কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

দুরূদ শরীফ পাঠের ফযিলত- পর্ব-২

377
❤❤ফযিলত-১১❤❤
(১১) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি ভালবাসা ও আগ্রহের কারণে প্রতিটি দিন ও রাতে তিন তিন বার করে দরূদ শরীফ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তাআলা তার বদান্যতার দায়িত্বে একথা অপরিহার্য করে নেন যে, তিনি তার ওই দিন ও রাতের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।” (মু’জামুল কবীর, ১৮তম খন্ড, ৩৬২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৯২৮)

❤❤ফযিলত-১২❤❤

(১২) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “তোমরা যেখানেই থাক, আমার উপর দরূদে পাক পাঠ করো, কেননা তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌছে থাকে।” (মু’জামুল কবীর, ৩য় খন্ড, ৮২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৭২৯)
❤❤ফযিলত-১৩❤❤
(১৩) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “নিশ্চয় তোমাদের নাম পরিচয় সহ আমার কাছে পেশ করা হয়, এজন্য আমার উপর সুন্দর (অর্থাৎ- সর্বোত্তম শব্দাবলীর মাধ্যমে) দরূদ পাক পাঠ কর। (মুসান্নিফ আবদুল রাজ্জাক, ২য় খন্ড, ১৪০ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩১১৬)
দরূদ শরীফ পাঠের ফযিলত

❤❤ফযিলত-১৪❤❤

(১৪) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, নিশ্চয় জিব্রাইল عَلَيْهِ السَّلَام আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন: “যে (ব্যক্তি) আপনি صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  এর উপর দরূদ শরীফ পড়ে, আল্লাহ্ তাআলা তার উপর রহমত নাযিল করেন। আর যে আপনি صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  এর উপর সালাম প্রেরণ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার উপর নিরাপত্তা নাযিল করেন।” (মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ১ম খন্ড, ৪০৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৬৬৪)
❤❤ফযিলত-১৫❤❤
(১৫) হযরত সায়্যিদুনা উবাই বিন কা’ব رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ আরজ করল যে, আমি (সমস্ত ভির্দ, ওয়াজিফা ছেড়ে দেব আর) নিজের পরিপূর্ণ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করাতে ব্যয় করব। তখন ছরকারে মদীনা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  ইরশাদ করলেন: “তা তোমার পেরেশানী সমূহ দূর করার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” (তিরমিযী, ৪র্থ খন্ড, ২০৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৪৬৫)
❤❤ফযিলত-১৬❤❤
(১৬) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) আমার উপর সকালে দশ বার ও সন্ধ্যায় দশ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, তার জন্য কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ নসীব হবে।” (মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১০ম খন্ড, ১৬৩ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৭০২২)
❤❤ফযিলত-১৭❤❤
(১৭) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “আমার উপর অধিক হারে দরূদ শরীফ পাঠ কর, নিশ্চয় আমার উপর তোমাদের দরূদ শরীফ পাঠ করা তোমাদের জন্য পবিত্রতা।” (মুসনাদে আবি ইয়ালা, ৫ম খন্ড, ৪৫৮ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৬৩৮৩)
❤❤ফযিলত-১৮❤❤
(১৮) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা পোষণকারী যখন দু’জন বন্ধু পরস্পর সাক্ষাত করে। ও মুসাফাহা করে (অর্থা- হাত মিলায়) আর প্রিয় নবী, রাসুলে আরবী দেব আর) নিজের পরিপূর্ণ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করাতে ব্যয় করব। তখন ছরকারে মদীনা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর দরূদ পাক পাঠ করে, তবে তারা উভয়ে পরস্পর পৃথক হবার পূর্বে আগের ও পরের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।” (মুসনাদে আবি ইয়ালা, ৩য় খন্ড, ৯৫ পৃষ্ঠা, হাদীস-২৯৫১)
❤❤ফযিলত-১৯❤❤
(১৯) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “যে এটা বলে:  اَللّٰهُمَّ صَلِّى عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّاَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ المُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে।” (মুজাম কবীর, ৫ম খন্ড, ২৫ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪৪৮০)
অনুবাদ: হে আল্লাহ্! হযরত মুহাম্মদ এর উপর রহমত নাযিল কর এবং তাঁকে কিয়ামতের দিন তোমার দরবারে নৈকট্যতম স্থান প্রদান কর।
❤❤ফযিলত-২০❤❤
(২০) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) কিতাবে আমার উপর দরূদ পাক লিখেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার নাম তাতে থাকবে, ফিরিশতারা তার জন্য ইস্তিগফার (অর্থাৎ- ক্ষমা প্রার্থনা) করতে থাকবে।” (মুজাম আওসাত, ১ম খন্ড, ৪৯৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৮৩৫)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب  صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত শাবান মাসের ফযিলত সম্পর্কিত “যিয়াঈ দুরূদ ও সালাম” নামক রিসালার ৬-৯ নং পৃষ্ঠা  হতে সংগৃহীত। রিসালাটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।

যারা মোবাইলে রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড দিন

দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

               মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন