কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

দিদারে মুস্তফা ﷺ ও ভালবাসার ফযিলত

446
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আকিদা ও আমল পরিশুদ্ধ করার এবং ধর্মীয় জরুরী বিষয়াদী জানার জন্য তবলীগে কুরআন ও সুন্নতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাফিলায় সফর করাকে নিজ অভ্যাসে পরিণত করুন। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ দা’ওয়াতে ইসলামী আহলে হকদের সুন্নতে ভরপুর সংগঠন। এর একটি ঈমান তাজাকারী ঘটনা শুনুন ও বিমোহিত হোন।

দিদারে মুস্তফা ﷺ ও ভালবাসার ফযিলত
যেমন তাবলীগে কুরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর ৩ দিনের আন্তর্জাতিক সুন্নতে ভরা ইজতিমা শেষে (মুলতান) থেকে আশিকানে রসূলগণের অসংখ্য মাদানী কাফিলা সুন্নতের প্রশিক্ষণের জন্য শহর থেকে শহরে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে সফরে রওয়ানা হয়ে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায়  আন্তর্জাতিক সুন্নতে ভরা ইজতিমা ১৪২৬ হিজরীতে আগরাতাজ কলনী বাবুল মদীনা করাচী এর একটি মাদানী কাফিলা সফরের নিয়ম মোতাবেক একটি মসজিদে পৌঁছে অবস্থান করছিল। রাত্রে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ল তখন মাদানী কাফিলায় অংশগ্রহণকারী এক নতুন ইসলামী ভাইয়ের ভাগ্য চমকে উঠল। এবং তার স্বপ্নযোগে মদীনার তাজেদার হযরত মুহাম্মদ  এর দিদার নসিব হয়ে গেল। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। দা’ওয়াতে ইসলামীর সত্যতা মনে প্রাণে জেনে নিয়ে মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেলেন।

নেককারদের ভালবাসার ফযীলত

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা শুনলেনতো! আশিকানে রসূলদের সাহচার্যের বরকতে এক সৌভাগ্যবান ইসলামী ভাই এর জীবনে তাজেদারে রিসালাত হযরত মুহাম্মদ     এর যিয়ারত নসীব হয়ে গেল। এজন্য সর্বদা উত্তম সঙ্গ বেছে নেয়া চাই ও ভাল লোকদের ভালবাসা চাই। মাদানী কাফিলায় সফরকারী সৌভাগ্যবানদের ও নেককার লোকদের মুহাব্বত করার উত্তম সুযোগ হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য নেককার লোকদের ভালবাসার সাতটি ফযীলত শ্রবণ করুন এবং আন্দোলিত হোন।
(১) আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন বলবেন, ওরা কোথায়, যারা আমার সম্মানার্থে একে অপরকে ভালবাসত, আজ আমি তাদেরকে আমার (আরশের) ছায়াতলে রাখব। আজ আমার (আরশের) ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া নেই। (মুসলিম, পৃষ্ঠা-১৩৮৮, হাদীস-২৫৬৬)
(২) আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, যে সমস্ত লোক আমার জন্য পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা রাখে এবং আমারই জন্য একে অপরের কাছে বসে এবং পরস্পরের মধ্যে মেলামেশা করে আর টাকা খরচ করে, তাদের জন্য আমার ভালবাসা
ওয়াজিব হয়ে গেল। (মুআত্তা, খন্ড-২য়, পৃষ্ঠা-৪৩৯, হাদীস নং-১৮২৮)
(৩) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, যে সমস্ত লোক আমার সম্মানের জন্য একে অপরের সাথে মুহব্বত রাখে তাদের জন্য নূরের মিম্বর হবে যা দেখে নবী ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন অর্থাৎ পাওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করবেন।)
(সুনানে তিরমিযী, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-১৭৪, হাদীস নং-২৩৯৭, দারুল ফিকর, বৈরুত)
(৪) দু’ব্যক্তি একে অপরকে আল্লাহর ওয়াস্তে মুহাব্বত করল যাদের একজন পূর্বে ও অপরজন পশ্চিমে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তা’আলা উভয়কে একত্রিত করবেন এবং বলবেন, এই সেই ব্যক্তি যাকে তুমি আমার জন্য ভালবাসতে।
(শুআবুল ঈমান, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃষ্ঠা-৪৯২, হাদীস নং-৯০২২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ্, বৈরুত)
(৫) জান্নাতে ইয়াকুত পাথরের স্তম্ভ রয়েছে যার উপর জবরজদ পাথরদ্বারা নির্মিত বালাখানা রয়েছে, আর সেটা এমনই উজ্জল যেন আলোকিত নক্ষত্রের মত। লোকেরা আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! ঐ ঘরে কে থাকবে? হুজুর   বললেন, ঐ সমস্ত লোক যারা আল্লাহ তাআলার জন্য পরস্পরের মধ্যে মুহাব্বত রেখেছে, একই জায়গায় বসে, একে অপরের সাথে মিলামিশা করেছে। (শুআবুল ঈমান, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃষ্ঠা-৪৮৭, হাদীস নং-৯০০২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)
(৬) আল্লাহর ওয়াস্তে মুহাব্বতকারী আরশের পাশে ইয়াকুত পাথরের চেয়ারে বসা থাকবে। (আল মুজামুল কবির, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-১৫০, হাদীস নং-৩৯৭৩, দারু ইহইয়ায়িত তারাসিল আরবী, বৈরুত)
(৭) যে ব্যক্তি কারো সাথে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা রাখে, আল্লাহর ওয়াস্তে শত্রুতা রাখে, আল্লাহর ওয়াস্তে দান করে, আল্লাহর ওয়াস্তে বিরত থাকে তাহলে সে নিজের ঈমান পরিপূর্ণ করল। (সুনানে আবু দাউদ, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-২৯০, হাদীস নং-৪৬৮১)

♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত রযমান মাসের বিস্তারিত মাসাইল সম্পর্কিত “রমযানের ফযিলত” নামক কিতাবের ১৯৬-১৯৮ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন

দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন


মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন