কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

হজ্বের মাসাইল: পর্ব ২০- মদীনার হাজেরী, মদীনা শরীফ জিয়ারতের পদ্ধতি ও দোআ

343
হাসান হজ্ব কর লিয়া কা’বে ছে আঁখো নে যিয়া পায়ী,
চলো দে খে ওহ বস্তি জিছকা রাস্তা দিল কে আন্দর হেঁ।
মদীনার হাজেরী 
আগ্রহ বাড়ানোর পদ্ধতি
মদীনা শরীফে আপনার পবিত্র সফরকে মোবারকবাদ! সারা রাস্তায় বেশী বেশী পরিমাণে দরূদ এবং সালাম পড়ুন এবং না’তে রাসুল পড়তে থাকুন। অথবা যদি সম্ভব হয় তাহলে টেপ রেকর্ডারের সাহায্যে সুললিত কণ্ঠের না’ত পরিবেশন কারীর ক্যাসেট শুনতে থাকুন। اِنۡ شَآءَ اللہ عَزَّوَجَلّ আগ্রহ বৃদ্ধির মাধ্যম হয়ে যাবে। মদীনা শরীফের সম্মান এবং মহান মর্যাদার কল্পনা করতে থাকুন। উহার ফযীলত ও গুরুত্বের উপর চিন্তা করতে থাকুন১৮। এর দ্বারাও اِنۡ شَآءَ اللہ عَزَّوَجَلّ আপনার আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পাবে। 
——————-
১৮মক্কা ও মদীনায় অবস্থানকালীন সময়ে মক্কা ও মদীনার উপর লিখিত কিতাব সমূহ অধ্যয়ন আগ্রহ ও আগ্রহ বৃদ্ধির উত্তম পন্থা, আর ইশকে রসুল صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم বাড়ানোর জন্য আ’লা হযরত رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ এর নাতের বই “হাদায়িকে বখশিশ” এবং উস্তাদে জামান মাওলানা হাসান রযা খান رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ এর লিখিত কালাম গ্রন্থ “যওকে না’ত”এর খুব বেশী করে অধ্যায়ণ করুন।
——————-
মদীনা কত দেরীতে আসবে!
মক্কায়ে মুকাররমা থেকে মদীনায়ে মুনাওয়ারার দূরত্ব প্রায় ৪২৫ কি:মি:। যা সচরাচর বাস ৫ ঘন্টায় অতিক্রম করে নেয়। কিন্তু হজ্বের সময় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে গাড়ির গতিবেগ কম রাখা হয়, আর এ কারণে পৌঁছাতে বাসের ৮ থেকে ১০ ঘন্টা সময় নিয়ে নেয়। “হাজীদের রিসিপশান কেন্দ্রে” বাস দাঁড়ায়। এখানে পাসপোর্ট যাচাই বাছাই হয় এবং পাসপোর্ট রেখে দিয়ে একটি কার্ড ইস্যু করা হয় যা হাজীদের অতিযত্নে সংরক্ষণ করতে হয়। এই স্থানে সকল কার্যাদি সমাপ্ত করতে অনেক সময় কয়েক ঘন্টা লেগে যায়। মনে রাখবেন! ধৈর্য্যের ফল অত্যন্ত মিষ্টি। অতিসত্তর আপনি اِنۡ شَآءَ اللہ عَزَّوَجَلّ প্রিয় মদীনার গলিগুলো স্পর্শ করে তার জালওয়া লাভে মুগ্ধ হবেন। 
অতি দ্রুত আপনি সবুজ গম্বুজের দীদার করে আপন চোখ দু’টিকে শীতল করবেন। যখনই দূর থেকে মসজিদে নববী শরীফের নূর বর্ষণকারী আভিজাত্যপূর্ণ মীনারে আপনার দৃষ্টি পড়বে। সবুজ সবুজ গম্বুজ আপনার নজরে আসবে اِنۡ شَآءَ اللہ عَزَّوَجَلّ আপনার হৃদয়ে আনন্দের বাতাস বইবে এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও চোখ থেকে আনন্দ অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকবে।
সায়েম কামালে জব্‌ত কি কৌশিশ তু কি মগর
পালকো কা হালকা তোড়া কর আসু নিকাল গেয়ে।
মদীনার বাতাসে আপনার মস্তিষ্কের রন্দ্রে রন্দ্রে, শিরা-উপশিরা সুগন্ধিযুক্ত হতে চলেছে, আর আপনি আপনার অন্তরে সতেজতা অনুভব করছেন। যদি সম্ভব হয় তাহলে খালি পায়ে ক্রন্দনরত অবস্থায় মদীনা শরীফের ভূমিতে প্রবেশ করুন। 
জুতে উতার লো চলো বাহুশ বা-আদব
দেখো মদীনে কা হাছী গুলজার আ-গেয়া।
صَلُّوْا عَلَی الۡحَبِیۡب! صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد
খালি পায়ে থাকার ব্যাপারে কোরআনের দলীল
আর এখানে খালি পায়ে থাকা শরীয়াত বিরোধী কোন কাজ নয়। বরং সম্মানীত ভূমির সরাসরি আদব। যেমন: হযরত সায়্যিদুনা মুসা عَلٰی نَبِیِّنَا وَعَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام নিজের মালিক! এর সাথে কথা বলার মর্যাদা অর্জন করেছেন। তখন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করলেন:
فَاخْلَعْ نَعْلَیْکَ ج اِنَّکَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًی ط
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: তুমি আপন জুতা খুলে ফেলো। নিশ্চয় তুমি পবিত্র উপত্যকা তুওয়া এর মধ্যে এসেছো। (পারা-১৬, সূরা- ত্বাহা, আয়াত-১২) سُبۡحٰنَ اللہ عَزَّوَجَلَّ! যখন সিনাই পর্বতের সম্মানিত উপত্যকায় সায়্যিদুনা মুসা عَلٰی نَبِیِّنَا وَعَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُ وَالسَّلَام কে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা জুতা খুলে ফেলার আদেশ দিয়েছেন, আর মদীনাতো মদীনাই এখানে যদি খালি পায়ে থাকা যায়, তাহলে কত বড় সৌভাগ্য হবে। কোটি কোটি মালেকিদের ইমাম এবং প্রসিদ্ধ আশিকে রাসুল হযরত সায়্যিদুনা ইমাম মালিক رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ পবিত্র মদীনা শরীফের গলি সমূহে খালি পায়ে চলতেন। (আত্‌তাবকাতুল কুবরা লিশ্‌শারানি, ১ম খন্ড, ৭৬ পৃষ্ঠা) তিনি رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ মদীনায়ে মুনাওয়ারায় কখনও ঘোড়ার উপর আরোহণ করতেন না। বলতেন: আমার আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে ও খুব বেশী লজ্জা হয় যে, ঐ পবিত্র বরকতময় জমিনকে আপন ঘোড়ার পা দ্বারা পিষ্ট করব যার মধ্যে তাঁর প্রিয় হাবীব صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم উপস্থিত আছেন। (অর্থাৎ তিনি صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর নূরানী রওজা রয়েছে) (ইহ্‌ইয়াউল উলুম, ১ম খন্ড, ৪৮ পৃষ্ঠা)
আয় খাকে মদীনা! তুহী বাতা মায় কেইছে পাঁও রাখ্যো ইহা।
তু খাকে পা ছরকার কি হে আখোঁ ছে লাগায়ী জাতি হে। 
হাজেরীর প্রস্থতি
প্রিয় রাসুল صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর রওজা মোবারকে হাজির হওয়ার পূর্বে আপনার থাকার স্থানের ইত্যাদির ব্যবস্থা করে নিন। ক্ষুধা, তৃষ্ণা ইত্যাদি থাকলে খেয়ে নিন ও পান করে নিন। মোটকথা প্রত্যেক ঐ সকল কাজ যা একাগ্রতা ও আন্তরিকতায় বাধা সৃষ্টিকারী হয় তা সেড়ে নিন। এখন তাজা অজু করে নিন। এতে মিসওয়াক অবশ্যই করবেন। বরং উত্তম হল যে, গোসল করে নিন। ধৌত করা কাপড় বরং সম্ভব হলে নতুন সাদা পোষাক, নতুন ইমামা শরীফ ইত্যাদি পরিধান করে নিন। সুরমা এবং সুগন্ধি লাগান, আর মুশ্‌ক (এক ধরনের সুগন্ধি) লাগানো উত্তম। এখন কেঁদে কেঁদে দরবারের দিকে এগিয়ে যান। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১২২৩ পৃষ্ঠা)
মনোযোগী হোন! সবুজ গম্বুজ এসে গেছে
এই দেখুন! ঐ সবুজ গম্বুজ যাকে আপনি ছবির মধ্যে দেখেছেন, মনের মধ্যে ভাবনার চুম্বন দিয়েছেন, আজ সত্যি সত্যি আপনার চোখের সামনে। 
আশকো কে মওতি আব নিছাওয়ার যায়েরো করো, 
ওহ সবজে গুম্বদ মাম্‌বায়ে আনওয়ার আগায়া।
আব ছর ঝুকায়ে বা-আদব পড়তে হুয়ে দরূদ,
রোতে হুয়ে আগে বাড়ো দরবার আগেয়া। (ওয়াসায়িলে বখশিশ, 
ছরকার ﷺ এর খিদমতে সালাম পেশ করুন
এখন আদব ও পূর্ণ আগ্রহের সাথে বেদনাপূর্ণ আওয়াজে কিন্তু আওয়াজ এত বড় এবং কর্কশ যেন না হয়, যাতে সমস্ত আমলই নষ্ট হয়ে যায়, আবার একেবারে ছোট আওয়াজেও নয় কারণ ইহাও সুন্নাতের পরিপন্থি। মধ্যম আওয়াজে এই শব্দাবলী দিয়ে সালাম পেশ করুন: 
اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ اَیُّھَا النَّبِیُّ وَ رَحْمَۃُ اللہِ وَبَرَکَاتُہٗ ط اَلسَّـلَامُ عَلَیْکَ یَا رَسُـوْلَ اللہِ ط اَلسَّلَامُ عَـلَیْکَ یَا خَیْرَ خَلْقِ اللہِ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَاشَفِیْعَ الْمُذْنِبِیْنَ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ وَعَلٰی اٰلِکَ وَاَصْحَابِکَ وَ اُمَّتِکَ اَجْمَـعِیْنَ ط
অনুবাদ: হে নবী صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم! আপনার উপর সালাম এবং আল্লাহ তাআলার রহমত ও বরকতসমূহ বর্ষিত হোক। হে আল্লাহর রাসুল صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم! আপনার প্রতি সালাম, হে আল্লাহ তাআলার সমস্ত সৃষ্টি থেকে সর্বোত্তম সৃষ্টি! আপনার প্রতি সালাম। হে গুনাহগারদের সুপারিশাকারী! আপনার প্রতি সালাম। আপনার প্রতি, আপনার পরিবারের উপর ও সাহাবীদের উপর এবং সকল উম্মতের প্রতি সালাম।
যতক্ষণ পর্যন্ত জবান আপনার সঙ্গ দেয়, অন্তরে একাগ্রতা থাকে ভিন্ন ভিন্ন উপাধি দ্বারা সালাম পেশ করতে থাকুন। যদি উপাধি সমূহ স্মরণ না হয়, তাহলে صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم اَلصَّلٰوۃُ وَالسَّلَامُ عَلَیۡکَ یَارَسُوۡلَ اللہ বারবার পড়তে থাকুন। যে সকল মানুষ আপনাকে সালাম পেশ করার জন্য বলেছেন, তাদের সালামও পেশ করুন। যে সমস্ত ইসলামী ভাই অথবা বোনেরা এই লেখাটি পড়বেন, সে যদি আমি সগে মদীনার (লিখকের) পক্ষ থেকে সালাম পেশ করে দেন তাহলে আমি অধম গুনাহগারদের সরদারের উপর বিরাট দয়া হবে। 
এখানে বেশী বেশী দোআ করুন এবং বার বার এভাবে শাফায়াতের ভিক্ষা প্রার্থনা করুন:
صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم اَسۡئَلُکَ الشَّفَاعَۃَ یَارَسُوۡلَ اللہ
অর্থাৎ ইয়া রাসুলাল্লাহ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم! আপনার নিকট সুপারিশের প্রার্থনা করছি। 
ছিদ্দিকে আকবর رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ এর খিদমতে সালাম
অতঃপর পূর্ব দিকে (অর্থাৎ আপনার ডান হাতের দিকে) আধা গজের মত সরে গিয়ে (নিকটবর্তী ছোট ছিদ্রের দিকে) হযরত সায়্যিদুনা ছিদ্দিকে আকবর رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ এর নূরানী চেহারার সামনে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে পূর্বের ন্যায় হাত বেঁধে তাঁকে সালাম পেশ করুন। উত্তম হল যে, এভাবে সালাম পেশ করা:
اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَاخَلِیْفَۃَ رَسُوْلِ اللہِ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَا وَزِیْرَ رَسُوْلِ اللہ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَا صَاحِبَ رَسُوْلِ اللہِ فِی الْغَارِ وَرَحْمَۃُ اللہِ وَ بَرَکَاتُہٗ ط
অনুবাদ: হে রাসুলুল্লাহর খলীফা رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ আপনার উপর সালাম। হে রাসুলুল্লাহ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উজির! আপনার উপর সালাম, হে সওর পর্বতে গুহায় রাসুলুল্লাহ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর বন্ধু! আপনার উপর সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
ফারুকে আজম رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ এর খিদমতে সালাম
অতঃপর এতটুকু দূরে পূর্বদিকে (আপনার ডান দিকে) একটু সরে গিয়ে সর্বশেষ ছোট ছিদ্রের দিকে হযরত সায়্যিদুনা ফারুকে আজম رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُ এর সামনা সামনি সালাম পেশ করুন: 
اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَا اَمِیْرَ الْمُؤْمِنِیْنَ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَا مُتَمِّمَ الْاَرْبَعِیْنَ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکَ یَا عِـزَّ الْاِسْلَامِ وَالْمُسْلِمِیْنَ وَرَحْمَۃُاللہِ وَبَرَکَاتُہٗ ط
অনুবাদ: হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার উপর সালাম, হে ৪০ সংখ্যা পূর্ণকারী! আপনার উপর সালাম, হে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্মান! আপনার উপর সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
দ্বিতীয়বার একসাথে শায়খাইনের খিদমতে সালাম
অতঃপর এক বিঘত পরিমাণ পশ্চিমে অর্থাৎ নিজের বাম হাতের দিকে সরে যাবেন এবং উভয় ছোট ছিদ্রের মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড়িয়ে এক সাথে ছিদ্দিকে আকবর এবং ফারুকে আজম رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُمَا এর খিদমতে এভাবে সালাম পেশ করুন। 
اَلسَّلَامُ عَلَیْکُمَا یَاخَلِیْفَتَیْ رَسُوْلِ اللہِ ط اَلسَّلَامُ عَلَیْکُمَا یَا وَزِیْرَیْ رَسُـوْلِ اللہِ ط اَلسَّـلَامُ عَلَیْکُمَا یَا ضَجِیْعَیْ رَسُـوْلِ اللہِ وَ رَحْمَۃُ اللہِ وَ بَرَکَاتُہٗ ط اَسْئَلُکُمَا الشَّفَـاعَۃَ عِنْدَ رَسُوْلِ اللہِ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَعَلَیْکُـمَا وَبَارَکَ وَسَلَّم ط
অনুবাদ: হে রাসুলুল্লাহ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দুই খলিফা! আপনারা উভয়ের উপর সালাম। হে রাসুলুল্লাহ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দুই উজির! আপনারা উভয়ের উপর সালাম। হে রাসুলুল্লাহ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর পার্শ্বে আরামকারী (আবু বকর এবং উমর رَضِیَ اللہُ تَعَالٰی عَنۡہُمَا! আপনারা উভয়ের উপর সালাম। আল্লাহর রহমত এবং বরকত আপনারা উভয় হযরতের নিকট প্রার্থনা করছি যে, রাসুলুল্লাহ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তাঁর উপর এবং আপনারা উভয়ের উপর দরূদ, সালাম এবং বরকত নাযিল করুক।
এই সকল দোআ প্রার্থনা করুন
এ সকল হাজেরী দোআ কবুল হওয়ার উপযুক্ত স্থান। এখানে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ নিজের মা, বাবা, পীর, মুর্শিদ, উস্তাদ, সন্তানগণ, পরিবারবর্গ, বন্ধু-বান্ধব এবং সমস্ত উম্মতের জন্য মাগফিরাতের দোআ করবেন এবং ছরকার, হুযুর নবী করীম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর শাফায়াতের ভিক্ষা প্রার্থনা করবেন। বিশেষ করে মুয়াজাহা শরীফে না’তে আশআর পেশ করবেন। যদি এখানে সগে মদীনা عُفِىَ عَنْهُ (লিখক) মদীনার পক্ষ থেকে নিচে দেয়া কসিদার এই শেষ পংক্তিটি ১২ বার পেশ করবেন তাহলে বিরাট দয়া হবে:
পড়োছি খুলদ মে আত্তার কো আপনা বানা লিজিয়ে,
জাহা হে ইতনে এহসাঁ আওর এহসান ইয়া রাসুলাল্লাহ।