কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

শাওয়ালের ছয় রোযার ফযিলত

1,797

৬টি রোযার ৩টি ফযীলত

১. নবজাত শিশুর মত পাপমুক্ত

হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ৫  থেকে رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمْا বর্ণিত, আল্লাহ তাআলার রসূল হযরত মুহাম্মদ   صَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ    وَسَلَّم ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখলো, তারপর শাওয়াল মাসে ছয়দিন রোযা রাখলো, তবে সে গুনাহ সমূহ থেকে এমনিভাবে মুক্ত হয়ে যাবে, যেন সে আজই মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হলো।” (মাজমাউয যাওয়াইদ, খন্ড-৩য়, পৃ-৪২৫, হাদীস নং-৫১০২)

২. যেন সারা জীবন রোযা রাখল

হযরত সায়্যিদুনা আবু আইয়ুব رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত, হযরত মুহাম্মদ صَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ    وَسَلَّم এর সুগন্ধীময় বাণী হচ্ছে, “যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখলো, তারপর আরো ছয়টি রোযা শাওয়াল মাসে রাখলো, সে যেনো সারা জীবনই রোযা রাখলো।” (সহীহ মুসলিম, পৃ-৫৯২, হাদীস নং-১১৬৪)

৩. সারা বছর রোযা রাখুন

হযরত সায়্যিদুনা সাওবান رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলার রসূল হযরত মুহাম্মদ صَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ    وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের পর (অর্থাৎ শাওয়াল মাসে) ছয়টি রোযা রাখল, সে যেন সারা বছর রোযা রাখল। “কারণ, যে একটা নেকী করে সে দশটার সাওয়াব পায়।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, খন্ড-২য়, পৃ-৩৩৩, হাদীস নং-১৭১৫)
শাওয়ালের রোযার ফযিলত

একটি নেকীর ১০টি সাওয়াব

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আল্লাহ তাআলার দয়া ও তাঁর হাবীব হযরত মুহাম্মদ صَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ    وَسَلَّم এর ওসীলায় সারা বছরের রোযার সাওয়াব অর্জন করা কতো সহজ করে দিয়েছেন! প্রত্যেক মুসলমানের এ সৌভাগ্য অর্জন করা উচিত। এক বছরের রোযার হিকমত হচ্ছে , আল্লাহ আমাদের মতো দূর্বল বান্দাদের জন্য নিজের করুনায়, এক নেকীর সাওয়াব দশগুণ রেখেছেন। যেমন পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার বরকতরূপী ফরমান হচ্ছে
مَنْ جَآءَ بِالحَسَنَةِ فَلَهٗ عَشْرُ اَمْثَالِهَا
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: যে কেউ একটি সৎকর্ম করবে, তবে তার জন্য তদনুরূপ দশগুন রয়েছে। (সূরা-আনআম, আয়াত-১৬০, পারা-৮)
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ ! এমনিতে মাহে রমযানের রোযা দশ মাসের রোযার সমান হলো। আর ছয় রোযা হলো ষাট (দুই মাসের) রোযার সমান। এভাবে পুরা বছরের রোযার সাওয়াব অর্জন হয়ে গেলো। আল্লাহ তাআলার করুণার কারণে তারঁ ই জন্য সমস্ত প্রশংসা।

ঈদের পর ছয় রোযা কখন রাখা হবে

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরীকা, হযরত আল্লামা মওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বাহারে শরীয়তের টিকায় লিখেছেন, “উত্তম হচ্ছে এই যে, এই রোযা পৃথক পৃথক ভাবে রাখা হবে, আর যদি ঈদের পর ছয় দিন লাগাতার কেউ রেখে দেয় তাতেও কোন সমস্যা নেই।” (বাহারে শরীআত, খন্ড-৫, পৃ-১৪০)
আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ খলিল খান কাদিরী বারাকাতী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন, এই রোযা ঈদের পর লাগাতার রাখা যাবে তাতে কোন অসুবিধা নেই। আর উত্তম হচ্ছে এই যে পৃথক পৃথক রাখা অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে ২টি করে রোযা রাখা। আর ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন একটি রাখা আর সম্পূর্ণ মাসে মিলিয়ে রাখলে আরো ভালো হয়। (সুন্নী বেহেশতী যেওর, পৃ-৩৪৭)
মূলকথা হল, ঈদুল ফিতরের দিন ছাড়া পুরা মাসে যখন ইচ্ছা শাওয়াল মাসের ছয় রোযা রাখা যাবে।
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত রযমান মাসের বিস্তারিত মাসাইল সম্পর্কিত “রমযানের ফযিলত” নামক কিতাবের ৪১৭-৪১৮ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন