কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

সবুজ গম্বুজের ইতিহাস

214
সবুজ গম্বুজ, যার দীদারের জন্য প্রতিটি আশিকের হৃদয় ব্যতিব্যস্ত হয়ে থাকে, আর চক্ষু অশ্রুসজল হয়ে যায়, এটাও বিদআতে হাসানা। কেননা হযরত মুহাম্মদ   এর প্রকাশ্য বেসাল শরীফের অনেক বছর পর তা নির্মিত হয়েছে। এ সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছুটা জেনে নিন।
সবুজ গম্বুজের ইতিহাস
মাদিনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার, হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর রওযা ই আনওয়ারের উপর সর্ব প্রথম গম্বুজ শরীফ নির্মিত হয় ৬৭৮ হিজরী / ১২৬৯ খৃষ্টাব্দে এবং সেটার উপর হলদে রং লাগানো হয়। আর তা তখন হলদে গম্বুজ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলো। তারপর যুগ পরিবর্তন হতে লাগলো ৮৮৮ হিজরী / ১৪৮৩ খৃষ্টাব্দে কালো পাথর দিয়ে নতুন গম্বুজ তৈরি করা হলো। আর সেটার উপর সাদা রং লাগানো হলো। আশেকগণ সেটাকে ‘আলকুব্বাতুল বায়দ্বা’ অথবা ‘গুম্বাদে বায়দ্বা’ অর্থাৎ ‘সাদা গম্বুজ’ বলতে লাগলো। ৯৮০ হিজরী / ১৫৭২ খৃষ্টাব্দে চূড়ান্ত সুন্দর গম্বুজ নির্মাণ করা হলো। আর সেটাকে রংবেরং এর পাথর দিয়ে সাজানো হলো। তখন সেটার এক রং রইলনা। সম্ভবতঃ স্থাপত্য শিল্পের চিত্তাকর্ষক ও দৃষ্টি কেড়ে নেয়ার মতো দৃশ্যের কারণে সেটা রংবেরংয়ের গম্বুজ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করলো। ১২৩৩ হিজরী / ১৮১৮ খৃষ্টাব্দে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সেটা নির্মাণ করা হলো। এরপর এ পর্যন্ত কেউ তাতে পরিবর্তন করেনি। অবশ্য, সবুজ রং এ সৌভাগ্য পেতে লাগলো যে, তা রংকর্মীদের হাতের মাধ্যমে সেটার গায়ে লেগে যাচ্ছে।
‘গুম্বদে খাদ্বরা’ (সবুজ গুম্বুজ) যা নিঃসন্দেহে বিদ’আতে হাসানা’ তা আজ সারা দুনিয়ার মুসলমানদের প্রত্যাবর্তনের বরকতময় স্থান, চোখের জ্যোতি এবং হৃদয়ের প্রশান্তি। اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ  সেটাকে দুনিয়ার কোন শক্তি বিলীন করতে পারবেনা। যে সেটাকে বিরোধীতার কারণে নিশ্চিহ্ন করতে চাইবে, আল্লাহর পানাহ! সে নিজেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
এগুলোর মতো সমস্ত নতুন আবিস্কৃত নেক কাজের বুনিয়াদ ওই হাদিসে পাক যা মুসলিম শারীফের বর্ণনায় ইতোপূর্বে উলে−খ করা হয়েছে, যাতে এরশাদ হয়েছে, যে কেউ ইসলামে ভালো পদ্ধতি চালু করে, সে তার সাওয়াব পাবে এবং তাদের সাওয়াবও যারা এর পর তদনুযায়ী আমল করবে।*
(*) মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه এর প্রসিদ্ধ কিতাব ‘জাআল হক্ব’ বিদআত ও বিদআতের প্রকারভেদ ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য সেটা পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত রযমান মাসের বিস্তারিত মাসাইল সম্পর্কিত “রমযানের ফযিলত” নামক কিতাবের ১৯৫-১৯৬ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন