیِّ ط یٰٓاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا صَلُّوۡا عَلَیۡہِ وَسَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا ط
অতঃপর ৭০ বার ইহা পাঠ করুন: صَلَّى اللہُ عَلَیۡکَ وَسَلَّم یَارَسُوۡلَ اللہِ ط ফিরিশতা তার উত্তরে এ কথা বলেন যে, হে অমুক! তোমার উপর আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর ফিরিশতা তার জন্য দোয়া করেন: হে আল্লাহ! তার যেন এমন কোন প্রয়োজন না থাকে যাতে সে সফল হবে না (অর্থাৎ তার সকল প্রয়োজন পূর্ণ করে দাও)। (আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া, ৩য় খন্ড, ৪১২ পৃষ্ঠা)
দোআর জন্য জালি মোবারককে পিছনে রাখবেন না
যখনই সোনালী জালি সমূহের নিকট হাজির হবেন, এদিক সেদিক কখনো দেখবেন না, আর বিশেষ করে জালি শরীফের ভিতরে উকি মেরে দেখা তো অনেক বড় অপরাধ। ক্বিবলার দিকে পিঠ করে জালি মোবারক হতে কমপক্ষে ৪ হাত (কমপক্ষে ২ গজ) দূরে দাঁড়িয়ে মুয়াজাহা শরীফের দিকে মুখ করে সালাম পেশ করুন, দোআ ও প্রার্থনা ও মুয়াজাহা শরীফের দিকে মুখ করে করুন। কোন কোন মানুষ সেখানে দোআ প্রার্থনার জন্য কা’বার দিকে মুখ করতে বলেন, তাদের কথা শুনে কখনো সোনালী জালির দিকে পিঠ করে আক্বা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কে অর্থাৎ কা’বার কা’বাকে পিঠ দিবেন না।
কা’বে কি আজমতো কা মুনকির নেহী হো লে-কিন
কা’বে কা ভি হে কা’বা মীঠে নবী কা রওজা।(ওয়াসায়িলে বখশিশ, ২৯৮ পৃষ্ঠা)
পঞ্চাশ হাজার ইতিকাফের সাওয়াব
যখনই আপনি মসজিদে নববী শরীফ عَلٰی صَاحِبِہَا الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام এ প্রবেশ করবেন তখন ইতিকাফের নিয়্যত করতে ভুলবেন না। এভাবে প্রতিবারে আপনার পঞ্চাশ হাজার নফল ইতিকাফের সাওয়াব মিলবে, আর সাথে সাথে সেখানে খাওয়া, পান করা, ইফতার করা ইত্যাদিও জায়েয হয়ে যাবে। 
ইতিকাফের নিয়্যত এভাবে করুন: 
نَوَیۡتُ سُنَّتَ الۡاِعۡتِکَافِ ط ২২
অনুবাদ: আমি সুন্নাত ইতিকাফের নিয়্যত করেছি।
——————-
২২যদি ‘বাবুস সালাম’ এবং ‘বাবুর রহমত’ দিয়ে মসজিদে নববী عَلٰی صَاحِبِہَا الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام প্রবেশ করেন তাহলে সামনের স্তম্ভ মোবারকটিকে গভীরভাবে দৃষ্টি দিয়ে দেখুন, উহার উপর সোনালী হরফে نَوَیۡتُ سُنَّتَ الۡاِعۡتِکَافِ ط দ্বারা ইতিকাফের নিয়্যত সাজানো ভাবে আপনার দৃষ্টিতে পড়বে। যা জিয়ারতকারী আশিকানে রাসুলদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য লিখিত।
——————-
প্রতিদিন ৫টি হজ্বের সাওয়াব
বিশেষ করে ৪০ নামায বরং সমস্ত ফরয নামায সমূহ মসজিদে নববীতেই আদায় করুন। কারণ তাজেদারে মদীনা, নবী করীম, রউফুর রহীম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি ওজু করে আমার মসজিদে নামায পড়ার ইচ্ছায় বের হয়, ইহা তার জন্য একটি হজ্বের সমান। (শুআবুল ঈমান, ৩য় খন্ড, ৪৯৯ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৪১৯১)
মুখেই সালাম পেশ করুন
সেখানে যে সালাম পেশ করা হবে উহা যেন মুখস্থ করে তারপর পেশ করেন। কিতাব হতে দেখে দেখে সালাম এবং দোআর শব্দাবলী সেখানে পড়া খুবই আশ্চর্য ধরনের লাগে। কারণ ছরওয়ারে কায়েনাত, শাহে মাওজুদাত, তাজেদারে রিসালাত, নবী করীম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم স্বশরীরে জীবিত অবস্থায় হুজরা মোবারকে ক্বিবলার দিকে মুখ করে অবস্থানরত আছেন এবং আমাদের অন্তরের অবস্থা সম্পর্কেও অবগত আছেন। এই চিত্রটি ফুটে উঠার পরে কিতাব থেকে দেখে সালাম ইত্যাদি পেশ করা বাহ্যিক দৃষ্টিতেও অনুচিত বলে মনে হয়। যেমন মনে করুন আপনার পীর সাহেব আপনার সামনে উপস্থিত, তাহলে কি আপনি উনাকে কিতাব থেকে পড়ে পড়ে সালাম পেশ করবেন। 
নাকি মুখেই এরূপ বলবেন: “হে হযরত! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।” আশা করি আপনি আমার বলার উদ্দেশ্য বুঝে গেছেন। স্মরণ রাখুন! বারগাহে রিসালাত صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم বানানো সাজানো শব্দাবলী নয় বরং অন্তর দেখা হয়।
বৃদ্ধার দীদার নসীব হয়ে গেল
হিজরী ১৪০৫ সালে মদীনা শরীফে উপস্থিত কালীন সময়ে সগে মদীনা عُفِىَ عَنْهُ (লিখককে) এক পীর ভাই মরহুম হাজী ইসমাঈল সাহেব এই ঘটনাটি শুনিয়ে ছিলেন; দুই অথবা তিন বৎসর পূর্বের ঘটনা। ৮৫ বৎসর বয়স্কা এক বৃদ্ধা হজ্ব করতে আসলেন। মদীনা শরীফে সোনালী জালির সামনে অতি সাধারণ শব্দাবলী দ্বারা সালাত ও সালাম পেশ করা শুরু করে দিলেন। হঠাৎ এক মহিলার উপর তার দৃষ্টি পড়ল, যে একটি কিতাব থেকে দেখে দেখে বড়ই উত্তম উপাধি সমূহের সাথে সে সালাত ও সালাম পেশ করছে। ইহা দেখে বেচারা অশিক্ষিত বৃদ্ধার মন ছোট হয়ে গেল। আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم! আমি তো এতো পড়া লেখা জানিনা যে, আপনার صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم মূল্যবান মর্যাদাপূর্ণ উপাধি সমূহের সাথে সালাম পেশ করবো! আমি মূর্খের সালাম আপনার صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কিভাবে পছন্দ হবে! তার অন্তর খুব ভারী হয়ে গেল। অশ্রু প্রবাহিত করে শেষে চুপ হয়ে গেল। রাত্রে যখন ঘুমালেন তখন ভাগ্য জেগে উঠল। দেখলেন মাথার পাশে প্রিয় আক্বা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم তাশরীফ নিয়ে এসেছেন। ঠোঁট মোবারক স্পন্দিত হল, রহমতের ফুল ঝড়তে লাগল; শব্দ সমূহের কিছুটা এরকম ধারাবাহিকতা ছিল। “নিরাশ কেন হচ্ছো? আমিতো তোমার সালাম সবার আগেই কবুল করেছি।”
তুম উচ কে মদদগার হো তুম উছ কে তরফদার, 
জু তুম কো নিকাম্মে ছে নিকাম্মা নজর আয়ে।
লাগাতে হে উছ্‌ কো ভি সীনে ছে আক্বা, 
জু হোতা নেহী মু’ লাগানে কে কাবিল।
صَلُّوْا عَلَی الۡحَبِیۡب! صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد
অপেক্ষা….! অপেক্ষা….!
সবুজ সবুজ গম্বুজ এবং হুজরায়ে মাকছুরা (যেখানে ছরকারে মদীনা, হুযুর صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর নূরানী রওজা রয়েছে) এর উপর দৃষ্টিপাত করা সাওয়াবের কাজ। বেশী বেশী সময় মসজিদে নববীতে عَلٰی صَاحِبِہَا الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام অতিবাহিত করার চেষ্টা করুন। মসজিদ শরীফে বসে দরূদ ও সালাম পড়তে পড়তে পবিত্র হুজরার উপর যতটুকু সম্ভব বিশ্বাসের দৃষ্টি জমিয়ে রাখুন এবং এ সুন্দর কল্পনার মধ্যে ডুবে যান যে, অতিসত্ত্বর আমাদের প্রিয় প্রিয় আক্বা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم হুজরা শরীফ হতে বাহিরে তাশরীফ নিয়ে আসবেন। আক্বায়ে নামদার, মদীনার তাজেদার, মাহবুবে গাফ্‌ফার صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর ভালবাসা, বিরহ, বিচ্ছেদ ও অপেক্ষায় নিজের অশ্রুমালাকে প্রবাহিত হতে দিন। 
কিয়া খবর আজ হি দীদার কা আরমা নিকলে
আপনি আখোঁ কো আকীদাত ছে বিছায়ে রাখিয়ে।
এক মেমন হাজীর দীদার হয়ে গেল
সগে মদীনাকে (লিখক) হিজরী ১৪০০ সালের মদীনার সফরে, মদীনায়ে পাকে করাচীর একজন যুবক হাজী বলেছেন যে, আমি মসজিদে নববী عَلٰی صَاحِبِہَا الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام এর মধ্যে রহমতে আলম, নূরে মুজাস্‌সম, রাসুলে দোআলম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর ‘হুজরায়ে মাকছুরা’ এর পিছনে পবিত্র পিষ্ঠ মোবারকের পাশে সবুজ জালি সমূহের নিকট বসাবস্থায় ছিলাম। বাস্তব জাগ্রত অবস্থায় আমি দেখলাম যে, হঠাৎ সবুজ সবুজ জালি সমূহের অন্তরায় দূর হয়ে গেল এবং তাজেদারে মদীনা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم হুজরা শরীফ হতে বাহিরে তাশরীফ নিয়ে আসলেন এবং আমাকে ইরশাদ করলেন: তুমি কি চাও চেয়ে নাও? আমি নূরের তাজাল্লীতে এমনভাবে হারিয়ে গেলাম যে, কোন কিছু বলার সাহসও ছিল না। আহ! আমার আক্বা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم দীদার দান করে আমাকে অস্থির বানিয়ে নিজের পবিত্র হুজরায় তাশরীফ নিয়ে গেলেন। 
শরবতে দীদনে এক আগ লাগায়ি দিল মে, 
তাপিশে দিল কো বাড়ায়া হে বুজানে না দিয়া।
আব কাহা জায়ে গা নক্‌শা তেরা মেরে দিল ছে, 
তেহ মে রাখা হে ইছে দিল নে গুমানে না দিয়া।
গলি সমূহে থু থু ফেলবেন না
মক্কা মদীনার গলি সমূহে থু থু ফেলবেন না। নাকও পরিষ্কার করবেন না। আপনি তো জানেন না যে, এই গলি সমূহ দিয়ে আমাদের প্রিয় আক্বা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم পথ চলেছেন!
আও পায়ে নজর হুশ মে আ, কুয়ে নবী হে,
আঁখো ছে ভি চলনা তু ইহা বে আদবী হে।
জান্নাতুল বাক্বী
জান্নাতুল বাক্বী শরীফ এবং জান্নাতুল মুয়াল্লা (মক্কা মুকাররমা) উভয় সম্মানিত কবরস্থানের সমাধি গুলো এবং মাযার সমূহকে শহীদ করে দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার সাহাবায়ে কিরাম عَلَیۡہِمُ الرِّضۡوَان এবং অসংখ্য আহলে বায়তে আতহার عَلَیۡہِمُ الرِّضۡوَان, বড় বড় আউলিয়ায়ে কিরাম رَحِمَہُمُ اللہُ تَعَالٰی ও সত্যিকারের আশিকানে রাসুলদের মাযার সমূহের চিহ্ন সহ নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। আপনি যদি ভিতরে প্রবেশ করেন, তাহলে আপনার পা (আল্লাহর পানাহ) কোন সাহাবী অথবা কোন ওলির মাযারের উপর পড়তে পারে! শরয়ী মাসআলা হলো যে, সাধারণ মুসলমানদের কবরের উপরও পা রাখা হারাম। “রদ্দুল মুহতার” কিতাবে রয়েছে, (কবরস্থানে কবরকে ধ্বংস করে) যে রাস্তা তৈরী করা হয়েছে উহার উপর দিয়ে চলা হারাম। (রদ্দুল মুহতার, ১ম খন্ড, ৬১২ পৃষ্ঠা) বরং যদি নতুন রাস্তার ব্যাপারে সন্দেহও হয় (যে এই রাস্তা কবর সমূহ ধ্বংস করে তৈরী করা হয়েছে) তাহলে ঐ রাস্তা দিয়ে চলা না জায়িয ও গুনাহ। (দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ১৮৩ পৃষ্ঠা)
তাই মাদানী অনুরোধ হচ্ছে যে, বাইরে দাঁড়িয়েই সালাম পেশ করুন, আর তাও জান্নাতুল বাক্বী মেইন দরজায় নয় বরং তার চার দেয়ালের বাইরে এমনভাবে দাঁড়াবেন যেখানে দাঁড়ালে ক্বিবলার দিকে আপনার পিঠ হবে এবং জান্নাতুল বাক্বীতে দাফনকৃতদের চেহারা আপনার দিকে হবে, অতঃপর এ নিয়মে 
বাক্বীবাসীদেরকে সালাম পেশ করুন:
اَلسَّلَامُ عَلَیْکُمْ دَارَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِیْنَ فَاِنَّآ اِنْ شَآءَ اللہُ بِکُمْ لَاحِقُوْنَ ط اَللّٰھُمَّ اغْفِرْ لِاَھْلِ الْبَقِیْعِ الْغَرْقَدِط اَللّٰھُمَّ اغْفِرْلَنَا وَلَھُمْ ط
অনুবাদ: হে মুমিনদের বস্তি (এলাকায়) বসবাসকারীগণ! আপনাদের উপর সালাম! আমরাও اِنۡ شَآءَ اللہ عَزَّوَجَلّ আপনাদের সাথে এসে মিলিত হব। হে আল্লাহ! বাক্বীর কবর বাসীদের ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! আমাদেরকে ও তাদেরকেও ক্ষমা করে দাও।
অন্তরের উপর খঞ্জর পড়ে যায়
আহ! এমন একটি সময় ছিল যে, যখন হেজাজে মুকাদ্দাসের মধ্যে আশিকদের খিদমতের যুগ ছিল, আর ঐ সময়ের খতীব ও ইমামগণও আশিকানে রাসুল হয়ে থাকতেন। জুমার খুতবা দেওয়ার সময় খতীব সাহেব মসজিদে নববী শরীফের عَلٰی صَاحِبِہَا الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام রওজায়ে আনোয়ারের দিকে হাতে ইশারা করে যখন বলতেন اَلصَّلٰوۃُ وَالسَّلَامُ عَلٰی ہٰذَا النَّبِیِّ ط (অর্থাৎ এই সম্মানিত নবী صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক), তখন হাজার হাজার নবীর আশিকদের অন্তরের উপর খঞ্জর পড়ে যেত, আর তারা নিজে নিজে ঐ সময়ে অঝোড় নয়নে কাঁদতে দেখা যেত।
বিদায়ী হাজেরী
যখন মদীনা মুনাওয়ারা হতে বিদায় নেওয়ার কঠিন সময় ঘনিয়ে আসে তখন কান্না করতে করতে যদি ইহা সম্ভব না হয়, তাহলে কান্নার মত চেহারা করে ‘মুয়াজাহা শরীফে’ উপস্থিত হোন এবং কেঁদে কেঁদে সালাম পেশ করুন এবং গভীর বেদনা ভরা হৃদয়ে ফুফিয়ে ফুফিয়ে এভাবে আরজ করুন:
اَلْوَدَاعُ یَارَسُوْلَ اللہ ط اَلْوَدَاعُ یَارَسُوْلَ اللہ ط اَلْوَدَاعُ یَارَسُوْلَ اللہ ط اَلْفِرَاقُ یَارَسُوْلَ اللہِ ط اَلْفِرَاقُ یَارَسُوْلَ اللہ ط اَلْفِرَاقُ یَارَسُوْلَ اللہ ط اَلْفِـرَاقُ یَاحَبِیْبَ اللہ ط اَلْفِرَاقُ یَا نَبِیَّ اللہط اَلْاَمَانُ یَاحَبِیْبَ اللہ ط لَا جَعَلَہُ اللہُ تَعَالٰی اٰخِرَ الْعَھْدِ مِنْکَ وَلَامِنْ زِیَارَتِکَ وَلَامِنَ الْوُقُوْفِ بَیْنَ یَدَیْکَ اِلَّا مِنْ خَیْرٍوَّعَافِیَۃٍ وَّصِحَّۃٍ وَّسَلَامَۃٍ اِنْ عِشْتُ اِنْ شَآءَ اللہُ تَعَالٰی جِئْتُکَ وَاِنْ مِّتُّ فَاَوْدَعْتُ عِنْدَ کَ شَھَادَتِیْ وَاَمَانَتِیْ وَعَھْدِیْ وَمِیْثَاقِیْ مِنْ یَّوْمِنَا ھٰذَا اِلٰی یَوْمِ الْقَیٰمَۃِ وَھِیَ شَھَادَۃُ اَنْ لَّاۤ اِلٰہَ اِلَّا اللہُ وَحَدَہٗ لَاشَرِیْکَ لَہٗ وَ اَشْھَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُہٗ وَ رَسُـوْلُہٗ ط ﴿سُـبْحٰـنَ رَبِّکَ رَبِّ الْعِزَّۃِ عَمَّا یَصِفُوْنَ وَط سَلٰمٌ عَلَی الْمُـرْسَلِیْنَ ط وَ الْـحَمْدُ لِلہِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ط﴾ اٰمِیْن اٰمِیْن اٰمِیْن یَارَبَّ الْعٰلَمِیْن ط بِحَقِّ طٰہٰ وَ یٰسٓ ۔
বিদায় তাজেদারে মদীনা
আহ! আব ওয়াক্তে রুখসত হে আয়া,    আল ওয়াদা তাজেদারে মদীনা।
আহ! আব ওয়াক্তে রুখসত হে আয়া,    আল ওয়াদা তাজেদারে মদীনা।
সদ মায়ে হিজর কেইসে সাহোঙ্গা,       আল ওয়াদা তাজেদারে মদীনা।
বে করারী বড়ী জারেহী হে,        হিজর কি আব ঘাঢ়ী আ-রাহী হে,
দিল হুয়া জা-তা হে পারা পারা,        আল ওয়াদা তাজেদারে মদীনা।
কিস তারাহ শওক সে মাই চলা থা,      দিল কা গুনছা খুশি ছে খিলাথা,
আহ! আব ছোট্‌তা হে মদীনা,       আল ওয়াদা তাজেদারে মদীনা।
কুয়ে জানা কি রঙ্গী ফাজাও!       আই মুআত্তার, মুআম্বর হাওয়াওঁ,
লো সালাম আখিরী আব হামারা,       আল ওয়াদা তাজেদারে মদীনা।
কাশ! কিসমত মেরা সাথ দেতী,       মওত ভী ইয়া ওয়ারী মেরী করতী,
জান কদমো পে কুরবান করতা,      আল ওয়াদা তাজেদারে মদীনা।
সুযে উলফত ছে জলতা রাহো মাই,      ইশক্‌ মে তেরে গুলতা রাহো মাই,
মুঝ কো দিওয়ানা সমজে যমানা,      আল ওয়াদা তাজেদারে মদীনা।
মাই জাহা ভী রহো মেরে আক্বা,      হো নযর মে মদীনে কা জলওয়া,
ইলতিজা মেরী মকবুল ফরমা,      আল ওয়াদা তাজেদারে মদীনা।
কুছ না হুসনে আমল কর সাকা হো,     নযরে চন্‌দ আশক মাই কর রাহাহো,
বস্‌ ইয়েহী হে মেরা কুল আছাছা,     আল ওয়াদা তাজেদারে মদীনা।
আঁখ সে আব হুয়া খুন জারী,      রুহ পর ভী হুয়া রঞ্জ তারী,
জলদ ‘আত্তার’ কো পির বুলানা,      আল ওয়াদা তাজেদারে মদীনা।
এখন পূর্বের ন্যায় শায়খাইনে করীমাঈনের (সিদ্দিকে আকবর ও ফারুকে আজম رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُمَا) পাক দরবারেও সালাম আরজ করুন, খুব বেশী কান্না করে করে দোআ করুন। বার বার হাজির হতে পারার তাওফিক কামনা করুন এবং মদীনায় ঈমান ও ক্ষমার সাথে মৃত্যু ও জান্নাতুল বাক্বীতে দাফন হতে পারার সৌভাগ্য প্রার্থনা করুন। দোআ হতে অবসর হওয়ার পর কেঁদে কেঁদে বাম পায়ে (অর্থাৎ পা পিছন দিকে ফেলে ফেলে) ফিরে আসুন, আর বার বার রাসুল صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দরবারকে বেদনাপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখুন। যেমনিভাবে কোন বাচ্চা নিজের মায়ের কোল থেকে পৃথক হয়ে যাচ্ছে, তখন সে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদছে এবং তাঁর দিকে বেদনার দৃষ্টিতে থাকাচ্ছে যে, মা হয়ত এখন ডাকবে, যেন এই ডাকছে, আর ডেকে স্নেহপূর্ণভাবে আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরবে। 
হায়! যদি বিদায়ের সময় এমন হত তাহলে কতই না সৌভাগ্য হত যে, যদি মদীনার ছরকার, দয়ালু নবী صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ডেকে নিয়ে আপন সিনার সাথে লাগিয়ে নিতেন এবং অস্থির প্রাণ কদমে পাকের উপর কোরবান হয়ে যায়।
হে তামান্নায়ে ‘আত্তার’ ইয়া রব! উন কে কদমো মে ইউ মওত আয়ে।
ঝুম কর জব ঘিরে মেরা লাশা, থা-ম লে বাড় কে শাহে মদীনা।
صَلُّوْا عَلَی الۡحَبِیۡب! صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد
اَسۡتَغۡفِرُ اللہ تُوْبُوْا اِلَی اللہ!
صَلُّوْا عَلَی الۡحَبِیۡب! صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد