কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

অপারেশন ছাড়াই ডেলিভারী

1,874

সন্তান      জন্মের      সময়      সহজতার        ব্যবস্থাপত্র  (মরিয়ম বিবির ফুল*)

মরিয়ম  বিবির  ফুল:  কোন  বাচ্চা   জন্মের   সময় ব্যথা শুরু হলে কোন খোলা বাসন বা বোতলের পানিতে ঢেলে দেওয়া হয়, তবে   যতই ভিজতে  থাকবে     ও      প্রষ্ফুটিত     হতে     থাকবে       আল্লাহ্ তাআলার দয়ায়  মরিয়ম  বিবির ফুলের বরকতে বাচ্চার জন্ম  খুব সহজ ভাবেই  হবে। 
অপারেশন ছাড়া ডেলিভারী
অপারেশন  ছাড়াই জন্ম হয়ে গেলো (মরিয়ম বিবির ফুলের উপকারীতা)
দা’ওয়াতে ইসলামীর জামেয়াতুল মদীনার এক শিক্ষক ইসলামী ভাইয়ের বর্ণনা:  আমার দ্বিতীয় বাচ্চার জন্মের  দিন  ছিলো।  আমার  বাচ্চার  মা  হাসপাতালের  নির্দিষ্ট কক্ষে   (লেবার রুমে) ভর্তি ছিলো। কিছু সময় পর আমি এক মাদানী মুন্নার জন্মের          সুসংবাদ        পেলাম।         হাসপাতালের অপেক্ষমান    রুমে এক   ব্যক্তির   সাথে    সাক্ষাত হলো।  তখন তিনি কথায়  কথায় মরিয়ম বিবির ফুলের  কথা     আলোচনা করলেন,  তখন  আমি জিজ্ঞাসা  করার     পর  সে  বললো:  যদি    বাচ্চার  জন্মের   পর   ব্যথা শুরু হয়, তবে  এই  শুষ্ক  ফুল কোন   খোলা বাসন   বা বোতলের  পানিতে যদি ঢেলে  দেওয়া    হয়,   তবে  যতক্ষণ    পর্যন্ত তাজা  থাকবে       এবং       ফুটতে      থাকবে।       আর      এর উপকারীতা   হলো    এটাই    যে,   বাচ্চার   জন্মের সময় সহজতা  হয়।  তারপর  কম  ও  বেশি  দুই  বছর   পর  যখন   তৃতীয়  বাচ্চার   জন্মের  পর্যায়ে আসলো। তখন   মহিলা ডাক্তার   আমার  বাচ্চার মাকে অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা জন্মের জন্য  মানসিক   ভাবে প্রস্তুত   থাকতে  বললেন।   আমি মরিয়ম বিবির ফুলের কথা স্মরণ করলাম, তখন আমি  দেশীয়   ঔষধের দোকান    থেকে   মরিয়ম বিবির   ফুল  সংগ্রহ   করলাম।
 আর   যখন  বাচ্চা জন্মের সময় আসলো,  তখন আমি সেটা পানির মধ্যে   ঢেলে   দিলাম।    আল্লাহ্    তআলার   দয়ায় অপারেশন   ছাড়াই    মাদানী   মুন্নীর জন্ম   হয়ে  গেলো।   এক    বছর    পর   চতুর্থ   বাচ্চার   জন্যও ডাক্তার অপারেশনের জন্য নির্দিষ্ট করে দিলেন, কিন্তু  আমি   অন্যান্য ওযীফার পাশাপাশি   (যেটা মাকতাবাতুল  মদীনা   কর্তৃক     প্রকাশিত  কিতাব “ঘরোয়া চিকিৎসা” এর মধ্যে  রয়েছে) মরিয়ম  বিবির ফুল ব্যবহার করি। এভাবে ও অপারেশন ছাড়াই মাদানী  মুন্নীর  জন্ম   হয়ে  গেলো।   এর কমপক্ষে    দুই    বছর   পর    যখন    পঞ্চম   বাচ্চার জন্মের    পর্যায় আসলো,    তখন    আমি   আমার ঘরের     পাশ্ববর্তী    হাসপাতালে    নিয়ে    গেলাম।  সেখানেও     ডাক্তাররা মেডিকেল     রিপোর্ট     ও  তাদের   গবেষণার   দৃষ্টিতে    অপারেশন    করতে বলেন। আমি  চেষ্টা করে টাকার  ব্যবস্থাও প্রস্তুত রেখেছিলাম  এবং ওযীফা  আদায়ের  পাশাপাশি যখন  জন্মের  সময়  হলো,  তখন মরিয়ম  বিবির ফুল  খোলা  বোতলের    পানিতে   ঢেলে    দিলাম, ডাক্তার     অপারেশন     ছাড়া     জন্মানোর     জন্য অনেক    চেষ্টা     করার   পর    অপারেশনের   জন্য  টাকা    জমা    করানোর     জন্য     বললেন।    এখন অপারেশন          ছাড়া           উপায়          নেই           এবং অপারেশনের    ব্যবস্থাও   শুরু   করে   দেন।  টাকা ব্যাংকে ছিলো,   হাসপাতালের   পাশে   এটিএম  বুথ থেকে টাকা বের   করলাম এবং কাউন্টারের কাছে   জমা   করে   দিলাম।  কিন্তু    অপারেশনের পূর্বেই আল্লাহ্ তাআলার দয়ায় নিরাপদে মাদানী মুন্নার    জন্মের   সংবাদ পেলাম।    মরিয়ম   বুটির ব্যবহারের  জন্য  চার  ও  পাঁচ  ইসলামী  ভাইকে  পরামর্শ দিলাম। তাদের মধ্য থেকে  একজনকে ডাক্তার   অপারেশনের    জন্য    বলে   রেখেছিলো اَلْحَمْدُ  لِلّٰہِ  عَزَّوَجَلَّ  তার   ঘরে   অপারেশন   ছাড়াই  জন্ম হয়ে গেলো।
*এটাকে মরিয়ম বুটি এবং মরিয়মের পাঞ্জাও বলা হয়। পাঞ্জার আকৃতিটা শুষ্ক অবস্থায় হয়ে থাকে। পাঁশারীর (দেশীয় ঔষধের) দোকানেও পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মক্কা মদীনায় স্থানীয় মহিলারা ও ছেলেরা জমিনের উপর রেখে জিনিসগুলো বিক্রি করে এবং তাদের কাছেও পাওয়া যাবে। এর বৈশিষ্ট্য ও বরকত সম্পর্কে অবহিত আশিকানে রাসূল সেখান থেকে তাবারুক আকারে গ্রহণ করেন এবং অন্যান্যদেরকেও উপহার হিসেবে পেশ করেন। যাকে দেওয়া হয় তার সেটা ব্যবহারের পদ্ধতি জানাটা জরুরী একটু পুরাতন হলে আরো ভালো।

কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে যাওয়া মহিলা

হযরত সায়্যিদুনা হাওয়াছ رَحۡمَۃُ  اللّٰہ  تَعَالٰی   عَلَیہِ   বলেন: আমরা ইবাদতগুজার মহিলা রাহেলার নিকট গেলাম। সে অধিক হারে রোযা রাখতো। এমনভাবে কাঁদতো যে, তার চোখের জ্যোতি চলে যায়। এতো বেশি নামায পড়তো যে, দাঁড়াতে পারতো না তাই বসেই নামায আদায় করতো। আমরা তাকে সালাম করলাম। অতঃপর মহান আল্লাহ্ তাআলার ক্ষমা ও অনুগ্রহের আলোচনা করছিলাম যাতে তার অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যায়। সে এ কথা শুনে একটি চিৎকার দিলো এবং বললো: “আমার নফসের অবস্থা আমার জানা আছে; অর্থাৎ- সে আমার অন্তরকে আঘাতপ্রাপ্ত করে দিয়েছে এবং হৃদয় টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। আল্লাহ্র কসম! হায়! আমার ইচ্ছা হলো, তো যদি আল্লাহ্ তাআলা আমাকে সৃষ্টিও না করতেন এবং আমি কোন আলোচনার যোগ্য বস্তুও না হতাম। এটা বলে পুনরায় নামাযে দাঁড়িয়ে গেলো। (ইহ্ইয়াউল
উলূম, ৫ম খন্ড, ১৫২ পৃষ্ঠা) আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক। 
اٰمِين بِجا هِ النَّبِيِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم

আহ সলবে ঈমান কা খউফ খায়ে জাতা হে,
কাশ মেরে মা নে হি মুজকো না জনা হুতা।
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত নামায বিষয়ের এনসাইক্লোপিডিয়া ও মাসাইল সম্পর্কিত “নামাযের আহকাম” নামক কিতাবের ৫১-৫৩ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন অথবা প্লে স্টোর থেকে এই কিতাবের অ্যাপ ফ্রি ইন্সটল করুন

দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন