কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত নিয়ে ইসলামী জীবন

ঈসা عليه السلام এর সময়ের একটি শিক্ষনীয় ঘটনা

308

তৃতীয় রুটিটি কোথায় গেল?

হযরতে সায়্যিদুনা ঈসা রূহুল্লাহ (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) এর সমীপে এক ব্যক্তি আরয করল, “ইয়া রূহুল্লাহ! আমি আপনার বরকতপূর্ণ সংস্পর্শে থেকে আপনার খিদমত করতে ও শরীআতের জ্ঞান অর্জন করতে চাই।”

তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) তাকে অনুমতি দিলেন। চলতে চলতে যখন উভয়ে একটি নহরের কিনারায় পৌঁছলেন তখন তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) বললেন, “এসো খানা খেয়ে নিই।” তাঁর (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) নিকট তিনটি রুটি ছিল। একটি করে রুটি উভয়ে খেয়ে নিলো, যখন হযরতে সায়্যিদুনা ঈসা রূহুল্লাহ (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) নহর থেকে পানি পান করছিলেন তখন ঐ ব্যক্তি তৃতীয় রুটিটি লুকিয়ে ফেলল।

যখন তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) পানি পান করে ফিরে আসলেন তখন রুটি না পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “তৃতীয় রুটিটি কোথায় গেল?” সে মিথ্যা বলে বলল, “আমি জানিনা।” তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) নীরব রইলেন, একটু পরে বললেন, “এসো, আগে চলি।” রাস্তায় একটি হরিণী দেখা গেল যেটার সাথে দুটো বাচ্চা ছিল। তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) হরিণীর একটি বাচ্চাকে নিজের কাছে ডাকলে সেটা এসে গেল। তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) সেটা জবাই করে ভুনে উভয়ে খেলেন। গোস্ত খাওয়ার পর তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) হাঁড়গুলো একত্রিত করে বললেন, “قم باذن الله” (আল্লাহর (عزوجل) নির্দেশে জীবিত হয়ে ওঠে যাও।) হরিণীর বাচ্চা জীবিত হয়ে তার মায়ের সাথে চলে গেল। তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) ঐ ব্যক্তিকে বললেন, “তোমাকে ঐ আল্লাহর শপথ! যিনি আমাকে এ মুজিযা দেখানোর শক্তি দান করেছেন। সত্যি করে বল, তৃতীয় রুটিটি কোথায় গেল?” সে বলল, “আমি জানিনা।” বললেন, “এসো আগে চলি।” চলতে চলতে একটি সমুদ্রের নিকট পৌঁছালেন। তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) ঐ ব্যক্তির হাতে ধরে পানির উপর হেঁটে সমুদ্রের ওপারে পৌঁছে গেলেন। তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) ঐ ব্যক্তিকে বললেন, “তোমাকে ঐ খোদা (عزوجل) এর শপথ! যিনি আমাকে এ মুজিযা দেখানোর শক্তি দান করেছেন। সত্যি করে বল যে, ঐ তৃতীয় রুটিটি কোথায় গেল?” সে বলল, “আমি জানিনা।” তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) বললেন, “এসো আগে চলি।”
যেতে যেতে এক মরুভূমিতে পৌঁছলেন। তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) বালুর একটি স্তুপ তৈরী করলেন আর বললেন, “হে বালুর স্তুপ! আল্লাহ عزوجل এর নির্দেশে স্বর্ণ হয়ে যাও।” তা সাথে সাথে  স্বর্ণে পরিণত হল। তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) সেটাকে তিন ভাগ করার পর বললেন, “এ একভাগ আমার ও এক ভাগ তোমার এবং এক ভাগ তার যে ঐ তৃতীয় রুটিটি নিয়েছে।” একথা শুনতেই ঐ ব্যক্তি সহসা বলে উঠল, “ইয়া রূহুল্লাহ! ঐ তৃতীয় রুটিটি আমিই নিয়েছি। তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام)বললেন, “এসব স্বর্ণ তুমিই নিয়ে নাও। অতঃপর তাকে ত্যাগ করে সম্মুখে অগ্রসর হলেন। ঐ ব্যক্তি স্বর্ণ চাদরে মুড়িয়ে একাকী রওয়ানা হয়ে গেল।
একটি শিক্ষনীয় ঘটনা

রাস্তায় তার সাথে দুজন লোকের সাক্ষাৎ হল। তারা যখন তার কাছে স্বর্ণ দেখল, তখন তাকে হত্যা করার জন্য প্রস্তুত হল যাতে স্বর্ণ নিয়ে নিতে পারে। ঐ ব্যক্তি প্রাণ রক্ষার জন্য বলল, “তোমরা আমাকে হত্যা কেন করবে! (চলো) আমরা এ স্বর্ণগুলো তিনভাগ করে নিই এবং এক ভাগ করে বন্টন করে নিই। ঐ দুজন এ কথায় রাজী হয়ে গেল। ঐ ব্যক্তি বলল, এটা ঠিক হবে যে, আমাদের একজন সামান্য স্বর্ণ নিয়ে নিকটস্থ শহরে গিয়ে খানা কিনে আনবে যাতে পানাহার করে স্বর্ণ বন্টন করে নিব। সুতরাং তাদের একজন শহরে গেল। খানা কিনে ফেরার সময় সে ভাবল, এটা ঠিক হবে যে, খানার মধ্যে বিষ মিশ্রিত করে দেব, যাতে তারা দু’জন খেয়ে মরে যাবে। আর সম্পূর্ণ স্বর্ণ আমিই পেয়ে যাব। এটা ভেবে সে বিষ কিনে খানার সাথে মিশিয়ে দিল। ওদিকে ঐ দুজন এ ষড়যন্ত্র করল যে, যে মাত্র সে খানা নিয়ে আসবে আমরা উভয়ে মিলে তাকে মেরে ফেলব। তারপর সম্পূর্ণ স্বর্ণ অর্ধেক করে ভাগ করে নেব। সুতরাং যখন ঐ ব্যক্তি খানা নিয়ে পৌঁছল তখন তারা উভয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে মেরে ফেলল। এরপর আনন্দিত হয়ে খানা খাওয়ার জন্য বসলে বিষ নিজের কাজ সম্পাদন করল আর এরা দুজনও লম্পঝম্প মারতে মারতে মরে গেল আর স্বর্ণ সেভাবেই পড়ে রইল।

এরপর সায়্যিদুনা ঈসা রূহুল্লাহ (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) ফিরে আসার সময় কিছু লোক তাঁর সাথে ছিল। তিনি (على نبينا وعليه الصلوة والسلام) স্বর্ণ ও লাশ তিনটির দিকে ইশারা করে সাথীদের বললেন, “দেখো দুনিয়ার এ অবস্থা, সুতরাং তোমাদের জন্য আবশ্যক যে, এটা থেকে বেঁচে থেকো।”
(ইত্তেহাফুস সাদাতুল মুত্তাকীন, খন্ড-৯ম, পৃ. ৮৩৫)

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! দেখলেন তো! সম্পদের ভালবাসা কিভাবে ফাঁদ তৈরি করে, গুনাহের প্রতি উস্কানী দেয়, দ্বারে দ্বারে ঘুড়ায়, লুটতরাজ করায়, এমনকি লাশও ফেলায়, কিন্তু তা কারো হাতে আসে না আর এলেও ভীষণ কষ্ট দেয় এবং ভীষণভাবে কাঁদায়। সুতরাং আমাদের বুযুর্গানে দ্বীন رحمهم الله تعالى ধন সম্পদের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতেন।

আল্লাহ (عزوجل) আমাদের আমল করার ও অন্যের নিকট পৌঁছানোর তাওফিক দান করুন। আমিন, বিজাহিন্নাবিয়্যিল আমিন, (صلى الله عليه وسلم)
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত বিশ্বনন্দিত কিতাব “ফয়যানে সুন্নাত” এর ২৯১-২৯৩ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।

যারা মোবাইলে কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড দিন

দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন
               মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন