কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

শাবান মাস : প্রিয় নবীর মাস (ফযিলত ও আমল) (পর্ব ২)

288

অসংখ্য গুনাহ্গারদের ক্ষমা হয়ে যায় কিন্তু…

হযরত সায়্যিদাতুনা আয়িশা সিদ্দিকা رضى الله عنها হতে বর্ণিত, প্রিয় নবী, রাসুলে আরবী, হুযুর পুরনূর ইরশাদ করেছেন: “আমার নিকট জিবরাঈল عليه السلام এসে বললেন; এটা শাবানের ১৫তম রাত, এ রাতে আল্লাহ তাআলা বনী কালব এর ছাগলের পশম পরিমাণ লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রদান করেন। তবে কাফির ও শত্রুতা পোষনকারী, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, মাতা-পিতার অবাধ্য এবং মদ পানে অভ্যস্তদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না।” (শুয়াইবুল ঈমান, ৩য় খন্ড, ৩৮৪ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৩৮৩৭) 
(হাদীসে শরীফে: টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী দ্বারা যে বর্ণনা রয়েছে তা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অহংকারবশত টাখনুর নিচে লুঙ্গি বা পায়জামা ইত্যাদি ঝুলানো) 
কোটি কোটি হাম্বলী মতাবলম্বীদের মহান ইমাম হযরত সায়্যিদুনা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল رحمة الله عليه হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর رضى الله عنه হতে যে বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন, তাতে হত্যাকারীর কথাও উল্লেখ রয়েছে। (মুসনাদে ইমাম আহমদ, ২য় খন্ড, ৫৮৯ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৬৬৫৩, দারুল ফিকর, বৈরুত)
হযরত সায়্যিদুনা কাছির বিন মুররাহ্  رضى الله عنه থেকে বর্ণিত; নবীকুল সুলতান, সরদারে দোজাহান, মাহবুবে রহমান  ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ তাআলা শাবানের ১৫তম রাতে সমগ্র যমীনের অধিবাসীদেরকে ক্ষমা করে দেন, (শুধু মাত্র) কাফির ও শত্রুতা পোষণকারীদের ছাড়া।” (শুয়াইবুল ঈমান, ৩য় খন্ড, ৩৮১ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৩৮৩০, দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)

শাবান মাস: ফযিলত ও আমল

হযরত দাউদ عليه السلام এর দোআ

আমীরুল মু’মিনীন, মাওলায়ে কায়েনাত, মাওলা মুশকিল কোশা হযরত আলী رضى الله عنه প্রায়ই শাবানুল মুয়ায্যমের ১৫তম রাতে অর্থাৎ শবে বরাতে ঘরের বাইরে বের হতেন। একবার এভাবে শবে বরাতে বাইরে বের হলেন এবং আসমানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললেন: ‘একদা আল্লাহর নবী হযরত সায়্যিদুনা দাউদ عليه السلام শাবানের ১৫তম রাতে আসমানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বলেছেন: এটা ঐ সময়, যে ব্যক্তি এ সময় যা দোআ আল্লাহ তাআলার নিকট করেছে, তার দোআ আল্লাহ তাআলা কবুল করেছেন, আর যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তবে দোআ প্রার্থনা কারী ওস্‌সার (অর্থাৎ অন্যায়ভাবে কর আদায় কারী), যাদুকর, গণক, ও বাদ্য-বাজনাকারী যেন না হয়। অতঃপর এ দোআ করলেন:

اَللّٰهُمَّ رَبَّ دَاوٗدَاغْفِرْلِمَنْ دَعَاكَ فِى هٰذِهٖ اللَّيْلَةِ اَوِ اسْتَغْفَرَكَ فِيْهَا
অর্থাৎ- হে আল্লাহ عزوجل! হে দাউদ এর পালনকর্তা! যে এ রাতে তোমার নিকট দোআ করে অথবা ক্ষমা প্রার্থনা করে, তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। (লাতায়িফুল মাআরিফ লিইবনে রজব হাম্বলী, ১ম খন্ড, ১৩৭ পৃষ্ঠা, দারু ইবনে হুজম, বৈরুত)
                                                       হার খাতা তু দর গুজর কর বেকসু মজবুর কি,
                                                                       ইয়া ইলাহী! মাগফিরাত কর বেকসু মজবুর কি।

বঞ্চিত লোকেরা

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! শবে বরাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত। কোন অবস্থাতেই এ রাতটি অবহেলায় কটিয়ে দেয়া উচিত নয়। এ রাতে বিশেষভাবে রহমতের বৃষ্টি মুষলদারে বর্ষিত হয়। এ মোবারক রাতে আল্লাহ তাআলা “বনী কালব” গোত্রের ছাগল গুলোর লোম অপেক্ষাও অধিক উম্মতের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেন। কিতাবাদিতে উল্লেখ রয়েছে, “বনী কালব গোত্রটি আরবের গোত্র গুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশী ছাগল পালন করত।”
আহ! কিছু হতভাগা লোক এমনও রয়েছে, যাদেরকে ও শবে বরাত অর্থাৎ মুক্তি লাভের রাতও ক্ষমা না করে শাস্তি প্রদানের অঙ্গীকার রয়েছে। হযরত সায়্যিদুনা ইমাম বায়হাকী শাফেয়ী رحمة الله عليه “ফাযায়েলুল আওকাত” এ বর্ণনা করেন: রাসুলে আকরাম, নূরে মুজাস্সম  এর শিক্ষনীয় ফরমান হচ্ছে: “ছয় প্রকারের ব্যক্তিদেরকে এ রাতেও ক্ষমা করা হয় না:- 
(১) মদ্যপানে অভ্যস্ত, 
(২) মাতা-পিতার অবাধ্য, 
(৩) ব্যভিচারী,
(৪) আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী, 
(৫) ছবি প্রস্তুতকারী, 
(৬) চোগলখোর।
(ফযায়েলুল আওকাত, ১ম খন্ড, ১৩০ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ২৭, মাকতাবাতুল মানারাহ, মক্কাতুল মুকাররমা)
অনুরূপভাবে গণক, যাদুকর, অহংকার সহকারে পায়জামা অথবা লুঙ্গি গোড়ালীর নিচে ঝুলিয়ে পরিধানকারী ও কোন মুসলমানের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ পোষনকারীও এ রাতে ক্ষমার সৌভাগ্য লাভ থেকে বঞ্চিত থাকার অঙ্গীকার রয়েছে। সুতরাং সমস্ত মুসলমানদের উচিত, উপরোক্ত গুনাহ থেকে যদি (আল্লাহর পানাহ্) কোন একটির মধ্যে লিপ্ত থাকে তবে তারা যেন বিষেশত এই গুনাহ থেকে আর সাধারণত প্রত্যেক গুনাহ্ থেকে শবে বরাত আসার পূর্বেই বরং আজ ও এখন সত্যিকার অর্থে তাওবা করে নেয়, এবং যদি কোন বান্দার হক নষ্ট করে তবে তাওবার সাথে সাথে তার থেকে ক্ষমা চাওয়ার তরকীব (ব্যবস্থাও) করে নিন।

ইমামে আহলে সুন্নাত رحمة الله عليه এর পয়গাম

সমস্ত মুসলমানের নামে আমার আক্বা আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত, আলিয়ে নে’মত, আযীমুল বরকত, আযীমুল মারতাবাত, পরওয়ানায়ে শাময়ে রিসালাত, মুজাদ্দীদে দ্বীনো মিল্লাত, হামীয়ে সুন্নাত, মাহীয়ে বিদআ’ত, পীরে তরিকত, বাইছে খাইরো বারকত, হানাফী মাযহাবের মহান আলিম ও মুফতী হযরত আল্লামা মাওলানা আল-হাজ্জ, আল-হাফিজ, আল-কারী, শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খান رحمة الله عليه নিজের এক মুরীদকে শবে বরাতের আগে তাওবা ও ক্ষমা চাওয়া সম্পর্কে একটা মকতুব শরীফ (চিঠি) প্রেরণ করেন। সেটার তাৎপর্য এর প্রতি লক্ষ্য রেখে আপনাদের খেদমতে পেশ করা হচ্ছে। যেমন:- “কুল্লিয়াতে মাকাতিবে রযা” ৩৫৬-৩৫৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে: শবে বরাত সন্নিকটে, এ রাতে সমস্ত বান্দার আমল সমূহ আল্লাহ তাআলার দরবারে পেশ করা হয়। আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবী  এর ওসীলায় মুসলমানদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন, কিন্তু কিছু লোক এমন রয়েছে; যাদের মধ্যে ঐ দু’জন মুসলমান যারা পরস্পর দুনিয়াবী কারণে অসন্তুষ্ট থাকে। বলা হয়; “এদেরকে এভাবে রাখো, যতক্ষণ তারা পরস্পরের মধ্যে সন্ধি করে না নেয়।” তাই আহলে সুন্নাতের অনুসারীদের উচিত যতটুকু সম্ভব ১৪ তারিখ শাবান সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই একে অপরের সাথে আপোষ করে নেয়। একে অপরের প্রাপ্য পরিশোধ করে দেয় বা ক্ষমা চেয়ে নেয়। যাতে আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে বান্দাদের হক সমূহ থেকে আমল নামা শূণ্য হয়ে আল্লাহর দরবারে পেশ হয়। মাওলার হক গুলোর ব্যাপারে সত্য অন্তরে তাওবা করাই যথেষ্ট। হাদীস শরীফে রয়েছে: “গুনাহ্ থেকে তাওবাকারী এমন, যেন সে গুনাহ্ই করেনি।” (ইবনে মাযাহ্, হাদীস নং ৪২৫০) 
এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে অবশ্যই এ রাতে পূর্ণ ক্ষমা লাভের আশা করা যায় তবে আকীদা বিশুদ্ধ হওয়া আবশ্যক। (অর্থাৎ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী হওয়া আবশ্যক) আল্লাহ গুনাহ ক্ষমা কারী ও করুনা কারী। এসব ভাইদের মধ্যে সন্ধি ও পরস্পরের হক ক্ষমা করার রীতি আল্লাহ তাআলার প্রশংসাক্রমে এখানে বহু বছর থেকে অব্যাহত রয়েছে। আশা করি আপনারাও সেখানকার মুসলমানদের মধ্যে তা প্রচলন করে
مَنْ سَنَّ فِى الْاِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا اِلى يَوْمِ الْقِيامَةِ لَا يَنْقُصُ مِنْ اُجُوْرِهِمْ شَئ

(অর্থাৎ- যে ব্যক্তি ইসলামে পূর্ণময় পন্থা আবিষ্কার করে তার জন্য সেটার সাওয়াব রয়েছে, আর কিয়ামত পর্যন্ত তদানুযায়ী যারা আমল করবে তাদের সকলের সাওয়াব সর্বদা তার আমল নামায় লিপিবদ্ধ করা হবে, অথচ (যারা আমল করবে) তাদের সাওয়াবেও কিছু হ্রাস করা হবেনা।) 
এর প্রযোজ্যতা অর্জন করুন। আর এ অধমের জন্য উভয় জগতে ক্ষমা প্রাপ্তির দোআ করুন। অধমও আপনাদের জন্য দোআ করছি এবং করব اِنْ شَاءَ الله , সমস্ত মুসলমানকে একথা বুঝিয়ে দেয়া হোক যে, সেখানে (আল্লাহ তাআলার দরবারে) না শুধু ভাষা দেখা হয়, না কপটতা পছন্দনীয়, সন্ধি ও পরস্পর ক্ষমা করা যেন সত্য অন্তঃকরণেই হয়। ওয়াস্‌সালাম।
ফকীর আহমদ রযা কাদেরী  عُفِيَ عُنْهُ বেরেলী থেকে।

১৫ই শাবানের রোযা

হযরত সায়্যিদুনা আলীয়্যুল মুরতাদ্বা رحمة الله عليه  থেকে বর্ণিত; নবী করীম, রউফুর রহীম   এর মহান বাণী: “যখন শাবানের ১৫তম রাতের আগমন ঘটে তখন তাতে কিয়াম (ইবাদত) করো আর দিনে রোযা রাখো। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সূর্যাস্তের পর থেকে প্রথম আসমানে বিশেষ তাজাল্লী (উজ্জ্বল্য) বর্ষণ করেন এবং ইরশাদ করেন: কেউ আছ কি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কারী, তাকে আমি ক্ষমা করে দিব! কেউ আছ কি জীবিকা প্রার্থানা কারী, তাকে আমি জীবিকা দান করব! কেউ আছ কি মুসিবতগ্রস্ত, তাকে আমি মুক্তি প্রদান করব! কেউ এমন আছ কি! কেউ এমন আছ কি! সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত এরূপ ইরশাদ করতে থাকেন।” (সুনানে ইবনে মাযাহ্, ২য় খন্ড, ১৬০ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ১৩৮৮, দারুল মারিফাত, বৈরুত)

উপকারী কথা

শবে বরাতে আমল নামা পরিবর্তন হয়, সুতরাং সম্ভব হলে ১৪ই শাবানুল মুয়ায্যমেও রোযা রেখে দিন যেন আমল নামার শেষ দিনেও রোযা হয়। ১৪ই শাবান আসরের নামায জামাআতে আদায় করে সেখানেই নফল ইতিকাফের নিয়্যত করে, আর মাগরিবের নামাযের জন্য অপেক্ষার নিয়্যতে মসজিদেই অবস্থান করা উচিত, যাতে আমল নামা পরিবর্তন হওয়ার শেষ মূহুর্ত মসজিদে উপস্থিত ও ইতিকাফ এবং নামাযের জন্য অপেক্ষা ইত্যাদির সাওয়াব লিখা হয়। বরং কতই সৌভাগ্য হত! যদি সারা রাত ইবাদতে অতিবাহিত করা যেত।

সবুজ পত্র

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সায়্যিদুনা ওমর বিন আবদুল আযীয رضى الله عنه একবার শাবানুল মুয়ায্যমের ১৫ তারিখ রাত অর্থাৎ শাবে বরাতে ইবাদতে মশগুল ছিলেন। যখন (সিজদা হতে) মাথা উঠালেন তখন একখানা “সবুজ পত্র” পেলেন, যার আলো আসমান পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। তাতে লিখা ছিল:-
هذه  براءة من النار من الملك العزيز لعبده عمر بن عبد العزيز
অর্থাৎ মালিক ও পরাক্রমশালী মহামহিম আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা “জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি নামা” যা তাঁর বান্দা ওমর বিন আবদুল আযীযকে প্রদান করা হল। (তাফসীরে রূহুল বয়ান, ৮ম খন্ড, ৪০২ পৃষ্ঠা, কোয়েটা)
سُبحَان الله عَزَّوَجَل! প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! এ ঘটনায় যেভাবে আমীরুল মু’মিনীন সায়্যিদুনা ওমর বিন আবদুল আযীয رضى الله عنه এর মহান মর্যাদার প্রকাশ পেয়েছে অনুরূপভাবে শবে বরাতের মর্যাদা ও আভিজাত্যও প্রকাশ হয়েছে। اَلْحِمْدُ لِلهِ عَزَّوَجَل ! এ মোবারক রাত জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুন থেকে বরাত (অর্থাৎ মুক্তি) পাওয়ার রাত। এ জন্যই এ রাতকে শবে বরাত বলা হয়।

মাগরিবের পর ৬ রাকাত নফল নামায

আওলিয়ায়ে কিরাম رحمهم الله এর অনুসৃত কর্মসমূহে এটাও রয়েছে যে, মাগরিবের ফরয ও সুন্নাত ইত্যাদি আদায়ের পর ৬ রাকাত নফল নামায দুই রাকাত করে আদায় করা। প্রথম দু’রাকাতের পূর্বে এ নিয়্যত অন্তরে রাখবেন যে, হে আল্লাহ  এ দু’রাকাত নামাযের বরকতে আমাকে মঙ্গলময় দীর্ঘায়ু দান করুন। এর পরের দু’রাকাতে এ নিয়্যত করুন যে, হে আল্লাহ  এ দু’রাকাত নামাযের বারাকাতে আমাকে বালামুসিবত হতে নিরাপদ রাখুন। সর্বশেষ দু’রাকাতের জন্য এ নিয়্যত করুন, হে আল্লাহ  এ দু’রাকাতের বরকতে আমাকে আপনি ছাড়া আর কারো মুখাপেক্ষী করবেন না। এই ৬ রাকাতে সূরা ফাতিহার পর যে কোন সূরা পড়তে পারেন। উত্তম হচ্ছে প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে ৩ বার করে সূরা ইখলাস পাঠ করা। প্রত্যেক ২ রাকাত পর ২১ বার সূরা ইখলাছ অথবা সূরা ইয়াসিন শরীফ ১ বার পাঠ করবেন। যদি সম্ভব হয় উভয়টিই পাঠ করুন। এমনও করতে পারেন যে, একজন ইসলামী ভাই উচ্চ স্বরে ইয়াসিন শরীফ পাঠ করবে আর অন্যরা নিশ্চুপ থেকে খুব মনোযোগ দিয়ে শুনবে। এ সময় এ ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন যে, অন্য কেউ যেন মূখে ইয়াসিন শরীফ কিংবা অন্য কোন কিছুও পাঠ না করে। এ মাসআলা খুব ভালভাবে মনে রাখুন! যখন কুরআন করীম উচ্চ আওয়াজে পড়া হয়, তখন যে লোকেরা শ্রবন করার জন্য উপস্থিত হয়েছে তাদের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে নিশ্চুপ হয়ে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা। اِنْ شَاءَ الله রাতের শুরু থেকেই সাওয়াবের ভান্ডার হয়ে যাবে। প্রত্যেক বার ইয়াসিন শরীফের পর অর্ধ শাবানের দোআও পাঠ করে নিন।
অর্ধ শাবানের দোআ

অনুবাদ:- হে আল্লাহ عزوجل ! হে ইহ্সানকারী! যাঁর উপর ইহ্সান করা যায়না। হে মহান শান ও মহত্ত্বের অধিকারী! হে অনুগ্রহ ও পুরস্কার প্রদানকারী! আশ্রয় প্রার্থনা কারীদের আশ্রয় ও ভীত গ্রস্তদের নিরাপত্তা দাতা। হে আল্লাহ عزوجل ! যদি তুমি আমাকে তোমার নিকট লওহে মাহ্ফুযে হতভাগ্য, বঞ্চিত, বিতাড়িত ও জীবিকার মধ্যে সংকীর্ণতা অবস্থা লিখে থাকো, তবে হে আল্লাহ عزوجل ! আপন অনুগ্রহে আমার হতভাগ্যতা, বঞ্চিত, অপদস্ততা ও জীবিকার সংকীর্ণতা দূর করে দিন এবং আপনার নিকট লওহে মাহ্ফুযে আমাকে সৌভাগ্যবান, জীবিকা প্রাপ্ত ও সৎকর্মের তাওফীক প্রাপ্ত হিসাবে লিখে দিন। কারণ তুমিই তোমার নাযিলকৃত কিতাবে তোমারই প্রেরিত নবী  এর পবিত্র মূখে বলেছে আর তোমার এই বলাটা সত্য। “কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: আল্লাহ যা চায় নিশ্চিহ্ন করে দেয় এবং প্রতিষ্ঠিত করে এবং মূল লেখা তাঁরই নিকট রয়েছে।” (পারা ১৩, সূরা- রাদ, আয়াত- ৩৯) হে আল্লাহ عزوجل ! তাজ্জল্লিয়ে আযমের ওয়াসীলায় যা অর্ধ শাবানুল মুয়ায্যমের (১৫তম) রাতে রয়েছে, যাতে বন্টন করে দেয়া হয় প্রত্যেক হিকমতপূর্ণ কর্ম ও স্থির করে দেয়া হয়। (হে আল্লাহ عزوجل !) মুসীবত সমূহ আমাদের কাছ থেকে দূর করে দাও, যেগুলো সম্পর্কে আমরা জানি কিংবা জানিনা, অথচ তুমি এগুলো সম্পর্কে সর্বাপেক্ষা বেশী জ্ঞানী। নিঃসন্দেহে তুমি সর্বাপেক্ষা পরাক্রমশালী ও সম্মানের অধিকারী। আল্লাহ তাআলা আমাদের সরদার মুহাম্মদ  এর উপর ও তাঁর  বংশধর, সাহাবাগণ رضى الله عنهم এর উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণ করুন। সকল প্রশংসা সমগ্র জাহানের পালন কর্তা আল্লাহর জন্য।
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত শাবান মাসের ফযিলত সম্পর্কিত “প্রিয় নবীর মাস” নামক রিসালার ১০-২০ নং পৃষ্ঠা হতে সংকলিত। রিসালাটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড দিন

দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

বাকী পর্ব পড়তে ক্লিক করুন- প্রথম পর্ব তৃতীয় পর্ব
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন