কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

ফয়যানে তারাবীহ

607
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ রমযানুল মুবারকে যেখানে আমরা অগণিত নে’মত পেতে পারি, সেগুলোর মধ্যে ‘তারাবীর সুন্নত’ও রয়েছে। সুন্নতের মহত্ত্বের কথা কি বলবো? আমিনার বাগানের সুবাসিত ফুল, আল্লাহর প্রিয় রসূল হযরত মুহাম্মদ এর জান্নাতরূপী বাণী, “যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালবাসে, সে আমাকে ভালবাসে, আর যে আমাকে ভালবাসে, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।” (জামে তিরমিযী, খন্ড-৪র্থ, পৃ-৩১০, হাদীস নং-২৬৮৭)
ফয়যানে তারাবীহ

রমযানে ৬১ বার খতমে কোরআন

তারাবীহ সুন্নতে মুআক্কাদাহ। তাতে কমপক্ষে একবার খতমে কুরআনও সুন্নতে মুআক্কাদাহ। আমাদের ইমামে আযাম আবু হানীফা  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  , ” রমযানুল মুবারকে ৬১ বার কুরআন করীম খতম করতেনঃ ত্রিশ খতম দিনে, ত্রিশ খতম রাতে আর একবার তারাবীহের নামাযে। তাছাড়া, তিনি  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  , ” ৪৫ বছর ইশার ওযু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করেছেন। (বাহারে শরীআত, ৪র্থ খন্ড, পৃঃ-৩৭)
এক বর্ণনায় অনুযায়ী ইমাম আযম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه , ” জীবনে ৫৫ বার হজ্ব করেছেন আর যে স্থানে তিনি ইন্তিকাল করেছেন সেখানে তিনি সাত হাজার বার কুরআন মজিদ খতম করেছেন। (উকুদুন হিমান, পৃ-২২১)

কুরআন তিলাওয়াত ও আহলুল্লাহ

আমার আকা আলা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه বর্ণনা করেন, “ঈমামদের ঈমাম সায়্যিদুনা ইমাম আযম আবু হানিফা  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه   পূর্ণ ৩০ বছর পর্যন্ত প্রতি রাতে এক রাকাআতে কুরআন মজিদ খতম করতেন।” (সংশোধিত ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ্, খন্ড-৭ম, পৃ-৪৭৬)
ওলামায়ে কিরাম  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليهم  বলেন, সলফে সালেহীনদের পূর্ববর্তী বুযুর্গদের দের  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليهم  এর মধ্যে কোন কোন ঈমাম রাত ও দিনে ২ খতম দিতেন। কেউ কেউ চার খতম কেউ কেউ আট খতম দিতেন। ইমাম আব্দুল ওহাব শারানী  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  এর মিযানুশ শরীয়াহ এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, সায়্যিদী মওলা আলী رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  একরাত একদিনে ৩ লাখ ৬০ হাজার বার কুরআন খতম করতেন। (আল মিজানুশ শরীয়াতুল কুবরা, খন্ড-১ম, পৃ-৭৯)
হাদিসে পাকে উল্লেখ আছে, আমিরুল মু’মিনীন হযরত শেরে খোদা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  বাম পা রেকাবে (ঘোড়ার পা দানীতে) রেখে কুরআন মজীদ শুরু করতেন আর ডান পা রেকাবে পৌঁছার পূর্বেই কুরআন খতম হয়ে যেত। (ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ্ সংশোধিত, খন্ড-৭ম, পৃ-৪৭৭)
হাদীস শরীফে মদীনার তাজেদার হযরত মুহাম্মদ ﷺ  এর ইরশাদ করেন যে , “হযরত সায়্যিদুনা দাউদ عَلَيْهِ السَّلَام নিজ সাওয়ারী প্রস্তুত করতে বলতেন এবং এর উপর জীন (বসার গদি) দেওয়ার পূর্বে তিনি যাবুর শরীফ খতম করে ফেলতেন।” (সহীহ বুখারী, খন্ড-২য়, পৃ-৪৪৭, হাদীস নং-৩৪১৭)
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! কোন কোন ইসলামী ভাইয়ের এই ধারণা আসতে পারে যে, একদিনে কয়েকবার নয় বরং মুহুর্তের মধ্যে কুরআনে পাক বা যাবুর শরীফ খতম কেমন করে সম্ভব? তার উত্তর এই যে, এটা আউলিয়ায়ে কিরাম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليهم এর কারামত ও হযরত দাউদ  عَلَيْهِ السَّلَام  এর মু’জিযা। আর মুজিযা ও কারামত হচ্ছে তা, যা স্বভাবগত ভাবে অসম্ভব।

হরফ চিবুনো

আফসোস! আজকাল ধর্মীয় বিষয়াদিতে অলসতার ছড়াছড়ি। সাধারণতঃ তারাবীহ’র মধ্যে কুরআন মজীদ একবারও বিশুদ্ধ অর্থে খতম হচ্ছে না। কুরআনে পাক ‘তারতীল’ সহকারে, অর্থাৎ থেমে থেমে পড়া চাই। কিন্তু বর্তমান অবস্থা হচ্ছে যদি কেউ এমনি করে তবে লোকেরা তার সাথে তারাবীহ পড়ার জন্য প্রস্তুতও থাকে না। এখন ওই হাফিযকে পছন্দ করা হয়, যে তারাবীহ থেকে তাড়াতাড়ি অবসর করে দেয়। মনে রাখবেন, তারাবীহ ছাড়াও তিলাওয়াতে হরফ চিবুনো হারাম। যদি তাড়াতাড়ি পড়ার মধ্যে হাফিয সাহিব পূর্ণ কুরআন মজীদ থেকে শুধু একটা হরফও চিবিয়ে ফেলে, তবে খতমে কুরআনের সুন্নত আদায় হবে না।
সুতরাং কোন আয়াতে কোন হরফ ‘চিবিয়ে’ ফেলা হলে কিংবা সেটার আপন ‘মাখরাজ’ (উচ্চারণের স্থান) থেকে উচ্চারিত না হয়, তবে লোকজনকে লজ্জা না করে পুনরায় পড়ে নেবেন। আর শুদ্ধ করে পড়ে নিয়ে তারপর সামনে বাড়বেন। অন্য এক আফসোসের ব্যাপার রয়েছে যে, হাফিযদের কিছু সংখ্যক এমনও রয়েছে যে, যারা তারতীল সহকারে পড়তেই জানে না। তাড়াতাড়ি না পড়লে বেচারা ভুলে যায়। এমন হাফিযদের খিদমতে সমবেদনামূলক মাদানী পরামর্শ রইলো যেন তাঁরা লোকজনকে লজ্জা না করেন, বরং তাজভীদ সহকারে পড়ান এমন কোন কারী সাহিবের সাহায্য নিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপন হিফয দুরস্ত করে নিন।
‘মদ্দে লীন’* এর প্রতি খেয়াল রাখা জরুরী। তাছাড়া মদ্দ, গুন্নাহ, ইযহার, ইখফা ইত্যাদির প্রতিও যত্নবান হোন। ‘বাহারে শরীয়ত’ প্রণেতা সদরুশরীয়া, খলীফায়ে আলা হযরত আল্লামা মওলানা মুফতী মুহাম্মদ আবু উলা আমজাদ আলী আযমী রযবী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه বলেন, “ফরয নামাযগুলোতে থেমে থেমে কিরআত সম্পন্ন করবেন। আর তারাবীহতে মাঝারী ধরণের, আর রাতের নফলগুলোকে তাড়াতাড়ি পড়ার অনুমতি রয়েছে; কিন্তু এমনি পড়বেন যেন বুঝা যায়। অর্থাৎ কমপক্ষে ‘মদ্দ’ এর যে পর্যায় কারীগণ রেখেছেন, তা আদায় করবেন। অন্যথায় হারাম। কেননা, তারতীল সহকারে (অর্থাৎ খুব থেমে থেমে) কুরআন পড়ার নির্দেশ রয়েছে। (দুররে মুখতার, রদ্দুল মুহতার, খন্ড-২য়, পৃ-২৬২)
আল্লাহ রব্বুল আলামীনের বাণী:-

  وَرَتِّلِ الْقُراٰنَ تَرْتِيْلًا۝
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ:- আর কুরআনকে খুব থেমে থেমে পড়ো। (সূরা-মুয্যাম্মিল, আয়াত-৪, পারা-২৯)

আমার আকা আলা হযরত  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  জালালাইন শরীফের হাশিয়া কামালাইন এর বরাত দিয়ে তারতিল এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বর্ণনা করেন, “অর্থাৎ কুরআন মজীদ এভাবে ধীরে ধীরে থেমে থেমে পাঠ করুন যাতে শ্রোতা তার আয়াত ও শব্দ গুনতে পারে।” (ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ্ সংশোধিত, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃ-২৭৬)
এছাড়াও ফরয নামাযে এমনভাবে পৃথক পৃথকভাবে পাঠ করতে হবে যাতে প্রতিটি বর্ণ বুঝা যায়। তারাবীর নামাযকে মধ্যমভাবে আর রাতের নফল নামায সমূহে এতটুকু দ্রুত পড়তে পারবে যাতে সে নিজে বুঝতে পারে।
(দুররে মুখতার, খন্ড-১ম, পৃ-৮০)

*وَاو এর পূর্বে পেশ, يا এর পূর্বে যের এবং الف এর পূর্বে যবর হলে সেটাকে মদ্দে লীন বলে।

‘মাদারেকুত তানযিল’ এ উল্লেখ আছে যে, কুরআনকে ধীরে ধীরে থেমে থেমে পড়ুন” তার অর্থ এই যে প্রশাান্তির সাথে প্রতিটি হরফকে পৃখক পৃথক ভাবে ওয়াকফকে ঠিক রেখে এবং সকল হরকত আদায় করার ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি রাখা।” তারতীল শব্দটি এই মাসআলার উপর জোর দিচ্ছে যে, এই কথা তিলাওয়াতকারীদের স্মরণ রাখা জরুরী। (তাফসীরে মাদারেকুত তানযীল, খন্ড-৪র্থ, পৃ-২০৩, সংশোধিত ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ্, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃ-২৭৮ ও ২৭৯)

তারাবীহ পারিশ্রমিক ছাড়া পড়াবেন

যিনি পড়বেন ও যিনি পড়াবেন উভয়ের মধ্যে ইখলাস থাকা জরুরী। যদিহাফিয নিজের দ্রুততা দেখানো, সুন্দর কণ্ঠের বাহবা পাবার এবং নাম ফুটানোর জন্য কুরআন পাক পড়ে, তবে সাওয়াবতো দূরের কথা, উল্টো রিয়াকারীর গুনাহে নিমজ্জিত হবে। অনুরূপভাবে, পারিশ্রমিকের লেনদেনও না হওয়া চাই। বেতন সাব্যস্ত করাকে পারিশ্রমিক বলেনা, বরং এখানে তারাবীহ পড়ানোর জন্য এজন্যই আসে যে, এখানে কিছু পাওয়া যায় একথা জানা আছে, যদিও আগেভাগে সাব্যস্ত না হয়; সুতরাং এটাও পারিশ্রমিক নেয়া হলো। পারিশ্রমিক টাকারই নাম নয়, বরং কাপড় কিংবা ফসল ইত্যাদির সুরতে পারিশ্রমিক নিলে তাও পারিশ্রমিক হয়ে থাকে। অবশ্য, যদি হাফিয সাহিব বিশুদ্ধ নিয়্যত সহকারে পরিস্কার ভাষায় বলে দেন, “আমি কিছুই নেবোনা”, কিংবা যিনি পড়াবেন তিনি বলে দেন, “কিছুই দেবোনা” তারপর হাফিয সাহিবের খিদমত করেন, তাহলে কোন ক্ষতি নেই।
বরকতময় হাদীসে আছে, اَنَّمَا الاَعْمَالُ بِالنِّيَّات অর্থাৎ “কাজ তার নিয়্যতের উপর নির্ভর করে।” (সহীহ বোখারী, খন্ড-১ম, পৃ-৬, হাদীস নং-০১)

তিলাওয়াত, যিকির ও না’ত এর পারিশ্রমিক হারাম

আমার আকা, আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নত, মওলানা শাহ আহমদ রযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  এর দরবারে পারিশ্রমিক দিয়ে মৃতের ঈসালে সাওয়াবের জন্য খতমে কুরআন এবং আল্লাহ তাআলার যিকর কুরআনের বিধান সম্পর্কে যখন ফাতওয়া চাওয়া হলো, তখন তদুত্তরে ইরশাদ করলেন, “তিলাওয়াতে কুরআন ও যিকরে ইলাহী এর উপর পারিশ্রমিক দেয়া ও নেয়া উভয়ই হারাম। লেনদেনকারী উভয়ই গুনাহগার হবে। যখন এ লেনদেনকারী উভয়ই হারাম সম্পাদনকারী হলো, তখন কোন্ জিনিষের সাওয়াব মৃতের জন্য পাঠাবেন? গুনাহের কাজের উপর সাওয়াবের আশা করা আরো বেশি জঘণ্য ও মারাত্মক হারাম।
যদি লোকেরা চায় যে, ঈসালে সাওয়াব হোক, শরীয়তসম্মত বৈধ পন্থাও অর্জিত হোক, তবে সেটার পদ্ধতি হচ্ছে এই যারা পড়ছে তাদেরকে ঘন্টা/দুঘন্টার জন্য চাকুরে হিসেবে নিয়োগ করে নিন। যেমন, যিনি পড়াবেন তিনি বললেন, “আপনাকে আমি আজ অমুক সময় থেকে অমুক সময়ের জন্য এ বেতনে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করলাম। আমি যে কাজই চাই আপনার দ্বারা সম্পন্ন করাবো।” সে বলবে, “আমি গ্রহণ করলাম।” এখন সে ততটুকু সময়ের জন্য ‘কর্মচারী’ নিয়োজিত হয়ে গেলো। এখন তিনি যে কাজই চান, করাতে পারেন। এরপর তাকে বলবেন, “অমুক মৃতের জন্য কুরআন করীম থেকে এতটুকু কিংবা এতবার কলেমা-ই-তায়্যিবা অথবা দুরূদে পাক পড়ে দিন।” এটা হচ্ছে, বৈধ পন্থা। (ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ্, খন্ড-১০ম, পৃ-১৯৩-১৯৪)

তারাবীহর পারিশ্রমিক নেয়ার শরীয়ত সম্মত হীলা

এ বরকতময় ফাতাওয়ার আলোকে তারাবীহর জন্য হাফিয সাহেবের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, মসজিদের কমিটির লোকেরা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে হাফেয সাহেবকে মাহে রমাযানুল মুবারকে এশার নামাযের ইমামতির জন্য নিয়োগ করে নেবেন। আর হাফেয সাহেব আনুসঙ্গিকভাবে তারাবীহও পড়িয়ে দেবেন। কেননা, রমাযানুল মুবারকে তারাবীহও এশার নামাযের সাথেই শামিল থাকে। অথবা এমন করুন! মাহে রমযানুল মুবারকে প্রতিদিন তিন ঘন্টার জন্য (যেমন রাত ৮-০০টা থেকে ১১-০০ পর্যন্ত) হাফেয সাহেবকে চাকুরীর প্রস্তাব দিয়ে বলবেন, আমরা যে কাজই করতে বলি তা করতে হবে। বেতনের অংকও বলে দেবেন। যদি হাফিয সাহিব মঞ্জুর করেন, তাহলে তিনিতো কর্মচারীই হয়ে গেলেন। এখন প্রতিদিন হাফেয সাহেবের ওই তিন ঘন্টার ভিতর ডিউটি লাগিয়ে দেবেন। তিনি তারাবীহও পড়িয়ে দেবেন।
একথা মনে রাখবেন যে, ইমামত হোক কিংবা খেতাবত হোক। অথবা মুআযযিনের কাজ কিংবা অন্য কোন ধরণের মজদুরী কাজের জন্য পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে নিয়োগদানের সময় একথা জানা থাকবে যে, এখানে পারিশ্রমিক কিংবা বেতনের লেনদেন নিশ্চিত তাহলে আগেভাগেই পারিশ্রমিকের অংক নির্ধারণ করে নেয়া ওয়াজিব। অন্যথায় লেনদেনকারী উভয়ই গুনাহগার হবেন। অবশ্য যেখানে পারিশ্রমিকের আগে থেকেই নির্ধারিত অংক জানা থাকে, (যেমন, বাসের ভাড়া, কিংবা বাজারে বস্তা ভর্তি করা, বহন করে নিয়ে যাওয়ার অংক ইত্যাদি) সেখানে বারবার নির্ধারণ করার প্রয়োজন নেই। একথাও মনে রাখবেন, যখন হাফিয সাহিবকে (কিংবা যাকে যে কাজের জন্য) মজদূর নিয়োগ করেছেন, তখন একথা বলে দেয়া জায়িয নয়, আমরা যা উপযুক্ত হবে তাই দিয়ে দেবো, বরং সুস্পষ্টভাবে অংকের পরিমান বলে দিতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ, আমরা আপনাকে বার হাজার টাকা দেবো। এটাও জরুরী যে, হাফেয সাহেবও সম্মতি প্রকাশ করবেন। এখন বারো হাজার দিতেই হবে, চাঁদা সংগ্রহ হোক কিংবা নাই হোক। অবশ্য, হাফিয সাহিবের দাবী ছাড়াও যদি নিজেদের ইচ্ছানুসারে নির্ধারিত অংকের চেয়ে বেশি দেন, তবেও জায়েয। যেসব হাফেয সাহেব কিংবা নাতখা পারিশ্রমিক ছাড়া তারাবীহ, কোরআন খানি কিংবা নাতখানিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না, লজ্জার কারণে তারা যেন না জায়িয কাজ করে না বসেন। সায়্যিদী আলা হযরত  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  এর বাতলানো পদ্ধতি অনুসারে কাজ করে পাক রুজি অর্জন করুন! আর যদি একেবারে বাধ্য হয়ে না যান তবে হীলা দ্বারা অর্থ উপার্জন করা থেকেও বিরত থাকুন। কারণ, “জিসকা আমল হো বে গরয, উস কী জাযা কুছ আওর হ্যায়।” অর্থাৎ যার কাজ হয় নিষ্টাপূর্ণ তার প্রতিদানই ভিন্ন ধরণের।
একটা পরীক্ষা হচ্ছে- যেই অর্থ নিশ্চিত পাওয়া যাবে, তা গ্রহণ না করলে যথেষ্ট বাহবা পাওয়া যায়। আর ওই বেচারাও জানিনা নিজেকে রিয়াকারী থেকে কিভাবে বাঁচায়। সৌভাগ্যক্রমে, এমন প্রেরণা অর্জিত হোক, বর্ণিত পদ্ধতিতে অর্থ নিয়ে নিন আর গোপনে তা সদকা করে দিন। কিন্তু নিজের নিকটাত্মীয় ইসলামী ভাই, বরং ঘরের এক সদস্যকেও বলবেন না। অন্যথায় রিয়াকারী থেকে বাচাঁ কঠিন হয়ে যাবে। মজাতো এতেই রয়েছে যে, বান্দা জানবে না কিন্তু তার মহান আল্লাহ জানবেন।

♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥

লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত রযমান মাসের বিস্তারিত মাসাইল সম্পর্কিত “রমযানের ফযিলত” নামক কিতাবের ১৮১-১৮৮ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন


দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন