কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

মিসওয়াক বিষয়ক মাদানী ফুল

205
❁ দু’টি ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم:
১। মিসওয়াক করে দুই রাকাত নামায আদায় করা মিসওয়াক  ছাড়া  ৭০  রাকাতের  চেয়ে  উত্তম।  (আত-তারগীব ওয়াত  তারহীব, ১মখন্ড, ১০২   পৃষ্ঠা, হাদীস-১৮)
২। মিসওয়াকের ব্যবহার নিজের জন্য    আবশ্যক    করে     নাও।     কেননা,     তাতে মুখের       পরিচ্ছন্নতা এবং      আল্লাহ্     তাআলার সন্তুষ্টির মাধ্যম রয়েছে। (মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন    হাম্বল,    ২য়   খন্ড,    ৪৩৮    পৃষ্ঠা, হাদীস- ৫৮৬৯)

মিসওয়াক

❁ হযরত সায়্যিদুনা  ইবনে  আব্বাস  رَضِیَ اللہُ   تَعَالٰی   عَنۡہُ বলেন:  মিসওয়াকে দশটি  গুণাগুণ রয়েছে:    মুখ পরিষ্কার   করে,   মাড়ি    মজবুত করে,  দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়,  কফ দূর  করে, মুখের দূর্গন্ধ     দূর     করে, সুন্নাতের  অনুসরণ       হয়, ফিরিশতারা   খুশি   হয়,   আল্লাহ   তাআলা   সন্তুষ্ট  হন,   নেকী   বৃদ্ধি   করে, পাকস্থলী   ঠিক রাখে।  (জামউল    জাওয়ামি’    লিস   সুয়ুতী,    ৫ম   খন্ড,  ২৪৯      পৃষ্ঠা,      হাদীস-      ১৪৮৬৭)     

❁      হযরত  সায়্যিদুনা    ইমাম    শাফেয়ী    رَحْمَۃُ      اللّٰہِ    تَعَالٰی    عَلَیْہِ বলেন:  চারটি জিনিস জ্ঞান  বৃদ্ধি  করে: অনর্থক কথাবার্তা    থেকে    বিরত    থাকা,    মিস্ওয়াকের  ব্যবহার,     নেককার     লোকদের    সংস্পর্শ    এবং নিজের  জ্ঞানের  উপর   আমল   করা।   (হায়াতুল হায়ওয়ান   লিদ্দামীরী,   ২য়     খন্ড,  ১৬৬   পৃষ্ঠা) 


❁ ঘটনা:    হযরত     সায়্যিদুনা     আবদুল     ওয়াহাব শারানী رَحۡمَۃُ  اللہِ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ বর্ণনা  করেন: একবার হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর শিবলী رَحْمَۃُ اللّٰہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ এর ওযুর  সময় মিসওয়াকের প্রয়োজন হয়। খুজে   দেখা হলো   কিন্তু   পাওয়া    গেলো      না।  এজন্য     এক    দীনারের   (অর্থাৎ   একটি     স্বর্ণের মূদ্রা)      বিনিময়ে মিসওয়াক      কিনে      ব্যবহার  করলেন।  কিছু  লোক  বলল:  এটা  তো  আপনি  অনেক বেশি খরচ করে ফেলেছেন! কেউ এতো বেশি  দাম   দিয়ে  কি   মিস্ওয়াক  নেয়?   হযরত আবু    বকর  শিবলী     رَحْمَۃُ  اللّٰہِ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ   বললেন: নিঃসন্দেহে   এই   দুনিয়া   এবং   এর   সকল   বস্তু  আল্লাহ্       তাআলার        নিকট         মশার ডানার সমপরিমাণও   মূল্য   রাখেনা।   যদি   কিয়ামতের  দিন    আল্লাহ্  তাআলা  আমাকে জিজ্ঞাসা করেন তবে  আমি  কি জবাব  দেব,   “তুমি  আমার প্রিয়  হাবীব صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  এর সুন্নাত কেন ছেড়ে দিলে?” যে ধন  সম্পদ   আমি   তোমাকে দিয়েছিলাম   তার   বাস্তবতা   তো   আমার   কাছে  মশার  ডানার সমপরিমাণও  ছিল    না।  আর   এ তুচ্ছ  সম্পদ   এই   মহান  সুন্নাতকে  (মিস্ওয়াক) পালনের         জন্য কেন খরচ          করলেনা? (লাওয়াকিহুল আনওয়ার থেকে সংক্ষেপিত, ৩৮ পৃষ্ঠা)

❁ দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল     মদীনা     থেকে       প্রকাশিত      উর্দূ কিতাব  “বাহারে      শরীয়াত”      প্রথম      খন্ডের  ২৮৮ পৃষ্ঠায়    সদরুশ    শরীয়া,    বদরুত    তরীকা,  হযরত      আল্লামা মাওলানা      মুফতী     মুহাম্মদ  আমজাদ আলী আযমী رَحْمَۃُ  اللّٰہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ লিখেন: মাশায়েখে        কেরাম বলেন:          “যে        ব্যক্তি   মিসওয়াকে     অভ্যস্থ     হয়,    মৃত্যুর     সময়    তার  কলেমা পড়া নসীব হয় এবং যে  আফিম  (এক প্রকার    নেশার   বস্তু)    খায়,   মৃত্যুর    সময়    তার কলেমা  নসীব   হবে   না।”  

❁ মিসওয়াক    পিলু,  যয়তুন, নিম ইত্যাদি  তিক্ত গাছের  হওয়া চাই।

❁ মিস্ওয়াক  যেন কনিষ্ঠা আঙ্গুলের  সমান মোটা হয়।   

❁ মিস্ওয়াক    যেন    এক    বিঘত      পরিমাণ থেকে    বেশী   লম্বা   না    হয়।    বেশী   লম্বা    হলে  সেটার      উপর শয়তান      আরোহণ     করে।      

❁ মিসওয়াকের   আঁশ  যেন    নরম   হয়,  শক্ত  আঁশ দাঁত    এবং   মাড়ির   মধ্যে    ফাঁক   (GAP)   সৃষ্টি করে।

❁ মিস্ওয়াক যদি তাজা হয় তবে খুব ভাল নতুবা    কিছুক্ষণ   পানির   গ্লাসে      ভিজিয়ে   রেখে নরম করে  নিন।

❁ মিস্ওয়াকের আঁশ প্রতিদিন কাটা উচিত, আশঁগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত ফলদায়ক থাকে,   যতক্ষণ মিস্ওয়াকে     তিক্ততা    অবশিষ্ট থাকে।   

❁  দাঁতের    প্রস্থে   মিস্ওয়াক   করুন।   

❁ যখনই   মিস্ওয়াক  করবেন   কমপক্ষে    তিনবার করুন। মিসওয়াক      প্রত্যেকবার        ধূয়ে       নিন।

❁ মিস্ওয়াক       ডান    হাতে    এভাবে    ধরুন     যেন কনিষ্ঠা আঙ্গুল মিস্ওয়াকের নিচে এবং মধ্যবর্তী তিন আঙ্গুল উপরে থাকে, আর বৃদ্ধাঙ্গুল মাথায় থাকে। প্রথমে  ডান দিকের   উপরের দাঁত সমূহে মিস্ওয়াক করবেন,      অতঃপর      বাম     দিকের উপরের    দাঁত    সমূহে,     তারপর    ডান     দিকের নিচের দাঁত সমূহে,  এরপর  বাম  দিকের নিচের দাঁত   সমূহের   উপর মিসওয়াক  করবেন।

❁ মুষ্ঠি বেধেঁ      মিসওয়াক      করার      কারণে      অর্শ্বরোগ  হওয়ার   সম্ভাবনা   থাকে।   

❁   মিসওয়াক    ওযুর পূর্ববর্তী   সুন্নাত।   অবশ্য   সুন্নাতে   মুয়াক্কাদা   ঐ  সময় হবে, যখন মুখে দুর্গন্ধ হয়। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া থেকে সংকলিত, ১ম খন্ড, ৬২৩ পৃষ্ঠা)

❁ মিসওয়াক    যখন     ব্যবহার    অনুপযোগী     হয়ে যায়, তখন    সেটাকে   ফেলে দিবেন না;কেননা, এটা সুন্নাত  পালণের উপকরণ।  সেটাকে  কোন জায়গায়  সতর্কভাবে  রেখে     দিন  কিংবা  দাফন করে ফেলুন, অথবা পাথর বা ভারী জিনিস দিয়ে বেধেঁ   সমুদ্রে   ডুবিয়ে   দিন।   (বিস্তারিত   জানার  জন্য     মাকতাবাতুল মদীনা    কর্তৃক     প্রকাশিত কিতাব       “বাহারে       শরীয়াত”       ১ম       খন্ডের,  ২৯৪-২৯৫ পৃষ্ঠা অধ্যয়ন করুন)

মিসওয়াক করার ব্যবহারিক ভিডিও দেখুন।

♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত নামায বিষয়ের এনসাইক্লোপিডিয়া ও মাসাইল সম্পর্কিত “নামাযের আহকাম” নামক কিতাবের ৬০-৬২ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন অথবা প্লে স্টোর থেকে এই কিতাবের অ্যাপ ফ্রি ইন্সটল করুন

দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন